অধ্যায়-৬: যোগসাধনা

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৬: যোগসাধনা - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১৬টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
১. যোগসূত্রের প্রণেতা কে?
প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ না করাকে কী বলে? ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-১ এর অনুশীলন কৌশল ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-২ এর আসনটি নিয়মিত অনুশীলন করলে আমাদের শরীরে কী ধরনের উপকার হবে? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
যোগসূত্রের প্রণেতা হলেন মহর্ষি পতঞ্জলি।
(খ)

প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছু গ্রহণ না করাকে অপরিগ্রহ বলে।

'অপরিগ্রহ' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো গ্রহণ না করা। যোগশাস্ত্র অনুসারে, নিজের প্রয়োজন নেই এমন বস্তু তো নয়ই, এমনকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করা অপরিগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ যখন জীবনের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সামগ্রী (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি) নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে এবং লোভ ও ভোগবিলাস বর্জন করে সংযমী জীবনযাপন করে, তখন চিত্ত একাগ্র হয়। জীবনের মূল লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনায় আত্মনিয়োগ করার জন্যই এই গুণের চর্চা করা হয়।

(গ)

উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত আসনটি হলো বৃক্ষাসন (Vrikshasana)।

বৃক্ষের মতো স্থির ও ঋজু হয়ে এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে এ আসনটি অনুশীলন করতে হয় বলে এর নাম বৃক্ষাসন।

বৃক্ষাসনের অনুশীলন পদ্ধতি নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো:
১. প্রথমে দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে লেগে থাকবে।
২. এবার ডান পা হাঁটুতে ভাঁজ করে ডান পায়ের গোড়ালি বাম উরুর মূলে স্থাপন করতে হবে। পায়ের পাতা উরুর ভেতরের অংশের সাথে লেগে থাকবে এবং পায়ের আঙুলগুলো থাকবে নিচের দিকে ফেরানো।
৩. এরপর শুধু বাম পায়ের ওপর ভারসাম্য রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
৪. উভয় হাতের তালু নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে এনে জোড়া করতে হবে। তারপর হাত দুটি সোজা মাথার ওপর তুলতে হবে।
৫. দৃষ্টি সামনের কোনো স্থির বিন্দুতে নিবদ্ধ রেখে এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রেখে এভাবে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড নিশ্চল অবস্থায় দাঁড়াতে হবে।
৬. এরপর হাত দুটি নামিয়ে এবং ডান পা সোজা করে পূর্বের মতো দুই পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
৭. একইভাবে ডান পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বাম পা ভাঁজ করে বিপরীত পাশেও আসনটি করতে হবে। আসন শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে সময় বাড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত করা যায়।

(ঘ)

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ নির্দেশিত আসনটি হলো হলাসন (Halasana)। এ আসনটি নিয়মিত অনুশীলন করলে মানবদেহের মেরুদণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গ্রন্থির ওপর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী শারীরিক উপকারিতা অর্জিত হয়।

এ আসনটি অনুশীলনের সময় শরীরের আকৃতি কৃষিকাজে ব্যবহৃত লাঙল বা হলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলা হয়। এটি মূলত চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি মাথার পেছনের মাটিতে স্পর্শ করিয়ে মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাসন।

হলাসন নিয়মিত অনুশীলনের প্রধান শারীরিক উপকারিতাগুলো নিচে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মেরুদণ্ডের নমনীয়তা ও স্বাস্থ্য: এ আসনটি নিয়মিত চর্চা করলে মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং মেরুদণ্ড নমনীয় ও সুস্থ থাকে। মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র এবং পিঠের দুপাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়, ফলে পিঠ ও কোমরের ব্যথা দূর হয়।
২. রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণ: হলাসন নিয়মিত অনুশীলনে ডায়াবেটিস, বাত, সায়টিকার তীব্র ব্যথা, পেটের নানা পীড়া এবং দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর বা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি: পেটের ওপর চাপ পড়ার ফলে যকৃৎ (Liver), প্লীহা (Spleen), অগ্ন্যাশয় এবং মূত্রাশয়ের কার্যক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং হজমশক্তি উন্নত হয়।
৪. হরমোন নিঃসরণ ও গ্রন্থির সক্রিয়তা: গলবিল অঞ্চলের থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড এবং টনসিল গ্রন্থিতে রক্ত চলাচল বাড়ে, ফলে এগুলো সবল ও সক্রিয় হয়ে শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. মেদ হ্রাস ও দেহসৌষ্ঠব গঠন: নিয়মিত অনুশীলনে পেট, কোমর ও নিতম্বের অতিরিক্ত মেদ ঝরে যায় এবং দেহ সুঠাম, সুন্দর ও হালকা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, হলাসন শুধু মেরুদণ্ডের সুস্থতাই বজায় রাখে না, বরং সমগ্র দেহের রক্ত সঞ্চালন, স্নায়বিক সামঞ্জস্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অদ্বিতীয় ভূমিকা পালন করে। তাই শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু লাভের জন্য হলাসনের নিয়মিত অনুশীলন অপরিসীম উপকারী।

