অধ্যায়-৭: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা

এসএসসি · বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অধ্যায়-৭: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৩টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

১. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নিবার্চনে 'চ' দলটি ১৫১টি আসন লাভ করে। দলটি কয়টি সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করবে
  1. ক
    ৫০
  2. খ
    ৪৫
  3. গ
    ৩১
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের 'অধ্যায়-৭: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা' অধ্যায়ের পাঠ্যবইয়ের তথ্যানুযায়ী প্রণীত। সঠিক উত্তর: '২৫'।
জনাব ইকবাল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তিনি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার তৃতীয় স্তরের একটি ইউনিটের প্রধান। অন্যদিকে জনাব মামুন বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন একটি স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সদস্য। তিনি তার এলাকার ঝগড়া-বিবাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ অন্যান্য সমস্যা নিরসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
২. শাসন বিভাগ কাকে বলে?
অভিশংসন কী? ব্যাখ্যা কর।
জনাব মামুন কোন স্থানীয় সংস্থার সদস্য? ব্যাখ্যা কর।
তুমি কি মনে কর, জনাব ইকবালের প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? উত্তরের সপক্ষে মতামত দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
রাষ্ট্রের শাসনকার্য তথা নিত্যদিনকার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সার্বিক সিদ্ধান্ত ও সুবিধাসমূহ বাস্তবায়ন করে যে বিভাগ তাকে শাসন বিভাগ বলে।
(খ)
অভিশংসন হলো জাতীয় সংসদের বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
অভিশংসন বলতে সাংবিধানিক পদের অধিকারী কোনো ব্যক্তিকে পদচ্যুত করা হবে কি না সে উদ্দেশ্যে আয়োজিত সংসদীয় বিচারকে বোঝায়। সংবিধানের কোনো ধারা লঙ্ঘন, গুরুতর অপরাধ বা অসদাচরণের জন্য অথবা দৈহিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে জাতীয় সংসদ সাংবিধানিক পদের অধিকারী ব্যক্তিকে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সমর্থনে অভিশংসন করতে পারে। উল্লিখিত কারণে জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন বা অপসারণ করতে পারে। প্রয়োজনে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও ন্যায়পালকে অপসারণ করার ক্ষমতাও সংসদের রয়েছে।
(গ)

জনাব মামুন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামাঞ্চলে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এর লক্ষ। জনাব মামুন এ স্থানীয় সংস্থার সদস্য। উদ্দীপকে জনাব মামুন যে স্থানীয় সংস্থার সদস্য সেটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। তিনি ছাড়াও সেখানে আরো ১২ জন সদস্য রয়েছেন। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার প্রধান দায়িত্ব। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেই এ তথ্যগুলো প্রযোজ্য। কারণ এদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ। এর প্রধান কাজ হলো এলাকার অপরাধ, বিশৃঙ্খলা, চোরাচালান বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ঝগড়া-বিবাদ নিরসনে ভূমিকা পালন, পারিবারিক বিরোধের আপস-মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি। ইউনিয়ন পরিষদে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, নয় জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও তিনজন নির্বাচিত মহিলা সদস্য থাকেন। অর্থাৎ চেয়ারম্যান ছাড়া আরোও ১২ জন সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে থাকেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মামুন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।

(ঘ)

জনাব ইকবালের প্রতিষ্ঠানটি তথা জেলা প্রশাসন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর তৃতীয় স্তর। প্রত্যেক বিভাগ কয়েকটি জেলায় বিভক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৪টি জেলা রয়েছে। জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করে জেলার সমগ্র শাসন আবর্তিত হয়। জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার হলেন জেলা প্রশাসনের মধ্যমণি। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তিনি প্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনারের পরই তাঁর স্থান।
উদ্দীপকের জনাব ইকবাল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তিনি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার তৃতীয় স্তরের একটি ইউনিটের প্রধান। এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় জনাব ইকবাল জেলা প্রশাসনের প্রধান। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগসূত্র বিদ্যমান। বাংলাদেশ সবিচালয়ে জেলা-সংক্রান্ত গৃহীত যাবতীয় সিদ্ধান্ত সরাসরি জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত হয়। জেলা প্রশাসক কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন। আর জেলা প্রশাসকদের কেন্দ্র কইে জেলার প্রশাসন পরিচালিত ও আবর্তিত। জেলা প্রশাসক তাঁর কাজের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দায়ী। বিভাগীয় কমিশনার আবার যাবতীয় কার্যাবলির জন্য কেন্দ্রের নিকট দায়ী। বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে জেলা ও কেন্দ্রের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়।

