অধ্যায়-১৪: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

এসএসসি · ভূগোল ও পরিবেশ

অধ্যায়-১৪: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ - ভূগোল ও পরিবেশ বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৭টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

দৃশ্যকল্প-১: 'X' গতির কারণে পৃথিবীতে পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্তকাল বিরাজ করে।
দৃশ্যকল্প-২ : 'Y' গতির কারণে পৃথিবীর এক অংশ পর্যায়ক্রমে আলোকিত হয় ও অপর অংশ অন্ধকার থাকে?
১. নদী কাকে বলে?
বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
'Y' চিহ্নিত গতির ফলাফল বর্ণনা করো।
'X' চিহ্নিত গতির কারণে ২৩ এ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে, উক্ত তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধেও কি একই ঋতু বিরাজ করবে? যুক্তিসহ মতামত দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
নির্দিষ্ট গতিপথে প্রবহমান ভূপৃষ্ঠস্থ স্রোতধারাকে নদী বলে।
(খ)

বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণগুলো হলো-পলি সঞ্চয় ও ভরাট, উজানে বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত নদী খনন না করা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলোর উজানে খরস্রোতা হলেও ভাটিতে সমতল ভূমি, যার ফলে নদীর প্রবাহ কমে যায়। ফলে প্রতিবছর পাহাড়ি পলিমাটি নদীর তলদেশে জমা হয়। এতে নাব্যতা কমে যায়। নাব্যতা কমাতে নিয়মিত নদী খনন করা হয় না। এছাড়া উজানে বাঁধ নির্মাণ করার কারণে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না তখন নদীর গভীরতা হ্রাস পায়।

(গ)

দৃশ্যকল্প-২ এ Y চিহ্নিত গতি হলো আহ্নিক গতি। নিচে আহ্নিক গতির ফলাফল বর্ণনা করা হলো-

আহ্নিক গতির ফলে দিন-রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী গোল হওয়ার কারণে আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং পেছনের অংশে রাত হয়, যা পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। আহ্নিক গতির প্রভাবে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর গতির কারণে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুপ্রবাহ হয় এবং সমুদ্রের মধ্যে স্রোতও হয়। পৃথিবীর আবর্তন তথা আহ্নিক গতির ফলে সমুদ্রের জলরাশির প্রতিদিন নিয়মিতভাবে জোয়ার ও ভাটা হিসেবে ফুলে ওঠে ও নেমে যায়।

সুতরাং বলা যায়, উপরিল্লিখিত প্রভাবগুলো আহ্নিক গতির কারণে সংঘটিত হয়। যদি আহ্নিক গতি না থাকত, তবে পৃথিবীর একদিক চিরকাল অন্ধকার ও অন্যদিক চিরকাল আলোয় থাকত।

(ঘ)

দৃশ্যকল্প-১ এ 'X' চিহ্নিত গতি দ্বারা বার্ষিক গতিকে বোঝানো হয়েছে। এই গতির কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে যে ঋতু বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে অন্য ঋতু বিরাজ করে। নিচে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো-

বার্ষিক গতির কারণে ঋতুর পরিবর্তন হয়। ২১ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে। উত্তর গোলার্ধের অংশগুলো কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের অংশগুলো বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে। এভাবে ২৩ এ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয়। দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে। এ সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।

উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
২. খরা কাকে বলে?
মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
'X' অঞ্চলের ভূমিরূপের গঠন বর্ণনা করো।
'Y' ও 'Z' নির্দেশিত নদী দুটির মধ্যে কোনটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
(খ)
সমুদ্রে মগ্নচড়া মূলত শীতল স্রোতের মাধ্যমে বাহিত হিমশৈল গলে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। যখন মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল স্রোত এবং উষ্ণ সমুদ্রস্রোত কোনো স্থানে মিলিত হয়, তখনই এই প্রক্রিয়া ঘটে। শীতল স্রোতের সাথে মেরু অঞ্চল থেকে বিশাল আকারের হিমশৈল বা বরফের স্তূপ ভেসে আসে। উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে শীতল স্রোতের হিমশৈলের সাথে ভেসে আসা পাথর, কাঁকর, বালি এবং কাদা ধীরে ধীরে সমুদ্রের নিচে জমে অগভীর বা উঁচু-নিচু বন্ধুর প্রকৃতির মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে।
(গ)

'X' অঞ্চল বলতে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিচে উক্ত ভূমিরূপের গঠন বর্ণনা করা হলো-

