পরিচ্ছেদ ৪৮: সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন

এসএসসি · বাংলা ২য় পত্র

পরিচ্ছেদ ৪৮: সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন - বাংলা ২য় পত্র বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪৭টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
১. মনে করো, তুমি আবরার। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার বগুড়া জেলা প্রতিনিধি। তোমার এলাকার একটি প্রধান সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।
মনে করো, তুমি নিহাল। 'দৈনিক সমকাল' পত্রিকার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি। তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'নবীনবরণ' অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)

বগুড়ার স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ

আবরার, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো

বগুড়া, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বগুড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

(খ)

নওগাঁ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নিহাল, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক সমকাল

নওগাঁ, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল নওগাঁ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, সততা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ অর্জনই শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের পক্ষ থেকে একজন শিক্ষার্থী নতুন বিদ্যালয়ে নিজের আশা ও অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতা কামনা করে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ইতিহাস, নিয়মাবলি, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পর্কে পরিচিতিমূলক উপস্থাপনা দেওয়া হয়। নবীনদের মধ্যে তথ্যপত্র ও বার্ষিক কার্যক্রমের তালিকা বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও নবীনদের সফল শিক্ষাজীবনের শুভকামনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ আয়োজন নতুন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে পরিচিত করে তাদের সংকোচ দূর ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করেছে।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো;
২. মনে করো, তুমি আদি/আদিবা। তুমি আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পর্কে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ উপযোগী একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
মনে করো, তুমি মাসুম/মাসুমা। 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকার ময়মনসিংহ প্রতিনিধি। তোমার বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা' বিষয়ক একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)

আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

আদি/আদিবা, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

আলুটিলা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ জীবনে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও দেশসেবার লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ফুল ও স্মারক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, উত্তরপত্রের পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ছোট নাটকের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন হয়ে ওঠে।

শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। দোয়া ও সফল ভবিষ্যতের কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সুশৃঙ্খল এ আয়োজন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আবেগাপ্লুত করার পাশাপাশি আসন্ন পরীক্ষার জন্য নতুন সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

(খ)

ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মাসুম/মাসুমা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাক

ময়মনসিংহ, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল জেলার ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্‌ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা বিদ্যালয়ের দেয়ালপত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো
৩. মনে করো তুমি সাকিব/সাকিবা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে 'সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা' সম্পর্কিত একখানা সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।
মনে করো, তুমি মিম। 'দৈনিক আমার দেশ' পত্রিকার পাবনা জেলা প্রতিনিধি। তোমার জেলার একটি সড়কের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে একখানা সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সাকিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলা বর্ণের নান্দনিক রূপ, শুদ্ধ বানান এবং হাতে লেখার চর্চা উৎসাহিত করতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়-কলেজের প্রতিযোগী, শিক্ষক, শিল্পী ও দর্শনার্থীরা আয়োজনে অংশ নেন।

সকালে চারুকলা অনুষদের ডিন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগেও পরিচ্ছন্ন, পাঠযোগ্য ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষা ও দৈনন্দিন যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ; তবে সৌন্দর্যের নামে অক্ষরের স্বীকৃত রূপ বিকৃত করা উচিত নয়। বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী প্রতিযোগীদের তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বাংলা গদ্য ও কবিতার নির্বাচিত অংশ লিখতে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা একই মানের কাগজ, কলম ও বসার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিযোগীদের নামের বদলে গোপন কোড ব্যবহার করেন, যাতে বিচার নিরপেক্ষ থাকে।

বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের স্পষ্টতা, সুষম আকার, শব্দের ব্যবধান, পঙ্‌ক্তির সামঞ্জস্য, শুদ্ধ বানান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি বাংলা লিপির বিবর্তন, ক্যালিগ্রাফি ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিল্পীরা সঠিক ভঙ্গিতে বসা, কলম ধরা, অক্ষর অনুশীলন এবং দ্রুততার সঙ্গে পাঠযোগ্যতা বজায় রাখার কৌশল দেখান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে তিন বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের হাতে বই, সনদ ও শিল্পসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচিত লেখাগুলো চারুকলা অনুষদের প্রদর্শনীকক্ষে এক সপ্তাহ প্রদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রতিযোগিতাটি তাদের শুদ্ধ ও যত্নশীল লেখার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আয়োজকেরা এ উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

(খ)

পাবনাের স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ

মিম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ

পাবনা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাবনাের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
৪.

