অধ্যায়-২: হিন্দুধর্মের বিশ্বাস, উৎপত্তি ও বিকাশ

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-২: হিন্দুধর্মের বিশ্বাস, উৎপত্তি ও বিকাশ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৪টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

শিক্ষক বিমল বাবু দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেন। সেখানে মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মের লক্ষণসমূহের দ্বারা ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য ভালোভাবে বুঝিয়ে শ্রেণিপাঠ সমাপ্ত করেন। অপরদিকে রহিত ছিল ন্যায়পরায়ণ। সে পিতাকে খুবই ভালোবাসত। পিতার সকল আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করত। অন্যের সুখের জন্য নিজের প্রাণপ্রিয় কোনো কিছুকে ত্যাগ করতে দ্বিধাবোধ করতো না।
১. ঋষি আরুণির পুত্রের নাম কী?
উপনিষদ কে রহস্যবিদ্যা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
শিক্ষক বিমল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য যে লক্ষণসমূহের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের রহিত পিতার আদেশ পালনের জন্য পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনের যে কাহিনি বর্ণিত আছে তার শিক্ষা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
ঋষি আরুণির পুত্রের নাম শ্বেতকেতু।
(খ)
ব্রহ্মকে নিয়ে উপনিষদ গ্রন্থে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ব্রহ্মবিদ্যা গুহ্যতম বিদ্যা যা মানুষের জন্ম-মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনায় ভরপুর। জন্ম আর মৃত্যু মানুষের নিকট এক বিরাট রহস্য।
তাই উপনিষদকে রহস্য বিদ্যাও বলা হয়।
(গ)
শিক্ষক বিমল বাবু হিন্দুধর্ম ক্লাসে ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য কিছু লক্ষণসমূহের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন।
মনুসংহিতায় বেদ, স্মৃতি, সদাচার এবং বিবেকের বাণী এই চারটিকে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বলা হয়। বেদে বিশ্বাস রেখে স্মৃতিশাস্ত্রের অনুশাসন মেনে এবং মহাপুরুষের আচরিত কার্যক্রম তথা সদাচার থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনে চলতে হয়। আর এতেও সমস্যার সমাধান না হলে তখন নিজের বিবেকের দ্বারা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মনুসংহিতায় ধর্মের আরও দশটি বাহ্য লক্ষণের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয় দিয়ে ধর্মের স্বরূপ প্রকাশ পায়। যা ধর্মের বিপরীত তাই অধর্ম।
উদ্দীপকে শিক্ষক বিমল বাবু ধর্ম ও অধর্ম সম্পর্কে মনুসংহিতায় বর্ণিত ধর্মের লক্ষণসমূহের দ্বারা ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন যা ধর্মের এই লক্ষণগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, বিমল বাবু ধর্ম ও অধর্মের পার্থক্য এ সকল লক্ষণসমূহের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন।
(ঘ)

উদ্দীপকের রহিত পিতার আদেশ পালনের জন্য পাঠ্যপুস্তকের মূ ল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে রামায়ণের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে রামায়ণের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রামায়ণে বর্ণিত রাজা দশরথের সত্যরক্ষা করতে রামের রাজত্ব ত্যাগ ও কর্তব্যবোধের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি রামের সাথে সীতা ও লক্ষণের বনবাসে যাওয়া প্রতিপ্রেমের পরাকাষ্ঠা ও ভ্রাতৃপ্রেমের জ্বলন্ত উদাহরণ। এমনকি ভরত নিজে রাজা না হয়ে রামের পাদুকা সিংহাসনে রেখে রাজ্য পরিচালনার বিষয়টিও ধর্মবোধ ও ভ্রাতৃপ্রেমের প্রকাশ। এসব বিষয় থেকে আমরা পিতার প্রতি পুত্রের কর্তব্যবোধ, ভ্রাতৃপ্রেম, পতিপ্রেমের পরাকাষ্ঠার শিক্ষা লাভ করা যায়। রামায়ণে বলা হয়েছে, রাম একজন আদর্শ রাজা। তাঁর রাজত্বে কেউ যেনো কোনো দুঃখ ভোগ না করে এ ব্যাপারে তিনি সর্বদা সচেতন ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী সীতাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য তিনি সীতাকে ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেননি। তাঁর এই দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা রাজার কর্তব্যবোধ সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করে থাকি।

