অধ্যায়-৩: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৩: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১৬টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
১. নবান্ন কাকে বলে?
বাংলা মাসের শেষ দিনকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-১ এর বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-২ এর অনুষ্ঠানটির পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
হেমন্তকালে অগ্রহায়ণ মাসে নতুন আমন ধানের চাল দিয়ে তৈরি ক্ষীর, পায়েস, ভাত ও নানা রকম পিঠাপুলি পরিবেশন করে যে মাঙ্গলিক উৎসব পালন করা হয়, তাকে নবান্ন উৎসব বলে।
(খ)

বাংলা মাসের শেষ দিনকে বলা হয় ‘সংক্রান্তি’।

সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন বা সঞ্চারকে সংক্রান্তি বলে। বছরে মোট বারোটি সংক্রান্তি রয়েছে, যার প্রতিটিতেই বিশেষ ধর্মাচার বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে পৌষ মাসের শেষ দিনে ‘পৌষ সংক্রান্তি’ (বা মকর সংক্রান্তি) এবং চৈত্র মাসের শেষ দিনে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন ধানের পিঠাপুলি তৈরি করা হয় এবং চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ষবিদায়ের চড়কপূজা, শিবের গাজন ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পুরান ঢাকা ও বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রান্তি উৎসবটি ‘সাকরাইন’ নামেও বিশেষভাবে পরিচিত।

(গ)

উদ্দীপকের চিত্র ১-এ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী ধর্মানুষ্ঠান রথযাত্রা প্রদর্শিত হয়েছে।

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে রথযাত্রা উৎসবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১. সময়কাল ও তিথি: প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়।
২. অধিষ্ঠিত দেব-দেবী: সুসজ্জিত চাকাযুক্ত কাঠের তৈরি রথে তিনজন দেব-দেবী—ভগবান জগন্নাথ (বিষ্ণুর অবতার), তাঁর অগ্রজ বলরাম (বা বলভদ্র) এবং কনিষ্ঠা ভগিনী সুভদ্রা অধিষ্ঠিত থাকেন।
৩. উৎসবের রীতি: ভক্তগণ ভক্তিভরে রশির সাহায্যে রথ টেনে এক দেবালয় বা মন্দির থেকে অন্য একটি নির্দিষ্ট দেবালয় বা গুণ্ডিচা মন্দিরে (মাসির বাড়ি) নিয়ে যান। সেখানে সাত দিন দেব-দেবী অবস্থান করার পর নবম দিনে অর্থাৎ আষাঢ় মাসের শুক্লা একাদশীর তিথিতে পুনরায় রথ টেনে পূর্বের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়, যাকে ‘পুনর্যাত্রা’ বা ‘উল্টোরথ’ বলা হয়।
৪. ধর্মীয় মাহাত্ম্য: সনাতন শাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয় যে, রথের ওপর জগন্নাথ দেবকে দর্শন করলে এবং ভক্তিভরে রথের পবিত্র রশি স্পর্শ বা টানলে পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে মুক্তি ও মোক্ষ লাভ হয়। এই রথযাত্রা উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কীর্তন ও আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মেলবন্ধন সৃষ্টি করে।

(ঘ)

উদ্দীপকের চিত্র ২-এ প্রদর্শিত অনুষ্ঠানটি হলো সনাতন ধর্মের ভক্তিমূলক আরাধনার এক বিশেষ আয়োজন নামযজ্ঞ (বা নামসংকীর্তন / অষ্টপ্রহর নামযজ্ঞ)। এই অনুষ্ঠানটির পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্ব অপরিসীম।

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নামযজ্ঞের পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. ভগবান শ্রীহরির নাম সংকীর্তন ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা: নামযজ্ঞে সুর, তাল, ছন্দ ও বাদ্যযন্ত্রের (খোল, করতাল) সহযোগে সম্মিলিত কণ্ঠে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বা শ্রীরামচন্দ্রের নাম এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করা হয়। শাস্ত্র মতে, কলিযুগে হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে জীবের সকল পাপ ও পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে পরম শান্তি ও পুণ্য লাভ হয়।

