অধ্যায়-৮: ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৮: ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৯টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

হৃদয় বাবু একজন ধার্মিক প্রজ্ঞাবান ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তিনি ক্ষমাশীল, ক্ষমতার দম্ভ তাঁর একেবারেই নেই। অপরপক্ষে একই অফিসে একই পদে চাকুরী করে দীপক বাবু সব সময় অনৈতিক উপায়ে মানুষের কাছে অর্থ আদায় করে অফিসে সবার কাছে দীপক বাবু একজন অসৎ, ঠগ, প্রতারক হিসেবে পরিচিত।
১. ধর্মের বাহ্যলক্ষণ কয়টি?
নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের এক নিবিড় সম্পর্ক” কেন? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে ধার্মিকের স্বরপ বর্ণনা কর।
উদ্দীপকের হৃদয় বাবুর ও দীপক বাবুর শেষ পরিণতি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
ধর্মের বাহ্যলক্ষণ দশটি।
(খ)
কোনটা ভালো কাজ বা কল্যাণকর কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ, অকল্যাণকর কাজ, তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনাশক্তি, তাকেই বলে নৈতিক মূল্যবোধ। আবার ভালো কাজ করা ধর্ম এবং মন্দ কাজ করা অধর্ম। অন্য কথায়, নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে যে কাজকে ন্যায় আচরণীয় ও কল্যাণকর মনে করে, তা মেনে চললে ধর্ম হয় এবং যা ভালো কাজ নয়, তা করলে অধর্ম হয়। তাহলে নৈতিক মূল্যবোধের সাথে ধর্মপথের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হচ্ছে সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল।
(গ)
উদ্দীপকের হৃদয়বাবু একজন আদর্শ ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি তার জীবনে ধর্মের সকল দিক মেনে চলেন।
ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ (ধৃতি, ক্ষমা, দম, ধী, বিদ্যা, অক্রোধ, প্রভৃতি) যাঁর মধ্যে প্রকাশ পায় বা যিনি ধর্মের ঐ দশটি লক্ষণ নিজের জীবনে চলার পথে অনুসরণ করেন, তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তিনি ক্ষমতা থাকলেও ক্ষমা করেন। ক্ষমতার দম্ভ দ্বারা তিনি পরিচালিত হন না। তিনি সর্বাবস্থায় নিজেকে সংযত করতে পারেন।
যিনি ধার্মিক, তিনি কাম- ক্রোধ প্রভৃতি প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারেন। তিনি ইন্দ্রিয়ের ইচ্ছায় চলেন না। বরং ইন্দ্রিয়কেই সংযত করে নিজের ইচ্ছা অনুসারে চালাতে পারেন।
ধার্মিক ব্যক্তি ধী-শক্তিসম্পন্ন। তাঁর প্রজ্ঞা তাকে মহান করে তোলে। সকল কিছু বিচার করার অনন্য শক্তি দান করে। তিনি নানা বিদ্যায় পারদর্শী। ধী এবং বিদ্যা তাঁকে চরিত্রের উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয়। তিনি কখনও সত্য থেকে দূরে সরে যান না। ধার্মিক ব্যক্তি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া ধার্মিকের দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।
(ঘ)
উদ্দীপকের হৃদয়বাবুর কার্যকলাপে ধার্মিকের পরিচয় পাওয়া যায় এবং দীপক বাবুর কার্যকলাপে অধার্মিকের পরিচয় পাওয়া যায়। নিচে তাদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধার্মিক সদা সন্তুষ্ট থাকেন। তিনি সদানন্দ, সদা হাস্যময় ও সদা প্রফুল্ল। প্রাপ্তি তাকে অহংকারী করে না ও অপ্রাপ্তি তাঁকে বিষণ্ণ করে না। তিনি তার ধর্মকে ঈশ্বরের কর্ম বলে বিবেচনা করেন এবং সকল কর্মের ফল ঈশ্বরকে সমর্পণ করেন। ধার্মিক ব্যক্তি ত্যাগ করে আনন্দ পান। সেবা করে তৃপ্ত হন। তার কর্ম জ্ঞান দ্বারা পরিদ্রুত এবং ভক্তি দ্বারা বিশোধিত। ধর্মগ্রন্থে আছে, ধার্মিক ইহলোকে শান্তি পান এবং পরলোকে তার স্বর্গ লাভ হয়। ধার্মিক ধার্মিকতার চরম অবস্থায় ব্রহ্ম লাভ করেন, তার জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় এবং ধার্মিক মোক্ষ বা চিরমুক্তি লাভ করেন।
