অধ্যায়-২: কৃষি উপকরণ

এসএসসি · কৃষিশিক্ষা

অধ্যায়-২: কৃষি উপকরণ - কৃষিশিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১১টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

নিচের ডায়াগ্রামটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
১. বীজের আর্দ্রতা নির্ণয়ের সূত্রটি লিখ।
পুকুরে পোনা ছাড়ার পূর্বে পানি শোধন করে নিতে হয় কেন?
উদ্দীপকে গবাদি পশুর আঁশ জাতীয় খাদ্য ৩নং ও ৪নং এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
এদেশের গবাদি পশুর উন্নয়নে ৩নং ও ৪নং খাদ্যের আবশ্যকতা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)

বীজের আর্দ্রতা নির্ণয়ের সূত্রটি নিচে দেওয়া হলো:

$$\text{বীজের আর্দ্রতার শতকরা হার (\%)} = \frac{\text{নমুনা বীজের ওজন} - \text{নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন}}{\text{নমুনা বীজের ওজন}} \times ১০০$$

(খ)

পুকুরে ক্ষতিকর রোগজীবাণু, পরজীবী এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে যেন মাছের রেণু বা পোনা মারা না যায়, সেজন্য পোনা ছাড়ার পূর্বে পানি শোধন করে নিতে হয়।

পুকুর প্রস্তুতকালীন সময়ে জলজ আগাছা দমন, রাক্ষুসে ও অচাষযোগ্য মাছ দূরীকরণে বিষ বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ এবং প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির জন্য মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে পানি দূষিত বা বিষাক্ত হতে পারে। এই বিষাক্ত বা অম্লীয় পানিতে সরাসরি সংবেদনশীল কচি পোনা ছাড়লে অক্সিজেনের অভাব এবং বিষক্রিয়ায় ব্যাপক মড়ক দেখা দিতে পারে। তাই পোনা ছাড়ার কয়েক দিন পূর্বে প্রতি শতকে উপযুক্ত মাত্রায় চুন, ব্লিচিং পাউডার বা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট প্রয়োগ করে পানির ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস এবং বিষাক্ত গ্যাস দূর করে পানি শোধন করে নিতে হয়।

(গ)

উদ্দীপকের ৩নং খাদ্য হলো হে (Hay) এবং ৪নং খাদ্য হলো সাইলেজ (Silage)। এ দুটিই গবাদিপশুর অত্যন্ত পুষ্টিকর সংরক্ষিত আঁশজাতীয় খাদ্য।

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে হে ও সাইলেজের মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:

তুলনার বিষয় ৩নং খাদ্য: হে (Hay) ৪নং খাদ্য: সাইলেজ (Silage)
সংজ্ঞা ও প্রস্তুতি সবুজ ঘাসকে রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৫–২০% বা তার নিচে নামিয়ে এনে হে প্রস্তুত করা হয়। সবুজ ও সতেজ ঘাসকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে বায়ুরোধী পাত্র বা গর্তে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করাকে সাইলেজ বলে।
আর্দ্রতার পরিমাণ এতে আর্দ্রতার পরিমাণ খুব কম থাকে (সাধারণত ১৫% থেকে ২০%-এর নিচে)। এতে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে (সাধারণত ৬০% থেকে ৭০%)।
সংরক্ষণ অবস্থা সম্পূর্ণ শুষ্ক অবস্থায় মাচা বা শুষ্ক ছায়াযুক্ত গোলায় সংরক্ষণ করা হয়। রসালো বা সবুজ সতেজ অবস্থায় বায়ুরোধী সাইলো পিট বা পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়।
উপযুক্ত ফসল শিমজাতীয় উদ্ভিদ বা লিগিউম ঘাস (যেমন—খেসারি, মাষকলাই, আলফালফা) দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের হে তৈরি হয়। শর্করাসমৃদ্ধ ঘন ঘাস বা শস্য (যেমন—ভুট্টা, নেপিয়ার, জোয়ার, গিনি) দিয়ে সর্বোৎকৃষ্ট সাইলেজ তৈরি হয়।
সংরক্ষণ নীতি ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ রোধে ঘাসের পানি সম্পূর্ণ শুকিয়ে ফেলা হয়। ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার প্রাকৃতিক গাঁজনের মাধ্যমে অম্লত্ব (pH ৪.০–৪.৫) বাড়িয়ে ঘাস সংরক্ষণ করা হয়।
পুষ্টিগুণ ও রুচি রোদ ও আর্দ্রতা কমার ফলে ক্যারোটিন বা কিছু ভিটামিন হ্রাস পেতে পারে। কাঁচা ঘাসের প্রাকৃতিক স্বাদ, সুবাস, রসালো ভাব ও ক্যারোটিন অক্ষুণ্ণ থাকায় গবাদিপশুর নিকট অত্যন্ত রুচিকর ও সহজে হজমযোগ্য।
(ঘ)