২. পারিবারিক পরিমণ্ডলে শান্তি ও ভক্তির বিকাশ: পারিবারিক পর্যায়ে নামযজ্ঞের আয়োজন করলে গৃহকোণ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পবিত্র হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধর্মীয় অনুরাগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিনয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়। তিন ঘণ্টায় এক প্রহর হিসেবে স্থান ও আয়োজনের পরিধিভেদে এটি কয়েক প্রহরব্যাপী (যেমন একপ্রহর, চারপ্রহর বা অষ্টপ্রহর অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

৩. সামাজিক মেলবন্ধন ও সংহতি: নামযজ্ঞ কেবল নির্দিষ্ট পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সর্বজনীন এক মহা মিলনোৎসবে পরিণত হয়। দূরদূরান্ত থেকে শত শত ভক্ত, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

৪. সামাজিক সাম্য ও শ্রেণিভেদ দূরীকরণ: নামযজ্ঞে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় বা জাতপাতের কোনো ভেদাভেদ থাকে না। সকলে একাসনে বসে হরিনাম শ্রবণ করেন এবং একসাথে প্রসাদ গ্রহণ করেন। এটি সমাজে শ্রেণিগত বৈষম্য দূর করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদার করে।

৫. নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ: নামযজ্ঞের মতো ধর্মীয় উৎসব মানুষের মনকে অহংকার, পরশ্রীকাতরতা ও ক্রোধমুক্ত করে বিনয়ী, সহানুভূতিশীল ও সংযমী হতে উদ্বুদ্ধ করে, যা একটি শান্তিময় আদর্শ সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র ২-এ প্রদর্শিত নামযজ্ঞ সনাতন ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে এবং সামাজিক ঐক্য, সাম্য ও সম্প্রীতি রক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিমল বাবু পরলোকগমন করলে জ্যেষ্ঠ পুত্র ইন্দ্রজিৎ হিন্দুধর্মের বিধান অনুযায়ী সৎকার এবং অশৌচ পালন শেষে আদ্যশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন। বিমলবাবুর পরলোকগত আত্মার সকল কর্ম তাঁর পুত্র ইন্দ্রজিৎ শ্রদ্ধা ও ভক্তিসহকারে পালন করেন।
২. আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণনাম কী?
বিবাহে শুভদৃষ্টি ও যজ্ঞানুষ্ঠান করা হয় কেন?
বিমলবাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল তা আলোচনা কর।
বিমলবাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণনাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ।
(খ)
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির শুভক্ষণে ঈশ্বরের যে শুভদৃষ্টি নিপতিত হয়েছিল তা হিন্দু বিবাহে আজও প্রচলিত। একটি বিশেষ মুহূর্তে একজন আরেক জনের দিকে তাকিয়ে কয়েক মুহূর্ত দৃষ্টি বিনিময় করে এবং মনে মনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ কামনা করে। আর যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বেদমন্ত্র উচ্চারণপূর্বক দুজনের মনের অহংকার, মান-অভিমান, হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণাসহ সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দেওয়া হয়। এ যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে অগ্নিদেবের কাছে বর-কনে আমৃত্যু বাধা হয়ে থাকে। তাই হিন্দুদের বিয়েতে শুভদৃষ্টি ও যজ্ঞানুষ্ঠান করা হয়।
(গ)
বিমল বাবুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শাস্ত্রীয় বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছিল।
শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেয়া হয়েছে। এ সৎকারই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নামে পরিচিত। মৃত্যুর পর দেহটিকে বস্ত্রাবৃত ও মালা চন্দনাদি বিভূষিত করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃতদেহের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে তাকে কুশের উপর শয়ন করানো হয়। দাহাধিকারী স্নান করে এসে মৃতদেহের গায়ে তেল ও কাঁচা হলুদ মেখে তাকে স্নান করান।
