অধ্যায়-৭: পারিবারিক খামার

এসএসসি · কৃষিশিক্ষা

অধ্যায়-৭: পারিবারিক খামার - কৃষিশিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৮টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

জনাব মনির মিয়া যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে একটি পারিবারিক খামার তৈরি করলেন। সঠিক পদ্ধতিতে খাদ্য প্রদান এবং পরিচর্যার মাধ্যমে মুরগিগুলো দ্রুত বেড়ে উঠলো এবং সেগুলো বিক্রি করে তিনি বেশ লাভবান হলেন।
১. দুধে অ্যাসিড তৈরি করে কোন জীবাণু?
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন অধিক লাভজনক কেন?
মনির মিয়ার খামারের চলমান ও স্থায়ী খরচের হিসাব কর।
মনির মিয়ার এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
স্ট্রেপটোকক্কাস ল্যাকটিস (বা স্ট্রেপটোকক্কাই) নামক ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু দুধে অ্যাসিড (ল্যাকটিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
(খ)

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের উচ্চ প্রজনন ক্ষমতা, দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি, সুস্বাদু মাংস ও আন্তর্জাতিক মানের উৎকৃষ্ট চামড়ার কারণে পারিবারিকভাবে এটি পালন করা অধিক লাভজনক।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মাত্র ৮–১০ মাস বয়সেই প্রথম প্রজননক্ষম হয় এবং বছরে দুবার প্রতিবারে ২–৩টি করে বাচ্চা প্রসব করে। এদের লালন-পালনে খুব সামান্য জায়গা ও খাদ্যের প্রয়োজন হয় এবং এরা প্রতিকূল পরিবেশ ও বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধী। পরিবারের নারী ও বেকার সদস্যরা ঘরের আশেপাশের ঘাস ও গাছের লতাপাতা খাইয়ে সহজেই এদের পরিচর্যা করতে পারে। এছাড়া অল্প সময়ে (মাত্র ৮–১০ মাসে) খাসি বাজারজাত করে ভালো দাম পাওয়া যায় এবং এদের চামড়া বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান। এসব বহুবিধ সুবিধার কারণে পারিবারিকভাবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন সর্বাধিক লাভজনক।

(গ)

উদ্দীপকে জনাব মনির মিয়া যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০টি ব্রয়লার মুরগির একটি পারিবারিক খামার স্থাপন করেছেন। নিচে তাঁর খামারের সম্ভাব্য স্থায়ী খরচ ও চলমান খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:

১. স্থায়ী খরচের হিসাব (Fixed Cost):

খামারে বাচ্চা তোলার পূর্বে জমি, মুরগির ঘর তৈরি, আসবাবপত্র, ব্রুডার যন্ত্র, খাদ্যের পাত্র, পানির পাত্র, ড্রাম ও বালতি ইত্যাদি খাতে যে প্রাথমিক মূলধন ব্যয় হয়, তাকে স্থায়ী খরচ বলে। এটি সকল ব্যাচের জন্য একবারই করতে হয়।

ক্র. নং খরচের খাত বিবরণ / পরিমাণ খরচ (টাকা)
১ জমি নিজস্ব জমি ০/-
২ মুরগির ঘর তৈরি বাঁশ, কাঠ, নেট ইত্যাদি ৮,০০০/-
৩ ব্রুডার যন্ত্র হোভার, চিক গার্ড, বাল্ব ইত্যাদি ২,০০০/-
৪ খাদ্য ও পানির পাত্র ফিডার ও ড্রিংকার ১,০০০/-
৫ পানির বালতি ও ড্রাম সংরক্ষণ সামগ্রী ১,০০০/-
মোট স্থায়ী খরচ ১২,০০০/-

২. চলমান খরচের হিসাব (প্রতি ব্যাচে - Variable Cost):

খামারে বাচ্চা ক্রয় থেকে শুরু করে মুরগি বিক্রয় পর্যন্ত দৈনন্দিন যে সকল পরিচালন খরচ হয়, তাকে চলমান খরচ বলে। প্রতিটি নতুন ব্যাচের জন্য এ খরচ পুনরায় করতে হয়।

ক্র. নং খরচের খাত পরিমাণ ও দর খরচ (টাকা)
১ বাচ্চা ক্রয় (১ দিনের) ১০০টি (প্রতিটি ৪০/- টাকা) ৪,০০০/-
২ খাদ্য ক্রয় ৩০০ কেজি (প্রতি মুরগির ৩ কেজি, প্রতি কেজি ৩৩/- টাকা) ৯,৯০০/-
৩ বিদ্যুৎ খরচ চলতি বিদ্যুৎ বিল ৩০০/-
৪ টিকা ও ঔষধ রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ১,০০০/-
৫ লিটার খরচ তুষ বা কাঠের গুঁড়া ২০০/-
৬ শ্রমিক খরচ নিজস্ব শ্রম ০/-
৭ পরিবহন খরচ বাচ্চা ও খাদ্য পরিবহন ৫০০/-
মোট চলমান খরচ ১৫,৯০০/-

