অধ্যায়-৩: কৃষি ও জলবায়ু

এসএসসি · কৃষিশিক্ষা

অধ্যায়-৩: কৃষি ও জলবায়ু - কৃষিশিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

আলেকদিয়া গ্রামের কৃষকগণ বিরূপ পরিবেশের কারণে ফসল চাষ করে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসার এমতাবস্থায় এলাকার কৃষকদের নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের ব্রিধান-৫৬ ও ব্রিধান-৫৭ চাষ করার পরামর্শ দেন।
১. খরা কাকে বলে?
ফসলের অভিযোজন বলতে কী বোঝ?
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসল দুটির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
বিরূপ পরিবেশ মোকাবেলায় কৃষি অফিসার এর পরামর্শ মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে ফসলের প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি সৃষ্টি হলে তাকে খরা বলে।
(খ)

পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থায় টিকে থাকা, বৃদ্ধি ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার উপযোগী বৈশিষ্ট্য বা সামর্থ্যকে ফসলের অভিযোজন বলে।

যেমন, খরাসহিষ্ণু জাত পানির ঘাটতি তুলনামূলকভাবে সহ্য করতে পারে। আবার স্বল্প জীবনকালের জাত তীব্র খরা শুরু হওয়ার আগেই পরিপক্ব হয়ে প্রতিকূল সময় এড়িয়ে যেতে পারে। উপযুক্ত অভিযোজিত জাত নির্বাচন ফসলহানির ঝুঁকি কমায়।

(গ)

উদ্দীপকের জাত দুটি হলো ব্রি ধান৫৬ ও ব্রি ধান৫৭। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ দুটি আমন ধানের জাত খরাসহিষ্ণু।

এদের জীবনকাল তুলনামূলক কম। ফলে পানির স্বল্পতা সহ্য করার পাশাপাশি মৌসুমের শেষভাগের খরা এড়িয়ে ফসল সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যায়। খরাপ্রবণ এলাকায় আমন উৎপাদনে এই বৈশিষ্ট্য বিশেষ উপকারী।

আলেকদিয়ার কৃষকদের পানির ঘাটতিজনিত ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যেই কৃষি অফিসার এই জাত দুটি চাষের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে খরাসহিষ্ণু হওয়া মানে সম্পূর্ণ পানি ছাড়াই উৎপাদন সম্ভব—এমন নয়।

(ঘ)

আলেকদিয়ার বিরূপ পরিবেশটি খরাজনিত হলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ যথার্থ। ব্রি ধান৫৬ ও ব্রি ধান৫৭ খরাসহিষ্ণু আমন ধানের জাত হওয়ায় এগুলো নির্বাচন একটি উপযোগী অভিযোজন কৌশল।

খরায় মাটির পানির ঘাটতি বাড়ে; ধানের বৃদ্ধি, ফুল ফোটা ও দানা গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খরাসহিষ্ণু জাত তুলনামূলকভাবে এই চাপ সামলাতে পারে। স্বল্প জীবনকাল থাকায় মৌসুমের শেষের তীব্র পানির ঘাটতি শুরু হওয়ার আগে ফসল সংগ্রহের সুযোগও তৈরি হয়।

সুফল পেতে স্থানীয় উপযোগিতা যাচাই, সময়মতো রোপণ, সুস্থ চারা ব্যবহার, আগাছা দমন এবং প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধিপর্যায়ে সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণও প্রয়োজন।

তাই খরাপ্রবণ পরিবেশে উপযুক্ত জাতের সঙ্গে সঠিক পরিচর্যা যুক্ত হলে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং কৃষকের উৎপাদন ও আয় রক্ষায় সহায়তা করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারা বিশ্বব্যাপী হলেও তৃতীয় বিশ্বে এর প্রভাব আরও ব্যাপক। ফলে নাটোর জেলার বাসিন্দা হাসেম আলী কৃষি কার্যক্রমে চরম সমস্যায় পড়েন। তার ফসল, পশু-পাখি, মাছ কোনোটিই এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব মোকাবেলায় তাই সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।
২. খরা কাকে বলে?
বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে কেন?
জলবায়ু পরিবর্তনের হাসেম আলীর পশু-পাখির খরাজনিত সমস্যাগুলো বর্ণনা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত এলাকার মৎস্য ক্ষেত্রে অভিযোজন কৌশলগুলো বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
দীর্ঘ সময় অনাবৃষ্টি বা প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি ও পরিবেশে পানির ঘাটতি সৃষ্টির অবস্থাকে খরা বলে।
(খ)

কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যানবাহনে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাড়ে। বন উজাড় হলে গাছের মাধ্যমে এই গ্যাস শোষণও কমে যায়।

এ ছাড়া গবাদিপশুর পরিপাক, ধানক্ষেত ও অক্সিজেনস্বল্প পরিবেশে জৈব বর্জ্যের পচন থেকে মিথেন এবং নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার থেকে নাইট্রাস অক্সাইড নির্গত হয়। এসব মানবীয় কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস জমা হচ্ছে।

(গ)

নাটোরের হাসেম আলীর পশুপাখি খরা ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত পানির সংকট ও অতিরিক্ত তাপে কয়েকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১. মাঠের ঘাস শুকিয়ে যাওয়ায় কাঁচা গোখাদ্য কমে যায়। পর্যাপ্ত বিকল্প খাদ্য না পেলে পশু অপুষ্টিতে ভোগে এবং বৃদ্ধি ও দুধ উৎপাদন কমে।

২. পানির উৎস শুকিয়ে গেলে নিরাপদ পানীয় জলের সংকট হয়। অবশিষ্ট দূষিত পানি পান করায় রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

৩. উচ্চ তাপমাত্রায় পশুপাখির তাপপীড়ন, হাঁপানো ও খাদ্যগ্রহণ কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; তীব্র অবস্থায় মৃত্যু ঘটতে পারে।

৪. অপুষ্টি ও তাপপীড়নে স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং রোগ ও বহিঃপরজীবীর আক্রমণ সামলানোর ক্ষমতা কমতে পারে। ফলে হাসেম আলীর চিকিৎসা ও খাদ্যব্যয় বাড়ে, অথচ উৎপাদন কমে যায়।

(ঘ)

উদ্দীপকের নাটোর অঞ্চলে খরা ও পানির স্বল্পতা বিবেচনায় মাছচাষের সময়, প্রজাতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা বদলানোই প্রধান অভিযোজন কৌশল।

প্রথমত, পুকুরে যত দিন পর্যাপ্ত পানি থাকে সেই সময়কে কাজে লাগাতে তুলনামূলক বড় ও সুস্থ পোনা মজুদ করতে হবে। এতে ছোট পোনা থেকে বড় করার দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন কমে এবং পানি সংকটের আগেই মাছ আহরণ করা যায়। স্থানীয়ভাবে পোনা সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থাও দরকার।

দ্বিতীয়ত, স্থানীয় পরিবেশ ও পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী তেলাপিয়া, কই বা দেশি মাগুরের মতো তুলনামূলক প্রতিকূলতা সহনশীল মাছ নির্বাচন করা যায়। তবে এসব মাছও পানিহীন পুকুরে চাষ করা যায় না; উপযুক্ত গভীরতা ও পানির মান বজায় রাখতেই হবে।

তৃতীয়ত, পুকুরের প্রয়োজনীয় গভীরতা রক্ষা, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং সুযোগ থাকলে নিরাপদ উৎস থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পানির পরিমাণ কমলে মজুদঘনত্ব ও খাদ্যের মাত্রা সমন্বয় এবং প্রয়োজনমতো আংশিক আহরণ করা উচিত।

চতুর্থত, অতিরিক্ত গরমে সীমিত স্থানে ছায়ার ব্যবস্থা, পানিতে অক্সিজেন ও মাছের আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে বায়ুসঞ্চালন করতে হবে। পুরো পুকুর জলজ উদ্ভিদে ঢেকে ফেলা যাবে না।

এভাবে মৌসুমি পানি ও তাপমাত্রার সঙ্গে চাষপদ্ধতি খাপ খাওয়ালে মাছের মৃত্যু ও উৎপাদনহানি কমানো সম্ভব। উপকূলীয় লবণাক্ততার কৌশল এখানে সরাসরি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
৩. উদ্ভিদের অভিযোজন কী?
ফসলের খরা সহ্যকরণ কৌশল বলতে কী বুঝায়?
উদ্দীপকের A অবস্থায় ফসল বেঁচে থাকার কৌশলটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের B অবস্থাটি বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তারে সহায়ক উদ্ভিদের গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও জৈব-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বা সমন্বয়কে উদ্ভিদের অভিযোজন বলে।
(খ)

