অন্ধবধূ

এসএসসি · বাংলা ১ম পত্র

অন্ধবধূ - বাংলা ১ম পত্র বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

১. 'পুত্র তাঁহার হুমাউন বুঝি বাঁচে না এবার আর
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ অন্ধকার' −
চরণদ্বয়ের ভাব -বাস্ত্মবতার ইঙ্গিত ব্যক্ত হয়েছে
নিচের যে চরণে, তা হলো−
  1. ক
    ঝড়ে কাঁপে যেন নীড়ের পাখিটি জড়ায়ে মায়ের ডানা
  2. খ
    কৃষাণ ছেলেরা কালকে তাহার বাচ্চা করেছে চুরি
  3. আঁধারের সাথে যুঝিয়া তাহার ফুরায়ে এসেছে তেল
  4. ঘ
    ফোঁটায় ফোঁটায় পাতা -চোঁয়া জল ঝরিছে তাহার সনে
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি বাংলা ১ম পত্রের 'পদ্য: অন্ধবধূ' অংশ থেকে সংকলিত। পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট বর্ণনা ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী সঠিক উত্তর: 'আঁধারের সাথে যুঝিয়া তাহার ফুরায়ে এসেছে তেল'।
২. সজিব রাজিবকে বলল, "পড়ালেখা করে ডিগ্রিই
নিয়েছো তুমি, মানুষ হতে পারনি। অর্থের পিছে
অন্ধের মতো ছুটতে ছুটতে তোমার নৈতিক অধঃপতন
ঘটে আত্মিক মৃত্যু হয়েছে।"− উদ্দীপকের বিষয়বস্তু
কোন রচনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
  1. ক
    বই পড়া
  2. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  3. গ
    প্রবাস বন্ধু
  4. ঘ
    সাহিত্যের রূপ ও রীতি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি বাংলা ১ম পত্রের 'পদ্য: অন্ধবধূ' অংশ থেকে সংকলিত। পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট বর্ণনা ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী সঠিক উত্তর: 'শিÿা ও মনুষ্যত্ব'।

আমার একার সুখ, সুখ নহে ভাই,

সকলের সুখ, সখা, সুখ শুধু তাই।

আমার একার আলো সে যে অন্ধকার,

যদি না সবারে অংশ দিতে আমি পাই।........

সকলের সাথে বন্ধু সকলের সাথে,

যাইব কাহারে বল; ফেলিয়া পশ্চাতে।

একসাথে বাঁচি আর একসাথে মরি,

এসো বন্ধু, এ জীবন সুমধুর করি।

৩. কোথায় মানুষেরা নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে?
"যেথায় লোকে তুচ্ছ নিয়ে তুষ্ট থাকে ভাই" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উদ্দীপকের প্রথম অংশের সাথে 'আশা' কবিতার ভাবগত সাদৃশ্য বর্ণনা করো।
"উদ্দীপকটিতে 'আশা' কবিতার কবি ভাবনার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সিকান্দার আবু জাফরের 'আশা' কবিতায় সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষরা জীর্ণ ও সামান্য বাঁশের পাতার কুঁড়েঘরে কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই পরম শান্তিতে নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে।
(খ)

অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা, কোনো লোভ-লালসা বা অহংকার না থাকা এবং সামান্য প্রাপ্তি নিয়েই যারা আনন্দে জীবনযাপন করতে পারে বোঝাতে এ কথা বলা হয়েছে।

কবি দেখিয়েছেন, বিত্তশালীদের মনে অতৃপ্তি থাকে, কিন্তু গরিব মানুষ সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়েই সানন্দে বেঁচে থাকে।

(গ)

উদ্দীপকের প্রথম অংশে 'আমার একার সুখ সুখ নহে ভাই, সকলের সুখ সখা সুখ শুধু তাই'— চরণের মাধ্যমে 'আশা' কবিতায় বর্ণিত স্বার্থপরতা ত্যাগ করে প্রতিবেশীর সুখে হাসা এবং দুঃখের সমভাগী হওয়ার পরম মানবিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'আশা' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসে এবং একজন আরেকজনের দুঃখে পাশে দাঁড়ায়।

উদ্দীপকের এই সার্বজনীন সুখের দর্শন কবিতার আত্মিক শান্তির চেতনার সাথেই হুবহু মিলে যায়।

(ঘ)

বিশ্লেষণ অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও নির্ভুল। উদ্দীপকে সকলের সাথে মিলেমিশে বাঁচা এবং জীবনকে সুমধুর করার যে আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে, তা-ই মূলত 'আশা' কবিতায় কবি সিকান্দার আবু জাফরের কবিভাবনার চূড়ান্ত প্রতিফলন।

