হৃদয় বাবু একজন ধার্মিক প্রজ্ঞাবান ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তিনি ক্ষমাশীল, ক্ষমতার দম্ভ তাঁর একেবারেই নেই। অপরপক্ষে একই অফিসে একই পদে চাকুরী করে দীপক বাবু সব সময় অনৈতিক উপায়ে মানুষের কাছে অর্থ আদায় করে অফিসে সবার কাছে দীপক বাবু একজন অসৎ, ঠগ, প্রতারক হিসেবে পরিচিত।
১.
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ কয়টি?
নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের এক নিবিড় সম্পর্ক” কেন? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে ধার্মিকের স্বরপ বর্ণনা কর।
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর ও দীপক বাবুর শেষ পরিণতি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ দশটি।
(খ)
কোনটা ভালো কাজ বা কল্যাণকর কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ, অকল্যাণকর কাজ, তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনাশক্তি, তাকেই বলে নৈতিক মূল্যবোধ। আবার ভালো কাজ করা ধর্ম এবং মন্দ কাজ করা অধর্ম। অন্য কথায়, নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে যে কাজকে ন্যায় আচরণীয় ও কল্যাণকর মনে করে, তা মেনে চললে ধর্ম হয় এবং যা ভালো কাজ নয়, তা করলে অধর্ম হয়। তাহলে নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল।
(গ)
উদ্দীপকের হৃদয়বাবু একজন আদর্শ ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি তার জীবনে ধর্মের সকল দিক মেনে চলেন।
ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ, প্রভৃতি) যাঁর মধ্যে প্রকাশ পায় বা যিনি ধর্মের ঐ দশটি লক্ষণ নিজের জীবনে চলার পথে অনুসরণ করেন, তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তিনি ক্ষমতা থাকলেও ক্ষমা করেন। ক্ষমতার দম্ভ দ্বারা তিনি পরিচালিত হন না। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত করতে পারেন।
যিনি ধার্মিক, তিনি কাম- ক্রোধ প্রভৃতি প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারেন। তিনি ইন্দ্রিয়ের ইচ্ছায় চলেন না। বরং ইন্দ্রিয়কেই সংযত করে নিজের ইচ্ছা অনুসারে চালাতে পারেন।
ধার্মিক ব্যক্তি ধী-শক্তিসম্পন্ন। তাঁর প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। সকল কিছু বিচার করার অনন্য শক্তি দান করে। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। ধী এবং বিদ্যা তাঁকে চরিত্রের উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয়। তিনি কখনও সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া ধার্মিকের দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।
ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ, প্রভৃতি) যাঁর মধ্যে প্রকাশ পায় বা যিনি ধর্মের ঐ দশটি লক্ষণ নিজের জীবনে চলার পথে অনুসরণ করেন, তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তিনি ক্ষমতা থাকলেও ক্ষমা করেন। ক্ষমতার দম্ভ দ্বারা তিনি পরিচালিত হন না। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত করতে পারেন।
যিনি ধার্মিক, তিনি কাম- ক্রোধ প্রভৃতি প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারেন। তিনি ইন্দ্রিয়ের ইচ্ছায় চলেন না। বরং ইন্দ্রিয়কেই সংযত করে নিজের ইচ্ছা অনুসারে চালাতে পারেন।
ধার্মিক ব্যক্তি ধী-শক্তিসম্পন্ন। তাঁর প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। সকল কিছু বিচার করার অনন্য শক্তি দান করে। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। ধী এবং বিদ্যা তাঁকে চরিত্রের উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয়। তিনি কখনও সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া ধার্মিকের দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।