খরায় পড়ার পরও দেহাভ্যন্তরে কম পানি থাকা অবস্থায় টিকে থাকার ক্ষমতাকে খরা সহ্যকরণ বলে। এতে কোষে দ্রাব পদার্থ জমা, বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সুপ্তাবস্থার মতো বৈশিষ্ট্য সাহায্য করে।

খরা কেটে গেলে সহনশীল ফসল আবার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল ধারণ করতে পারে। অর্থাৎ খরার আগেই জীবনচক্র শেষ করা নয়, পানিস্বল্পতা সহ্য করে বেঁচে থাকাই এই কৌশলের মূল কথা।

(গ)

A অংশে অভিযোজনের মাধ্যমে খরায় টিকে থাকার কথা বলা হয়েছে। ফসলের ক্ষেত্রে খরা এড়ানো এবং খরা প্রতিরোধের বিভিন্ন অভিযোজন এর উদাহরণ।

খরা এড়ানোতে স্বল্প জীবনকালের ফসল খরা শুরু হওয়ার আগেই জীবনচক্র শেষ করে। যেমন—পাঠ্যবই অনুসারে ফেলনের ফুল ফোটা থেকে দানা পরিপক্ব হতে প্রায় ১৭–২০ দিন লাগে। উপযুক্ত সময়ে বপন করলে পানির সংকটের আগেই ফসল সংগ্রহ করা যায়।

আবার খরা চলাকালে দেহে পানির ঘাটতি কমিয়ে টিকে থাকার কৌশলকে খরা পরিহারকরণ বলা হয়। গম ও যবের কিছু জাত পত্ররন্ধ্রের খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণ করে প্রস্বেদনে পানি হারানো কমায়। জোয়ার ও বাজরার গভীর ও বিস্তৃত মূল মাটির অপেক্ষাকৃত গভীর স্তর থেকে পানি সংগ্রহে সাহায্য করে।

এভাবে কোনো ফসল খরার সময় এড়িয়ে যায়, আবার কোনোটি পানি সংগ্রহ বাড়িয়ে ও অপচয় কমিয়ে খরা মোকাবিলা করে। A-তে নির্দিষ্ট ফসলের নাম নেই; তাই এগুলো কৌশলটি বোঝানোর সুনির্দিষ্ট উদাহরণ।

(ঘ)

B-তে ‘দেহাভ্যন্তরে স্বল্প পানি সাম্যতা নিয়ে টিকে থাকে’ বলা হয়েছে। এটি ফসলের খরা সহ্যকরণ কৌশল নির্দেশ করে।

খরায় মাটি থেকে পানি গ্রহণ কমে গেলে কোষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। সহনশীল উদ্ভিদ কোষে দ্রবণীয় পদার্থ জমিয়ে অভিস্রবণীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পানি ধরে রাখতে ও রসস্ফীতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাঠ্যবইয়ে তুলার ক্ষেত্রে এ ধরনের কৌশলের উল্লেখ আছে।

প্রোলিনের মতো পদার্থ জমা কোষের পানির ভারসাম্য ও বিপাকীয় উপাদান রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। কিছু উদ্ভিদ বৃদ্ধি ও সালোকসংশ্লেষণ সীমিত করে পানিস্বল্পতার সময় টিকে থাকে। দৃঢ় কোষপ্রাচীর ও সংরক্ষিত কুঁড়িও সহনশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।

বহুবর্ষজীবী কিছু উদ্ভিদের উপরিভাগ শুকিয়ে গেলেও ভূগর্ভস্থ কন্দ, বাল্ব বা রাইজোম সুপ্ত অবস্থায় জীবিত থাকে। অনুকূল আর্দ্রতা ফিরে এলে আবার অঙ্কুরিত হয়।