আলোচনা শেষে বলা যায়, রামায়ণ হিন্দুধর্মের একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মগ্রন্থ। এখানে রামচন্দ্রের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমগ্র জীবন বর্ণিত আছে। এই কাহিনিতে রামচন্দ্রের ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ, সংযম, ধর্মনিষ্ঠা, প্রজাপ্রীতি, গুরুভক্তি ইত্যাদি ফুঠে উঠেছে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গঠনে রামায়ণের এসব কাহিনির শিক্ষা অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

দীপক বিয়ের এক অনুষ্ঠানে লক্ষ করল বর ও কনে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে মনের সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি-মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দিল। তারা দেবপুরোহিত অগ্নিকে পরপর সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করল। দীপকের বন্ধু হৃদয় লক্ষ করল বর পূর্বমুখী আর কনে পশ্চিমমুখী হয়ে বসে আছে। সেখানে কনের পিতা উত্তরমুখী হয়ে বসে দেবতাদের নাম উচ্চারণ করে একটি পর্ব সম্পাদন করছেন।
২. সমাবর্তন কাকে বলে?
বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
দীপক বিয়ের কোন পর্বটি লক্ষ করেছিল? বর্ণনা করো।
হৃদয় যে পর্বটি লক্ষ করেছে সেটিকে বিয়ের মূল পর্ব বলা যায় কি? পাঠ্যের আলোকে যুক্তি দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুগৃহের পাঠ শেষে গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশের উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।
(খ)
বিবাহের দিন কিংবা আগের দিন বর ও কনে উভয়পক্ষই নিজ নিজ ঘরে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আশীর্বাদ কামনা করেন। উভয়কুলের পৃিতপুরুষদের প্রতি এই শ্রাদ্ধতর্পণ করাকে বলা হয় বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ।
(গ)
দীপক বিয়ের যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা পর্বটি লক্ষ করেছিল। সম্প্রদান পর্বের পরে সেখানে বর্গাকার যজ্ঞক্ষেত্র তৈরি করা হয়। বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে মনের অহংকার, মান-অভিমান, হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণাসহ সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি-মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দিতে হয়। এরপর দেবপুরোহিত অগ্নিকে পর পর সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করতে হয়। এভাবেই সাতপাকে বেঁধে নবদম্পতি বিশুদ্ধ নব-জীবন লাভ করে। এই যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে অগ্নিদেবের কাছে বর-কনে আমৃত্যু বাঁধা হয়ে থাকে। অনেক স্থানে কলাগাছ বেষ্টিত বিবাহ আসরে বর কনেকে সাতবার ঘোরানো হয়। বর সম্মুখে কনে তার পিছনে। বর তার বাঁ হাত দিয়ে কনের ডান হাত ধরে বিবাহ আসরের চারদিকে সাতবার ঘোরে। এর পাশাপাশি দুজনের কাপড়ের কোণা একত্র করে একটা গিঁটও দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দীপক বিয়ের এক অনুষ্ঠানে লক্ষ করল বর ও কনে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে মনের সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি-মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দিল। তারা দেবপুরোহিত অগ্নিকে পরপর সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করল। এসব কর্মকাণ্ড বিয়ের যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা পর্বের সাথে মিল রয়েছে।
(ঘ)
হ্যাঁ, হৃদয় যে পর্বটি লক্ষ করেছে সেটিকে বিয়ের মূল পর্ব বলা যায়।