উদ্দীপকের ৩নং ও ৪নং খাদ্য হলো যথাক্রমে হে এবং সাইলেজ, যা গবাদিপশুর অত্যন্ত পুষ্টিকর সংরক্ষিত আঁশজাতীয় খাদ্য। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবাদিপশুর স্বাস্থ্যরক্ষা, দুধ ও মাংসের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সারা বছর কাঁচা ঘাসের জোগান অব্যাহত রাখতে এ দুটি খাদ্যের আবশ্যকতা অপরিসীম।

আমাদের দেশের গবাদিপশুর খাদ্য সমস্যা নিরসন ও সার্বিক উন্নয়নে হে ও সাইলেজের প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতা নিচে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. মৌসুমি সংকট নিরসন ও খাদ্য ঘাটতি পূরণ: বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর সবুজ ঘাস জন্মায়, যা পশুর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি থাকে; কিন্তু খরা, শুষ্ক শীতকাল বা বন্যার সময় তীব্র ঘাস সংকট দেখা দেয়। বর্ষার উদ্বৃত্ত কাঁচা ঘাস দিয়ে সাইলেজ এবং শীতকালের শিমজাতীয় ঘাস শুকিয়ে হে তৈরি করে রাখলে সারা বছর সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

২. দুধ ও মাংস উৎপাদন বজায় রাখা: কাঁচা ঘাসের অভাবে গবাদিপশু কেবল শুকনা খড়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে দুধ ও মাংসের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। হে ও সাইলেজে প্রচুর প্রোটিন, ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও খনিজ লবণ বিদ্যমান থাকায় সংকটকালীন সময়েও গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা অক্ষুণ্ণ থাকে।

৩. পশুস্বাস্থ্য ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা: কেবল খড় খাওয়ালে পশুর কোষ্ঠকাঠিন্য ও পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। সাইলেজ সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় এটি পশুর রুচি বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং পাকস্থলীর অনুজীবের কার্যক্ষমতা সচল রাখে।

৪. অর্থনৈতিক লাভ ও খামারের ব্যয় সংকোচন: বাজার থেকে কেনা দানাদার খাদ্যের দাম অত্যন্ত চড়া। উদ্বৃত্ত ঘাস বৈজ্ঞানিক উপায়ে হে ও সাইলেজ হিসেবে সংরক্ষণ করলে দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমে যায়, ফলে খামারের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে কমে এবং খামারি অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন।

৫. জাত উন্নয়ন ও মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমের সাফল্য: উন্নত জাতের সংকর গাভী ও ষাঁড়ের শারীরিক পুষ্টির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। উচ্চ পুষ্টিমানসমৃদ্ধ হে ও সাইলেজ ছাড়া সংকর জাতের গরুর শারীরিক বিকাশ ও কাঙ্ক্ষিত বংশবিস্তার সম্ভব নয়।

সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত হে (৩নং) ও সাইলেজ (৪নং) খাদ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশে গবাদিপশুর পুষ্টিহীনতা দূর হবে এবং প্রাণিসম্পদ খাতে এক যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হবে।

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
২. মৎস্য অভয়াশ্রম কী?
রগিং বলতে কী বোঝায়?
উদ্দীপকের চিত্র অঙ্কন করে ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ অংশগুলো চিহ্নিত কর।
উদ্দীপকের চিহ্নিত অংশগুলো সঠিকভাবে তৈরি করা না হলে মাছ চাষে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কোনো জলাশয় বা এর নির্দিষ্ট অংশ যেমন- হাওড়, বিল বা নদীর অংশ যেখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বা সারাবছর বা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ীভাবে মাছ ধরা নিষেধ করে মাছের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রজননের ব্যবস্থা করা হয় তাই মৎস্য অভয়াশ্রম।
(খ)

