অধ্যায়-১০: বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ

এসএসসি · ভূগোল ও পরিবেশ

অধ্যায়-১০: বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ - ভূগোল ও পরিবেশ বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১৬টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

১.

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য করো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:

উদ্দীপকে "X" চিহ্নিত নদী কোনটি?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. গ
    যমুনা
  4. ঘ
    কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ (মেঘনা)

ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের চিত্রে বাংলাদেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে "X" দ্বারা চিহ্নিত নদীটি হলো মেঘনা নদী।

এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ পাঠ্যবইয়ের দশম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ: নদ-নদী - মেঘনা’ - পৃষ্ঠা ১১৩-১২৯)-এর আলোকে বিশদ ভৌগোলিক তথ্য:
• উৎস ও শাখা বিভাজন: ভারতের আসামের নাগা ও মণিপুর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন ‘বরাক নদী’ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সিলেট জেলায় প্রবেশ করার মুখে সুরমা (উত্তরের শাখা) ও কুশিয়ারা (দক্ষিণের শাখা) নামে দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়।
• মিলন ও কালনী প্রবাহ: সুরমা নদী সিলেট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে এবং কুশিয়ারা নদী দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে আজমিরীগঞ্জের কাছে কালনী নদীর সাথে মিলিত হয়।
• মেঘনা হিসেবে রূপান্তর (উদ্দীপকের "X" চিহ্নিত নদী): কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার এই মিলিত প্রবাহ কালনী নামে কিছুদূর দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের উত্তরে এসে ‘মেঘনা’ নাম ধারণ করে। ভৈরববাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এসে মেঘনার সাথে মিলিত হয়।
• পদ্মা-মেঘনার মিলন ও মোহনা: এরপর মেঘনা দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়। চাঁদপুরের পর এই সুবিশাল সম্মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামেই আরও প্রশস্ত হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

উদ্দীপকের চিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত ধারা হয়ে চাঁদপুরের দিকে অগ্রসরমান নদীটি স্পষ্টতই মেঘনা নদী।

অতএব, উদ্দীপকে "X" চিহ্নিত নদীটি হলো মেঘনা।

২.

মানচিত্রে চিহ্নিত ভূ-প্রকৃতিটি—
i. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত
ii. আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়
iii. বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত

নিচের কোনটি সঠিক?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    i ও ii
  2. খ
    i ও iii
  3. গ
    ii ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ (i, ii ও iii)

ব্যাখ্যা:

উদ্দীপকের ‘মানচিত্র : বাংলাদেশ (একাংশ)’ শীর্ষক মানচিত্রে জালিকাকার রেখা (Cross-hatch pattern) দ্বারা চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (Tertiary Hills)।

এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ পাঠ্যবইয়ের দশম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ: বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি — টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ’)-এর আলোকে উদ্দীপকের তথ্যাবলির বিশদ বিশ্লেষণ:

১. মানচিত্র বিশ্লেষণ:

  • উদ্দীপকের মানচিত্রে বাংলাদেশের পূর্বাংশের একাংশ প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে দুটি প্রধান পাহাড়ি অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে:
    • (ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়-টিলা (খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশ ও সুরমা উপত্যকার টিলাসমূহ)।
    • (খ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সুবিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা।

২. বিবৃতিগুলোর যথার্থতা যাচাই:

  • বিবৃতি i (টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত - সঠিক): আজ থেকে প্রায় ২ কোটি বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় তীব্র ভূ-আলোড়ন ও ভাঁজের ফলে এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছিল। ভূতাত্ত্বিক সময়কাল অনুযায়ী এ অঞ্চলটি ‘টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ’ নামে পরিচিত।
  • বিবৃতি ii (আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় - সঠিক): এ পাহাড়গুলো ভারতের আসামের লুসাই পাহাড় এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের (আরাকান ইয়োমা) সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক ভঙ্গিল পর্বতের অংশ।
  • বিবৃতি iii (বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত - সঠিক): এ পাহাড়গুলো প্রধানত বেলেপাথর (Sandstone), শেল (Shale) এবং কর্দম বা কাদা (Clay) ইত্যাদি নরম পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।

সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত i, ii ও iii—তিনটি উক্তিই সম্পূর্ণ নির্ভুল।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো ঘ (i, ii ও iii)।

৩.

