শোল, গজার ও বোয়ালের মতো রাক্ষুসে মাছ চাষের ছোট মাছ ও পোনা খেয়ে ফেলে। এরা পুকুরের স্থান ও অক্সিজেনসহ বিভিন্ন সম্পদেরও অংশ নেয়।
ফলে মজুদ পোনার বেঁচে থাকার হার ও কাঙ্ক্ষিত মাছের উৎপাদন কমে যায়। তাই পরিকল্পিত মাছচাষের পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে রাক্ষুসে মাছ অপসারণ করা প্রয়োজন।
অমল বোস ভুট্টাগাছকে বায়ুরোধী অবস্থায় গাঁজনের মাধ্যমে সাইলেজ হিসেবে সংরক্ষণ করেন। এর ধাপগুলো হলো—
১. উপযুক্ত পরিপক্বতার সবুজ ভুট্টাগাছ সংগ্রহ: গাছের শুষ্ক পদার্থ প্রায় ৩০–৩৫% হলে সাইলেজ তৈরির উপযোগী হয়। জমি থেকে প্রায় ১০–১২ সেমি উপরে কেটে সংগ্রহ করা যায়।
২. কুচি করা: সংগ্রহ করা গাছ ছোট টুকরা করতে হবে। এতে ভালোভাবে চেপে রাখা সহজ হয় এবং গাঁজনের জন্য শর্করা সহজলভ্য হয়।
৩. সাইলো প্রস্তুত ও ভরা: পরিষ্কার সাইলোপিট বা অক্ষত উপযুক্ত পলিথিন ব্যাগে কুচি গাছ স্তরে স্তরে ভরে ভালোভাবে চেপে বাতাস বের করতে হবে।
৪. বায়ুরোধী করে রাখা: মুখ শক্তভাবে বন্ধ করতে হবে, যেন বাতাস ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ না করে। অক্সিজেনস্বল্প অবস্থায় গাঁজনে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়ে খাদ্য সংরক্ষণে সাহায্য করে।
৫. ব্যবহার: গাঁজন সম্পন্ন হলে প্রয়োজনমতো অংশ বের করে অবশিষ্ট অংশ আবার বায়ুরোধী করতে হবে। ছত্রাকধরা বা পচা সাইলেজ খাওয়ানো যাবে না। এভাবে ঘাসের সংকটের সময়ে সংরক্ষিত খাদ্য ব্যবহার করা যায়।
অমল বোসের তৈরি খাদ্যটি সাইলেজ। দুধের খামারে মৌসুমভেদে কাঁচা ঘাসের সরবরাহ কমবেশি হয়; সাইলেজ এই ঘাটতি সামলাতে সাহায্য করে বলেই অন্য খামারিদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে।
প্রথমত, প্রচুর ঘাস উৎপাদনের সময়ে তা কেটে সংরক্ষণ করলে সংকটের সময় ব্যবহার করা যায়। ফলে সারা বছর খাদ্য সরবরাহ তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।
দ্বিতীয়ত, উপযুক্তভাবে তৈরি ভুট্টার সাইলেজ শক্তিসমৃদ্ধ ও রুচিকর খাদ্য। সুষম রেশনের অংশ হিসেবে এটি গাভীর দেহরক্ষা ও দুধ উৎপাদনের পুষ্টিচাহিদা পূরণে সহায়ক। তবে এটি একা সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না।
তৃতীয়ত, সঠিক বায়ুরোধী সংরক্ষণে পুষ্টির অপচয় কম হয় এবং হে তৈরির মতো সম্পূর্ণ রোদে শুকানোর প্রয়োজন পড়ে না। তাই আর্দ্র আবহাওয়াতেও এ পদ্ধতি কাজে লাগে।
চতুর্থত, সময়মতো ভুট্টা কেটে জমিতে পরবর্তী ফসল চাষ করা এবং উদ্বৃত্ত ঘাসের অপচয় কমানো সম্ভব হয়। ফলে জমি ও শ্রমের কার্যকর ব্যবহার হয়।
অতএব সাইলেজের সুবিধা হলো বিদ্যমান খাদ্য ও পুষ্টি সংরক্ষণ করে সংকটে কাজে লাগানো; গাঁজনের মাধ্যমে নতুন করে সব পুষ্টি সৃষ্টি বা সম্পূর্ণ ক্ষতিহীন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা নয়। ভালো মান, উপযুক্ত রেশন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এর সফলতার শর্ত।