অধ্যায়-১২: বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য

এসএসসি · ভূগোল ও পরিবেশ

অধ্যায়-১২: বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য - ভূগোল ও পরিবেশ বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৫টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

১.

উদ্দীপকের মানচিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:

'A' চিহ্নিত স্থানে উত্তরবঙ্গের পর্যটন স্থান কোনটি?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    বরেন্দ্র জাদুঘর
  2. সোনা মসজিদ
  3. গ
    দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি
  4. ঘ
    কান্তজি মন্দির
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ (সোনা মসজিদ)

ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের মানচিত্রে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী বিভাগ সংলগ্ন) নদীপ্রবাহ ও জেলা প্রদর্শিত হয়েছে। মানচিত্রের নিচের প্রধান নদীটি হলো পদ্মা এবং ডানপাশের নদীটি যমুনা। পদ্মা নদীর উত্তর তীরে বাংলাদেশের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থানটি হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক গৌড় অঞ্চল। এই স্থানে ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ অবস্থিত, যা উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

অন্যান্য পর্যটন স্থানগুলোর অবস্থান:
• বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: রাজশাহী জেলা সদরে অবস্থিত।
• দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি (উত্তরা গণভবন): নাটোর জেলায় অবস্থিত।
• কান্তজি মন্দির: দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় অবস্থিত।

সুতরাং, 'A' চিহ্নিত অঞ্চলের (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) বিখ্যাত পর্যটন স্থানটি হলো সোনা মসজিদ।

দৃশ্যকল্প-১: 'X' গতির কারণে পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্তকাল বিরাজ করে।
দৃশ্যকল্প-২ : 'Y' গতির কারণে পৃথিবীর এক অংশ পর্যায়ক্রমে আলোকিত হয় ও অপর অংশ অন্ধকার থাকে?
২. নদী কাকে বলে?
বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
'Y' চিহ্নিত গতির ফলাফল বর্ণনা করো।
'X' চিহ্নিত গতির কারণে ২৩ এ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে, উক্ত তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধেও কি একই ঋতু বিরাজ করবে? যুক্তিসহ মতামত দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
নির্দিষ্ট গতিপথে প্রবহমান ভূপৃষ্ঠস্থ স্রোতধারাকে নদী বলে।
(খ)

বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণগুলো হলো-পলি সঞ্চয় ও ভরাট, উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত নদী খনন না করা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলোর উজানে খরস্রোতা হলেও ভাটিতে সমতল ভূমি, যার ফলে নদীর প্রবাহ কমে যায়। ফলে প্রতিবছর পাহাড়ি পলিমাটি নদীর তলদেশে জমা হয়। এতে নাব্যতা কমে যায়। নাব্যতা কমাতে নিয়মিত নদী খনন করা হয় না। এছাড়া উজানে বাঁধ নির্মাণ করার কারণে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না তখন নদীর গভীরতা হ্রাস পায়।

(গ)

দৃশ্যকল্প-২ এ Y চিহ্নিত গতি হলো আহ্নিক গতি। নিচে আহ্নিক গতির ফলাফল বর্ণনা করা হলো-

আহ্নিক গতির ফলে দিন-রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং পেছনের অংশে রাত হয়, যা পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। আহ্নিক গতির প্রভাবে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর গতির কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুপ্রবাহ হয় এবং সমুদ্রের মধ্যে স্রোতও হয়। পৃথিবীর আবর্তন তথা আহ্নিক গতির ফলে সমুদ্রের জলরাশির প্রতিদিন নিয়মিতভাবে জোয়ার ও ভাটা হিসেবে ফুলে ওঠে ও নেমে যায়।

সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত প্রভাবগুলো আহ্নিক গতির কারণে সংঘটিত হয়। যদি আহ্নিক গতি না থাকত, তবে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকার ও অন্যদিক চিরকাল আলোয় থাকত।

(ঘ)

দৃশ্যকল্প-১ এ 'X' চিহ্নিত গতি দ্বারা বার্ষিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। এই গতির কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে অন্য ঋতু বিরাজ করে। নিচে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো-

বার্ষিক গতির কারণে ঋতুর পরিবর্তন হয়। ২১ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে। উত্তর গোলার্ধের অংশগুলো কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অংশগুলো বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে। এভাবে ২৩ এ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে। এ সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
৩. খরা কাকে বলে?
মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
'X' অঞ্চলের ভূমিরূপের গঠন বর্ণনা করো।
'Y' ও 'Z' নির্দেশিত নদী দুটির মধ্যে কোনটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
(খ)
সমুদ্রে মগ্নচড়া মূলত শীতল স্রোতের মাধ্যমে বাহিত হিমশৈল গলে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। যখন মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল স্রোত এবং উষ্ণ সমুদ্রস্রোত কোনো স্থানে মিলিত হয়, তখনই এই প্রক্রিয়া ঘটে। শীতল স্রোতের সাথে মেরু অঞ্চল থেকে বিশাল আকারের হিমশৈল বা বরফের স্তূপ ভেসে আসে। উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে শীতল স্রোতের হিমশৈলের সাথে ভেসে আসা পাথর, কাঁকর, বালি এবং কাদা ধীরে ধীরে সমুদ্রের নিচে জমে অগভীর বা উঁচু-নিচু বন্ধুর প্রকৃতির মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে।
(গ)

