ডাল একটি লেগিউম বা শিম জাতীয় ফসল। এ জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে বা গুটিতে 'রাইজোবিয়াম' (Rhizobium) নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে।
এসব ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস শোষণ করে তা নাইট্রেট যৌগে রূপান্তর করে উদ্ভিদের মূল অঞ্চলে আবদ্ধ করে ফেলে। গাছ এই প্রাকৃতিকভাবে আবদ্ধকৃত নাইট্রোজেন তার পুষ্টি উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে।
যেহেতু ডালজাতীয় উদ্ভিদ নিজের পুষ্টির সিংহভাগ নাইট্রোজেন বাতাস থেকেই সংগ্রহ করে নেয়, তাই জমিতে আলাদাভাবে অতিরিক্ত নাইট্রোজেনযুক্ত সার (যেমন ইউরিয়া) প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত ফলটি হলো আনারস। আনারস চাষে গাছ প্রতি ন্যূনতম সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:
সার প্রয়োগের প্রথম কাজ হলো সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ। আনারসের জন্য গাছ প্রতি নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হয়:
| সারের নাম | গাছ প্রতি পরিমাণ |
|---|---|
| পচা গোবর / জৈব সার | ২৯০ – ৩১০ গ্রাম |
| ইউরিয়া | ৩০ – ৩৬ গ্রাম |
| টিএসপি (TSP) | ১০ – ১৫ গ্রাম |
| এমওপি (MOP/পটাশ) | ২৫ – ৩৫ গ্রাম |
| জিপসাম | ১০ – ১৫ গ্রাম |
প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমি বা বেড তৈরির সময়: পচা গোবর, জিপসাম এবং সম্পূর্ণ টিএসপি সার বেড তৈরির সময়েই মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
- কিস্তিতে প্রয়োগ: চারা রোপণের ৪-৫ মাস পর থেকে ইউরিয়া ও এমওপি (পটাশ) সার সমান ৫টি কিস্তিতে গাছের চারপাশে মাটির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে সার প্রয়োগের পর হালকা সেচ প্রদান করতে হয়।
অতএব, আনারস চাষে গাছপ্রতি ন্যূনতম উপরিউক্ত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে।
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত ফলটি হলো আনারস। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আনারসের চাষ ও এর আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম:
১. পুষ্টি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যরক্ষা: আনারস অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো এবং ভিটামিন 'এ', 'বি' ও 'সি' সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত আনারস গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অপুষ্টি দূরীকরণে ভূমিকা রাখে।
২. বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আনারসের বাগান রয়েছে। এছাড়া নরসিংদী, কুমিল্লা ও দিনাজপুর জেলাতেও প্রচুর আনারস উৎপাদিত হয়। চারা তৈরি, জমি প্রস্তুত, রোপণ, নিড়ানি, ফসল আহরণ ও বাজারজাতকরণে লক্ষাধিক কৃষক ও শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
৩. কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফ্রুট জুস, জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ, মোরব্বা এবং টিনজাত খাবার তৈরির জন্য আনারস অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। এর ওপর নির্ভর করে দেশে একাধিক বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।
৪. রপ্তানি বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: আন্তর্জাতিক বাজারে সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন বাংলাদেশি আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে বিদেশে রপ্তানি হয়ে প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করছে।
অতএব, পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব দূরীকরণ, শিল্পায়ন ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উদ্দীপকের ফসল অর্থাৎ আনারসের আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।