উদ্দীপকের মানচিত্রে ভারত ও বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় (সিলেট) সীমান্ত এলাকার প্রধান নদীপ্রবাহ দেখানো হয়েছে।
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়ের পঞ্চম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ - প্রধান নদ-নদী’)-এর আলোকে বিশদ ভৌগোলিক বিশ্লেষণ:
১. বরাক নদীর বিভাজন:
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মণিপুর অঞ্চলে উৎপন্ন হয়ে বরাক নদী পশ্চিমমুখী প্রবাহিত হয়ে সিলেট সীমান্ত (অমলশিদ)-এ বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়েছে।
২. শাখা দুটির গতিপথ ও মানচিত্র বিশ্লেষণ:
- উত্তর শাখা ('B' নির্দেশিত নদী): এটি হলো সুরমা নদী। এটি অমলশিদ থেকে সিলেটের উত্তর সীমান্ত ঘেঁষে ছাতক ও সুনামগঞ্জের পাশ দিয়ে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অগ্রসর হয়েছে (উদ্দীপকের মানচিত্রে লাল তীরচিহ্নিত 'B' নদী)।
- দক্ষিণ শাখা: এটি হলো কুশিয়ারা নদী (মানচিত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে), যা ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে।
- মনু নদী: দক্ষিণ-পূর্ব দিক (ত্রিপুরা পাহাড়) থেকে আসা মনু নদী কুশিয়ারা নদীর সাথে এসে মিলিত হয়েছে।
- পুনর্মিলন ও মেঘনায় রূপান্তর: সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দুটি পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কাছে পুনরায় মিলিত হয়ে কালনী নদী নাম ধারণ করে। কালনী নদী আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে ভৈরব বাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে এবং পরিশেষে চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
৩. অন্যান্য বিকল্পগুলোর পর্যালোচনা:
- বংশী: এটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদী (ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল-গাজীপুর অঞ্চল)।
- গোমতী: এটি ভারতের ত্রিপুরা থেকে উৎপন্ন হয়ে কুমিল্লা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- তিতাস: এটি ত্রিপুরা থেকে উৎপন্ন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
সুতরাং, মানচিত্রে 'B' নির্দেশিত উত্তরমুখী প্রধান নদীটির নাম হলো সুরমা।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ (সুরমা)।