অধ্যায়-৭: মূলধন ব্যয়

এসএসসি · ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

অধ্যায়-৭: মূলধন ব্যয় - ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

রাজু ও মিনা 'XYZ' কোম্পানি শেয়ার হোল্ডার। মিনা, কোম্পানির সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তার মুনাফার অংশ নিশ্চিত নয়। অপরদিকে, রাজুর মুনাফার অংশ নিশ্চিত এবং কোম্পানির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে মতামত দিতে পারেন না।
১. শেয়ার বাজারে সূচক ব্যবহার করা হয় কেন?
বোনাস শেয়ার কী? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের মিনা কোন ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন? বর্ণনা কর।
বিনিয়োগ নিরাপত্তা বিবেচনায় মিনা ও রাজুর মধ্যে কে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে? মূল্যায়ন কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শেয়ারবাজারের সার্বিক মূল্যগত প্রবণতা ও অবস্থার পরিবর্তন বোঝাতে সূচক ব্যবহার করা হয়।
(খ)
কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বিদ্যমান শেয়ারমালিকদের ধারণকৃত শেয়ারের নির্দিষ্ট অনুপাতে যে অতিরিক্ত শেয়ার দেয়, তাকে বোনাস শেয়ার বলে। এতে শেয়ারসংখ্যা বাড়ে, কিন্তু নগদ অর্থ বের হয় না।
(গ)
মিনা সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। সাধারণ শেয়ারমালিক কোম্পানির মালিক, সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং তাঁদের লভ্যাংশ নির্দিষ্ট নয়। মিনার সভায় অংশগ্রহণ ও অনিশ্চিত মুনাফা এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।
(ঘ)
রাজু অগ্রাধিকার শেয়ারমালিক হওয়ায় নিরাপত্তার বিচারে সুবিধাজনক অবস্থানে। তাঁর লভ্যাংশ নির্দিষ্ট এবং সাধারণ শেয়ারের আগে পরিশোধিত হয়; কোম্পানি অবসায়নেও সাধারণ শেয়ারমালিকের আগে দাবি মেটে। মিনার সাধারণ শেয়ারে ভোটাধিকার ও বেশি আয়ের সুযোগ থাকলেও লভ্যাংশ অনিশ্চিত এবং দাবি পরে মেটে। তাই রাজুর বিনিয়োগ তুলনামূলক নিরাপদ।
জনাব আব্দুল্লাহ “হিমালয় লিমিটেড” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু শেয়ার ক্রয় করেছিলেন। গত মাসে শেয়ারগুলো বিক্রয় করে তিনি তার মায়ের চিকিৎসা করিয়েছেন। অন্যদিকে, তার বন্ধু জনাব রফাতুল্লাহ 'ক' ও 'খ' কোম্পানিতে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করার চিন্তাভাবনা করছেন। 'ক' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তিনি সর্বপ্রথম কোম্পানির অর্জিত আয়ের সুদ ও বিক্রীত সম্পদের প্রাপ্ত অর্থ পাবেন। 'খ' কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত আয় পেলেও এর বিপরীতে কোনো স্থায়ী সম্পদ বন্ধক রাখা হয় না।
২. রাইট শেয়ার কী?
বিলম্বিত শেয়ারকে প্রবর্তকের শেয়ার বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
জনাব আব্দুল্লাহর কোন ধরনের শেয়ার ছিল? ব্যাখ্যা করো।
জনাব রফাতুল্লাহর জন্য মুনাফা ও সম্পদের অধিকার এবং জামানতের বিবেচনায় কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কোম্পানি গঠনের পর নতুন শেয়ার ইস্যুর সময় বর্তমান সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আনুপাতিক হারে ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে শেয়ার কেনার অধিকার দেওয়া হয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।
(খ)
বিলম্বিত শেয়ারের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতের দাবি অন্য সব শ্রেণির শেয়ারহোল্ডারের দাবি মেটানোর পরে পরিশোধ করা হয়। কোম্পানির প্রবর্তকেরা সাধারণত প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা প্রকাশ এবং প্রাথমিক ঝুঁকি বহনের জন্য এ শেয়ার গ্রহণ করেন। তাই বিলম্বিত শেয়ারকে প্রবর্তকের শেয়ার বলা হয়।
(গ)

জনাব আব্দুল্লাহর সাধারণ শেয়ার ছিল।

সাধারণ শেয়ার সহজে হস্তান্তরযোগ্য ও শেয়ারবাজারে বিক্রয়যোগ্য হওয়ায় তুলনামূলকভাবে তারল্যসম্পন্ন। আব্দুল্লাহ প্রয়োজনের সময় শেয়ারগুলো বিক্রি করে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ করেছেন—এটি সাধারণ শেয়ারের বাজারযোগ্যতা ও তারল্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(ঘ)

মুনাফা, সম্পদের ওপর দাবি ও জামানতের বিবেচনায় ‘খ’ কোম্পানিতে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