উদ্দীপকে হৃদয় লক্ষ করল বর পূর্বমুখী আর কনে পশ্চিমমুখী হয়ে বসে আছে। সেখানে কনের পিতা উত্তরমুখী হয়ে বসে দেবতাদের নাম উচ্চারণ করে একটি পর্ব সম্পাদন করেছেন। এটিই বিবাহের সম্প্রদান পর্ব।
বিবাহ অনুষ্ঠানের অনেক পর্ব আছে। যেমন- আশীর্বাদ, অধিবাস, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ, গায়ে হলুদ (পাত্র হরিদ্র), বর-বরণ, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সম্প্রদান, যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা, সিঁথিতে বিবাহ চিহ্ন, সপ্তপদীগমন, বাসি বিয়ে, অষ্টমঙ্গলা প্রভৃতি। এর মধ্যে কিছু পর্ব শাস্ত্রীয়, আর কিছু অঞ্চলভেদে লোকাচার। বিবাহের মূল পর্বই হচ্ছে সম্প্রদানপর্ব। বিবাহের নির্দিষ্ট পোশাক পরে বর-কনেকে বিয়ের পিঁড়িতে মুখোমুখী বসতে হয়। বর পূর্বমুখী আর কনে পশ্চিমমুখী হয়ে বসে। যিনি কন্যা সম্প্রদান করবেন তিনি উত্তরমুখী হয়ে বসেন। পুত্তলি অঙ্কিত, আম্রপল্লবে সুশোভিত, গঙ্গাজলপূর্ণ একটা ঘটের উপর বরের চিৎ করা ডান হাতের উপর কনের ডান হাত রাখা হয়। তার উপর লাল গামছায় বাঁধা পাঁচটি ফল কুশপত্র আর ফুলের মালা দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়। সম্প্রদানকর্তা দেবতাদের নাম উচ্চারণ করে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে কন্যা সম্প্রদান করেন।
সুতরাং বলা যায়, হৃদয়ের দেখা সম্প্রদান পর্বটিই বিবাহের মূল পর্ব।
নিষ্কৃতিদের বাড়ীতে এক বিশেষ দেবীর পূজার আয়োজন করা হয়। যাঁর গায়ের রং সোনালী হলুদ। যিনি দশদিক থেকে সকল অন্যায়-অকল্যাণ দূর করে আমাদের রক্ষা করেন। তিনি অসীম শক্তি ও গুণের প্রতীক। অন্যদিকে নবনীতাদের বাড়ীতে কখনো কোন পূজার আয়োজন করে না। তারা বাড়ীতে হোমানল প্রজ্বলন করে বেদমন্ত্রের মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করে মঙ্গল কামনা করে।
৩. পারিবারিক পূজা কাকে বলে?
পুরোহিত বলতে কী বোঝায়?
নবনীতাদের বাড়ীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোন শ্রেণির দেবতাদের আহ্বান করা হয়? বর্ণনা কর।
নিষ্কৃতিদের বাড়ীতে আয়োজিত পূজার প্রভাব পাঠ্যের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(খ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(গ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(ঘ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
অসিত বাবু ও প্রিয়ম বাবু দুই ভাই, অসিত বাবু নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন আদর্শ জীবন গঠন, নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হওয়ার জন্য ধর্মগ্রন্থ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রিয়ম বাবু ছিল দস্যু প্রকৃতির। তিনি প্রতিনিয়ত পথিকদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছেড়ে দিতেন। একদিন ঐ পথে একজন সাধু যাওয়ার সময় যখন একই পন্থা অবলম্বন করলেন তখন সাধুটি জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি যে এই পাপ কাজ করছ তোমার পরিবার এই পাপ কাজের দায়ভার গ্রহণ করবে?"
৪. রহস্যবিদ্যা কাকে বলে?
'বেদ অখিলধর্মমূলম্'- কথাটি অর্থ ব্যাখ্যা করো।
অসিত বাবুর জীবনে ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে নৈতিকতা গঠন সম্ভব- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে প্রিয়মবাবুর পাপ কাজের দায়ভার তার পরিবার নিবে কী? উত্তরের সপক্ষে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে যুক্তি দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(খ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(গ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত
(ঘ)
শর্ট সিলেবাস বহির্ভূত

অধ্যায়-২: হিন্দুধর্মের বিশ্বাস, উৎপত্তি ও বিকাশ আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।