অধ্যায়-৫: বনায়ন

এসএসসি · কৃষিশিক্ষা

অধ্যায়-৫: বনায়ন - কৃষিশিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

আজম বাড়ির আসবাবপত্র তৈরির জন্য ২৫ বছর আগে লাগানো একটি মেহগনি গাছ কাটলেন। যার লগের দৈর্ঘ্য ৮ মিটার। লগের চিকন মাথার বেড় ১ মিটার, মাঝের বেড় ১.৫ মিটার এবং মোটা মাথার বেড় ২ মিটার। গাছটি কর্তনের সময় শ্রমিকরা করাতের পরিবর্তে কুঠার ব্যবহার করেন।
১. ম্যানগ্রোভ বন কাকে বলে?
কাঠ ট্রিটমেন্টের মূলনীতি কী?
উদ্দীপকে উল্লিখিত লগটির সঠিক ভলিউম নির্ণয় কর।
আজমের গাছ কাটার সময় কুঠার ব্যবহার সঠিক ছিল কিনা? যুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সমুদ্রের উপকূলবর্তী যেসব অঞ্চলের বনভূমি প্রতিদিন নিয়মিত জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়, তাকে ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বন বলে। যেমন- বাংলাদেশের সুন্দরবন।
(খ)

কাঠ ট্রিটমেন্টের মূলনীতি হলো কাঠ ও বাঁশকে দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত রাসায়নিক দ্রবণ (যেমন- সিসিবি বা কপার-ক্রোম-বোরন) চাপ প্রয়োগ করে কাঠের অভ্যন্তরীণ কোষে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।

কাঠে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান আর্দ্রতা ও পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন ক্ষতিকারক ছত্রাক ও কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। রাসায়নিক দ্রব্য কাঠ ও বাঁশের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা ছত্রাক ও কীটের আক্রমণ থেকে কাঠকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে এবং কাঠের স্থায়িত্ব বহু গুণ বৃদ্ধি করে।

(গ)

নিম্নে আজমের সংগৃহীত মেহগনি কাঠের লগের সঠিক ভলিউম নির্ণয় করা হলো:

দেওয়া আছে:
চিকন প্রান্তের বেড়, বেড়₁ = ১ মিটার
মাঝখানের বেড়, বেড়₂ = ১.৫ মিটার
মোটা মাথার বেড়, বেড়₃ = ২ মিটার
লগের দৈর্ঘ্য = ৮ মিটার

আমরা জানি,
মেট্রিক পদ্ধতিতে লগের সঠিক ভলিউম নির্ণয়ের সূত্র (নিউটনের সূত্র):
$\text{ভলিউম} = \frac{(\text{বেড়}_১^২ + ৪ \times \text{বেড়}_২^২ + \text{বেড়}_৩^২) \times \text{দৈর্ঘ্য}}{৭৫}$

মান বসিয়ে পাই,
$= \frac{(১^২ + ৪ \times ১.৫^২ + ২^২) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$

$= \frac{(১ + ৪ \times ২.২৫ + ৪) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$

$= \frac{(১ + ৯ + ৪) \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$

$= \frac{১৪ \times ৮}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$

$= \frac{১১২}{৭৫} \text{ ঘনমিটার}$

$= ১.৪৯৩ \text{ ঘনমিটার (প্রায়)}$

অতএব, আজমের মেহগনি কাঠের লগটির সঠিক ভলিউম প্রায় ১.৪৯৩ ঘনমিটার।

(ঘ)

আজমের গাছ কাটার সময় করাতের পরিবর্তে শুধু কুঠার ব্যবহার করা মোটেও সঠিক ছিল না। নিচে এর সপক্ষে যৌক্তিক মতামত উপস্থাপন করা হলো:

বৃক্ষ কর্তনের একটি নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রয়েছে। সঠিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে গাছ কাটলে মূল্যবান কাঠের কোনো অপচয় হয় না, কাঠের গুণগত মান বজায় থাকে এবং গাছ কাটার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে যায়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গাছ কাটার ক্ষেত্রে করাত ও কুঠার উভয়েরই সুনির্দিষ্ট ব্যবহার রয়েছে:
১. কাটার জন্য নির্বাচিত গাছের চারপাশ পরিষ্কার করে গাছটি ফেলার দিক নির্ধারণ করতে হয়।
২. গাছ যেদিকে ফেলতে হবে সেদিকে প্রথমে করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ির মোট ব্যাসের এক-তৃতীয়াংশ থেকে দুই-তৃতীয়াংশ গভীর পর্যন্ত সমান্তরালভাবে কাটতে হয়। এরপর কুঠার দিয়ে এই কাটার ১৫-২০ সে.মি. ওপর থেকে নিচ বরাবর তেরছা করে কেটে একটি নির্দেশক খাঁজ তৈরি করতে হয়।
৩. এরপর প্রথম কাটার ঠিক উল্টো দিক থেকে দ্বিতীয় কাটা দিতে হয়। এ দ্বিতীয় কাটাটি করাত দিয়ে প্রথম কাটার ১২-১৫ সে.মি. ওপর থেকে শুরু করতে হয় এবং কাটতে কাটতে প্রথম কাটার কাছাকাছি আনতে হয়।
৪. পরিশেষে পেছনের কাটা অংশে খিলের সাহায্যে চাপ দিয়ে গাছটি কাঙ্ক্ষিত দিকে নিরাপদে ফেলতে হয়।

