-
ছড়া
-
প্রবাদ
-
পল্লিগান
-
উপকথা
এসএসসি · বাংলা ১ম পত্র
পল্লিসাহিত্য - বাংলা ১ম পত্র বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান
১২টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।
-
কাজী নজরুল ইসলাম
-
জসীমউদ্দীন
-
নির্মলেন্দু গুণ
-
সুকান্ত ভট্টাচার্য
পল্লির খাঁটি কৃষকদের হৃদয়ের সহজ-সরল লোকগাথা ও ভাবরসকে যদি আধুনিক রুচির নামে কৃত্রিম শহুরে ছাঁচে ফেলে সাজানো হয়, তবে তার আসল পল্লিসৌন্দর্য নষ্ট হয়ে ভুয়া ও হাস্যকর বস্তু হয়ে দাঁড়াবে বোঝাতেই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এ কথা বলেছেন।
লোকসাহিত্যের খাঁটি মৌলিকতা রক্ষার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে এতে।
উদ্দীপকের মাহমুদের শিক্ষক শাখাওয়াত স্যারের কাছে রূপকথার গৌরবময় ইতিহাস জেনে পুলকিত হওয়া এবং রূপকথার গল্প শোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হওয়ার মাঝে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত পল্লির অমূল্য 'লোকসাহিত্য, রূপকথা ও রূপসৌন্দর্যের প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতার' দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
স্বদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি এই টানের দিক থেকেই মাহমুদ প্রবন্ধের ভাব ধারণ করে।
যথার্থতা মূল্যায়ন করলে দেখা যায় মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যুগোপযোগী। উদ্দীপকের দাদির মতো আধুনিক মানুষের বিদেশি হিন্দি সিরিয়াল ও অপসংস্কৃতির প্রতি অন্ধ মোহ এবং দেশের রূপকথা ও লোকঐতিহ্যের প্রতি চরম অনাগ্রহই আজ পল্লিসাহিত্য বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেছেন— আধুনিক নাগরিক জীবনের কৃত্রিম ছোঁয়ায় এবং সংরক্ষণ ও প্রচারের অভাবে পল্লির মায়াবী রূপকথা, ঘুমপাড়ানি গান ও গীতিকাগুলো চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের দাদিও নিজের ঐতিহ্যের গল্প মনে না রেখে বিদেশি সিরিয়ালে মগ্ন হয়ে নিজের বংশধরকে ঐতিহ্যবিমুখ করে তুলছেন। আমাদের এই আত্মবিস্মৃতির কারণেই সমৃদ্ধ পল্লিসাহিত্য ধূলিসাৎ হতে বসেছে।
স্বদেশি সাহিত্যের প্রতি উদাসীনতাই ঐতিহ্য ধ্বংসের মূল কারণ।
আধুনিক শহুরে কৃত্রিম জীবনের যান্ত্রিকতায় ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষ নিজের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী লোকসাহিত্য ও রূপকথা ভুলে অন্তরের আনন্দ হারিয়ে ফেলেছে বোঝাতেই প্রাবন্ধিক এ হতাশা প্রকাশ করেছেন।
লোকসংস্কৃতির প্রতি জাতীয় উদাসীনতার করুণ চিত্র এটি।
উদ্দীপকের অধ্যাপক মনজুর রশীদের কুষ্টিয়ার পদ্মা ও গড়াই নদীর অববাহিকার লোককবির লোকগাথা সংগ্রহ করে নাট্যরূপ দেওয়া এবং তা দেশ-বিদেশে প্রচার করার মাঝে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে বর্ণিত গ্রামীণ অমূল্য লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক দিনেশচন্দ্র সেনের মতো লোকগাথা সংকলন ও তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণের এই ঐতিহাসিক দায়িত্বের দিক থেকেই অধ্যাপকের কাজ সরাসরি প্রবন্ধের সাথে মিলে যায়।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ। অধ্যাপক ডক্টর মনজুর রশীদ মূলত ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কাঙ্ক্ষিত গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবক দলেরই এক উজ্জ্বল ও সার্থক প্রতিনিধি।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে গভীর আক্ষেপ করে তরুণ প্রজন্ম ও বিদ্বান সমাজকে আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা পল্লির আনাচে-কানাচে ঘুরে মাটির নিচের রত্নের মতো ছড়িয়ে থাকা ছড়া, গান ও গীতিকাগুলো উদ্ধার ও সংকলন করেন। অধ্যাপক মনজুর রশীদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৃণমূল থেকে এই লোকসাহিত্য সংগ্রহ করেছেন এবং নাট্যরূপ দিয়ে বিশ্বদরবারে মঞ্চায়ন করেছেন।
লোকসাহিত্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে জীবন্ত করার এই উদ্যোগ লেখকের স্বপ্নের সাথে হুবহু একাত্ম।
অতএব, অধ্যাপক মনজুর রশীদ প্রাবন্ধিকের কাঙ্ক্ষিত আদর্শেরই বাস্তব রূপ।