স্নানের পরে মৃতদেহকে নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দিতে হয়। এরপর দুই চোখ, দুই কান, নাকের দুই ছিদ্র ও মুখ এই সপ্তছিদ্র স্বর্ণ বা কাঁসা দ্বারা আচ্ছাদন করতে হয়। তারপর পিণ্ডদান করতে হয়। এরপর আমকাঠ বা চন্দনকাঠ দিয়ে চিতা সাজানো হয়। তারপর শবকে চিতায় শয়ন করানো হয়।
তারপর যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কাঠ দিয়ে সহজে দাহকার্য সম্পন্ন করে।
(ঘ)
“যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ”- সৌগত রায়ের উক্তিটি যথার্থ।
যৌতুক প্রথা বহুকাল ধরে সমাজে প্রচলিত রয়েছে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রথার ফলে অনেক পরিবারের সুখ-শান্তি চিরতরে হারিয়ে যায়।
যৌতুক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে এখনও অনেক পরিবারে নারীদের ওপর চালানো হয় বিভিন্ন নিপীড়ন ও মানসিক নির্যাতন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে কন্যাকে পাত্রস্থ করতে চাইলে কনের বাবাকে পাত্রের বাবার সকল চাহিদা মেটাতে হয়। পণের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময় কনের বাবা তার সর্বস্ব বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। বিয়ের পরও এ প্রথার অবসান হয় না। বরং বিয়ের পরও বউকে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অর্থ-সম্পদ আনতে বাধ্য করা হয়। যৌতুকের জন্য বউয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়ে থাকে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এ পণপ্রথা নিন্দনীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যৌতুক প্রথা এক ধরনের সামাজিক সমস্যা। তাই এ সমস্যা নির্মূলের জন্য প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সামাজিক প্রতিরোধ এবং নারীকে শিক্ষিত ও সচেতন করে যথাযোগ্য মর্যাদা দান।
পার্থ বাবু একজন ধার্মিক ব্যক্তি। কোনো সমস্যায় পড়লেই তিনি হিন্দুধর্মের প্রাচীন গ্রন্থের জ্ঞানের আলোকে সমাধান করার চেষ্টা করেন। তাতেও সমাধান না পেলে পর্যায়ক্রমে স্মৃতিশাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয় অনুসরণ করেন। অন্যদিকে হৃদয় বাবু বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থখানা অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও তিনি এই গ্রন্থ থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্মসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন।
৩. ধর্ম কাকে বলে?
হিন্দু ধর্মকে বৈদিক ধর্ম বলা হয় কেন?
হৃদয়বাবু কোন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করেন? ব্যাখ্যা করো।
'পার্থবাবুর মধ্যে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ কাজ করেছে'-মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
যা হৃদয়ে ধারণ করে মানুষ সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পবিত্র জীবনযাপন করতে পারে তাকেই বলে ধর্ম।
(খ)
বেদ হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ। তাই হিন্দুধর্মকে বৈদিক ধর্ম বলা হয়।
হিন্দুধর্মের প্রধানতম ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। মনুসংহিতায় বেদকে হিন্দুধর্মের মূল বলা হয়েছে। প্রথম দিকে বেদ লিখিত রূপে ছিল না। পরবর্তীতে বেদ সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়। বেদ ঈশ্বরের বাণী। বেদকে কেন্দ্র করেই হিন্দুধর্মের বিকাশ ঘটেছে। এজন্য হিন্দুধর্মকে বৈদিক ধর্মও বলা হয়।
(গ)
হৃদয় বাবু বেদ অধ্যয়ন করেন।
বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। এটি হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সহায়ক গ্রন্থ হলো বেদ। এটি একটি বিশাল জ্ঞানভান্ডার। বেদ পাঠ করলে স্রষ্টা, বিশ্বপ্রকৃতি ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। ঋগ্বেদ সংহিতা পাঠ করলে আমরা বিভিন্ন দেব-দেবী সম্পর্কে জানতে পারি। ঈশ্বরের শক্তি, রূপ ও গুণ সম্পর্কে জানতে পারি। সামবেদ অধ্যয়ন করলে সংগীতের রীতি এবং সুর দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্র উচ্চারণ করার উপায় জানা যায়। যজুর্বেদে আছে যজ্ঞের বিভিন্ন নিয়ম-রীতি সম্পর্কে ধারণা। বর্ষপঞ্জিকার উদ্ভাবন হয়েছে যজুর্বেদ থেকেই। অথর্ববেদে বলা হয়েছে বিভিন্ন রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতির কথা। বেদ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ। এ গ্রন্থ থেকে মানবজাতি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ এই চতুর্বর্গের সন্ধান লাভ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্ম, দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান সবকিছুর মধ্যে বেদের প্রতিফলন রয়েছে।
উদ্দীপকে হৃদয় বাবু বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থখানা অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও তিনি এই গ্রন্থ থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম কর্মসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন। যা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ বেদকে নির্দেশ করে।
তাই বলা যায়, হৃদয় বাবু বেদ অধ্যয়ন করেন।
(ঘ)
"পার্থ বাবুর মধ্যে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ কাজ করছে”- মন্তব্যটি যথার্থ।
ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ে পবিত্র বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার-আচরণ এবং বিবেকের বাণী এ চারটিকে হিন্দুধর্মের বিশেষ লক্ষণ বলা হয়। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। যে কাজ ব্যক্তিকে বিপথগামী করে এবং সামষ্টিক অমঙ্গল ডেকে আনে, বিবেক সে কাজকে অধর্ম বলে বিবেচনা করে। তাই কোনো কাজ করার আগে ভাবতে হবে কাজটি ধর্ম হবে, না অর্ধম হবে। নৈতিক মূল্যবোধের বিচারে যা ভালো কাজ তা ধর্মসম্মত এবং যা ভালো কাজ নয়, তা করলে অধর্ম হয়।
উদ্দীপকের পার্থ বাবু কখনও অসৎ কাজ করে না। অর্থাৎ সে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। সে তার বিবেক দিয়ে বুঝতে পেরেছে অসৎ কাজ করলে অধর্ম হয়। এটি মানুষের অমঙ্গল ডেকে আনে। কেউ যদি তার উপর রাগ করে সে কখনো কোনো কথা বলে না; বরং সে তার সাথে বিপরীত আচরণ করে। অর্থাৎ কেউ তার সাথে খারাপ ব্যবহার করলেও সে ভালো ব্যবহার করে। সে জানে কারো খারাপ আচরণ পরিবর্তন করতে হলে তার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাহলে সে বুঝতে পারবে খারাপ আচরণ করা ভালো না, এটি অধর্ম।
নিষ্কৃতি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পূর্ব দিকে মুখ করে দেবতার উদ্দেশ্যে স্তব-স্তুতি পাঠ করে প্রণাম জানায়। সে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সে ছোটো বা সমবয়সিদের সাথেও সুন্দর ব্যবহার করে। কেউ তার ব্যবহারে কষ্ট পায় এমন কাজ সে কখনো করে না। এ কারণে সমাজ তথা প্রতিবেশীদের কাছে নিষ্কৃতি খুবই প্রিয়।
৪. অষ্টাঙ্গ প্রণাম কাকে বলে?
'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ'-ব্যাখ্যা করো।
নিষ্কৃতির আচরণে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়টি লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিষ্কৃতির কাজের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
জানু, পদ, হস্ত, বক্ষ, বুদ্ধি, শির, বাক্য ও দৃষ্টি- এ আটটি অঙ্গ ব্যবহার করে প্রণাম করলে তাকে অষ্টাঙ্গ বা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