উদ্দীপকে আজমের শ্রমিকেরা গাছ কাটার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ না করে শুধু কুঠার ব্যবহার করেছে। শুধু কুঠার দিয়ে গাছ কাটলে গাছের গোড়ার মূল্যবান কাঠ কুচি কুচি হয়ে মারাত্মকভাবে অপচয় হয়, কাঠের প্রান্ত ফেটে গিয়ে আসবাব তৈরির উপযোগী কাঠ কমে যায় এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে গাছ পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সুতরাং, কাঠ অপচয়রোধ ও নিরাপত্তার স্বার্থে গাছ কাটার সময় করাতের পরিবর্তে শুধু কুঠার ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।

নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
২. বনায়ন কাকে বলে?
বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের একটি পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত বনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে A, B, C, D-এর পরিবেশগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বনভূমিতে গাছপালা লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে বনায়ন বলা হয়।
(খ)

বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের একটি প্রধান পার্থক্য নিম্নে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

তুলনার বিষয় বনায়ন সামাজিক বনায়ন
সংজ্ঞা ও প্রকৃতি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সরকারি বা নির্দিষ্ট বনভূমিতে গাছপালা লাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করাই হলো বনায়ন। সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে তাদের নিজেদের কল্যাণে ও পতিত জমিতে পরিকল্পিত উপায়ে সৃজিত বনায়ন হলো সামাজিক বনায়ন।

ব্যাখ্যা: বনায়ন সাধারণত জাতীয় বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার বা বন বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, সামাজিক বনায়ন স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হয়।

উত্তরের ছবি
(গ)

উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত বনটি হলো পাহাড়ি বন। যা বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায়) বিস্তৃত।

পাহাড়ি বনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:

১. চিরহরিৎ প্রকৃতি: পাহাড়ি বন মূলত চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বন। তবে এখানে অল্প কিছু স্বল্পকালীন পাতাঝরা উদ্ভিদও জন্মায়।
২. ভূপ্রকৃতি: এ বন মূলত উঁচু-নিচু ও ঢালু পাহাড়ি ভূমিতে গড়ে ওঠে।
৩. পানিপ্রবাহ ও নদী নিয়ন্ত্রণ: পাহাড়ি বন পাহাড়ি অঞ্চলের নদী ও ছড়াগুলোর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাহাড়ি ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস রোধ করে।
৪. প্রধান বৃক্ষ: এ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো গর্জন, রাজকড়ই, চাপালিশ, তেলসুর, কড়ই, গামার, চম্পা, জারুল, সেগুন ইত্যাদি। এ ছাড়া পাহাড়ি বনে বাঁশ ও বেতের প্রচুর সমারোহ দেখা যায়।
৫. বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল: এ বনে হাতি, বানর, শূকর, ভালুক, বনমুরগি, শিয়াল, নেকড়ে, হরিণ, অজগর ও বিচিত্র প্রজাতির পাখি বাস করে।

(ঘ)

উদ্দীপকের চিত্রে উল্লিখিত বনগুলো হলো:

  • A: পাহাড়ি বন
  • B: ম্যানগ্রোভ বন (উপকূলীয় বন / সুন্দরবন)
  • C: সমতল ভূমির বন (শালবন)
  • D: গ্রামীণ বন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের অন্তত ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ১৭%। ফলে দেশের পরিবেশগত সুরক্ষায় A, B, C এবং D—চার ধরনের বনেরই গুরুত্ব অপরিসীম।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব বনের পরিবেশগত গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন হ্রাস: এ সকল বনের গাছপালা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
২. প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ: ম্যানগ্রোভ বন (B) শক্তিশালী সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্রের তীব্র বাতাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে উপকূলবর্তী কোটি কোটি মানুষকে সুরক্ষা দেয়।
৩. ভূমিধস ও ভূমিক্ষয় রোধ: পাহাড়ি বন (A) পাহাড়ি অঞ্চলের তীব্র বৃষ্টিপাতের মধ্যেও মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে এবং ভূমিধস ও মাটি ক্ষয় রোধ করে।
৪. আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ: বনের বিপুল সংখ্যক গাছপালা প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে জলীয় বাষ্প নির্গমন করে পরিবেশ শীতল রাখে এবং নিয়মিত বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে।
৫. জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ: সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন (B), পাহাড়ি বন (A) ও সমতল ভূমির বন (C) অসংখ্য বিরল বন্যপ্রাণী (যেমন—রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, এশীয় হাতি) এবং পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্য জোগান নিশ্চিত করে।
৬. মাটির উর্বরতা ও স্থানীয় মাইক্রোক্লাইমেট: গ্রামীণ বন (D) বাড়ির আশপাশে ও বসতভিটায় ফলমূল, ছায়া ও কাঠ সরবরাহের পাশাপাশি বসতি এলাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করে।

সুতরাং, সামগ্রিক পরিবেশের টেকসই ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে A, B, C ও D চিহ্নিত প্রতিটি বনাঞ্চল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অপরিহার্য।

গাজীপুরের বাসিন্দা আব্দুল বাছিত এলাকার সচেতন মানুষ। দিন দিন বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় তিনি বেশ চিন্তিত। তিনি বন কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে তার এলাকায় গাছের চারা লাগানোর উদ্দ্যোগ নেন। এলাকার সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কয়েক বছরেই এলাকাটি সবুজে ভরে যায়।
৩. বনায়ন কী?
অধিক হারে গাছ কাটার পরিণাম কী? ব্যাখ্যা কর।
আব্দুল বাছিতকে বন কর্মকর্তা কোথায় কোথায় গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আব্দুল বাছিতের উদ্যোগটি মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে বন সৃষ্টি বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে বনায়ন বলে।
(খ)

পুনরুৎপাদনের সুযোগ না দিয়ে অধিক হারে গাছ কাটলে বন ও বৃক্ষআচ্ছাদন কমে যায়। এতে বন্যপ্রাণীর আবাস ও খাদ্যের উৎস নষ্ট হয়ে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাছের শিকড় ও ভূমির আচ্ছাদন কমলে মাটিক্ষয় বাড়ে। কার্বন সঞ্চয়ের ক্ষমতা হ্রাস পায়, স্থানীয় তাপমাত্রা ও জলচক্র প্রভাবিত হয় এবং বননির্ভর মানুষের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

(গ)

আব্দুল বাছিতকে বন কর্মকর্তা সামাজিক বনায়নের উপযোগী খালি ও পতিত স্থানে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিতে পারেন। উদ্দীপকে স্থানগুলোর নাম সরাসরি দেওয়া নেই; স্থানীয় উপযোগিতা অনুযায়ী সেগুলো নির্বাচন করতে হবে।

বসতবাড়ির আঙিনা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গা, অফিস-কারখানার প্রাঙ্গণ এবং অনাবাদি উঁচু জমিতে গাছ লাগানো যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিরাপত্তার শর্ত মেনে সড়ক, রেলপথ ও বাঁধের পাশে এবং উপযুক্ত খাল-নদীর পাড়েও বনায়ন করা যায়।

স্থান নির্বাচনকালে জমির মালিকানা, মাটি, পানি, আলো এবং ভবন, বিদ্যুৎলাইন ও চলাচলের পথের দূরত্ব বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন ও পরিচর্যা নিশ্চিত করলেই বাছিতের উদ্যোগ টেকসই হবে।

(ঘ)

আব্দুল বাছিতের উদ্যোগটি জনসম্পৃক্ত সামাজিক বনায়নের উদাহরণ। বাংলাদেশের ঘনবসতি ও জমির ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্দীপকে তিনি বন কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে এলাকার মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন। ফলে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সম্মিলিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েক বছরে এলাকাটি সবুজ হয়েছে।

এ ধরনের বনায়ন ছায়া, ফল, কাঠ ও জ্বালানির উৎস তৈরি করতে পারে। গাছ মাটি ধরে রাখে, কার্বন সঞ্চয় করে এবং পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আশ্রয় দেয়। জনগণ অংশীদার হলে বৃক্ষরক্ষায় দায়িত্ববোধও বাড়ে।

তবে শুধু চারা লাগানো যথেষ্ট নয়; উপযুক্ত প্রজাতি, পর্যাপ্ত স্থান, নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুবিধার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্তে বাছিতের উদ্যোগ পরিবেশের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কার্যকর।

দশমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠের এক প্রান্তে ১ মি × ৬ মি পরিমাপের চারটি বেড তৈরি করে। শিক্ষকের সহায়তায় ২৫ সেমি × ১৫ সেমি আকারের কিছু পলিব্যাগ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা পলিব্যাগে মেহগনির বীজ বপন করে। চারা উৎপাদনে তারা পরিচর্যা করে এবং পরবর্তীতে চারাগুলো বিনামূল্যে শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করে নিজ নিজ বাড়িতে রোপণের উদ্দেশ্যে। বিষয়টি অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগায়।
৪. বাণিজ্যিক নার্সারি কী?
বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনকে সুন্দরবন নামকরণ কেন করা হয় ব্যাখ্যা কর।
দশমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি চারা বেডে মোট কতটি চারা উৎপাদন করতে পারে তা নির্ণয় কর।
উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনুকরণীয় কি না? মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বিক্রয় ও আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে চারা উৎপাদন ও পরিচর্যা করা হয় যে নার্সারিতে, তাকে বাণিজ্যিক নার্সারি বলে।
(খ)

পাঠ্যবইয়ে সুন্দরবন নামকরণের প্রচলিত ব্যাখ্যা হিসেবে এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরীর নামের কথা বলা হয়েছে। সুন্দরী গাছের প্রাধান্যের কারণে বনটি সুন্দরবন নামে পরিচিত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জোয়ার-ভাটানির্ভর ম্যানগ্রোভ বন।

(গ)

প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ্য = ৬ মিটার।

প্রতিটি বেডের প্রস্থ = ১ মিটার।

প্রতিটি বেডের ক্ষেত্রফল = ৬ × ১ = ৬ বর্গমিটার।

চারটি বেডের মোট ক্ষেত্রফল = ৪ × ৬ = ২৪ বর্গমিটার।

পাঠ্যবইয়ের পটবেডের তালিকা অনুযায়ী ২৫ সেমি × ১৫ সেমি পলিব্যাগে প্রতি বর্গমিটারে ২৬টি চারা রাখা যায়।

অতএব, মোট ধারণক্ষমতা = ২৪ × ২৬ = ৬২৪টি চারা।

সুতরাং বেডের পুরো জায়গা ব্যবহার এবং প্রতি পলিব্যাগে একটি সুস্থ চারা রাখার হিসাবে সর্বোচ্চ পরিকল্পিত উৎপাদন ৬২৪টি। প্রকৃত সংখ্যা অঙ্কুরোদগম, বেঁচে থাকা ও পরিচর্যার উপর নির্ভর করবে। পলিব্যাগের উচ্চতা-প্রস্থকে সরাসরি মাটিতে দখল করা আয়তন ধরে হিসাব করা হয়নি।

(ঘ)

শিক্ষার্থীদের চারা উৎপাদন ও বিতরণের উদ্যোগ শিক্ষামূলক এবং সামাজিকভাবে অনুকরণীয়। তারা বেড তৈরি, বীজ বপন ও পরিচর্যার মাধ্যমে হাতে-কলমে কৃষি ও নার্সারি ব্যবস্থাপনা শিখেছে।

বাড়িতে চারা রোপণ ও বাঁচিয়ে রাখলে বৃক্ষসম্পদ বাড়ে। উপযুক্ত স্থানে গাছ ছায়া, কার্বন সঞ্চয়, মাটির সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে কাঠসহ উপযোগী সম্পদ দিতে পারে। একই সঙ্গে শ্রমের মর্যাদা, সহযোগিতা ও পরিবেশসচেতনতা গড়ে ওঠে।

নার্সারির দক্ষতা ভবিষ্যতে আয়মূলক কাজ বা আত্মকর্মসংস্থানেরও ভিত্তি হতে পারে। বিনামূল্যে চারা বিতরণ অন্য শিক্ষার্থী ও পরিবারের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ায়।

তবে শুধু চারা বিতরণ করলেই সুফল নিশ্চিত নয়। বাড়ির জায়গা, আলো, ভবন ও বিদ্যুৎলাইনের নিরাপত্তা বিবেচনায় রোপণস্থান ঠিক করতে হবে। পানি দেওয়া, সুরক্ষা এবং বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ দরকার। স্থান উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতি চাষ করাও ভালো।

অতএব দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও উপযুক্ত রোপণের সঙ্গে যুক্ত হলে উদ্যোগটি পরিবেশ, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ সম্পদ সৃষ্টিতে অবদান রাখবে।

অধ্যায়-৫: বনায়ন আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।