অধ্যায়-৭: ধর্মগ্রন্থে নৈতিক শিক্ষা

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৭: ধর্মগ্রন্থে নৈতিক শিক্ষা - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৩টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

শুভজিত মেডিকেলের একজন মেধাবী ছাত্র। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে জড়িত। মেডিকেলের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় তার সংগঠন থেকে ধর্মপ্রচারণার কাজে ডাক পেল। সে মেডিকেলের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে ধর্ম প্রচারের কাজে অংশগ্রহণ করে। অন্য দিকে সুমন বাবু এরাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া এলাকার নারীদের জন্য একটি কুটির শিল্পও প্রতিষ্ঠা করেন।
১. বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম কী?
'সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি'-বুঝিয়ে লেখ।
শুভজিতের মধ্যে কোন মহাপুরুষের আচরণিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
'নারী জাগরণে সুমন বাবুর অবদান স্বামী বিবেকানন্দের অবদানের অনরূপ'-মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম আনন্দকিশোর গোস্বামী।
(খ)
বিবেকানন্দ বলতেন, সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি। সৎ হওয়া আর সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ। তিনি অথর্ববেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, 'অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয়; একমাত্র সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়।' যে ব্যক্তি জগতের জন্য তার ক্ষুদ্র 'আমিকে' ত্যাগ করতে পারে, সে দেখে সমস্ত জগৎ তার। যে ব্যক্তি পবিত্র এবং সাহসী, সেই সব কিছু করতে পারে।
(গ)
শুভজিতের মধ্যে শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর আচরণিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
ধর্ম প্রচার ও মানবতার সেবায় যে সকল মনীষী স্মরণীয় হয়ে আছেন তাদের মধ্যে শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী অন্যতম। কলকাতার সংস্কৃত কলেজে কিছুকাল পড়ার পর বিষয়কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এই সময় ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে বিজয়কৃষ্ণের যোগাযোগ ঘটে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্রের বক্তৃতা শুনে তার মনে পরিবর্তন আসে। তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হন এবং ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।
বিজয়কৃষ্ণের মেডিকেলের চূড়ান্ত পরীক্ষা যখন সামনে তখন ব্রাহ্মসমাজ থেকে ধর্ম প্রচারের ডাক এল। চিকিৎসক জীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে বিজয়কৃষ্ণ ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি হলেন ব্রাহ্মসমাজের আচার্য বিজয়কৃষ্ণ। ঢাকা, বরিশাল, যশোর, খুলনা এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি ব্রাহ্মধর্ম প্রচার করেন। অনেককে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষাও দেন।
ধর্মপ্রচারে বিজয়কৃষ্ণ শ্রীক্ষেত্র পুরী গেলে স্থানীয় কিছু ধর্মব্যবসায়ী ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে বিষমিশ্রিত লাড্ডু খেতে দিয়ে হত্যা করে। তেমনি বিরাজ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও নিজের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদেরকে ধর্মপথে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু অসৎ ধর্মব্যবসায়ীরা তার প্রতি বিদ্বেষী হয়ে তাকে সুকৌশলে হত্যা করে।
উদ্দীপকে শুভজিত মেডিকেলের একজন মেধাবী ছাত্র। সে লেখা-পড়ার পাশাপাশি একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে জড়িত। মেডিকেলের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় তার সংগঠন থেকে ধর্মপ্রচারণার কাজে ডাক পেল। সে মেডিকেলের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে ধর্ম প্রচারের কাজে অংশগ্রহণ করে। যা শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর কর্মকাণ্ডের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, শুভজিতের মধ্যে শ্রীবিজয় কৃষ্ণ গোস্বামীর আচরণিক বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে।
(ঘ)
"নারী জাগরণে সুমন বাবুর অবদান স্বামী বিবেকানন্দের অনুরূপ”-মন্ত্যটি যথার্থ।
স্বামী বিবেকানন্দ নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নারীশিক্ষাকে তিনি জোরের সঙ্গে সমর্থন করতেন। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গী প্রমুখ বিদুষী নারীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, "সেই যুগে নারীরা যদি এত শিক্ষা লাভ করতে পারে, তাহলে এ যুগের নারীরা তা পারবে না কেন?” তাঁর মতে, যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। এমনকি আধ্যাত্ম সাধনায় নারীরা যাতে সুযোগ পায় এবং এগিয়ে আসে তাঁর জন্য তিনি সারদা দেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠ প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা করেছিলেন। বাল্যবিবাহকে তিনি ঘৃণা করতেন। শুধু তা-ই নয়; তিনি বলেছেন, "ইচ্ছা না থাকলে বিবাহ না করার স্বাধীনতা সকল স্ত্রীলোকের স্বাভাবিক অধিকার বলিয়া গণ্য হওয়া উচিত।"
উদ্দীপকে সুমন বাবু এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া এলাকার নারীদের জন্য একটি কুটির শিল্পও প্রতিষ্ঠা করেন। এসব কর্মকাণ্ড স্বামী বিবেকানন্দের সাথে মিল রয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, "নারী জাগরণে সুমন বাবুর অবদান স্বামী বিবেকানন্দের অনুরূপ”- উক্তিটি যথার্থ।
প্রত্যয় বাবু একজন নামকরা শল্যচিকিৎসক। তিনি
ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনকের আদর্শ অনুসরণ করেন, যিনি শল্যবিদ্যার প্রকার, পদ্ধতি এবং বিভিন্ন অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। অন্যদিকে অর্নব বাবুও একজন নামকরা চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের জনকের আদর্শ অনুসরণ করেন, যিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি উপাদানের কথা বলেছেন।
২. সুশ্রুতর পিতার নাম কী?