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ মূলত টারশিয়ারি যুগে (প্রায় ২ থেকে ৫ কোটি বছর) হিমালয় পর্বত উত্থানের সময় গঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলটি ময়মনসিংহের উত্তরাংশ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এগুলো প্রধানত বেলে পাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত এবং টিলা বা কম উচ্চতার পাহাড় (গড় উচ্চতা ৩০-৯০ মিটার) হিসেবে পরিচিত।

(ঘ)

'Y' ও 'Z' নির্দেশিত নদী দুটি হলো যথাক্রমে যমুনা ও কর্ণফুলী। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যমুনা নদী অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কর্ণফুলী নদী অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর; যা কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে হয়। এছাড়া কর্ণফুলীর তীরে অসংখ্য শিল্পকারখানা (তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া, কাগজ) গড়ে উঠেছে যা জিডিপিতে বড়ো ভূমিকা রাখে। আবার, কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, কর্ণফুলী নদীর মৎস্য আহরণ ও বাণিজ্যিক মৎস্য চাষের অন্যতম প্রধান উৎস। অপরদিকে, যমুনা বাংলাদেশের একটি প্রধান নৌপথ যা পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া যমুনা অববাহিকার পলিমাটি কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উর্বর।

সুতরাং যমুনা নদী দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কৃষি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে, সরাসরি বৈদেশিক বাণিজ্য ও শিল্পায়নের (চট্টগ্রাম বন্দর) কারণে কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দৃশ্যকল্প-১: আজমল নদী এলাকার বাসিন্দা। প্রতি বছর তার এলাকার বহু ঘরবাড়ি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদীগর্ভে চলে যায়।

দৃশ্যকল্প-২: তুলি ও মলি দুই বন্ধু। তুলির বসবাসরত গ্রামটিতে প্রতিবছর কৃষি জমিগুলো শুকিয়ে যায়। অপরদিকে মলির গ্রামটি প্রতিবছর প্লাবিত হয়।

৩. দুর্যোগ কাকে বলে?
বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
আজমলের এলাকায় ঘটা দুর্যোগটি কী কী কারণে ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
তুলি ও মলির গ্রামে ঘটা দুর্যোগ দুটির মধ্যে কোনটি অধিক ক্ষয়ক্ষতি করে? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কি দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সমাজ, সম্পদ এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।
(খ)
বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সারা বছর তাপমাত্রা বেশি থাকে। এর দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের একটি অংশ বঙ্গোপসাগর রয়েছে, যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য প্রধান ভূমিকা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন গভীর নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে, যা বারবার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আঘাত হানছে।
(গ)

দৃশ্যকল্প-১ এ আজমলের এলাকায় ঘটা দুর্যোগটি হলো নদী ভাঙন। উক্ত নদী ভাঙন যেসব কারণে ঘটে তা ব্যাখ্যা করা হলো-বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে স্রোতের গতিবেগ ও শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়, পানির এই তীব্র চাপ নদীর পাড়ে আঘাত হেনে ভাঙন সৃষ্টি করে। নদীর তীরের মাটি যদি আলগা ও বালুময় হয় তবে তা পানির স্রোত ধরে রাখতে পারে না, সহজেই নদীপাড় ধসে পানিতে মিশে যায়। নদী সবসময় সোজা পথে চলে না, বরং আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়, বাঁক নেওয়া অংশে পানির প্রবল ধাক্কা লাগে, যার ফলে একদিকে পাড় ক্ষয় হয়ে ভেঙে পড়ে এবং অন্য পাড়ে পলি জমে।

অতিরিক্ত বৃষ্টি পাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নামে বা নদীর পানি দ্রুত বাড়ে, যা নদীর স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে তীরবর্তী অঞ্চলকে প্লাবিত একরে এবং নদীভাঙন হয়।

(ঘ)

দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত তুলি ও মালর গ্রাম দুটিতে যে দুটি দুর্যোগ হয় তা হলো যথাক্রমে খরা ও বন্যা। উক্ত দুটি দুর্যোগই কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। বৈশ্বিক জলবায়ু গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ও সামগ্রিক ভাবে খরা অধিক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে থাকে। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

খরা দীর্ঘ সময় ধরে মাটির আর্দ্রতা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমিয়ে দেয়। ফলে ফসল ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়, যাকে নীরব ঘাতক বলে। অপরদিকে বন্যা সাধারণত নির্দিষ্ট নদী অববাহিকা বা প্লাবন ভূমিতে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু খরা বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল বা পুরো দেশজুড়ে আঘাত হানতে পারে, যার ফলে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য। উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

