অধ্যায়-৪: কৃষিজ উৎপাদন

এসএসসি · কৃষিশিক্ষা

অধ্যায়-৪: কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

চিত্রটি লক্ষ কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
১. সাকার কাকে বলে?
ডাল জাতীয় ফসলে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন জাতীয় সার প্রয়োগ করতে হয় না কেন?
উদ্দীপকের চিত্রে গাছ প্রতি ন্যূনতম কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়? বর্ণনা কর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের ফসলটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
মাতৃগাছের গোড়া থেকে বের হওয়া নতুন চারাগাছ যা বৃদ্ধির প্রথম পর্যায়ে মাতৃগাছ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে, তাকে সাকার বলে।
(খ)

ডাল একটি লেগিউম বা শিম জাতীয় ফসল। এ জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে বা গুটিতে 'রাইজোবিয়াম' (Rhizobium) নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে।

এসব ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস শোষণ করে তা নাইট্রেট যৌগে রূপান্তর করে উদ্ভিদের মূল অঞ্চলে আবদ্ধ করে ফেলে। গাছ এই প্রাকৃতিকভাবে আবদ্ধকৃত নাইট্রোজেন তার পুষ্টি উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে।

যেহেতু ডালজাতীয় উদ্ভিদ নিজের পুষ্টির সিংহভাগ নাইট্রোজেন বাতাস থেকেই সংগ্রহ করে নেয়, তাই জমিতে আলাদাভাবে অতিরিক্ত নাইট্রোজেনযুক্ত সার (যেমন ইউরিয়া) প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।

(গ)

উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত ফলটি হলো আনারস। আনারস চাষে গাছ প্রতি ন্যূনতম সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:

সার প্রয়োগের প্রথম কাজ হলো সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ। আনারসের জন্য গাছ প্রতি নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হয়:

সারের নাম গাছ প্রতি পরিমাণ
পচা গোবর / জৈব সার ২৯০ – ৩১০ গ্রাম
ইউরিয়া ৩০ – ৩৬ গ্রাম
টিএসপি (TSP) ১০ – ১৫ গ্রাম
এমওপি (MOP/পটাশ) ২৫ – ৩৫ গ্রাম
জিপসাম ১০ – ১৫ গ্রাম

প্রয়োগ পদ্ধতি:

  • জমি বা বেড তৈরির সময়: পচা গোবর, জিপসাম এবং সম্পূর্ণ টিএসপি সার বেড তৈরির সময়েই মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • কিস্তিতে প্রয়োগ: চারা রোপণের ৪-৫ মাস পর থেকে ইউরিয়া ও এমওপি (পটাশ) সার সমান ৫টি কিস্তিতে গাছের চারপাশে মাটির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ প্রদান করতে হয়।

অতএব, আনারস চাষে গাছপ্রতি ন্যূনতম উপরিউক্ত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে।

(ঘ)

উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত ফলটি হলো আনারস। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আনারসের চাষ ও এর আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম:

১. পুষ্টি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যরক্ষা: আনারস অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং ভিটামিন 'এ', 'বি' ও 'সি' সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত আনারস গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অপুষ্টি দূরীকরণে ভূমিকা রাখে।

২. বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আনারসের বাগান রয়েছে। এছাড়া নরসিংদী, কুমিল্লা ও দিনাজপুর জেলাতেও প্রচুর আনারস উৎপাদিত হয়। চারা তৈরি, জমি প্রস্তুত, রোপণ, নিড়ানি, ফসল আহরণ ও বাজারজাতকরণে লক্ষাধিক কৃষক ও শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

৩. কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফ্রুট জুস, জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, মোরব্বা এবং টিনজাত খাবার তৈরির জন্য আনারস অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। এর ওপর নির্ভর করে দেশে একাধিক বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।

৪. রপ্তানি বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: আন্তর্জাতিক বাজারে সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন বাংলাদেশি আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে বিদেশে রপ্তানি হয়ে প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করছে।

