পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থায় টিকে থাকা, বৃদ্ধি ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার উপযোগী বৈশিষ্ট্য বা সামর্থ্যকে ফসলের অভিযোজন বলে।
যেমন, খরাসহিষ্ণু জাত পানির ঘাটতি তুলনামূলকভাবে সহ্য করতে পারে। আবার স্বল্প জীবনকালের জাত তীব্র খরা শুরু হওয়ার আগেই পরিপক্ব হয়ে প্রতিকূল সময় এড়িয়ে যেতে পারে। উপযুক্ত অভিযোজিত জাত নির্বাচন ফসলহানির ঝুঁকি কমায়।
উদ্দীপকের জাত দুটি হলো ব্রি ধান৫৬ ও ব্রি ধান৫৭। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ দুটি আমন ধানের জাত খরাসহিষ্ণু।
এদের জীবনকাল তুলনামূলক কম। ফলে পানির স্বল্পতা সহ্য করার পাশাপাশি মৌসুমের শেষভাগের খরা এড়িয়ে ফসল সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যায়। খরাপ্রবণ এলাকায় আমন উৎপাদনে এই বৈশিষ্ট্য বিশেষ উপকারী।
আলেকদিয়ার কৃষকদের পানির ঘাটতিজনিত ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যেই কৃষি অফিসার এই জাত দুটি চাষের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে খরাসহিষ্ণু হওয়া মানে সম্পূর্ণ পানি ছাড়াই উৎপাদন সম্ভব—এমন নয়।
আলেকদিয়ার বিরূপ পরিবেশটি খরাজনিত হলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ যথার্থ। ব্রি ধান৫৬ ও ব্রি ধান৫৭ খরাসহিষ্ণু আমন ধানের জাত হওয়ায় এগুলো নির্বাচন একটি উপযোগী অভিযোজন কৌশল।
খরায় মাটির পানির ঘাটতি বাড়ে; ধানের বৃদ্ধি, ফুল ফোটা ও দানা গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খরাসহিষ্ণু জাত তুলনামূলকভাবে এই চাপ সামলাতে পারে। স্বল্প জীবনকাল থাকায় মৌসুমের শেষের তীব্র পানির ঘাটতি শুরু হওয়ার আগে ফসল সংগ্রহের সুযোগও তৈরি হয়।
সুফল পেতে স্থানীয় উপযোগিতা যাচাই, সময়মতো রোপণ, সুস্থ চারা ব্যবহার, আগাছা দমন এবং প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধিপর্যায়ে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণও প্রয়োজন।
তাই খরাপ্রবণ পরিবেশে উপযুক্ত জাতের সঙ্গে সঠিক পরিচর্যা যুক্ত হলে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং কৃষকের উৎপাদন ও আয় রক্ষায় সহায়তা করবে।