নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য করো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:
উদ্দীপকে "X" চিহ্নিত নদী কোনটি?
-
পদ্মা
-
মেঘনা
-
যমুনা
-
কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর: খ (মেঘনা)
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের চিত্রে বাংলাদেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে "X" দ্বারা চিহ্নিত নদীটি হলো মেঘনা নদী।
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির ‘ভূগোল ও পরিবেশ’ পাঠ্যবইয়ের দশম অধ্যায় (‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ: নদ-নদী - মেঘনা’ - পৃষ্ঠা ১১৩-১২৯)-এর আলোকে বিশদ ভৌগোলিক তথ্য:
• উৎস ও শাখা বিভাজন: ভারতের আসামের নাগা ও মণিপুর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন ‘বরাক নদী’ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সিলেট জেলায় প্রবেশ করার মুখে সুরমা (উত্তরের শাখা) ও কুশিয়ারা (দক্ষিণের শাখা) নামে দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত হয়।
• মিলন ও কালনী প্রবাহ: সুরমা নদী সিলেট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে এবং কুশিয়ারা নদী দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে আজমিরীগঞ্জের কাছে কালনী নদীর সাথে মিলিত হয়।
• মেঘনা হিসেবে রূপান্তর (উদ্দীপকের "X" চিহ্নিত নদী): কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার এই মিলিত প্রবাহ কালনী নামে কিছুদূর দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের উত্তরে এসে ‘মেঘনা’ নাম ধারণ করে। ভৈরববাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এসে মেঘনার সাথে মিলিত হয়।
• পদ্মা-মেঘনার মিলন ও মোহনা: এরপর মেঘনা দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়। চাঁদপুরের পর এই সুবিশাল সম্মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামেই আরও প্রশস্ত হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত ধারা হয়ে চাঁদপুরের দিকে অগ্রসরমান নদীটি স্পষ্টতই মেঘনা নদী।
অতএব, উদ্দীপকে "X" চিহ্নিত নদীটি হলো মেঘনা।