অতএব, মনির মিয়ার ১০০টি ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপনে প্রাথমিক স্থায়ী খরচ ১২,০০০ টাকা এবং প্রতিটি ব্যাচের মোট চলমান খরচ ১৫,৯০০ টাকা।

(ঘ)

মনির মিয়ার যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০০টি ব্রয়লার মুরগির পারিবারিক খামার গড়ে তোলার পদক্ষেপটি বেকারত্ব দূরীকরণ, পুষ্টির নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নিচে এর সপক্ষে বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

পারিবারিক কৃষি খামার হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা যা পরিবারের সদস্যদের শ্রম ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

মনির মিয়ার এ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বহুমুখী ভূমিকা রাখবে:
১. পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বর্ধনশীল এবং মাত্র ৩০–৩৫ দিনেই বাজারজাতকরণ উপযোগী হয়। এ খামার থেকে উৎপাদিত মাংস মনির মিয়ার পরিবারের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে আমিষের জোগান বৃদ্ধি করবে, যা অপুষ্টি দূরীকরণে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
২. আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন: প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অল্প পুঁজি ও সীমিত পরিসরে এমন খামার স্থাপন গ্রামীণ তরুণ ও যুবসমাজকে স্বাবলম্বী হতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি পরনির্ভরশীলতা দূর করে এবং নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিয়ে আসে।
৩. সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সমন্বিত কৃষি: পরিবারের বেকার সদস্যদের অলস সময়ের সদ্ব্যবহার হয়। এছাড়া ব্রয়লার খামারের লিটার ও বর্জ্য উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ফসলি জমিতে এবং মাছের সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা কৃষি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনে।

পরিশেষে বলা যায়, মনির মিয়ার মতো তরুণদের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো সম্মিলিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি করে, খাদ্য আমদানির নির্ভরতা হ্রাস করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। সুতরাং, এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী, অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করবে।

নিজাম উদ্দিন শিক্ষিত বেকার যুবক। যুব উন্নয়ন একাডেমি থেকে পোল্ট্রি পালনে প্রশিক্ষণ নিলেন। তারপর তিনি উন্নত জাতের কিছু মুরগি কিনে পারিবারিক খামার স্থাপন করেন। কিছু দিনের মধ্যে তিনি সফল পোল্ট্রি চাষিতে পরিণত হলেন। নিজাম উদ্দিনের সফলতা দেখে এলাকার অন্য বেকার যুবকরা পোল্ট্রি খামার স্থাপনে উদ্বুদ্ধ হলেন।
২. লিটার কী?
খামারের চলমান খরচ বলতে কী বোঝ?
নিজাম উদ্দিনের সফলতার কারণ ব্যাখ্যা কর।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিজাম উদ্দিনের উদ্যোগটি মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
হাঁস-মুরগির ঘরের মেঝেতে আর্দ্রতা শোষণ, উষ্ণতা বজায় রাখা ও আরামদায়ক বিছানা তৈরির জন্য বিছানো শুকনো তুষ, কাঠের গুঁড়া বা কাটা খড়জাতীয় উপকরণকে লিটার বলে।
(খ)

খামার পরিচালনার সঙ্গে নিয়মিত যে ব্যয় হয় এবং উৎপাদনের পরিমাণের সঙ্গে সাধারণত পরিবর্তিত হয়, তাকে চলমান খরচ বলে।

পোল্ট্রি খামারে বাচ্চা ক্রয়, খাদ্য, ওষুধ-টিকা, লিটার, শ্রম, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের ব্যয় এর উদাহরণ। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এসব খরচ বারবার করতে হয়; ঘর নির্মাণ বা স্থায়ী যন্ত্র কেনার ব্যয় এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

(গ)

নিজাম উদ্দিনের সফলতার প্রধান কারণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা করা।

পোল্ট্রি পালনে উপযুক্ত জাত নির্বাচন, ঘর প্রস্তুত, সুষম খাদ্য প্রদান, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে জ্ঞান প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং খামারের ব্যয় ও সম্ভাব্য আয় পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে।