শ্রীকৃষ্ণকে পূর্ণাবতার বলা হয় কেন?
অর্ণব বাবু ভারতীয় কোন বিখ্যাত চিকিৎসকের আদর্শ অনুসরণ করেন? ব্যাখ্যা করো।
মানবজীবনে প্রত্যয় বাবুর অনুসরণীয় চিকিৎসকের কাজের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
সুশ্রুতের পিতার নাম হলো- বিশ্বামিত্র মুনি।
(খ)
'শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার'। অবতার দুই রকমের-পূর্ণাবতার ও অংশাবতার। ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে বলা হয় পূর্ণাবতার। ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ পূর্ণাবতারের মধ্যে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার। কারণ ভগবানের সমস্ত ঐশ্বর্য তাঁর মধ্যে ছিল।
(গ)
অর্ণব বাবু ভারতীয় বিখ্যাত চিকিৎসক চরক-এর আদর্শ অনুসরণ করেন।
চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়। মানুষের চিকিৎসা শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যে চরক সুচিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
চরকই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। চরক এ-ও বলেছেন- রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। তিনি রোগীর চিকিৎসার পূর্বে রোগের কারণসমূহ এবং পরিবেশ সম্পর্কে যথার্থরূপে ভাবতে বলেছেন।
উদ্দীপকে অর্ণব বাবু একজন নামকরা চিকিৎসক। তিনি ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের জনকের আদর্শ অনুসরণ করেন, যিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি উপাদানের কথা বলেছেন। এসব কর্মকাণ্ড চিকিৎসক চরক-এর সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, অর্ণব বাবু ভারতীয় চিকিৎসক চরক-এর আদর্শ অনুসরণ করেন।
(ঘ)
মানবজীবনে প্রত্যয় বাবুর অনুসরণীয় চিকিৎসক সুশ্রুতের কাজের গরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে প্রত্যয় বাবু একজন নামকরা শল্যচিকিৎসক। তিনি ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনকের আদর্শ অনুসরণ করেন, যিনি শল্যবিদ্যার প্রকার, পদ্ধতি এবং বিভিন্ন অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। যা পাঠ্যপুস্তকের মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের কর্মকাণ্ডের সাথে মিল রয়েছে।
সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর পিতার নাম বিশ্বামিত্র মুনি। দেবরাজ ইন্দ্র একদিন মর্ত্যবাসীকে ব্যাধিগ্রস্ত দেখে দেববৈদ্য ধন্বন্তরীকে সমগ্র আয়ুর্বেদ শিক্ষা দেন এবং বলেন পৃথিবীতে জন্ম নিতে। ইন্দ্রের কথামতো ধন্বন্তরীকে সমগ্র আয়ুর্বেদ শিক্ষা দেন এবং বলেন পৃথিবীতে জন্ম নিতে। ইন্দ্রের কথামতো ধন্বন্তরী কাশীরাজের পুত্ররূপে দিবোদাস নামে জন্মগ্রহণ করেন। এ কথা জানতে পেরে বিশ্বামিত্র স্বীয় পুত্র সুশ্রুতকে তার নিকট পাঠান আয়ুর্বেদ শিক্ষার জন্য।
আধুনিক গবেষকদের মতে, সুশ্রুত খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন। তিনি বর্তমান বারাণসী নগরে গঙ্গার তীরে বাস করতেন এবং চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করতেন। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন। এজন্য তাকে বলা হয় 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক'। তিনি 'সুশ্রুত সংহিতা' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তার গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। 'সুশ্রুত সংহিতা' রচনা করে সুশ্রুত মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন।
অনিমেষ শিক্ষাজীবনের প্রতি ক্লাসেই প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সে প্রায় সকল বিষয়েই শতভাগ নম্বর অর্জন করেছে। এজন্য তার অন্য রকম সুনাম রয়েছে। অন্যদিকে শুভাশীষ সবসময় নারীদেরকে সম্মানের চোখে দেখে। সে মনে করে নারীমাত্রই মাতৃস্বরূপা। তাদের মধ্যে জগন্মাতার অবস্থান।
৩. চন্দ্রশেখর কোন রাজ্যের রাজা ছিলেন?