‘ক’ কোম্পানির বিনিয়োগপত্রটি বন্ড: এর ধারক সুদ ও কোম্পানি অবসায়নের সময় সম্পদ বিক্রির অর্থে অগ্রাধিকার পান এবং সাধারণত সম্পদের জামানত থাকে। ‘খ’ কোম্পানির বিনিয়োগপত্রটি ডিবেঞ্চার: নির্দিষ্ট সুদ দিলেও এর বিপরীতে স্থায়ী সম্পদ বন্ধক নেই। ফলে কোম্পানি ব্যর্থ হলে ‘খ’-এর বিনিয়োগকারীর পাওনা আদায়ের নিরাপত্তা কম। তাই রফাতুল্লাহর জন্য ‘খ’ কোম্পানির ডিবেঞ্চার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

জনাব আদিল শেয়ারবাজারে কিছু অর্থ বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেলেও কোম্পানিতে ভোটাধিকার বা সাধারণ সভায় যোগদানের আমন্ত্রণ পাননি। উক্ত কোম্পানিতে উনার বন্ধু সাহেদ নিয়মিত সাধারণ সভায় যোগদান করেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
৩. রাইট শেয়ার কী?
টেবিল তৈরির জন্য কাঠ ক্রয় কোন ধরনের সিদ্ধান্ত? বর্ণনা কর।
জনাব আদিল কোন ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
উক্ত কোম্পানিতে জনাব আদিল ভোটাধিকার না পেলেও জনাব সাহেদ কেন ভোটাধিকার পেলেন? বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কোম্পানির বর্তমান সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আনুপাতিক হারে এবং সাধারণত বাজারমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে যে নতুন শেয়ার কেনার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।
(খ)

টেবিল তৈরির জন্য কাঠ ক্রয় কার্যকরী মূলধন বা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।

কাঠ উৎপাদনের কাঁচামাল এবং এটি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহৃত হয়ে প্রস্তুত পণ্যে রূপ নেয়। তাই কাঠ কেনায় ব্যয়িত অর্থ চলতি সম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়; এটি স্থায়ী সম্পদে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নয়।

(গ)

জনাব আদিল অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করেছেন।

অগ্রাধিকার শেয়ারে সাধারণত নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পাওয়ার অগ্রাধিকার থাকে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ভোটাধিকার ও সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকে না। উদ্দীপকে আদিল নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেলেও এসব অধিকার পাননি—যা অগ্রাধিকার শেয়ারের বৈশিষ্ট্য।

(ঘ)

জনাব আদিল অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার, আর জনাব সাহেদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডার হওয়ায় তাদের ভোটাধিকার ভিন্ন।

অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরতে অগ্রাধিকার পেলেও সাধারণত কোম্পানির পরিচালনা-সংক্রান্ত ভোট দিতে পারেন না। বিপরীতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির প্রকৃত মালিক; তিনি সাধারণ সভায় অংশ নেন এবং শেয়ারসংখ্যা অনুযায়ী ভোট দিয়ে পরিচালক নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মত দেন। তাই আদিল ভোটাধিকার না পেলেও সাহেদ ভোটাধিকার পেয়েছেন।

রুমানা ও শায়লা দুই বোন শাপলা কোম্পানিতে অর্থ বিনিয়োগ করেন। রুমানা কোম্পানি থেকে প্রতি বছর শেয়ার প্রতি ১৫ টাকা লভ্যাংশ পায়। তবে শায়লার আয় অনির্দিষ্ট হলেও কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটাধিকার রয়েছে।
৪. রাইট শেয়ার কী?
বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে মূল পার্থক্যটি ব্যাখ্যা করো।
রুমানার বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের লভ্যাংশ নীতিটি ব্যাখ্যা করো।
“শায়লার বিনিয়োগ খাতটি রুমানার বিনিয়োগ ক্ষেত্র হতে ভিন্ন”- বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করলে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার অনুপাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে শেয়ার কেনার অধিকার দেয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।
(খ)
বন্ড সাধারণত স্থায়ী সম্পদ বা দলিলের জামানতের বিপরীতে ইস্যু করা ঋণপত্র, আর ডিবেঞ্চার জামানতবিহীন ঋণপত্র। তাই বন্ডধারীর দাবি তুলনামূলক নিরাপদ এবং ডিবেঞ্চারধারীর ঝুঁকি বেশি।
(গ)
রুমানার ক্ষেত্রে স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশ নীতি অনুসৃত হয়েছে। এ নীতিতে কোম্পানি আয় ওঠানামা করলেও প্রতি বছর শেয়ারপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি প্রতিবছর শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা পান—এটি স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশের বৈশিষ্ট্য।
(ঘ)

শায়লার বিনিয়োগ সাধারণ শেয়ারে, আর রুমানার বিনিয়োগ অগ্রাধিকার শেয়ারে। শায়লার আয় অনির্দিষ্ট, কিন্তু ভোটাধিকার আছে এবং কোম্পানির বেশি মুনাফায় বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

রুমানা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের আগে লভ্যাংশ ও অবসায়নে মূলধনের দাবি মেটানো হয়, কিন্তু সাধারণত ভোটাধিকার নেই। তাই আয়, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ—তিন ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ দুটি ভিন্ন।

অধ্যায়-৭: মূলধন ব্যয় আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।