বীজ বপনের সময় যতই বিশুদ্ধ বীজ ব্যবহার করা হোক না কেন জমিতে কিছু কিছু অন্য জাতের উদ্ভিদ ও আগাছা দেখা যাবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদ তুলে ফেলাই হলো রগিং।

বীজের বিশুদ্ধতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য তিন পর্যায়ে রগিং করা হয়-
i. ফুল আসার আগে
ii. ফুল আসার সময়
iii. পরিপক্ব পর্যায়ে।

(গ)

উদ্দীপকের চিত্রটি অঙ্কন করে নিম্নে ক, খ, গ, ঘ, ঙ ও চ অংশগুলো চিহ্নিত করা হলো:

  • ক : পাড় (পুকুরের পাড়ের শীর্ষভাগ/উপরিভাগ)
  • খ : বকচর (পুকুরের পাড় ও পানির মধ্যবর্তী সমতল ধাপ)
  • গ : পানির গভীরতা (পানির উপরিতল থেকে তলদেশ পর্যন্ত উচ্চতা)
  • ঘ : তলার দৈর্ঘ্য (পুকুরের তলদেশ বা তলদেশের পরিমাপ)
  • ঙ : উপরিতলের দৈর্ঘ্য (পানির উপরিভাগের বিস্তার বা দৈর্ঘ্য)
  • চ : ঢাল (১:২) (পুকুরের পাড়ের অভ্যন্তরীণ ঢাল)
উত্তরের ছবি
(ঘ)

উদ্দীপকে একটি আদর্শ পুকুরের প্রস্থচ্ছেদের চিত্র দেওয়া হয়েছে। আদর্শ পুকুর খননের জন্য পুকুরের বিভিন্ন অংশগুলো সঠিকভাবে তৈরি করা প্রয়োজন। পুকুরের বিভিন্ন অংশ সঠিকভাবে তৈরি না করার ফলে মাছ চাষে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত অংশটি হলো পাড়। পুকুরের পাড়ের উপরিভাগ ২.৫ মিটার চওড়া হলে তা মাছ চাষের জন্য ভালো। কারণ যথেষ্ট চওড়া ও উঁচু পাড় না হলে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে পাড় ভেঙে মাছ ভেসে বের হয়ে যেতে পারে। 'খ' চিহ্নিত অংশটি হলো বকচর। বকচর তৈরি না করলে পাড়ের মাটি সহজে ধসে পুকুরের পানিতে পড়ে ঘোলাটে হয়ে যায় এবং মাছের শ্বসন ও প্রজনন ব্যাহত হয়। 'গ' অংশটি হলো পুকুরের গভীরতা বা উচ্চতা। পুকুরের পানির গভীরতা সঠিকভাবে (১.৫ থেকে ২ মিটার) তৈরি না করলে অল্প পানিতে সূর্যালোকের কারণে পানি দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত গভীর হলে তলদেশে সূর্যালোক পৌঁছায় না, ফলে প্লাঙ্কটন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। 'ঘ' চিহ্নিত অংশটি হলো তলার দৈর্ঘ্য এবং 'ঙ' চিহ্নিত অংশটি হলো উপরিতলের দৈর্ঘ্য। তলদেশ ও উপরিতলের পরিমাপ সঠিক না থাকলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং মাছের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়। 'চ' চিহ্নিত অংশটি হলো পাড়ের ঢাল। মাছ চাষের ক্ষেত্রে মাটির ধরন অনুযায়ী ১:২ অনুপাতে সঠিক ঢাল তৈরি না করলে পাড় ধসে পড়ে, পানি সেচে বিঘ্ন ঘটে এবং জাল টেনে মাছ আহরণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও পুকুরের তলদেশে অতিরিক্ত কাদা জমলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস (যেমন- মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড) তৈরি হয়ে মাছের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আবার পুকুরের পাড়ে অতিরিক্ত বড় গাছপালা থাকলে বা সঠিক খোলামেলা স্থানে না হলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বাতাস পানিতে মিশে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের পুকুরের চিহ্নিত অংশগুলো সঠিকভাবে নকশা ও তৈরি করা না হলে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, পাড় ভেঙে যাওয়া এবং পানি দূষণসহ মাছ চাষের সার্বিক ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিজ্ঞ কৃষক ফরিদ মিয়া BADC থেকে ৩০ কেজি উফশী জাতের বীজ সংগ্রহ করেন। তিনি ভালো মানের চারা উৎপাদনের জন্য ১০ মি. × ৪ মি. আকারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বীজতলা তৈরি করেন। সঠিক নিয়মে পরিচর্যার কারণে বীজতলার চারার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. ভূমি কর্ষণ কাকে বলে?
ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে বর্ণিত বীজের জন্য উল্লিখিত আকারের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বীজতলার নকশা অঙ্কন কর।
ধানের চারা উৎপাদনে ফরিদ মিয়ার পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
ফসল ফলানোর জন্য জমির মাটিকে খুঁড়ে বা আঁচড়ে আগাছামুক্ত, নরম, আলগা ও ঝুরঝুরা করার সার্বিক প্রক্রিয়াকে ভূমি কর্ষণ বলে।
(খ)

ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো বৃষ্টিপাত।

বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, স্থায়িত্ব ও পরিমাণ ভূমিক্ষয়কে সরাসরি ত্বরান্বিত করে। মুষলধারে অতিবৃষ্টি হলে বৃষ্টির ফোঁটা আকারে বড় হয় এবং মাটিতে সজোরে আঘাত করে, ফলে মাটির সূক্ষ্ম কণাগুলো আলগা ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাটি অতিরিক্ত পানি শোষণ করে সম্পৃক্ত হয়ে পড়লে অতিরিক্ত পানি মাটির ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে নিচের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এই দ্রুতগতির পানির ঢল জমির উপরের উর্বর মাটির স্তর ধুয়ে নিয়ে যায়। পানির প্রবাহবেগ যত বেশি হয়, মাটির ক্ষয়ও তত বৃদ্ধি পায়। এভাবে তীব্র বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিক্ষয় ঘটে।

(গ)

উদ্দীপকে অভিজ্ঞ কৃষক ফরিদ মিয়া BADC থেকে ৩০ কেজি উফশী জাতের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন এবং চারা উৎপাদনের জন্য ১০ মি. $\times$ ৪ মি. আকারের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বীজতলা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কৃষিতত্ত্ব ও পাঠ্যপুস্তকের অনুমোদিত নিয়ম অনুযায়ী, উফশী জাতের ধানের ক্ষেত্রে প্রতি শতক (বা ৪০ বর্গমিটার) বীজতলার জন্য বীজের প্রয়োজন হয় ৩ কেজি।

$\therefore$ ফরিদ মিয়ার ৩০ কেজি বীজের জন্য প্রয়োজনীয় বীজতলার মোট ক্ষেত্রফল:
$= \frac{৩০}{৩} = ১০ \text{ শতক}$ (বা $১০ \times ৪০ = ৪০০ \text{ বর্গমিটার}$)

যেহেতু প্রতিটি বীজতলার আকার নির্ধারিত হয়েছে ১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪ মিটার প্রস্থ, অর্থাৎ প্রতিটি বীজতলার ক্ষেত্রফল:
$= ১০ \text{ মি.} \times ৪ \text{ মি.} = ৪০ \text{ বর্গমিটার}$ (যা প্রায় ১ শতকের সমান)।

সুতরাং, ১০ শতক জমির জন্য ফরিদ মিয়ার প্রয়োজনীয় মোট বীজতলার সংখ্যা হবে:
$= \frac{১০}{১} = ১০\text{টি বীজতলা}$।

একটি আদর্শ বীজতলায় পানি সেচ, নিষ্কাশন ও পরিচর্যার সুবিধার জন্য মাঝখানে ৫০ সেমি (০.৫ মিটার) নালা রেখে দুটি সমান খণ্ড তৈরি করা হয় এবং চারদিকে ২৫ সেমি (০.২৫ মিটার) নালা রাখা হয়।
প্রতিটি খণ্ডের দৈর্ঘ্য = ৯.৫ মিটার এবং প্রস্থ = ১.৫ মিটার।

যেহেতু ১টি বীজতলায় খণ্ডের সংখ্যা ২টি,
$\therefore$ ১০টি বীজতলায় মোট খণ্ডের সংখ্যা হবে:
$= ১০ \times ২ = ২০\text{টি খণ্ড}$।

