দৃশ্যকল্প-২ : 'Y' গতির কারণে পৃথিবীর এক অংশ পর্যায়ক্রমে আলোকিত হয় ও অপর অংশ অন্ধকার থাকে?
বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণগুলো হলো-পলি সঞ্চয় ও ভরাট, উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত নদী খনন না করা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলোর উজানে খরস্রোতা হলেও ভাটিতে সমতল ভূমি, যার ফলে নদীর প্রবাহ কমে যায়। ফলে প্রতিবছর পাহাড়ি পলিমাটি নদীর তলদেশে জমা হয়। এতে নাব্যতা কমে যায়। নাব্যতা কমাতে নিয়মিত নদী খনন করা হয় না। এছাড়া উজানে বাঁধ নির্মাণ করার কারণে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না তখন নদীর গভীরতা হ্রাস পায়।
দৃশ্যকল্প-২ এ Y চিহ্নিত গতি হলো আহ্নিক গতি। নিচে আহ্নিক গতির ফলাফল বর্ণনা করা হলো-
আহ্নিক গতির ফলে দিন-রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং পেছনের অংশে রাত হয়, যা পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। আহ্নিক গতির প্রভাবে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর গতির কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুপ্রবাহ হয় এবং সমুদ্রের মধ্যে স্রোতও হয়। পৃথিবীর আবর্তন তথা আহ্নিক গতির ফলে সমুদ্রের জলরাশির প্রতিদিন নিয়মিতভাবে জোয়ার ও ভাটা হিসেবে ফুলে ওঠে ও নেমে যায়।
সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত প্রভাবগুলো আহ্নিক গতির কারণে সংঘটিত হয়। যদি আহ্নিক গতি না থাকত, তবে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকার ও অন্যদিক চিরকাল আলোয় থাকত।
দৃশ্যকল্প-১ এ 'X' চিহ্নিত গতি দ্বারা বার্ষিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। এই গতির কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে অন্য ঋতু বিরাজ করে। নিচে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো-
বার্ষিক গতির কারণে ঋতুর পরিবর্তন হয়। ২১ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে। উত্তর গোলার্ধের অংশগুলো কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অংশগুলো বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে। এভাবে ২৩ এ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে। এ সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।