নিচের দৃশ্যকল্পগুলো লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
২. প্রত্যাহার অর্থ কী?
নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
‘প্রত্যাহার’ শব্দের অর্থ হলো ইন্দ্রিয়সমূহকে বাহ্যিক বিষয়বস্তু বা জাগতিক আকর্ষণ থেকে প্রতিনিবৃত্ত করা বা ফিরিয়ে আনা।
(খ)

নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটিকে যোগশাস্ত্রে ‘ধ্যান’ বলা হয়।

অষ্টাঙ্গ যোগের সপ্তম অঙ্গ হলো ধ্যান। চিত্ত বা মনকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধ্যেয় বিষয়ে (যেমন পরমেশ্বর ঈশ্বর, দেব-দেবী বা কোনো পবিত্র প্রতীক) নিরবচ্ছিন্নভাবে নিবদ্ধ রাখার গভীর প্রক্রিয়াই হলো ধ্যান। তেল এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে ঢাললে যেমন কোনো ছেদ বা বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই একটানা অবিচ্ছিন্ন ধারায় পড়ে, ধ্যানেও চিত্তবৃত্তি ঠিক তেমনি একটানা বিরতিহীনভাবে ধ্যেয় বস্তুতে প্রবাহিত হতে থাকে।

এই প্রক্রিয়ায় যোগীর দেহ, শ্বাস-প্রশ্বাস, ইন্দ্রিয়, মন ও অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন থাকার ফলে যোগী এক অতিন্দ্রীয় পরম আনন্দময় অবস্থায় উপনীত হন এবং হৃদয়ে ঈশ্বরের পরম জ্যোতি প্রত্যক্ষ করেন।

(গ)

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ১-এ প্রদর্শিত আসনটি হলো হলাসন (Halasana)।

‘হল’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ লাঙল। এই আসনটি অনুশীলনের সময় শরীরের অঙ্গভঙ্গি কৃষিকাজে ব্যবহৃত লাঙলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলা হয়।

পাঠ্যপুস্তক অনুসারে হলাসনের ধাপে ধাপে অনুশীলন পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:

১. প্রথমে সমতল মেঝে বা কম্বলের ওপর পা দুটি সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। দুই হাত শরীরের দুপাশে সোজা থাকবে এবং হাতের তালু মাটির দিকে ফেরানো থাকবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া অবস্থায় থাকবে।
২. এবার স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটি সোজা ও জোড়া অবস্থায় আস্তে আস্তে ওপরের দিকে তুলতে হবে।
৩. এরপর কোমরের অংশ মাটি থেকে তুলে পা দুটিকে আরও পেছনের দিকে বাঁকিয়ে নিয়ে মাথার পেছনে মেঝের যতদূর সম্ভব দূরে নিয়ে যেতে হবে, যেন পায়ের আঙুলগুলো মেঝের মাটি স্পর্শ করতে পারে।
৪. এই চূড়ান্ত অবস্থায় চিবুক বুকের সাথে লেগে থাকবে, পা দুটি সোজা থাকবে এবং হাত দুটি মেঝের ওপর সোজাভাবে সমান্তরাল থাকবে।
৫. এই অবস্থায় স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রেখে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করতে হবে।
৬. এরপর ধীরে ধীরে পা নামিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।

এভাবে আসনটি পরপর ৩ বার অনুশীলন করতে হয়।

(ঘ)

