অধ্যায়-৬: বারিমণ্ডল

এসএসসি · ভূগোল ও পরিবেশ

অধ্যায়-৬: বারিমণ্ডল - ভূগোল ও পরিবেশ বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

২টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

ঘটনা-১ : রাফিয়া সমুদ্রসৈকতে গিয়ে দেখল, ভূমি নিচু হয়ে প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে।
ঘটনা-২: রাশেদ প্রতিদিন সাগরে মাছ ধরতে যায়। সে প্রত্যক্ষ করে, সাগরের পানি দিনের এক সময় বেড়ে যায় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঐ পানি আবার নেমে যায়।
১. শীতকাল কাকে বলে?
কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য-ব্যাখ্যা করো।
ঘটনা-১ এর ভূমিরূপটির বর্ণনা দাও।
ঘটনা-২ এর বিষয়টি মানবজীবনে কীরূপ প্রভাববিস্তার করে? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
(খ)
গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যার শুরুতে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ সময়ে দক্ষিণ দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর মিলনে এ ধরনের অস্থিতিশীল আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই ঝড় আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
(গ)

এ ঘটনা-১ এর ভূমিরূপটি হলো মহীসোপান। নিচে উক্ত ভূমিরূপ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এ ভূমিরূপটির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার ওপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

(ঘ)

ঘটনা-২ এর বিষয়টি হলো জোয়ারভাটা। উক্ত ঘটনা মানবজীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাববিস্তার করে।

জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে বর্জ্য পদার্থসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। দৈনিক দুবার জোয়ারভাটা হওয়ার গলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়। জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে লবণ উৎপাদন করা হয়। সর্বোপরি বলা যায়, জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পার্নি অধিক হয় বলে বড়ো বড়ো সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়।

উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
২. বারিমণ্ডল কাকে বলে?
দক্ষিণ আমেরিকার আতাকামা মরুভূমি শীতল কেন? ব্যাখ্যা করো।
চিত্রের 'A' দ্বারা চিহ্নিত ভূমিরূপটির বর্ণনা দাও।
চিত্রের 'B' ও 'C' ভূমিরূপ দুটির কোনটিতে আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত পরিলক্ষিত হয়? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থান ভিত্তিক বিস্তরণকে বারিমণ্ডল বলে।
(খ)

দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল দিয়ে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল থেকে আগত শীতল পেরু বা হামবোল্ট স্রোত উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। এই শীতল স্রোত আতাকামা মরুভূমির উপকূলীয় বায়ুকে ঠান্ডা করে এবং বাষ্পীভবন কমিয়ে দেয়।

ফলে ক্রান্তীয় অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও আতাকামার উপকূলীয় অঞ্চল তুলনামূলক শীতল থাকে। আন্দিজ পর্বতমালার বৃষ্টিচ্ছায়া এবং উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চলটির শুষ্কতা বাড়ায়, কিন্তু শীতলতার প্রধান কারণ হামবোল্ট স্রোত।

(গ)

চিত্রে 'A' দ্বারা চিহ্নিত ভূমিরূপ হলো গভীর সমুদ্রখাত। নিচে এ ভূমিরূপের বর্ণনা দেওয়া হলো-

সমুদ্র তলদেশের 'A' চিহ্নিত ভূমিরূপটি গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এসকল খাতকে গভীর সমুদ্র খাত বলে।

মহাসাগরের তলদেশে কোথাও কোথাও গভীর খাত দেখা যায়। পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে সমুদ্র খাত প্লেট সীমানায় অবস্থিত। এ প্লেট সীমায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসকল খাত সৃষ্টি হয়েছে। এ খাত গুলো অধিক প্রশস্ত না হলেও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। পৃথিবীর গভীর সমুদ্রখাত হলো ম্যারিয়ানা খাত এর গভীরতা ১০৯৬০ মি.।

(ঘ)

চিত্রের 'B' বলতে মহীসোপান এবং 'C' বলতে মহীঢালকে বোঝানো হয়েছে। উক্ত ছোটো ভূমিরূপের মধ্যে মহীঢালে আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত পরিলক্ষিত হয়। নিচে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত মহীঢাল অঞ্চলে আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত গঠিত হয় এবং গভীরভাবে অবস্থান করে। গিরিখাত মহীঢালের একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য। ঢাল থাকার কারণে পানির তীব্র স্রোত এবং তলদেশের ভূমিধসের কারণে পাথর ও পলি অপসারিত হয়ে বিশাল আকৃতির (V-Shape) গিরিখাত তৈরি হয়। যদিও কিছু গিরি খাতের মাথা মহীসোপানের ভেতর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু মূল দীর্ঘতম অংশটি মহীঢাল বা তার পাদদেশে অবস্থিত। অন্যদিকে, মহীসোপানের ঢাল কম হওয়ায় গিরিখাত তেমন পরিলক্ষিত হয় না।

সুতরাং, মহীঢাল ও মহীসোপানের মধ্য ভূ-ভাগের মধ্যে মহীঢালে আন্তঃসাগরীয় গিরিখাত অধিক পরিলক্ষিত হয়।

অধ্যায়-৬: বারিমণ্ডল আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।