সুতরাং বলা যায়, স্থায়ি ভাবে আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান এবং তাৎক্ষণিক। তবে সামগ্রিক অর্থনীতি, বার্ষিক মোট উৎপাদন হ্রাস এবং মাটি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করলে খরা তুলনামূলকভাবে অধিক এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে থাকে।

দৃশ্যকল্প-১: রাহসা ও মৃদুল মায়ের সাথে রান্নাঘরে কাজ করছিল। তার মা চুলার কয়লা দেখিয়ে বললেন, দেখ এগুলো এক প্রকার শিলা।

দৃশ্যকল্প-২: রোহান দুর্যোগের উপর নির্মিত একটি প্রতিবেদনে দেখল, একটি দ্বীপের ভূত্বক ফেটে উত্তপ্ত পদার্থ বের হচ্ছে। আবার সাগরের তলদেশে সংঘটিত ভূমিকম্পে জলরাশি ফুলে উঠে স্থল ভাগে প্রবেশ করছে এবং মারাত্মক দুর্যোগ সৃষ্টি করছে।

৪. শিলা কাকে বলে?
সিন্ধু নদের গিরিখাত কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
রাইসা ও মৃদুলের মায়ের দেখানো বস্তুটি কোন প্রকারের শিলা? ব্যাখ্যা করো।
রোহানের দেখা দুর্যোগ দুটির মধ্যে কোনটি অধিক ক্ষতিকর? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক খনিজের কঠিন মিশ্রণ হলো শিলা।
(খ)

সিন্ধু নদীর গিরিখাতটি পূর্ববর্তী নদী, ভূআন্দোলন এবং প্রবল ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল।

হিমালয় ও কারা কোরাম পর্বতমালা সৃষ্টির আগে থেকেই সিন্ধু নদী তিব্বতের মানস সরোবর এলাকার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হতে।। এছাড়া প্লেটে প্লেটে সংঘর্ষের ফলে হিমালয় ও তৎসংলগ্ন পর্বতমালা ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠতে শুরু করে, তখন সিন্ধু নদ তার নিজস্ব প্রবাহপথ বজায় রাখে। সর্বোপরি পর্বত থেকে বাহিত জলের সাথে পাথর, বালি ও কাঁকর প্রবলবেগে নদীর তলদেশে ঘষা লেগে নিচের দিকে বিশাল গিরিখাত সৃষ্টি করে।

(গ)

দৃশ্যকল্প-১ এ রাইসা ও মৃদুলের মায়ের দেখানো বস্তুটি জৈব পাললিক শিলা। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

কোটি কোটি বছর আগে ভূগর্ভে চাপা পড়া মৃত গাছপালা ও উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ তীব্র তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে এই শক্ত, দাহ্য পাললিক শিলায় পরিণত হয়। বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয় প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়। ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হয়ে থাকে। পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূগর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়। জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লাকে জৈব পাললিক শিলা বলা হয়। পাললিক শিলার মধ্যে নানা প্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়। এ শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

(ঘ)

দৃশ্যকল্প-২ এ রোহানের দেখা দুর্যোগ দুটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামি। উক্ত দুর্যোগ দুটিই অত্যন্ত বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার দিক থেকে সুনামি তুলনামূলক ভাবে বেশি আকস্মিক, বিস্তৃত ও তাৎক্ষণিক প্রাণঘাতী। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

সমুদ্রের তলদেশে শক্তি শালী ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে বিশাল ও বিধ্বংসী ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বিশাল জলরাশি উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বেগে আঘাত হানে। পুরো শহর, গ্রাম, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নিমিষেই পানির নিচে তলিয়ে যায় বা ভেসে যায়। এর প্রভাব শুধু উপকূলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, শত শত মাইল দূরে অন্য দেশেও আঘাত হানতে পারে। এটি উপকূলের মাটি ও ফসল নষ্ট করে দেয়।

অপরদিকে, পৃথিবীপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের গলিত লাভা, ছাই, গ্যাস ও পাথর বাইরে বেরিয়ে আসে। এর লাভা প্রবাহের কারণে আশপাশের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাতাসে নির্গত গ্যাস বিষাক্ত যা শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটায়। এর প্রভাব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে বেশি ধ্বংসাত্মক হয়।সুতরাং বলা যায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের চেয়ে সুনামি অধিক ক্ষতিকর ও ভয়ংকর। কারণ সুনামি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশাল এলাকা জুড়ে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের বাঁচার সুযোগ কম থাকে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো সুনামি উপকূলে আঘাত করে বলে ঐ এলাকার বিশাল অঞ্চলের কৃষি জমি, উদ্ভিদকুল, প্রাণিকুল ও মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।

অধ্যায়-১৪: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।