'X' অঞ্চল বলতে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিচে উক্ত ভূমিরূপের গঠন বর্ণনা করা হলো-

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ মূলত টারশিয়ারি যুগে (প্রায় ২ থেকে ৫ কোটি বছর) হিমালয় পর্বত উত্থানের সময় গঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলটি ময়মনসিংহের উত্তরাংশ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এগুলো প্রধানত বেলে পাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত এবং টিলা বা কম উচ্চতার পাহাড় (গড় উচ্চতা ৩০-৯০ মিটার) হিসেবে পরিচিত।

(ঘ)

'Y' ও 'Z' নির্দেশিত নদী দুটি হলো যথাক্রমে যমুনা ও কর্ণফুলী। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যমুনা নদী অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কর্ণফুলী নদী অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর; যা কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে হয়। এছাড়া কর্ণফুলীর তীরে অসংখ্য শিল্পকারখানা (তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া, কাগজ) গড়ে উঠেছে যা জিডিপিতে বড়ো ভূমিকা রাখে। আবার, কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, কর্ণফুলী নদীর মৎস্য আহরণ ও বাণিজ্যিক মৎস্য চাষের অন্যতম প্রধান উৎস। অপরদিকে, যমুনা বাংলাদেশের একটি প্রধান নৌপথ যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া যমুনা অববাহিকার পলিমাটি কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উর্বর।

সুতরাং যমুনা নদী দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কৃষি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, সরাসরি বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নের (চট্টগ্রাম বন্দর) কারণে কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
৪. মোহনা কাকে বলে?
নদী জীবনচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ের গতি কেমন? ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-২ এর ভূমিরূপটি ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-১ এর ভূমিরূপ এবং বাংলাদেশের ভূমিরূপ একই ধরনের কি না? মতামত দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
নদী যে স্থানে সাগর, মহাসাগর বা অন্য কোনো বিশাল জলাশয়ের সাথে মিলিত হয় তাকে মোহনা বলে।
(খ)

নদীর জীবনচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ে নদীর গতি অত্যন্ত ধীর বা মন্থর হয়।

এ পর্যায়ে নদীর স্রোত কমে যাওয়ার কারণে নদী আর পলি বা বালি বহন করতে পারে না, ফলে নদীগর্ভ ও মোহনায় পলি জমা হয়ে সমভূমি বা প্রায় সমভূমি গঠন করে। নদীর প্রথম পর্যায়ে ঢাল বেশি থাকায় গতিবেগ বেশি থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢাল নেই বললেই চলে। ফলে পার্শ্বক্ষয় হয় না এবং গতিবেগ কম থাকে বলে এ পর্যায়ে গতি মন্থর হয়ে থাকে।

(গ)

চিত্র-২ এর ভূমিরূপটি হলো পাদদেশীয় পলল সমভূমি। নিচে বর্ণনা করা হলো:

পাহাড়ি নদীর পাদদেশে পলি সঞ্চয় করতে করতে একটা সময় পাহাড়ের পাদদেশে নতুন বিশাল সমভূমি গড়ে তোলে। এ ধরনের সমভূমিকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলোতে হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে পাহাড় থেকে পলল বহন করে সঞ্চয়ের মাধ্যমে এরূপ পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।

(ঘ)

চিত্র-১ এর ভূমিরূপটি হলো প্লাবন সমভূমি; যা বাংলাদেশের ভূমিরূপের সাথে মিল রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে মতামত দেওয়া হলো-

বর্ষাকালে বিশেষ করে পানি বৃদ্ধির কারণে নদীর উভয়কূল প্লাবিত করে তখন তাকে প্লাবন বা বন্যা বলে। বন্যা শেষে নদীর দুপাশের ভূমিতে খুব পুরু স্তর কাদা, পলি দেখতে পাওয়া যায়। এভাবে অনেকদিন পলি জমতে জমতে যে বিস্তৃত সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ছাড়া বাকি সব জেলাই পদ্মা, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদীবিধৌত প্লাবন সমভূমির অন্তর্গত।
সুতরাং বলা যায় যে, প্লাবন সমভূমির যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা বাংলাদেশের ভূমিরূপগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

অধ্যায়-১২: বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।