মনে করো, তুমি হাবিব/হাবিবা। পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

অথবা, মনে করো, তুমি সুমন। তুমি একটি দৈনিক পত্রিকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। তোমার বিদ্যালয়ের নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

মনে করো, তুমি রাকিব/রাকা। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি। পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ উৎসবের বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)

প্রথম বিকল্প

পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

হাবিবা, বিদ্যালয় প্রতিবেদক

পটুয়াখালী, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গতকাল পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সকালে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রবীণ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছাপত্র দিয়ে নবীনদের স্বাগত জানায়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ইতিহাস, শৃঙ্খলা, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিচিতিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি নিয়মিত উপস্থিতি, সততা, সময়ানুবর্তিতা এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। কয়েকজন শিক্ষক নিরাপদ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ, পরামর্শসেবা এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন ছাত্রী নতুন পরিবেশে সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।

দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশিত হয়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব নিজ নিজ কার্যক্রম তুলে ধরে এবং নবীনদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। পরিচয়পর্ব ও প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ আয়োজন নবীনদের ভয় ও সংকোচ দূর করে বিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের বন্ধন গড়তে সহায়তা করেছে।

দ্বিতীয় বিকল্প

কুড়িগ্রামে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

সুমন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর অথচ আবেগঘন পরিবেশে গতকাল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আয়োজনে অংশ নেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর নবীনদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নিয়ম, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পরামর্শসেবার সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নবীনদের কৌতূহলী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক শিক্ষার্থী হওয়ার আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক, কলম ও শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুজদের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করা হলে বিদায়ীরা বিদ্যালয়ের স্মৃতি, শিক্ষকদের অবদান এবং ছোটদের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত বক্তব্য দেয়। শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সততার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশিত হয়। নবীন ও বিদায়ীদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজনও ছিল। আনন্দ ও বেদনার মিলিত এ অনুষ্ঠান একদিকে নতুনদের বিদ্যালয়জীবনে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে বিদায়ীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় শুভকামনা ও মূল্যবোধের প্রেরণা দিয়েছে।

(খ)

পদ্মার তীরে সবুজ বেষ্টনী গড়তে বৃক্ষরোপণ উৎসব

রাকিব, রাজশাহী প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ

রাজশাহী, ১৬ই জুলাই ২০২৬: নদীতীরের পরিবেশ রক্ষা, ভাঙনপ্রবণ মাটি স্থিতিশীল করা এবং নগরবাসীর জন্য সবুজ পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে গতকাল পদ্মা নদীর তীরবর্তী নির্ধারিত এলাকায় বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সকালে নদীতীরের একটি উন্মুক্ত স্থানে দেশীয় গাছের চারা রোপণ করে জেলা প্রশাসক উৎসবের উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপযুক্ত বৃক্ষের শিকড় তীরের মাটি ধরে রাখতে, ধুলা ও তাপ কমাতে, পাখি ও ছোট প্রাণীর আবাস গড়তে এবং নদীপারের সৌন্দর্য বাড়াতে সহায়তা করে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বন্যার পানি নিষ্কাশন, বাঁধের নিরাপত্তা ও চরাঞ্চলের প্রতিবেশ বিবেচনা না করে এলোমেলো গাছ লাগানো যাবে না। তাই পানি সহনশীল ও স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী দেশীয় প্রজাতি বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে।

উৎসবে নদীর পাড় ও সংযোগ সড়কের পাশে হিজল, করচ, অর্জুন, নিম, বকুল এবং বিভিন্ন ফলদ গাছের কয়েক শ চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরিয়ে চারা ঘিরে সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করেন। প্রতিটি অংশের পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত চারা প্রতিস্থাপন এবং বেঁচে থাকার হিসাব রাখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নদীতীর দখল, মাটি কাটা ও গাছ নষ্ট করা বন্ধে সচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হয়।

আয়োজকেরা জানান, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক চরিত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিয়মিত তদারকি চলবে। পরিকল্পিত রোপণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত হলে এ সবুজ বেষ্টনী পদ্মাতীরের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও বিনোদনমূল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিচ্ছেদ ৪৮: সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।