-
অত্যধিক শীতল
-
অত্যধিক উষ্ণ
-
অধিক বৃষ্টিপাত
-
সমভাবাপন্ন
এসএসসি · বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়-৪: বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান
৯টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫') অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।
সুবাহ-র নানাবাড়ির ভূমিরূপটি হলো প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্ত্বরভূমি।
বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্ত্বরভূমি অঞ্চল গঠিত হয়েছে। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। এ সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
ভূগোলবিদদের মতে, প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি দেখতে ধূসর ও লাল বর্ণের। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এ পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে এবং মাটি নুড়ি, বালি ও কংকর দ্বারা গঠিত।
উদ্দীপকের সুবাহ-র নানাবাড়ি বগুড়ায়। আর বগুড়া অঞ্চলটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ বা চত্তরভূমি। সুতরাং সুবাহর নানাবাড়ি এই অঞ্চলে অবস্থিত।
সুবাহর জেলায় গড়ে ওঠা বনভূমিটি হলো স্রোতজ বনভূমি। সারাদেশের বনভূমি স্রোতজ বনভূমির অনুরূপ। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের খুলনা এবং দক্ষিণ পূর্বাংশের নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার-ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়। বাংলাদেশে মোট ৪,১৯২ বর্গকিলোমিটার স্রোতজ বনভূমি রয়েছে। এর বেশির ভাগই সুন্দরবন। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা এবং এর সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কিছু অংশে ছড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবন।
উদ্দীপকের সুবাহর বাড়ি খুলনা। সুতরাং তার অঞ্চলে গড়ে ওঠা বনভূমিটি হলো স্রোতজ বনভূমি। সারাদেশের বনভূমির সাথে এর তেমন মিল নেই। কেননা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর এলাকার বনভূমি বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি নামে পরিচিত। এ বনভূমিতে বছরের শীতকালে একবার গাছের পাতা সম্পূর্ণরূপে ঝরে যায়। এ বনে শাল বেশি জন্মায় বলে একে শালবনও বলা হয়। এছাড়া এখানে কড়ই, বহেড়া, হিজল, শিরীষ, হরীতকী, কাঁঠাল, নিম ইত্যাদি গাছ জন্মে। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের শালবন 'ভাওয়াল বনভূমি' নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা নামে অভিহিত করা হয়। উষ্ণ ও আর্দ্রভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোঁপঝাড়, গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোঁটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ বা চিরহরিৎ থাকে। এ ধরনের বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো-চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সিলেট এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সকল বনভূমিই স্রোতজ বনভূমির অনুরূপ নয়।
নদীতে যত্রতত্র সেতু ও বাঁধ নির্মাণ, পলি জমে যাওয়া এবং নদী থেকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে নদীর নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এজন্য নদীর নাব্যতা সংকট দূর করতে নদী নিয়মিত খনন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বাঁধ, পুল ও কালভার্ট নির্মাণে অনুৎসাহিত করতে হবে। এছাড়া পানির প্রবাহ ঠিক রাখতেও জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।
উদ্দীপকের সময়কাল বাংলাদেশের জলবায়ুর গ্রীষ্মঋতুর বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটি দেশের উষ্ণতম ঋতু। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ হতে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে।
উদ্দীপকে মায়া এপ্রিল মাসের দুপুরে বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে আমতলায় বসেছিল। অল্পবয়সী কিছু ছেলেমেয়ে পুকুরের পানিতে ঝাঁপদিয়ে উষ্ণতা নিবারণ করছিল। এরূপ বর্ণনায় বাংলাদেশের গ্রীষ্মঋতুর বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এতে ঝড়ের উদ্ভব হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী বলে।
উদ্দীপকের ঘটনাবলি তথা জলবায়ু বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মন্তব্যটি যথার্থ।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত কারণে এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে এদেশে বছরের বিভিন্ন ঋতুর জলবায়ুর তারতম্য দেখা যায়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও বিভিন্ন ফসল ও প্রচুর ফল জন্মায়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে স্বল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে ধান, গম, তামাক এবং নানা জাতের ডাল, তৈলবীজ, গোল আলু, রসুন, পিঁয়াজ, ধনিয়া ইত্যাদি রবিশস্য এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করা হয়। জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিবাহিত পলিমাটি কৃষিজমির উর্বরতা বাড়ায়। এতে ফসল উৎপাদন ভালো হয়।