সুতরাং B-এর মূল বিষয় হলো স্বল্প পানিতে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম বজায় রাখা এবং খরার পর পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়া। এটি খরার আগে পরিপক্ব হয়ে যাওয়া বা বেশি পানি সংগ্রহ করে ঘাটতি এড়ানোর কৌশল থেকে পৃথক; তবে একই উদ্ভিদে একাধিক কৌশল থাকতে পারে।

প্রতি বছর বন্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। ফলশ্রুতিতে জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। উক্ত পরিস্থিতিতে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
৪. দাপোগ বীজতলা কী?
পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত কর।
উদ্দীপকের পরিস্থিতির হাত থেকে গবাদিপশু রক্ষার কৌশলগুলো বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সমতল শক্ত পৃষ্ঠ বা পলিথিনে ঢাকা উঁচু স্থানে ঘনভাবে অঙ্কুরিত ধানবীজ ছড়িয়ে নিয়মিত পানি দিয়ে মাদুরের মতো চারা তৈরির বীজতলাকে দাপোগ বীজতলা বলে।
(খ)

পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকলে কার্যকর পানির গভীরতা কমে। জৈব পদার্থসমৃদ্ধ কাদা পচতে অক্সিজেন খরচ হয় এবং অক্সিজেনস্বল্প তলদেশে ক্ষতিকর গ্যাস জমতে পারে।

এতে মাছের শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক আচরণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে এবং পুকুর ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়। তাই পুকুর প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাদা সরাতে হয়।

(গ)

উদ্দীপকের বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ফসল, জলাশয় এবং পশুপাখির খামারে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১. ফসল ও বীজতলা ডুবে শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়; গাছ পচে বা মারা যেতে পারে। জমি ভেজা থাকায় পরবর্তী চাষও বিলম্বিত হয়।

২. ঘাসের জমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট এবং মজুদ খাদ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে পশু অপুষ্টিতে ভোগে।

৩. খামার ও আশ্রয়স্থল প্লাবিত হলে পশুপাখি রাখা, চলাচল ও পরিচর্যা কঠিন হয়। ডুবে যাওয়া বা আঘাতের ঝুঁকিও থাকে।

৪. পানির উৎস দূষিত হয়। স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগ, পরজীবীর সংক্রমণ এবং স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি বাড়ে।

৫. পুকুর উপচে মাছ বের হয়ে যেতে পারে এবং পানির মান বদলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে কৃষকের আয় কমে ও পুনর্বাসনব্যয় বাড়ে।

(ঘ)

বন্যা ও জলাবদ্ধতায় গবাদিপশু রক্ষার জন্য আশ্রয়, খাদ্য, পানি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

আগাম সতর্কবার্তা পেলে পশুকে নিরাপদ পথে উঁচু, শুকনো ও মজবুত আশ্রয়ে নিতে হবে। আশ্রয়ে পর্যাপ্ত জায়গা, বাতাস চলাচল এবং পিছলমুক্ত মেঝে থাকতে হবে। এতে ডুবে যাওয়া, আঘাত ও দীর্ঘ সময় ভেজা মেঝেতে থাকার ক্ষতি কমে।

বন্যার দূষিত পানি না দিয়ে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করতে হবে। আগে থেকে উঁচু ও শুকনো স্থানে রাখা খড়, হে, ভালো মানের সাইলেজ ও প্রয়োজনীয় দানাদার খাদ্য দিয়ে উপযুক্ত রেশন বজায় রাখতে হবে। ভেজা, পচা বা ছত্রাকধরা খাদ্য দেওয়া যাবে না।

অসুস্থ পশু আলাদা রেখে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। টিকা ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ পশুর অবস্থা ও এলাকার ঝুঁকি অনুযায়ী করতে হবে। মৃত পশু ও বর্জ্য স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপদে অপসারণ করতে হবে, যেন পানির উৎস দূষিত না হয়।

পানি নেমে গেলে আশ্রয় পরিষ্কার-শুকনো করে ব্যবহার এবং উপযুক্ত জমিতে ঘাস পুনরায় চাষ করতে হবে। এই সমন্বিত ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রাণহানি কমানো এবং পরবর্তী সময়ে উৎপাদন পুনরুদ্ধার—দুই উদ্দেশ্যই পূরণ হয়।

অধ্যায়-৩: কৃষি ও জলবায়ু আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।