দৃশ্যকল্প-২: পৃথিবীর ভূমিরূপ, মৃত্তিকা, প্রাণিজগৎ, জলবায়ু ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-৩: জনসংখ্যা, নগর পরিবেশ ও রাজনৈতিক বিবর্তন এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত বিষয় (মাটি, পানি, বায়ু, পশুপাখি) যা প্রাকৃতিক পরিবেশকে নির্দেশ করে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রাকৃতিক পরিবেশ হলো প্রকৃতির নিজস্ব সৃষ্ট উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু, গাছপালা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত সামগ্রিক অবস্থা, যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। এটি জৈব ও অজৈব উপাদানের মিথস্ক্রিয়ায় গঠিত, যা মানুষের বেঁচে থাকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। এটি প্রকৃতিতে নিজে নিজেই তৈরি হয়, মানুষ এটি তৈরি করে না।
এ দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা প্রাকৃতিক ভূগোল ও দৃশ্যকল্প-৩ দ্বারা মানবিক ভূগোলকে বোঝানো হয়েছে। দুটি ভূগোল ভিন্ন রকম। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক ভূগোল মূলত প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর ভৌত পরিবেশ যেমন- ভূমি, জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও পানি (অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল) নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, মানবিক ভূগোল মানুষের তৈরি এবং মানুষের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর মানুষের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং বলা যায়, যদিও তারা ভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে, তবুও তারা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে তেমনি মানুষও তার প্রয়োজনে প্রাকৃতিক পরিবেশকে পরিবর্তন করে।