ঘটনা-২: রাশেদ প্রতিদিন সাগরে মাছ ধরতে যায়। সে প্রত্যক্ষ করে, সাগরের পানি দিনের এক সময় বেড়ে যায় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঐ পানি আবার নেমে যায়।
এ ঘটনা-১ এর ভূমিরূপটি হলো মহীসোপান। নিচে উক্ত ভূমিরূপ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। এ ভূমিরূপটির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে। এর বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়। উপকূলভাগের বন্ধুরতার ওপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে। উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়। মহাদেশের উপকূলে পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।
ঘটনা-২ এর বিষয়টি হলো জোয়ারভাটা। উক্ত ঘটনা মানবজীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাববিস্তার করে।
জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড থেকে বর্জ্য পদার্থসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। দৈনিক দুবার জোয়ারভাটা হওয়ার গলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়। জোয়ারভাটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলে লবণ উৎপাদন করা হয়। সর্বোপরি বলা যায়, জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় ও তার অভ্যন্তরে পার্নি অধিক হয় বলে বড়ো বড়ো সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীতে প্রবেশ করা সুবিধা হয়।