ফরিদ মিয়ার ৩০ কেজি বীজের জন্য ১০ শতক জমিতে ১০ মি. $\times$ ৪ মি. আকারের প্রয়োজনীয় ১০টি বীজতলার (মোট ২০টি খণ্ড) নকশা নিচে অঙ্কন করা হলো:

উত্তরের ছবি
(ঘ)

মানসম্মত ও নীরোগ ধানের চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে অভিজ্ঞ কৃষক ফরিদ মিয়ার গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের আলোকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুক্তিসঙ্গত। নিম্নে তাঁর পদক্ষেপগুলো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. প্রত্যায়িত বীজ সংগ্রহ: বীজ হলো ফসল উৎপাদনের মৌলিক উপাদান। ফরিদ মিয়া অনিরাপদ বা সাধারণ বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ না করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) থেকে রোগমুক্ত, বিশুদ্ধ ও উচ্চ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাসম্পন্ন প্রত্যায়িত উফশী বীজ সংগ্রহ করেছেন। ফলে তাঁর বীজতলায় সুস্থ ও সবল চারা গজানোর প্রাথমিক ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে।

২. বিজ্ঞানসম্মত বীজতলার নকশা ও ক্ষেত্রফল নির্ধারণ: ৩০ কেজি বীজের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ শতক বীজতলায় তিনি ১০ মি. $\times$ ৪ মি. আকারের মোট ১০টি বীজতলা (২০টি খণ্ড) তৈরি করেছেন। প্রতিটি বীজতলার মাঝখানে ৫০ সেমি নালা এবং চারদিকে ২৫ সেমি নালা রাখায় চারা নষ্ট না করে বীজতলায় দাঁড়িয়ে আগাছা বাছাই, রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং সুষম সেচ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে।

৩. উপযুক্ত জমি নির্বাচন ও মাটি প্রস্তুতি: চারা উৎপাদনের জন্য রোদযুক্ত ও উর্বর দোআঁশ মাটির স্থান নির্বাচন এবং সুষম জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটিকে নরম, আলগা ও ঝুরঝুরে করায় চারার শিকড় দ্রুত বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে।

৪. পরিমিত সেচ ও পানি নিষ্কাশন: নালায় পানি সংরক্ষণ করে বীজতলার আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করায় চারা পচে নষ্ট হওয়া রোধ হয়েছে এবং চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ থেকেছে।

৫. রোগবালাই ও আগাছা দমন: নিয়মমাফিক নিবিড় পরিচর্যার কারণে বীজতলার আগাছা ও ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা সহজ হয়েছে, যা চারার গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে।

সুতরাং উপর্যুক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফরিদ মিয়ার গৃহীত সুপরিকল্পিত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবসম্মত, বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই বীজতলার চারার সামগ্রিক গুণগত মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নূর হাসান তার জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এজন্য তিনি বন্ধু রিফাতের নিকট থেকে বীজ সংগ্রহ করলেন। উক্ত বীজ তিনি রোদে দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিলেন। শুকানোর পর তিনি প্রতি কেজি বীজ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজন পেলেন। অতঃপর বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট চিত্তে আবাদ করেন।
৪. রগিং কাকে বলে?
দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয় কেন?
নূর হাসানের পরীক্ষিত বীজের আর্দ্রতার হার নির্ণয় কর।
নূর হাসানের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রম মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বীজ ফসলের জমি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অন্য জাতের গাছ বা আগাছা শিকড়সহ তুলে ফেলার প্রক্রিয়াকে রগিং বা বাছাইকরণ বলে।
(খ)

যে মাটিতে বালি, পলি ও কর্দম কণার অনুপাত প্রায় সমান থাকে এবং চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, তাকে দোআঁশ মাটি বলে।

কৃষিকাজে দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয় কারণ এ মাটিতে অর্ধেক বালি এবং বাকি অর্ধেক পলি ও কর্দম কণার সুষম মিশ্রণ থাকে। ফলে এই মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হয়—এতে সহজেই অতিরিক্ত পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না, আবার অতি দ্রুত শুকিয়েও যায় না। এছাড়া দোআঁশ মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে এবং মাটি নরম, আলগা ও ঝুরঝুরে হওয়ায় কর্ষণ করা অত্যন্ত সহজ। প্রায় সব ধরনের ফসল এই মাটিতে উৎকৃষ্ট ফলন দেয় বলে কৃষিক্ষেত্রে দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বিবেচনা করা হয়।