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প ২-এ নির্দেশিত আসনটি হলো গরুড়াসন (Garudasana)। পক্ষীরাজ গরুড়ের মতো স্থির হয়ে এই আসনটি অভ্যাস করা হয় বলে এর নাম গরুড়াসন। মানবদেহের শারীরিক গঠন সুদৃঢ়করণ, স্নায়বিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এ আসনটির বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মানবদেহে গরুড়াসনের প্রভাব ও উপকারিতা নিচে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. হাত ও পায়ের পেশির শক্তি বৃদ্ধি: গরুড়াসনে শরীরের সম্পূর্ণ ওজন একটি মাত্র পায়ের ওপর রেখে অপর পা পেঁচিয়ে রাখতে হয় এবং হাত দুটিও একে অপরকে পেঁচিয়ে থাকে। এর ফলে হাত ও পায়ের পেশি, সন্ধি এবং অস্থি মজবুত ও সুগঠিত হয় এবং প্রচুর শক্তি সঞ্চারিত হয়।
২. বাত ও পেশির খিঁচুনি নিবারণ: এই আসন নিয়মিত অনুশীলনে পায়ে বাতের ব্যথা (বাতব্যাধি) হতে পারে না এবং পায়ের পেশিতে হঠাৎ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে খিল ধরা (Muscle Cramp) প্রতিরোধ করে।
৩. অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বৃদ্ধি: নিতম্ব, হাঁটু এবং গোড়ালির সংযোগস্থলের নমনীয়তা ও সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শক্ত বা জমে যাওয়া কাঁধের জড়তা দূর করে কাঁধের নমনীয়তা বাড়ায়।
৪. মেরুদণ্ড ও দেহসৌষ্ঠব গঠন: নিয়মিত গরুড়াসন অনুশীলনে বাঁকা হয়ে যাওয়া মেরুদণ্ড সোজা ও সুঠাম হয় এবং দেহের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি পায় (দেহ লম্বা হতে সাহায্য করে)।
৫. দেহের ভারসাম্য ও একাগ্রতা বৃদ্ধি: এক পায়ে ভারসাম্য রক্ষা করে স্থির থাকার ফলে স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয় এবং মানসিক মনোযোগ, একাগ্রতা ও শারীরিক ভারসাম্যের দক্ষতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।
৬. অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও ইন্দ্রিয় সংযম: এই আসন নিয়মিত অভ্যাসে বৃক্ক বা কিডনি সতেজ ও সুস্থ থাকে। এছাড়া যৌবনকালে ইন্দ্রিয় সংযম ও নৈতিক জীবনাচার (ব্রহ্মচর্য) রক্ষা করা সহজ হয়।

সুতরাং উপর্যুক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, দৃশ্যকল্প ২-এ প্রদর্শিত গরুড়াসন নিয়মিত অনুশীলন করলে শারীরিক শক্তি, মেরুদণ্ডের সুস্থতা এবং স্নায়বিক ভারসাম্য অর্জিত হয়, যা সুস্থ-সবল ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য অপরিহার্য।