অতএব, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব দূরীকরণ, শিল্পায়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উদ্দীপকের ফসল অর্থাৎ আনারসের আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
২. সরিষার একটি জাতের নাম লিখ।
গোলাপ গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের প্রয়োজনীয়তা কী?
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটির তিনটি গাছের জন্য সারের পরিমাণ নির্ণয় কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সরিষার একটি উন্নত জাত হলো বারি সরিষা-১৪ (বা টরি-৭)।
(উদ্দীপকের ফসল কলার ক্ষেত্রে: কাঁচা কলার একটি উন্নত জাত হলো বারি কলা-২)
(খ)

গোলাপের নতুন ডালে বেশি ও বড় আকারের ফুল ফোটে, তাই পুরাতন ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মমাফিক ডালপালা ছাঁটাই করলে গাছের অভ্যন্তরীণ বায়ু চলাচল ও সূর্যালোক প্রবেশ সহজ হয়, রোগ-জীবাণুর বিস্তার রোধ হয়, গাছের সুষম কাঠামো সুন্দর ও সুদৃঢ় হয় এবং অধিক পরিমাণে আকর্ষণীয় ও সতেজ ফুল ফোটে।

(গ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো কলা। কলার তিনটি গাছের জন্য প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ নিচে ছকের মাধ্যমে নির্ণয় করা হলো:

সারের নাম গাছ প্রতি সারের পরিমাণ ৩টি গাছের জন্য সারের মোট পরিমাণ
ইউরিয়া ৫০০–৬৫০ গ্রাম ১৫০০–১৯৫০ গ্রাম (বা ১.৫–১.৯৫ কেজি)
টিএসপি ২৫০–৪০০ গ্রাম ৭৫০–১২০০ গ্রাম (বা ০.৭৫–১.২ কেজি)
এমওপি ২৫০–৩০০ গ্রাম ৭৫০–৯০০ গ্রাম (বা ০.৭৫–০.৯ কেজি)
গোবর / জৈব সার ১৫–২০ কেজি ৪৫–৬০ কেজি
(ঘ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-১ হলো কলার ‘অসি চারা’ (Sword Sucker) এবং চিত্র-২ হলো ‘পানি চারা’ (Water Sucker)। এ দুটি চারার মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য নিচে ছকের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হলো:

তুলনার বিষয় চিত্র-১ (অসি চারা / তলোয়ার তেউড়) চিত্র-২ (পানি চারা / পানি তেউড়)
১. পাতার গঠন পাতা সরু, সূচালো এবং অনেকটা তলোয়ারের মতো। পাতা পাতলা, অপেক্ষাকৃত চওড়া ও দুর্বল প্রকৃতির।
২. কাণ্ডের আকৃতি চারার গোড়ার দিকটা বেশ মোটা ও স্ফীত এবং ক্রমশ উপরের দিকে সরু হতে থাকে। চারার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সর্বত্র প্রায় সমান ও সরু থাকে।
৩. খাদ্য সঞ্চয় ও শক্তি গোড়ায় পর্যাপ্ত খাদ্য সঞ্চিত থাকে, ফলে চারা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গোড়ায় খাদ্য সঞ্চিত থাকে না বললেই চলে, ফলে চারার প্রাথমিক বৃদ্ধি খুবই ধীর ও দুর্বল হয়।
৪. রোপণ উপযোগিতা কলা চাষ ও বাগান তৈরির জন্য অসি চারা সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বাধিক উপযুক্ত। কলা চাষের জন্য পানি চারা কোনোভাবেই উপযোগী বা সুপারিশকৃত নয়।
৫. ফলন ও জীবনকাল এ চারা রোপণ করলে গাছ দ্রুত বড় হয় এবং যথাসময়ে অধিক ফলন পাওয়া যায়। এ চারা রোপণ করলে গাছে ফল আসতে অনেক বেশি সময় লাগে এবং ফলন অত্যন্ত কম হয়।

সুতরাং তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, সফল ও লাভজনক কলা চাষের জন্য চিত্র-১ (অসি চারা) নির্বাচন করাই সর্বোত্তম।