(গ)

উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী,
নূর হাসানের সংগৃহীত নমুনা বীজের প্রারম্ভিক ওজন = ১ কেজি = ১০০০ গ্রাম
রোদে ভালোভাবে শুকানোর পর বীজের ওজন = ৯০০ গ্রাম

অতএব, শুকানোর ফলে বীজের ওজন হ্রাস = $(১০০০ - ৯০০) \text{ গ্রাম} = ১০০ \text{ গ্রাম}$

আমরা জানি,
$$\text{বীজের আর্দ্রতার শতকরা হার (\%)} = \frac{\text{নমুনা বীজের প্রারম্ভিক ওজন} - \text{শুকানোর পর বীজের ওজন}}{\text{নমুনা বীজের প্রারম্ভিক ওজন}} \times ১০০\%$$

বা,
$$\text{বীজের আর্দ্রতার হার} = \frac{১০০০\text{ গ্রাম} - ৯০০\text{ গ্রাম}}{১০০০\text{ গ্রাম}} \times ১০০\%$$

বা,
$$\text{বীজের আর্দ্রতার হার} = \frac{১০০\text{ গ্রাম}}{১০০০\text{ গ্রাম}} \times ১০০\%$$

$$\therefore \text{বীজের আর্দ্রতার হার} = ১০\%$$

অতএব, নূর হাসানের পরীক্ষিত বীজের আর্দ্রতার হার ১০%.

(ঘ)

উদ্দীপকে গম চাষের পূর্বে কৃষক নূর হাসানের বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষার কার্যক্রমটি ছিল আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের আলোকে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত, বিচক্ষণ ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ। নিম্নে তাঁর গৃহীত কার্যক্রমগুলোর গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা হলো:

১. বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ:
গম বীজের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও ভালো অঙ্কুরোদগমের জন্য আর্দ্রতার আদর্শ মাত্রা হলো ১২% থেকে ১৩%। উদ্দীপকে নূর হাসানের সংগৃহীত বীজের আর্দ্রতার হার নির্ণয় করে দেখা যায় তা ১০%, যা আদর্শ সীমার মধ্যেই রয়েছে। আর্দ্রতা অতিরিক্ত থাকলে বীজে পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে এবং অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয়। নূর হাসান রোদে শুকিয়ে সঠিক আর্দ্রতায় বীজ নিয়ে আসায় বীজের সুপ্ততা ও জীবনীশক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।

২. অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা (Germination Test):
বীজ বপনের পূর্বে অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করা অপরিহার্য। সাধারণত ১০০টি নমুনা বীজের মধ্যে অন্তত ৮০টি বা তার বেশি বীজ স্বাভাবিকভাবে গজালে (অঙ্কুরোদগম হার ৮০% বা তার বেশি) তাকে উন্নত মানের বীজ বলা হয়। এই পরীক্ষা সম্পন্ন করায় জমিতে কতটুকু বীজ বুনতে হবে তার সঠিক হার নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে এবং কম চারা গজানোর ঝুঁকি দূর হয়েছে।

৩. বীজের সতেজতা বা জীবনীশক্তি পরীক্ষা (Vigour Test):
সতেজতা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও চারা শক্ত ও সবলভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। কোনো বীজের কেবল অঙ্কুরোদগম হওয়াই যথেষ্ট নয়, চারাটি যেন রোগজীবাণু বা বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে দ্রুত মাঠের মাটিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নূর হাসান সতেজতা পরীক্ষা করায় দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত বীজ বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অতএব, সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায়, বন্ধু রিফাতের কাছ থেকে সংগৃহীত অনিবন্ধিত বীজের গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আবাদের পূর্বেই আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা যাচাই করার পদক্ষেপটি নূর হাসানের সচেতন কৃষকের পরিচায়ক এবং কাঙ্ক্ষিত উচ্চ ফলন অর্জনের জন্য তাঁর এই কার্যক্রমটি শতভাগ যথার্থ ও সময়োপযোগী ছিল।

অধ্যায়-২: কৃষি উপকরণ আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।