নিচের মানচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে উত্তর দাও:

মানচিত্র 'A' কোন ধরনের সমভূমি?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    প্লাবন সমভূমি
  2. খ
    ব-দ্বীপ সমভূমি
  3. পাদদেশীয় সমভূমি
  4. ঘ
    স্রোতজ সমভূমি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ (পাদদেশীয় সমভূমি)

ব্যাখ্যা:

এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ পাঠ্যবইয়ের দশম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ: ভূপ্রকৃতি — সমভূমি অঞ্চল’) এবং চতুর্থ অধ্যায় (‘পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গঠন: পাদদেশীয় পলল সমভূমি’)-এর আলোকে বিশদ ভৌগোলিক বিশ্লেষণ:

১. উদ্দীপকের মানচিত্রে 'A' চিহ্নিত অঞ্চল:

  • উদ্দীপকের মানচিত্রে 'A' নির্দেশকটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তভাগে অবস্থিত বৃহত্তর দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর জেলাকে নির্দেশ করছে।

২. পাদদেশীয় পলল সমভূমির উৎপত্তি ও গঠন:

  • হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে যেসব পাহাড়ি নদী সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে (যেমন: তিস্তা, আত্রাই, করতোয়া, ধরলা), সেসব নদী পাহাড় থেকে প্রচুর পরিমাণে নুড়ি, পাথর, কাঁকর, বালু ও পলি বহন করে আনে।
  • নদীগুলো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সমভূমিতে প্রবেশের সাথে সাথে ভূমির ঢাল আকস্মিকভাবে কমে যায়, যার ফলে পরিবাহিত পলল ও শিলাচূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে মৃদু ঢালু সমতল ভূমিরূপে সঞ্চিত হয়। এভাবে গঠিত সমভূমিকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি (Piedmont Alluvial Plain) বলে।
  • বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর জেলার অধিকাংশ স্থান এই পাদদেশীয় পলল সমভূমির অন্তর্গত।

৩. অন্যান্য অপশনসমূহের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:

  • ক. প্লাবন সমভূমি (Flood Plain): বর্ষাকালে নদীর পানি দুকূল উপচে বন্যার সৃষ্টি করে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীর অববাহিকায় পলি সঞ্চিত হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠিত হয় (যেমন: ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা, ফরিদপুর ও কুমিল্লার বিস্তৃত প্লাবন সমভূমি)।
  • খ. ব-দ্বীপ সমভূমি (Deltaic Plain): নদীর মোহনায় সাগরের কাছাকাছি দীর্ঘকাল ধরে পলি সঞ্চিত হয়ে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) বা বাংলা 'ব' মাত্রাহীন বর্ণের ন্যায় যে সমভূমি গড়ে ওঠে, তাকে ব-দ্বীপ সমভূমি বলে (যেমন: বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের ব-দ্বীপ এলাকা)।
  • ঘ. স্রোতজ সমভূমি (Tidal Plain): সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার পানিতে পলি সঞ্চিত হয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় যে সমভূমি গড়ে ওঠে, তাকে স্রোতজ বা উপকূলীয় সমভূমি বলে (যেমন: সুন্দরবন ও উপকূলীয় জেলাসমূহ)।

সুতরাং, মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত উত্তর-পশ্চিমের অঞ্চলটি হলো পাদদেশীয় সমভূমি।

৪.

উদ্দীপকের মানচিত্রটি লক্ষ কর এবং ১৯ ও ২০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

'Y' চিহ্নিত নদীটির নাম কী?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    পদ্মা
  2. খ
    মেঘনা
  3. যমুনা
  4. ঘ
    তিস্তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ (যমুনা)

ব্যাখ্যা:

এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ পাঠ্যবইয়ের দশম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ - নদ-নদী’)-এর আলোকে:

১. উদ্দীপকের মানচিত্র ও নদী শনাক্তকরণ:

  • 'Y' চিহ্নিত নদী: তিস্তার সঙ্গে মিলিত হয়ে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বাহাদুরাবাদের পর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত প্রধান যমুনা নদী (Jamuna)।
  • 'X' চিহ্নিত নদী: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খাত দিয়ে ময়মনসিংহ হয়ে প্রবাহিত প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদ (Brahmaputra)।
  • 'Z' চিহ্নিত নদী: রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা প্রধান পদ্মা নদী (Padma / গঙ্গা)।

২. যমুনা নদীর উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

  • ১৭৮৭ সালের আসামের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও আকস্মিক বন্যার ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ উত্থিত হয়। ফলে এর মূল জলপ্রবাহ দিক পরিবর্তন করে বাহাদুরাবাদের নিকট থেকে সোজা দক্ষিণমুখী একটি নতুন প্রশস্ত স্রোতধারায় প্রবাহিত হতে শুরু করে।
  • এই নতুন স্রোতধারাটিই যমুনা নদী নামে পরিচিত। যমুনা নদী বাহাদুরাবাদ থেকে দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।

অতএব, উদ্দীপকের মানচিত্রে 'Y' চিহ্নিত নদীটি হলো যমুনা।

অধ্যায়-১০: বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।