অন্যদিকে অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত থাকেন বলে সর্বদাই বিষণ্ণ থাকেন। কাম তাকে তাড়িত করে, ক্রোধ তাকে উত্তেজিত করে, লোভ, তাকে আকর্ষণ করে ও তার অধঃপতন ঘটায়। ইহলোকে তিনি কুকর্মে লিপ্ত থাকেন। কখনো কখনো কৃত কুকর্মের জন্য দণ্ডিত হন এবং দণ্ড ভোগ করেন। ধর্মশাস্ত্র অনুসারে কুকর্ম থেকে পাপ অর্জিত হয়। পাপ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। পাপী নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। নরকযন্ত্রণা ভোগের পর আবার তাকে পৃথিবীতে এসে মানবেতর প্রাণীরূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়। জন্ম-নরকযন্ত্রণা-মৃত্যুর চক্রে তিনি কেবল আবর্তিত হতে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, হৃদয় বাবুর কার্যকলাপের মাধ্যমে স্বর্গলাভ করবে এবং দীপক বাবুর কার্যকলাপে নরক যন্ত্রণা ভোগ করবে।
নিখিল বাবু নিয়মিত একটি যোগাসন অনুশীলন করেন।
আসনটি অনুশীলনের সময় তার শরীর অনেকটা লাঙলের মতো দেখায়। তার পা ও মাথা একই পাশে অবস্থান করে। তাছাড়া আসনটির অন্যান্য নিয়ম-কানুনগুলোও তিনি সঠিকভাবে অনুসরণ করেন। এর ফলে তার থাইরয়েড ও টনসিলের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতাও বজায় রয়েছে।
২. পূরক কাকে বলে?
অহিংসা বলতে কী বোঝায়?
নিখিল বাবু কীভাবে আসনটি অনুশীলন করেন? পাঠ্যের আলোকে বর্ণনা করো।
পাঠ্যের আলোকে নিখিল বাবুর অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শ্বাস গ্রহণকে বলে পূরক।
(খ)
অহিংসা শব্দটার অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনেও কারও অনিষ্ট না ভাবা। কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেওয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতে কোনো স্থানে, কোনো দিন কোনো প্রাণীর প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এক কথায় ভালোবাসা। শুধু জীবের প্রতি ভালোবাসা নয়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে অহিংসা।
(গ)
নিখিল বাবু হলাসন অনুশীলন করে। এ আসন অনুশীলন পদ্ধতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হল অর্থাৎ লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। এ আসনটি অনুশীলন পদ্ধতি হলো- পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে। হাত দুটো সোজা করে শরীরের দু পাশে রাখতে হবে। এবার নিশ্বাস ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে যেন পায়ের আঙ্গুলগুলো মাটি স্পর্শ করতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে আসনটি তিন বার অনুশীলন করতে হবে।
(ঘ)
নিয়মিত হলাসন অনুশীলনে নিখিলের শারীরিক সমস্যা দূর হবে এবং সে সুস্থ, সুন্দর জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।
হলাসন অনুশীলনের ফলে আমাদের মেরুদণ্ড নমনীয় ও সুস্থ থাকে। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, বাত ও সায়টিকার ব্যথা, পেটের পীড়া, কোষ্ঠবদ্ধতা ইত্যাদি রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে বা দূর হয়।
উদ্দীপকের বর্ণিত নিখিল নিয়মিত যদি হলাসন অনুশীলন করে তবে তার মেরুদণ্ড সুস্থ ও নমনীয় হবে এবং স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকবে। এর ফলে মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদণ্ডের দুপাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হবে। প্লীহা, যকৃৎ, মূত্রাশয় প্রভৃতির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, টনসিল ইত্যাদি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হবে। এ ছাড়াও হলাসন অনুশীলনে অনিন্দ্যের পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম ও সুন্দর হবে। পিঠে ব্যথা থাকলে তাও দূর হবে।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষকের পরামর্শ মতো নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে নিখিল শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে। পাশাপাশি তার মন সতেজ থাকবে এবং সে কাজ-কর্মে বাড়তি উৎসাহ পাবে।
পরিতোষ বাবুর বাবা মারা গেছেন। তিনি গ্রামবাসীর সহায়তায় বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অশৌচ পালন করেন। অপরদিকে, পরিতোষ বাবুর বন্ধু পরিমল চক্রবর্তী একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সেইখানে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, বিছানা প্রভৃতি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয়। সবশেষে পিণ্ডদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। ঐ অনুষ্ঠানে অনেক আত্মীয়-স্বজনের সমাগম ঘটে।
৩. অশৌচ শব্দের অর্থ কী?