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো:
উদ্দীপকের ছবি
৩. মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ কে নির্দেশ করেছেন?
যোগ সাধনায় আসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
প্রদর্শিত ছবিটির ধারণা ও পদ্ধতি বর্ণনা কর।
প্রদর্শিত ছবিটি নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে এর কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ মহর্ষি পতঞ্জলি নির্দেশ করেছেন।
(খ)
আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয়। একটা স্থির ও সুখকর ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। আসনে শরীরে ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন। আসন নানা প্রকার। যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি। এই আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করেন। যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
(গ)
প্রদর্শিত ছবিটিতে অর্ধকূর্মাসনকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি হলো-
কূর্ম অর্থ হলো কচ্ছপ। এই আসন অনুশীলনকালে দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলা হয়। এ আসনটি অনুশীলনের নিয়ম হলো প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়। তখন দুই হাঁটু আর দুই পায়ের পাতা জোড়া লাগানো থাকে, নিতম্ব থাকে গোড়ালির উপরে। পায়ের তলা থাকে উপর দিকে ফেরানো। এসময় হাত হাঁটুর উপর আরাম করে পাতা থাকবে। হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সমস্ত অংশ মাটিতে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলতে হবে। নমস্কার করার ভঙ্গিতে এক হাতের তালু আর এক হাতের তালুর সাথে লাগিয়ে এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আর এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল জড়িয়ে ধরতে হবে।
হাত দুটো দুই কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে। এবার হাত সোজা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং হাতের সংযুক্ত তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে রাখতে হবে। এ সময় যাতে নিতম্ব গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে এবং পেটে, বুকে, পাঁজরের দুইপাশে ও উরুতে হালকা চাপ পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় নিশ্চল হয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে। তারপর হাত পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিন বার করতে হবে।
(ঘ)
অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
অর্ধকূর্মাসন অনুশীলন করলে শরীর অনেক শিথিল হয়, মেরুদণ্ড সতেজ হয়, পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো সবল ও সক্রিয় হয়। আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে। মস্তিষ্ক শান্ত হয়। যকৃৎ ভালো থাকে। অজীর্ণ, অম্বল, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয়। হজমশক্তি বাড়ে। পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে। হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের উপকার হয়। পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে। কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয়। পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে। পেট ও উরুর পেশি সবল হয়।
অর্ধকূর্মাসনের কারণে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে। শারীরিক সুস্থতার কারণে মানসিক শান্তিও বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এই আসন অনুশীলনে মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং ব্যক্তি সুখ ও দুঃখ সমানভাবে গ্রহণ করার উপযোগিতা অর্জন করে। এ আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আসনকারী আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়, ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন হয়।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অর্ধকূর্মাসনের সঠিক অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানটিতে সে ভাইয়ের হাতে ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দেয়। অন্যদিকে সুমনাদের বাড়িতে একটি ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি মূলত বৈষ্ণবীয় অনুষ্ঠান নামে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে একে অপরকে আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেয়। এ উপলক্ষ্যে বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটে।
৪. বাংলার বাইরে 'দোলযাত্রা' কী নামে পরিচিত?
'দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান'- বুঝিয়ে লেখো।
শুভ্রা কোন ধর্মাচার পালন করে? ব্যাখ্যা করো।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুমনার পালনকৃত অনুষ্ঠানটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বাংলার বাইরে 'দোলযাত্রা' হোলি উৎসব নামে পরিচিত।
(খ)
দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা। আবার, আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব হয়। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়, আত্মাহীন দেহ জড়। অর্থাৎ জড় বস্তুর আত্মা নেই তাই নিশ্চল, প্রাণহীন ও ক্রিয়াহীন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণের উক্তিতে জানা যায়- আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চির নতুন। মানুষ পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে যেমন নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার এই দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। তাই দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
(গ)
শুভ্রা রাখীবন্ধন ধর্মাচার পালন করেন।
'রাখী' কথাটি রক্ষা শব্দ থেকে উৎপন্ন। হিন্দু ধর্মাচারের মধ্যে রাখীবন্ধন অন্যতম। এদিন বোনেরা তাদের ভাইদের হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। ভাই-বোনের মধ্যকার আজীবন ভালোবাসার প্রতীক বহন করে এই রাখীবন্ধন। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয় এবং এতে ভাই-বোনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ পর্বটি পালন করা হয় বিধায় এ দিনটি রাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
উদ্দীপকে শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানটিতে সে ভাইয়ের হাতে ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দেয়। যা পাঠ্যবইয়ের রাখীবন্ধনের মিল রয়েছে, তাই বলা যায়, শুভ্রা রাখীবন্ধন ধর্মাচার পালন করেন।
(ঘ)

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুমনার পালনকৃত দোলযাত্রা অনুষ্ঠানটির প্রভাব অপরিসীম।
ফাল্গুনি পূর্ণিমার দিন এ উৎসব পালন করা হয়। এ দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর কুমকুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। তারপর গৃহের সকলে পরস্পরকে রং বা আবীর মাখিয়ে আনন্দ করে। এতে পরিবারের বিদ্যমান যেকোনো দ্বন্দ্ব একে অপরকে আবীর দিয়ে রাঙানোর মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। তারপর গৃহের আবীর খেলা শেষ হলে বাড়ির বাইরে সকলে বের হয় রং খেলার জন্য।

এ দিন সকল আত্মীয়-স্বজনরা রং খেলার (হোলি) জন্য বাড়িতে জড়ো হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাড়াপড়শীরাও রং খেলার জন্য অন্য সকলের সাথে যোগ দেয়। এছাড়া ফাল্গুন মাসের শুক্লা চতুর্দশীর দিন 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গলকে দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়।
দোলযাত্রা উৎসব সকল ভেদাভেদ ভুলে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। আমাদের চারপাশকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে। এ উৎসবের দিন সকলে শত্রু-মিত্র নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন রং খেলায় মত্ত হয়ে সকল বিভেদ ভুলে যায়। সকলেই হয়ে যায় একাত্ম। এটাই দোল উৎসবের সর্বজনীনতা।

অধ্যায়-৬: যোগসাধনা আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।