কাঠ ট্রিটমেন্টের মূলনীতি হলো কাঠ ও বাঁশকে দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত রাসায়নিক দ্রবণ (যেমন- সিসিবি বা কপার-ক্রোম-বোরন) চাপ প্রয়োগ করে কাঠের অভ্যন্তরীণ কোষে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।
কাঠে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান আর্দ্রতা ও পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন ক্ষতিকারক ছত্রাক ও কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। রাসায়নিক দ্রব্য কাঠ ও বাঁশের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা ছত্রাক ও কীটের আক্রমণ থেকে কাঠকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে এবং কাঠের স্থায়িত্ব বহু গুণ বৃদ্ধি করে।
নিম্নে আজমের সংগৃহীত মেহগনি কাঠের লগের সঠিক ভলিউম নির্ণয় করা হলো:
দেওয়া আছে:
চিকন প্রান্তের বেড়, বেড়₁ = ১ মিটার
মাঝখানের বেড়, বেড়₂ = ১.৫ মিটার
মোটা মাথার বেড়, বেড়₃ = ২ মিটার
লগের দৈর্ঘ্য = ৮ মিটার
আমরা জানি,
মেট্রিক পদ্ধতিতে লগের সঠিক ভলিউম নির্ণয়ের সূত্র (নিউটনের সূত্র):
$\text{ভলিউম} = \frac{(\text{বেড়}_১^২ + ৪ \times \text{বেড়}_২^২ + \text{বেড়}_৩^২) \times \text{দৈর্ঘ্য}}{৭৫}$
মান বসিয়ে পাই,
$= \frac{(১^২ + ৪ \times ১.৫^২ + ২^২) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$
$= \frac{(১ + ৪ \times ২.২৫ + ৪) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$
$= \frac{(১ + ৯ + ৪) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$
$= \frac{১৪ \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$
$= \frac{১১২}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$
$= ১.৪৯৩ \text{ ঘনমিটার (প্রায়)}$
অতএব, আজমের মেহগনি কাঠের লগটির সঠিক ভলিউম প্রায় ১.৪৯৩ ঘনমিটার।
আজমের গাছ কাটার সময় করাতের পরিবর্তে শুধু কুঠার ব্যবহার করা মোটেও সঠিক ছিল না। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক মতামত উপস্থাপন করা হলো:
বৃক্ষ কর্তনের একটি নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রয়েছে। সঠিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে গাছ কাটলে মূল্যবান কাঠের কোনো অপচয় হয় না, কাঠের গুণগত মান বজায় থাকে এবং গাছ কাটার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে যায়।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছ কাটার ক্ষেত্রে করাত ও কুঠার উভয়েরই সুনির্দিষ্ট ব্যবহার রয়েছে:
১. কাটার জন্য নির্বাচিত গাছের চারপাশ পরিষ্কার করে গাছটি ফেলার দিক নির্ধারণ করতে হয়।
২. গাছ যেদিকে ফেলতে হবে সেদিকে প্রথমে করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ির মোট ব্যাসের এক-তৃতীয়াংশ থেকে দুই-তৃতীয়াংশ গভীর পর্যন্ত সমান্তরালভাবে কাটতে হয়। এরপর কুঠার দিয়ে এই কাটার ১৫-২০ সে.মি. ওপর থেকে নিচ বরাবর তেরছা করে কেটে একটি নির্দেশক খাঁজ তৈরি করতে হয়।
৩. এরপর প্রথম কাটার ঠিক উল্টো দিক থেকে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এ দ্বিতীয় কাটাটি করাত দিয়ে প্রথম কাটার ১২-১৫ সে.মি. ওপর থেকে শুরু করতে হয় এবং কাটতে কাটতে প্রথম কাটার কাছাকাছি আনতে হয়।
৪. পরিশেষে পেছনের কাটা অংশে খিলের সাহায্যে চাপ দিয়ে গাছটি কাঙ্ক্ষিত দিকে নিরাপদে ফেলতে হয়।
উদ্দীপকে আজমের শ্রমিকেরা গাছ কাটার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে শুধু কুঠার ব্যবহার করেছে। শুধু কুঠার দিয়ে গাছ কাটলে গাছের গোড়ার মূল্যবান কাঠ কুচি কুচি হয়ে মারাত্মকভাবে অপচয় হয়, কাঠের প্রান্ত ফেটে গিয়ে আসবাব তৈরির উপযোগী কাঠ কমে যায় এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে গাছ পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সুতরাং, কাঠ অপচয়রোধ ও নিরাপত্তার স্বার্থে গাছ কাটার সময় করাতের পরিবর্তে শুধু কুঠার ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।