সাহেদ এইবার আমন মৌসুমে ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৮ মিটার প্রস্থের একখণ্ড উঁচু জমি নির্বাচন করেন। তারপর যথাযথভাবে ভেজা বীজতলাটি প্রস্তুত করে ৬ কেজি অঙ্কুরিত ব্রি ধান ৫৬ এর বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করেন। চারা উৎপাদনের পর সুষ্ঠুভাবে চারা তোলা, চারা লাগানো ও অন্যান্য পরিচর্যা করে যাচ্ছেন।
৩. সম্পূরক খাদ্য কাকে বলে?
বীজ সংরক্ষণ বলতে কী বুঝায়?
পরিমাপসহ উদ্দীপকের বীজতলার একটি নকশা আঁক।
ধান উৎপাদনে সাহেদ সাহেবের কার্যক্রম মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
অধিক উৎপাদন পাওয়ার লক্ষ্যে মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
(খ)

বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনসহ যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকে বোঝায়।

বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও সজীবতা বজায় রেখে পরবর্তী মৌসুমে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে নিরাপদে সংরক্ষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে তা শুকানো, পরিবহন, মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ গুদামজাতকরণের মাধ্যমে গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে সংরক্ষণ করাকে বীজ সংরক্ষণ বলে।

(গ)

উদ্দীপকে বর্ণিত সাহেদ সাহেবের ১০ মিটার × ৮ মিটার সাইজের জমিতে ৯.৫ মিটার × ১.৫ মিটার সাইজের চারটি বীজতলা তৈরি করা যায়। নিচে পরিমাপসহ উক্ত বীজতলার একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা অঙ্কন করা হলো:

পরিমাপের বিবরণ:

  • জমির মোট পরিমাপ: দৈর্ঘ্য ১০ মিটার এবং প্রস্থ ৮ মিটার
  • চারিদিকে সীমানা নালা: জমির চারিদিকে ২৫ সেমি (০.২৫ মিটার) চওড়া নালা
  • বীজতলার সংখ্যা: ৪টি সমান্তরাল খণ্ড (বীজতলা-১, বীজতলা-২, বীজতলা-৩ ও বীজতলা-৪)
  • প্রতিটি বীজতলার পরিমাপ: দৈর্ঘ্য ৯.৫ মিটার এবং প্রস্থ ১.৫ মিটার
  • অভ্যন্তরীণ নালা: বীজতলাগুলোর পরস্পরের মাঝে ৫০ সেমি (০.৫০ মিটার) চওড়া সেচ ও নিকাশ নালা
উত্তরের ছবি
(ঘ)

ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভালো মানের চারা উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চারার মান ভালো হলে উৎপাদন আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে সাহেদ সাহেব যথাযথভাবে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করেন এবং চারা উৎপাদনের পর সুষ্ঠুভাবে চারা তোলা, চারা লাগানো ও অন্যান্য পরিচর্যা সম্পাদন করেন।

সাহেদ সাহেব চারা তোলার পূর্বে বীজতলায় পানি সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নেন। এতে বীজতলার মাটি নরম হয়, ফলে চারা তুলতে সুবিধা হয় এবং শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ধানের চারা পোকায় আক্রান্ত হলে তিনি কীটনাশক প্রয়োগ করেন এবং চারার গোড়া বা কাণ্ড যাতে না ভাঙে সেদিকে সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখেন। চারা তোলার পর তা ছোট ছোট আঁটি আকারে বেঁধে নেন। বীজতলা থেকে রোপণের জন্য চারা বহন করার সময় পাতা ও কাণ্ড মুচড়ে না রেখে চারা ঝুড়ি বা টুকরিতে সারি করে সাজিয়ে পরিবহন করেন।

জমিতে জাত ও মৌসুমভেদে তিনি ২৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করেন। এক্ষেত্রে জমিতে পরিমিত পানি রেখে দড়ির সাহায্যে সোজা সারি করে প্রতি গোছায় ২-৩টি চারা রোপণ করেন। এছাড়া তিনি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করেন। চারা রোপণ করার পর ৬-৭ দিন পর্যন্ত ৩-৫ সেমি পানি ধরে রাখেন, যা আগাছা দমনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। চারার রোগ ও পোকামাকড় দমনেও সাহেদ সাহেব যথাসময়ে উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সাহেদ সাহেবের এসব বাস্তবসম্মত ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমের ফলে তার উৎপাদিত চারা সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত থাকবে এবং মূল জমিতে ধানের সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত হবে। সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনায় ধান উৎপাদনে সাহেদ সাহেবের গৃহীত কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ, বিজ্ঞানসম্মত ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