উদ্দীপকে নিজাম উদ্দিন যুব উন্নয়ন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উন্নত জাতের মুরগি সংগ্রহ করেছেন এবং পারিবারিক খামার গড়েছেন। অর্থাৎ তিনি কাজ শুরুর আগে দক্ষতা অর্জন ও উপযুক্ত উৎপাদন উপকরণ নির্বাচনে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষাকে কাজে লাগানো, উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণভিত্তিক খামার পরিচালনাই সফলতার ভিত্তি।

(ঘ)

নিজাম উদ্দিনের উদ্যোগটি আত্মকর্মসংস্থান, প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখে।

শিক্ষিত বেকার অবস্থায় চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার গড়েছেন। এতে নিজের আয় ও পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খামার বড় হলে পরিচর্যা, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বিপণনেও অন্যদের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পোল্ট্রি খামার থেকে ডিম ও মাংস পাওয়া যায়, যা মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়ক। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় মুরগির বিষ্ঠা জৈব সার তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। ফলে খামারটি কৃষির অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত হয়।

উদ্দীপকে তাঁর সফলতা অন্য বেকার যুবকদের খামার স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে এই উদ্যোগ বিস্তৃত হলে বেকারত্ব হ্রাস, পুষ্টি উন্নয়ন ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

নুরুল আমিনের খামারে ১০০টি বাড়ন্ত লেয়ার মুরগি আছে। প্রতিটি মুরগির দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ ৭০ গ্রাম ধরে হিসাব করতে হবে। খাদ্যের সঠিক মান ও ব্যবহার সম্পর্কে জানার জন্য তিনি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে যান। কর্মকর্তা খাদ্যের মান ও পরিমাণ বিষয়ে পরামর্শ দেন। এতে নুরুল আমিন উপকৃত হন।
৩. ব্রুডার ঘর কাকে বলে?
রোগিং কোন সময়ে করতে হয়?
নুরুল আমিনের খামারের সপ্তাহের খাদ্যের পরিমাণ নির্ণয় কর।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
যে ঘরে সদ্য ফোটা মুরগির বাচ্চার জন্য কৃত্রিম তাপ, উপযুক্ত বিছানা, খাদ্য, পানি ও পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখা হয়, তাকে ব্রুডার ঘর বলে।
(খ)

বীজক্ষেত থেকে অন্য জাতের গাছ, অবাঞ্ছিত গাছ ও রোগাক্রান্ত গাছ বাছাই করে সরিয়ে দেওয়াকে রোগিং বলে।

সাধারণত ফুল আসার আগে, ফুল আসার সময় এবং ফসলের পরিপক্ব পর্যায়ে রোগিং করা হয়। এতে পরাগায়নের মাধ্যমে জাতের মিশ্রণ এবং সংগ্রহের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বীজ মিশে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

(গ)

মুরগির সংখ্যা = ১০০টি

প্রতিটি মুরগির দৈনিক খাদ্য = ৭০ গ্রাম

সময় = ১ সপ্তাহ = ৭ দিন

সাপ্তাহিক খাদ্যের পরিমাণ = মুরগির সংখ্যা × প্রতিটির দৈনিক খাদ্য × দিনের সংখ্যা

= ১০০ × ৭০ × ৭ গ্রাম

= ৪৯,০০০ গ্রাম

= ৪৯ কেজি।

অতএব, উদ্দীপকে নির্ধারিত দৈনিক খাদ্যের পরিমাণ অনুযায়ী নুরুল আমিনের খামারে এক সপ্তাহে ৪৯ কেজি খাদ্য প্রয়োজন।

(ঘ)

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার খাদ্যের মান ও পরিমাণসংক্রান্ত পরামর্শ যৌক্তিক, কারণ লেয়ার মুরগির স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি ও ডিম উৎপাদন উপযুক্ত পুষ্টির ওপর নির্ভর করে।

খাদ্যে বয়স ও উৎপাদনপর্যায় অনুযায়ী শক্তি, আমিষ, খনিজ ও ভিটামিন থাকতে হবে। উপকরণ তাজা, সহজপাচ্য এবং ছত্রাক ও ক্ষতিকর দূষণমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত ডিম উৎপাদনের পর্যায়ে খনিজের সঠিক ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

কম খাদ্য দিলে অপুষ্টি ও উৎপাদনহানি হতে পারে; প্রয়োজনের বেশি দিলে অপচয় ও ব্যয় বাড়ে। তাই মুরগির বয়স, জাত, দৈহিক ওজন, উৎপাদন ও পরিবেশ বিবেচনা করে পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানিও সরবরাহ করতে হবে।

নুরুল আমিন এই নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য দেওয়া ও গ্রহণের হিসাব রাখলে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং মুরগির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন বজায় রাখতে পারবেন। এখানে উদ্দীপকের বাড়ন্ত লেয়ার মুরগির হিসাবের জন্য দৈনিক ৭০ গ্রাম নির্ধারিত; বয়স ও উৎপাদনপর্যায় পরিবর্তিত হলে কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যের পরিমাণও সমন্বয় করতে হবে।