কবি 'আশা' কবিতায় নগরজীবনের কৃত্রিমতা, লোভ ও স্বার্থপর প্রতিযোগিতার প্রতি তীব্র অনীহা প্রকাশ করেছেন। তিনি এমন এক স্নিগ্ধ সমাজে ফিরে যেতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ পরের সুখে হাসে, পরের জন্য কাঁদে এবং সকলকে নিয়ে পরম শান্তিতে বাস করে।

উদ্দীপকের কবিতাংশেও কামিনী রায়ের famous চরণে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সকলের সাথে একসাথে বাঁচার সেই পরম আনন্দময় সমাজের জয়গান গাওয়া হয়েছে।

অতএব, উদ্দীপকটি 'আশা' কবিতার মূল দর্শন ও কবিভাবনাকে শতভাগ ধারণ করেছে।

রূপার বাবা মহিব, সাহেব আলী পিরের একজন অন্ধভক্ত। আজ পির সাহেব রূপাদের বাসায় এসেছেন। পির সাহেব আসলে রূপার মা রেনুকা বেগম পিরের আরামে থাকার ব্যবস্থাসহ পছন্দনীয় খাবার তৈরিতে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে যান। সন্ধ্য্যাবেলা রূপা হাদে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। ঘরে এসে কিছুক্ষণ পরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু বিষয়টি পির সাহেবের কান পর্যন্ত পৌছে গেছে। রূপাকে ঘরে নিয়ে এসে পির সাহেব ঝাড়ফুঁক দিতে থাকেন। এতে রূপা রেগে গিয়ে বলে, আমি ডাক্তারের কাছে যাবো।
৪. ‘সূর্যাস্ত আইন’ কী?
‘খোদার ভেদ বোঝা সত্যই মুশকিল।’-কেন? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে ‘বহিপীর’ নাটকের যে বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
"উদ্দীপকের রূপা প্রতিবাদ করলেও সে ‘বহিপীর’ নাটকের ‘তাহেরা’ নয়।"-যৌক্তিকতা বিচার করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের যে কঠোর নিয়মানুযায়ী বছরের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে সরকারি খাজনা পরিশোধ না করলে জমিদারি নিলামে উঠত, তাকে 'সূর্যাস্ত আইন' (Sunset Law) বলা হয়।
(খ)

সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিরহস্য ও দুনিয়ার বিচিত্র ঘটনা মানুষের ক্ষুদ্র বুদ্ধির অগম্য এবং কখন কার ভাগ্যে কী ঘটবে তা আগে থেকে কেউ নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারে না বোঝাতেই বহিপীর এ কথা বলেছিল।

নাটকে বহিপীর বজরার ভেতর তাহেরার লুকিয়ে থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এই মন্তব্য করেছিলেন।

(গ)

উদ্দীপকে পীর সাহেবের আগমনে রেনুকা বেগমের অন্ধভক্তি, সেবায় ব্যস্ত হয়ে পড়া এবং অসুস্থতায় ডাক্তার না দেখিয়ে পীরের ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করার মাঝে 'বহিপীর' নাটকে বর্ণিত গ্রামীণ সমাজের অন্ধ কুসংস্কার, পীরপূজা ও ভণ্ড ধর্মব্যবসার বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।

নাটকেও জমিদার পত্নী খোদেজা এবং সাধারণ ভক্তরা বহিপীরের প্রতিটি আদেশকে অন্ধভাবে মেনে নিত।

অন্ধ কুসংস্কারের মাধ্যমে পীরদের আধিপত্য বিস্তারের দিক থেকেই উভয় চিত্র সরাসরি সম্পর্কিত।

(ঘ)

যৌক্তিকতা বিচার করলে দেখা যায় মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত। উদ্দীপকের রূপা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সাধারণ প্রতিবাদ করলেও সে 'বহিপীর' নাটকের মহাকাব্যিক ও বিদ্রোহী চরিত্র 'তাহেরা' নয়।

রূপার প্রতিবাদটি হলো কেবল অসুস্থতায় ঝাড়ফুঁক না নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার একটি সাধারণ আধুনিক ক্ষোভ। এর জন্য তাকে কোনো পারিবারিক নির্বাসন বা চরম আত্মত্যাগের ঝুঁকি নিতে হয়নি।

পক্ষান্তরে, 'বহিপীর' নাটকের তাহেরার বিদ্রোহ ছিল পুরো সামন্ততান্ত্রিক সমাজ, ধর্মান্ধ পিতা ও এক প্রতাপশালী বৃদ্ধ পীরের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক লড়াই। সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া বিয়েকে অস্বীকার করে রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল এবং নিজের ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য সবকিছু হারাতে প্রস্তুত ছিল।

তাহেরার বিদ্রোহের গভীরতা, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক তাৎপর্য রূপার চেয়ে বহুগুণ বেশি উন্নত ও বিপ্লবী। অতএব, রূপা কোনোভাবেই তাহেরার সমকক্ষ নয়।

অন্ধবধূ আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।