ব্রহ্মবিদ্যা গুহ্যতম বিদ্যা যা মানুষের জন্ম-মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনায় ভরপুর। জন্ম আর মৃত্যু মানুষের নিকট এক বিরাট রহস্য।
তাই উপনিষদকে রহস্য বিদ্যাও বলা হয়।
মনুসংহিতায় বেদ, স্মৃতি, সদাচার এবং বিবেকের বাণী এই চারটিকে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বলা হয়। বেদে বিশ্বাস রেখে স্মৃতিশাস্ত্রের অনুশাসন মেনে এবং মহাপুরুষের আচরিত কার্যক্রম তথা সদাচার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনে চলতে হয়। আর এতেও সমস্যার সমাধান না হলে তখন নিজের বিবেকের দ্বারা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মনুসংহিতায় ধর্মের আরও দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় দিয়ে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পায়। যা ধর্মের বিপরীত তাই অধর্ম।
উদ্দীপকে শিক্ষক বিমল বাবু ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মের লক্ষণসমূহের দ্বারা ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন যা ধর্মের এই লক্ষণগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, বিমল বাবু ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য এ সকল লক্ষণসমূহের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন।
উদ্দীপকের রহিত পিতার আদেশ পালনের জন্য পাঠ্যপুস্তকের মূ ল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে রামায়ণের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে রামায়ণের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রামায়ণে বর্ণিত রাজা দশরথের সত্যরক্ষা করতে রামের রাজত্ব ত্যাগ ও কর্তব্যবোধের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি রামের সাথে সীতা ও লক্ষণের বনবাসে যাওয়া প্রতিপ্রেমের পরাকাষ্ঠা ও ভ্রাতৃপ্রেমের জ্বলন্ত উদাহরণ। এমনকি ভরত নিজে রাজা না হয়ে রামের পাদুকা সিংহাসনে রেখে রাজ্য পরিচালনার বিষয়টিও ধর্মবোধ ও ভ্রাতৃপ্রেমের প্রকাশ। এসব বিষয় থেকে আমরা পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্যবোধ, ভ্রাতৃপ্রেম, পতিপ্রেমের পরাকাষ্ঠার শিক্ষা লাভ করা যায়। রামায়ণে বলা হয়েছে, রাম একজন আদর্শ রাজা। তাঁর রাজত্বে কেউ যেনো কোনো দুঃখ ভোগ না করে এ ব্যাপারে তিনি সর্বদা সচেতন ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী সীতাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য তিনি সীতাকে ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর এই দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা রাজার কর্তব্যবোধ সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করে থাকি।
আলোচনা শেষে বলা যায়, রামায়ণ হিন্দুধর্মের একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মগ্রন্থ। এখানে রামচন্দ্রের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র জীবন বর্ণিত আছে। এই কাহিনিতে রামচন্দ্রের ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ, সংযম, ধর্মনিষ্ঠা, প্রজাপ্রীতি, গুরুভক্তি ইত্যাদি ফুঠে উঠেছে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে রামায়ণের এসব কাহিনির শিক্ষা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।