(ঘ)
উদ্দীপকের হৃদয়বাবুর কার্যকলাপে ধার্মিকের পরিচয় পাওয়া যায় এবং দীপক বাবুর কার্যকলাপে অধার্মিকের পরিচয় পাওয়া যায়। নিচে তাদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধার্মিক সদা সন্তুষ্ট থাকেন। তিনি সদানন্দ, সদা হাস্যময় ও সদা প্রফুল্ল। প্রাপ্তি তাকে অহংকারী করে না ও অপ্রাপ্তি তাঁকে বিষণ্ণ করে না। তিনি তার ধর্মকে ঈশ্বরের কর্ম বলে বিবেচনা করেন এবং সকল কর্মের ফল ঈশ্বরকে সমর্পণ করেন। ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগ করে আনন্দ পান। সেবা করে তৃপ্ত হন। তার কর্ম জ্ঞান দ্বারা পরিদ্রুত এবং ভক্তি দ্বারা বিশোধিত। ধর্মগ্রন্থে আছে, ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে তার স্বর্গ লাভ হয়। ধার্মিক ধার্মিকতার চরম অবস্থায় ব্রহ্ম লাভ করেন, তার জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় এবং ধার্মিক মোক্ষ বা চিরমুক্তি লাভ করেন।
অন্যদিকে অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত থাকেন বলে সর্বদাই বিষণ্ণ থাকেন। কাম তাকে তাড়িত করে, ক্রোধ তাকে উত্তেজিত করে, লোভ, তাকে আকর্ষণ করে ও তার অধঃপতন ঘটায়। ইহলোকে তিনি কুকর্মে লিপ্ত থাকেন। কখনো কখনো কৃত কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন এবং দণ্ড ভোগ করেন। ধর্মশাস্ত্র অনুসারে কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়। পাপ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। নরকযন্ত্রণা ভোগের পর আবার তাকে পৃথিবীতে এসে মানবেতর প্রাণীরূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়। জন্ম-নরকযন্ত্রণা-মৃত্যুর চক্রে তিনি কেবল আবর্তিত হতে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, হৃদয় বাবুর কার্যকলাপের মাধ্যমে স্বর্গলাভ করবে এবং দীপক বাবুর কার্যকলাপে নরক যন্ত্রণা ভোগ করবে।
ধার্মিক সদা সন্তুষ্ট থাকেন। তিনি সদানন্দ, সদা হাস্যময় ও সদা প্রফুল্ল। প্রাপ্তি তাকে অহংকারী করে না ও অপ্রাপ্তি তাঁকে বিষণ্ণ করে না। তিনি তার ধর্মকে ঈশ্বরের কর্ম বলে বিবেচনা করেন এবং সকল কর্মের ফল ঈশ্বরকে সমর্পণ করেন। ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগ করে আনন্দ পান। সেবা করে তৃপ্ত হন। তার কর্ম জ্ঞান দ্বারা পরিদ্রুত এবং ভক্তি দ্বারা বিশোধিত। ধর্মগ্রন্থে আছে, ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে তার স্বর্গ লাভ হয়। ধার্মিক ধার্মিকতার চরম অবস্থায় ব্রহ্ম লাভ করেন, তার জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় এবং ধার্মিক মোক্ষ বা চিরমুক্তি লাভ করেন।
অন্যদিকে অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত থাকেন বলে সর্বদাই বিষণ্ণ থাকেন। কাম তাকে তাড়িত করে, ক্রোধ তাকে উত্তেজিত করে, লোভ, তাকে আকর্ষণ করে ও তার অধঃপতন ঘটায়। ইহলোকে তিনি কুকর্মে লিপ্ত থাকেন। কখনো কখনো কৃত কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন এবং দণ্ড ভোগ করেন। ধর্মশাস্ত্র অনুসারে কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়। পাপ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। নরকযন্ত্রণা ভোগের পর আবার তাকে পৃথিবীতে এসে মানবেতর প্রাণীরূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়। জন্ম-নরকযন্ত্রণা-মৃত্যুর চক্রে তিনি কেবল আবর্তিত হতে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, হৃদয় বাবুর কার্যকলাপের মাধ্যমে স্বর্গলাভ করবে এবং দীপক বাবুর কার্যকলাপে নরক যন্ত্রণা ভোগ করবে।