(খ)
'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ'-কথাটির অর্থ হচ্ছে, আমরা ধর্মপালন করি নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণের জন্য। ধর্মপথ হচ্ছে ন্যায়ের পথ, সত্যের পথ, অহিংসা এবং কল্যাণের পথ। আমরা কেন ধর্ম পালন করি, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে; 'আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ।' নিজের চিরমুক্তি, আর জগতের হিত অর্থাৎ কল্যাণসাধনের জন্য। জীবনের যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি ঘটে এবং সকলের কল্যাণ হয়, সে পথই ধর্মপথ।
(গ)
নিষ্কৃতির আচরণে শিষ্টাচার লক্ষ করা যায়।
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচরণকে শিষ্টাচার বলে। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান। এ শিষ্টাচারের জন্যই মানুষ পশু-পাখি থেকে আলাদা। শিষ্টাচারের শিক্ষা মানুষকে বিনয়ী ও ভদ্র করে। শিষ্টাচারে উদ্বুদ্ধ ব্যক্তি কারও প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ কিংবা বিরাগ প্রদর্শন করে না। এছাড়াও গুরুজনদের পাশাপাশি সমবয়সিদের প্রতিও সে থাকে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ।
উদ্দীপকে নিষ্কৃতি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পূর্ব দিকে মুখ করে দেবতার উদ্দেশ্যে স্তব-স্তুতি পাঠ করে প্রণাম জানায়। সে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সে ছোট, বড় বা সমবয়সীদের সাথেও সুন্দর ব্যবহার করে। কেউ তার ব্যবহারে কষ্ট পায় এমন কাজ সে কখনো করে না। যা পাঠ্যবইয়ের শিষ্টাচারের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, নিষ্কৃতির আচরণে শিষ্টাচার লক্ষ করা যায়।
(ঘ)
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিষ্কৃতির কাজের প্রভাব অপরিসীম।
সততার মতো শিষ্টাচারও আদর্শ জীবনের অঙ্গ। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শিষ্টাচার অপরিহার্য। নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে বলে শিষ্টাচার। শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান। এ শিষ্টাচারের জন্যও মানুষ পশু-পাখি থেকে আলাদা। ধর্মপথে চলার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার অন্যতম পাথেয়। প্রথমে পরিবারের কথাই ধরা যাক। মাতা, পিতা ও অন্যান্য গুরুজনকে আমরা প্রণাম জানাই। এই প্রণাম জানানোর মধ্যে দিয়ে যে শিষ্টাচার প্রকাশ পায়, তার নাম ভক্তি বা শ্রদ্ধা। আবার সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাই এবং ছোটদের স্নেহ করি। সবই শিষ্টাচারের রকমফের। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দেবদেবীরা আমাদের নিজ নিজ শক্তি বা গুণ দিয়ে সহায়তা করেন।
তাই আমরা তাঁদের স্তব-স্তুতি করি, প্রণামমন্ত্র উচ্চারণ করে তাঁদের প্রণাম জানাই। তাই ধর্মাচারের মধ্য দিয়েও শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। শিষ্টাচার একটি নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের অঙ্গ। শিষ্টাচার বা ভদ্র ব্যবহারের দ্বারা আমরা মানুষের মন জয় করতে পারি। সমাজজীবনে চলার পথে শিষ্টাচার একটি প্রয়োজনীয় গুণ বা নৈতিক মূল্যবোধ। কারও সঙ্গে দেখা হলে আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় করি। আমরা বড়দের প্রণাম করি বা নমস্কার জানাই। সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাই এবং ছোটদের আশীর্বাদ করি। এক্ষেত্রে প্রথাগত শিষ্টাচার হচ্ছে, বয়সে যে ছোট, সে প্রণাম বা নমস্কার জানাবে। বড়রা কল্যাণ হোক, দীর্ঘজীবী হও ইত্যাদি বলে আশীর্বাদ করবেন। এটাই রীতি।

অধ্যায়-৩: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।