নিচের ছকটি লক্ষ কর-

পুকুর নম্বর ক্রমিক সমস্যা
১ ১ মাছ ভেসে ওঠা ও খাবি খাওয়া
২ পানির উপর সবুজ স্তর
৩ ঘোলা পানি
৪. পারিবারিক খামার কাকে বলে?
দুধ পাস্তুরিকরণ করতে হয় কেন?
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সৃষ্টি হওয়ার কারণ বর্ণনা কর।
"উদ্দীপকের সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে মাছ চাষ করা অধিক লাভজনক" বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পরিবারের সদস্যদের শ্রম ও ব্যবস্থাপনায় পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনে বাড়তি আয়ের জন্য পরিচালিত কৃষি খামারকে পারিবারিক খামার বলে।
(খ)

দুধে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকতে পারে এবং জীবাণুর বৃদ্ধিতে দুধ দ্রুত নষ্ট হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করার মাধ্যমে পাস্তুরিকরণ করলে অধিকাংশ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয় এবং দুধের সংরক্ষণকাল বাড়ে।

তাই দুধকে নিরাপদ রাখা ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পাস্তুরিকরণ করা হয়। এটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্তকরণ নয়; পরেও দুধ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শীতল অবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়।

(গ)

ছকে পুকুরের তিনটি সমস্যা দেওয়া আছে। এগুলোর কারণ হলো—

১. মাছ ভেসে ওঠা ও খাবি খাওয়া: পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গেলে মাছ উপরিভাগে এসে খাবি খায়। অতিরিক্ত জৈব পদার্থের পচন, অতিরিক্ত সার ও খাদ্য প্রয়োগ, বেশি মাছের ঘনত্ব, দীর্ঘ মেঘলা আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি এই ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে।

২. পানির উপর সবুজ স্তর: অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান থাকলে শেওলা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ঘন সবুজ স্তর তৈরি করে। অতিরিক্ত সার ও অব্যবহৃত খাদ্য এ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। শেওলার রাত্রিকালীন শ্বসন ও পচন আবার অক্সিজেনের ঘাটতি বাড়াতে পারে।

৩. ঘোলা পানি: বৃষ্টির সঙ্গে পাড়ের মাটি ধুয়ে পুকুরে নামলে এবং সূক্ষ্ম মাটিকণা পানিতে ভাসমান থাকলে পানি ঘোলা হয়। পাড়ে ঘাস না থাকলে মাটিক্ষয় বেশি হয়। এতে আলোর প্রবেশ ও প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন কমে এবং মাছের ফুলকায় সমস্যা হতে পারে।

(ঘ)

উদ্দীপকের সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্যগ্রহণ ও বৃদ্ধি ভালো হয়; তাই সঠিক ব্যয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মাছচাষ অধিক লাভজনক হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

অক্সিজেনস্বল্পতায় দ্রুত পাম্প দিয়ে পানি ছিটিয়ে বা উপযুক্ত বায়ুসঞ্চালকের সাহায্যে অক্সিজেন বাড়াতে হবে। প্রয়োজনমতো নিরাপদ পানি সরবরাহ ও মজুদঘনত্ব সমন্বয় করতে হবে। এতে তাৎক্ষণিক মৃত্যুহানি কমে।

ঘন সবুজ স্তর সুতি কাপড় বা জাল দিয়ে সরিয়ে, সার প্রয়োগ সাময়িক বন্ধ রেখে এবং খাদ্যগ্রহণ অনুযায়ী খাদ্য কমিয়ে অতিরিক্ত পুষ্টির চাপ কমাতে হবে। প্রয়োজন হলে আংশিক পানি বদল করা যায়। ফলে শেওলা পচে অক্সিজেন কমে যাওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ঘোলা পানি প্রতিরোধে পুকুরের পাড় মজবুত করা, ঘাস লাগানো এবং বৃষ্টির কাদামিশ্রিত পানি সরাসরি প্রবেশ বন্ধ করা দরকার। পানির পরীক্ষা ও মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া নির্বিচারে চুন বা অন্য পদার্থ প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এসব ব্যবস্থায় মৃত্যুহানি ও খাদ্যের অপচয় কমে, প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ উন্নত হয় এবং বিক্রয়যোগ্য মাছের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করবে উৎপাদনমূল্য ও মোট ব্যয়ের পার্থক্যের উপর; শুধু সমস্যা দূর করলেই লাভ নিশ্চিত হয় না।

অধ্যায়-৭: পারিবারিক খামার আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।