অন্যদিকে, জলবায়ুর প্রভাবেই কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো অকাল বন্যা, আবার কখনো খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশে আঘাত হানে। যার প্রভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। নদী ভাঙনে মানুষ বাস্তুহারা হয়ে জীবন-জীবিকার টানে শহরে আশ্রয় গ্রহণ করছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ কৃষক ও দিনমজুর কাজের আশায় শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানামুখী দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় জনগণের জীবনধারণের ভিত্তি হারিয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা, বন্যা, লবণাক্ততা, প্লাবন, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্য এদেশের মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
দৃশ্যকল্প-১: এসএসসি পরীক্ষা শেষে লামিয়া নীলগিরি ও সাজেকে বেড়াতে যায়। সেখানে সে বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড়ও দর্শন করে।
শ্যকল্প-২: আবির ভূগোল বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। সে লক্ষ করে গত কয়েক বছর ধরে তার দেশে জুন মাসে তেমন বৃষ্টিপাত হচ্ছে না, অথচ জুলাই এর শেষ দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। অল্পসময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
অধিক জনবসতির প্রভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।
একটি দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জনবসতিও বৃদ্ধি পায়। এতে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। কৃষিজমিগুলো উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টিত হয়ে খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়। জনসংখ্যার আধিক্য এবং জনবসতি বিস্তারের প্রয়োজনীয়তায় মানুষ ভূমির স্বাভাবিক প্রকৃতি এবং ব্যবহারকে বদলে দিতে বাধ্য হয়। খাল-বিল ভরাট করে, বনজঙ্গল কেটে বসতি স্থাপন করে। এভাবে অধিক জনবসতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লামিয়ার ভ্রমণকৃত অঞ্চলটি বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অঞ্চলকে নির্দেশ করে।
ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যানুসারে বাংলাদেশকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি- এ তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত। আবার টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ। এদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিওডং বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত এবং এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোঁপঝাড় ও গুল্ম জন্ম নেয়। এ অঞ্চলের গাছের পাতা একত্রে গজায়ও না আবার ঝরেও না। ফলে সারাবছরই বনগুলো সবুজ থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর লামিয়া নীলগিরি ও সাজেকে বেড়াতে যায়। সেখানে সে বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড়ও দর্শন করে। লামিয়ার বেড়াতে যাওয়া এরূপ ভূপ্রকৃতি বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ের অন্তর্গত। কারণ এ অঞ্চলেই নীলগিরি, সাজেক এবং দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় তাজিওডং অবস্থিত।
দৃশ্যকল্প-২ এ জলবায়ু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার উপর নানা প্রভাব ফেলছে।-আমি এ বিষয়ে একমত।
বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। জলবায়ুজনিত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, নদনদী ভাঙন মানুষের জীবন-জীবিকার পরিবর্তন আনে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর আবির লক্ষ করে গত কয়েক বছর ধরে তার দেশে জুন মাসে তেমন বৃষ্টিপাত হচ্ছে না, অথচ জুলাই এর শেষদিকে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দিচ্ছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এরূপ চিত্র প্রকাশের মূল কারণ হলো জলবায়ুর পরিবর্তন। বাংলাদেশ মূলত ছয় ঋতুর দেশ হলেও বর্তমানে বর্ষা, গ্রীষ্ম ও শীত- এ তিনটি ঋতুই দেখা যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ঋতু বৈচিত্র্যের এ পরিবর্তন বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার গতিময়তা নষ্ট করছে। তাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে বিভিন্ন রকমের ফসল ও প্রচুর পরিমাণে ফল জন্মায়। আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে স্বল্পপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। ফলে ধান, গম, তামাক ও বিভিন্ন রকমের শাকসবজি উৎপাদন করা যায়। জলবায়ুর কারণে সৃষ্ট বন্যায় পানিবাহিত পলিমাটি কৃষিক্ষেত্রগুলোর উর্বরতা বাড়ায়। এতে ফসল অনেক ভালো হয়। মৌসুমি বায়ুর এসব ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষণীয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা দেশের সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত, ভারী বর্ষণের ফলে ভূমিধ্বস, বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের মতো ভয়াবহ দুর্যোগও হচ্ছে।
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের জীবন-জীবিকার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।