গদাধরের জীবনে অদ্ভুত পরিবর্তন আসার মূল কারণ ব্যাখ্যা করো।
অনিমেষ চরিত্রে শ্রীশঙ্করাচার্যের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
শ্রীরামকৃষ্ণের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শুভাশীষের দৃষ্টিভঙ্গির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
চন্দ্রশেখর কেরলের রাজা ছিলেন।
(খ)
গদাধরের জীবনে অদ্ভুত পরিবর্তন আসার মূল কারণ হলো তাঁর পিতার মৃত্যু।
গদাধরের অল্প বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। পিতার মৃত্যুর পর তাঁর জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। তিনি কখনো শ্মশানে গিয়ে বসে থাকেন। কখনো বা নির্জন বাগানে গিয়ে সময় কাটান। সাধু-বৈষ্ণবদের দেখলে কৌতূহল ভরে তাঁদের আচরণ লক্ষ করেন। তাঁদের নিকট ভজন শেখেন। এ অবস্থায় অগ্রজ রামকুমার তাঁকে কোলকাতা নিয়ে যান। সেখানে ঝামাপুকুরে অবস্থিত নিজের টোলে তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু গদাধরের মনের কোনো পরিবর্তন হয় না। আগের মতোই লেখাপড়ায় তিনি উদাসীন থাকেন।
(গ)
অনিমেষ চরিত্রে শ্রীশঙ্করাচার্যের পান্ডিত্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
শঙ্করের ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। তা দেখে পিতা শিবগুরু অত্যন্ত বিস্মিত হন। তিনি তিন বছর বয়স থেকেই পুত্রকে পড়াতে শুরু করেন। তাঁর একান্ত বাসনা, পুত্রকে সর্বশাস্ত্রে সুপণ্ডিত করে তুলবেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর পাঁচ বছর বয়সে বিশিষ্টা দেবী ছেলের উপনয়ন দেন। উপনয়নের পর শাস্ত্রশিক্ষার জন্য তাঁকে গুরুগৃহে পাঠানো হয়। সেখানে মাত্র দুই বছরের মধ্যে শঙ্কর বেদ, বেদান্ত, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সাত বছর বয়সে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে তিনি একটি টোল খুলে ছাত্র পড়াতে শুরু করেন। স্থানীয় পণ্ডিতরা প্রথমে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে লাগলেন। সাত বছরের বালক কী পড়াবে? কিন্তু ক্রমে শঙ্করের পাণ্ডিত্যের পরিচয় পেয়ে সবাই তাঁর নিকট মাথা নত করেন। শঙ্করের পাণ্ডিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একসময় কেরলের রাজা চন্দ্রশেখরের কানেও যায় এ কথা। তিনি মন্ত্রীকে পাঠান শঙ্করকে রাজসভায় নিয়ে যেতে। কিন্তু শঙ্কর বিনয়ের সঙ্গে বলেন, তিনি বিদ্যা নিয়ে ব্যবসা করতে চান না। লোকের মঙ্গলের জন্য তিনি বিদ্যা বিতরণ করতেন।
উদ্দীপকে অনিমেষ শিক্ষাজীবনের প্রতি ক্লাসেই প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সে প্রায় সকল বিষয়েই শতভাগ নম্বর অর্জন করেছে। এজন্য তার অন্য রকম সুনাম রয়েছে। যা শ্রীশঙ্করাচার্যের পাণ্ডিত্যের বিষয়টি নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, অনিমেষ চরিত্রে শ্রীশঙ্করাচার্যের পাণ্ডিত্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
(ঘ)
শ্রীরামকৃষ্ণের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শুভাশীষের দৃষ্টিভঙ্গির যথার্থতা রয়েছে।
শ্রীরামকৃষ্ণ মানুষের জাতি, কুল, মান, শিক্ষা প্রতিপত্তি ইত্যাদি দেখতেন না। তিনি দেখতেন মানুষের অন্তর। তাই তার কাছে উঁচু-নীচু সব শ্রেণির মানুষ আসত। তাইতো দক্ষিণেশ্বর মন্দির সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তার বাণী শুধু মুখের কথা নয় সেগুলো তার জীবনচর্চায় রূপায়িত সত্য। তিনি অহংকারশূন্য হয়ে জীবকে শিবজ্ঞানে সেবা করেছেন। দরিদ্রদের দেখলে তার মন কাঁদত। শ্রীরামকৃষ্ণ সকল নারীর মধ্যে জগন্মাতাকে দর্শন করতেন। নারীমাত্রই তাঁর কাছে ছিল মাতৃস্বরূপা।
তাইতো নিজের স্ত্রীকে তিনি মাতৃজ্ঞানে পুজো করেছিলেন। জগতে এরূপ ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই।
শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, 'যখন বাইরে লোকের সঙ্গে মিশবে, তখন সকলকে ভালোবাসবে। মিশে যেন এক হয়ে যাবে। বিদ্বেষভাব রাখবে না। ও সাকার মানে, নিরাকার মানে না; ও নিরাকার মানে, সাকার মানে না; ও হিন্দু, ও মুসলমান, ও খ্রিষ্টান-এই বলে কাউকে ঘৃণা
করবে না।' শ্রীরামকৃষ্ণের এই যে উদার মনোভাব, এর দ্বারা ভারতের লোকজন দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাঁর কাছে এসেছেন। তাঁর অমৃত বাণী শ্রবণ করেছেন। অন্তরে পরম শান্তি পেয়েছেন।

অধ্যায়-৭: ধর্মগ্রন্থে নৈতিক শিক্ষা আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।