ফরিদপুরের অধিবাসী জামাল তার একখণ্ড জমিতে গমচাষের উদ্যোগ নেন। তার জমিটি দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ প্রকৃতির। তিনি তার জমিটি ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করে গমের বীজ বুনেন। কিন্তু কিছুদিন পর তার ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিলে তিনি তাকে পোকামাকড় দমনের বিভিন্ন কলাকৌশল শিখিয়ে দেন। কর্মকর্তার পরামর্শে জামাল এখন একজন সফল গমচাষী।
৪. কৃষিতাত্ত্বিক বীজ কী?
সবধরনের উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ কৃষিতাত্ত্বিক বীজ কিন্তু সবধরনের কৃষিতাত্ত্বিক বীজ উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
জামাল কীভাবে তার জমিটি প্রস্তুত করেছিলেন, পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামাল কীভাবে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করে লাভবান হয়েছিলেন? বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কৃষিকাজে বংশবিস্তারের জন্য ব্যবহৃত প্রকৃত বীজ অথবা উদ্ভিদের যে অঙ্গ থেকে উপযুক্ত পরিবেশে নতুন গাছ জন্মায়, তাকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলে।
(খ)

নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বক থেকে সৃষ্ট বীজকে উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ বলে। ধান ও গমের বীজ এর উদাহরণ; এগুলো কৃষিকাজে নতুন গাছ জন্মাতেও ব্যবহৃত হয়।

কৃষিতাত্ত্বিক বীজের ধারণা আরও বিস্তৃত। এতে প্রকৃত বীজের পাশাপাশি আলুর কন্দ, আখের কাণ্ডখণ্ড ও আদার রাইজোমের মতো অঙ্গজ বংশবিস্তারক উপকরণও অন্তর্ভুক্ত। এগুলো পরিপক্ব ডিম্বক নয়। তাই কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ কৃষিতাত্ত্বিক বীজ হলেও সব কৃষিতাত্ত্বিক বীজ উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ নয়।

(গ)

জামালের দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ জমিতে গমের বীজ বপনের জন্য মাটি আগাছামুক্ত, ঝুরঝুরা ও সমতল করা প্রয়োজন।

মাটিতে উপযুক্ত আর্দ্রতা বা ‘জো’ থাকা অবস্থায় প্রথমে জমি চাষ করতে হয়। এরপর সাধারণত ৩–৪ বার আড়াআড়ি চাষ ও প্রয়োজনমতো মই দিয়ে বড় ঢেলা ভেঙে মাটি ঝুরঝুরা করতে হয়। আগাছা, আগের ফসলের গোড়া ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে হয়।

শেষ চাষের সময় সুপারিশমতো জৈব ও ভিত্তি সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে মই দিয়ে জমি সমান করতে হয়। জলাবদ্ধতা এড়াতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রাখতে হয়। উদ্দীপকে জামাল চাষ ও মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছেন—এতে বীজ সমান গভীরতায় বপন এবং অঙ্কুরোদগমের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

(ঘ)

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে জামাল পোকার ক্ষতি কমিয়ে লাভবান হতে পারেন।

প্রথমে কোন পোকা আক্রমণ করেছে এবং ক্ষতির মাত্রা কত তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখা, আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে অপসারণ এবং উপকারী পোকা সংরক্ষণের মতো ব্যবস্থা নিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাজরা পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কুশি সংগ্রহ করে ধ্বংস করলে আক্রমণ বিস্তার কমানো যায়।

পোকার সংখ্যা ও ক্ষতি নিয়ন্ত্রণসীমা অতিক্রম করলে কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পোকা ও ফসলের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রা ও সময়ে ব্যবহার করতে হয়। পরবর্তী মৌসুমে সময়মতো বপন এবং নিয়মিত নজরদারি আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এভাবে প্রয়োজনভিত্তিক দমনে গমের ক্ষতি ও অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যয় কমে। ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন রক্ষা পাওয়ায় জামালের লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

অধ্যায়-৪: কৃষিজ উৎপাদন আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।