সুতরাং বলা যায়, জনাব ইকবালের প্রতিষ্ঠানটি তথা জেলা প্রশাসন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

জনাব 'ক' এমন এক পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত, যার অবস্থান দেশের সবার উপরে। দেশের সকল কাজ তার নামে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, জনাব 'খ' দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। জনাব 'খ' যেকোনো ঘটনার সঠিক তথ্য নিরূপণ করে সমাধানের আদেশ দেন।
৩. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কাকে বলে?
জেলা প্রশাসককে জেলা প্রশাসনের মধ্যমণি বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।
জনাব 'ক'-এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
জনাব 'খ' যে বিভাগের সদস্য সে বিভাগ দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে বলে কি তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলে।
(খ)

জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করে জেলার সমগ্র শাসন আবর্তিত হয় 'বলে তাকে জেলার মধ্যমণি বলা হয়।

তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য ও প্রশাসনের প্রবীণ কর্মকর্তা। তাকে 'কেন্দ্র করেই জেলার প্রশাসন পরিচালিত ও আবর্তিত হয়। এ কারণেই তিনি হলেন জেলার মধ্যমণি।

(গ)

উদ্দীপকে জনাব 'ক' হলেন রাষ্ট্রপতি। কেননা রাষ্ট্রপতির পদ মর্যাদা সবার উপরে। প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তার নামে পরিচালিত হয়।-

রাষ্ট্রপতি সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি অ্যাটার্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও অন্য বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন। এম আধবেশনে ও রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। নতুন সংসদের নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় তিনি সংসদে ভাষণ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাখেন। সরকারের ব্যয় সংক্রান্ত যেকোনো বিলে তার সুপারিশ লাগে। প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়কত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন।

এগুলো একটি দেশের রাষ্ট্রপতি তথা উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি।

(ঘ)

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'খ' একজন ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক তিনি ঘটনার সঠিক তথ্য নিরূপণে আদেশ দেন। সুতরাং তিনি অবশ্যই একজন বিচারপতি। তিনি দেশের বিচার বিভাগের সদস্য। বিচার বিভাগ দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি।

বিচার বিভাগ একটি দেশের ন্যায় বিচারের মানদণ্ড। বিচার বিভাগ ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বিচার বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং আইন অমান্যকারীর বিচার করেন। দেওয়ানি বা ফৌজদারি যে মামলাই হোক না কেন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভাবে আইন অনুযায়ী ন্যায়নীতির ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয়ত, জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব বহুলাংশে আদালতই করে থাকে। নাগরিকদের নাগরিক অধিকার ও সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার রক্ষা করার মাধ্যমেই এ বিভাগ ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। বিচার বিভাগ গরত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং প্রয়োগে ভূমিকা রাখেন। আইন খুঁজে পাওয়া না গেলে তার রায়ও আইনের কাজ করে। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা মীমাংসা করে থাকে। সঠিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ শাসন বিভাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। বিচার বিভাগ বিদেশি নাগরিকদের দান, অভিভাবকত্ব নিরূপণ, নাবালকের সম্পত্তির তত্ত্বাবধান সহ বিবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করেন।

তাই বিচার বিভাগকে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রধান ভূমিকা পালনকারী হিসেবে দেখা হয়।

অধ্যায়-৭: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।