"জন্মভেদে নয় বরং কর্মভেদেই বর্ণ বিভাজন"-কথাটি ব্যাখ্যা করো।
পরিতোষ বাবু কীভাবে তার পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তা ব্যাখ্যা করো।
পরিমল চক্রবর্তী যে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন- ইহার পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব বর্ণনা করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব।
(খ)
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে জন্মভেদে নয়, বরং কর্মভেদেই বর্ণবিভাজন হয়। অর্থাৎ যে যে রকম পেশায় নিয়োজিত তার বর্ণটি সে অনুসারে হয়। এ প্রসঙ্গে শ্রীমভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ' কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি।
ব্রাহ্মণ সন্তান হলেই যে একজন ব্রাহ্মণ বলে গণ্য হবে, এমনটি নয়। সত্ত্বগুণ প্রভাবিত কোনো শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ পদবাচ্য হতে পারেন। আবার কোনো ব্রাহ্মণ-সন্তান তমঃ গুণে প্রভাবিত হলে সে শূদ্র বলে গণ্য হবেন। সুতরাং বলা যায়, জাতি বা বর্ণভেদ বংশগত নয়, গুণ ও কর্মগত।
(গ)
পরিতোষ বাবু শাস্ত্রীয় বিধিবিধান অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেয়া হয়েছে। এ সৎকারই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নামে পরিচিত। মৃত্যুর পর দেহটিকে বস্ত্রাবৃত ও মালা চন্দনাদি দ্বারা বিভূষিত করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃতদেহের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে তাকে কুশের উপর শয়ন করানো হয়। দাহাধিকারী স্নান করে এসে মৃতদেহের গায়ে তেল ও কাঁচা হলুদ মেখে তাকে স্নান করান। স্নানের পরে মৃতদেহকে নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দিতে হয়। এরপর দুই চোখ, দুই কান, নাকের দুই ছিদ্র ও মুখ এই সপ্তছিদ্র স্বর্ণ বা কাঁসা দ্বারা আচ্ছাদন করতে হয়। তারপর পিণ্ডদান করতে হয়। এরপর আমকাঠ বা চন্দনকাঠ দিয়ে চিতা সাজানো হয়। তারপর শবকে চিতায় শয়ন করানো হয়। তারপর যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কাঠ দিয়ে সহজে দাহকার্য সম্পন্ন করে।
উদ্দীপকে পরিতোষ বাবুর বাবা মারা গেছেন। তিনি গ্রামবাসীর সহায়তায় বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী করা হয়েছে।
(ঘ)
পরিমল চক্রবর্তী আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এর পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে পরিতোষ বাবুর বন্ধু পরিমল চক্রবর্তী একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সেইখানে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, বিছানা প্রভৃতি মৃতব্যক্তির নামে মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয়। সবশেষে পিণ্ডদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়, যা পাঠ্যবইয়ের আদ্যশ্রাদ্ধের সাথে মিল রয়েছে।
আদ্যশ্রাদ্ধের যে শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্ব আছে তা নয়, পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট। কেউ মারা গেলে পড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন যেমন দেখতে আসেন তেমনি মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তার পরিবার, জ্ঞাতিবর্গের দুঃখের সাথে একাত্ম হন। এতে মানুষের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। সকলেই সমব্যথী হয়। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের একটি মিলনমেলাও হয়। একজনের প্রতি আরেক জনের শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়ে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আদ্যশ্রাদ্ধের গুরুত্ব রয়েছে।
সুবল ছিল হরিভক্ত। কিন্তু তার বাবা ছিলেন হরিবিদ্বেষী । এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায় মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সুবলকে বিভিন্নভাবে হত্যা করার চেষ্টা করে। অপরদিকে এক গ্রামে বাস করতেন এক গরিব লোক। পাশের বন থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কখনো অসৎ কাজ করতেন না। গরিব লোকটির দারিদ্র্য দূর হলো।
৪. নৈতিক মূল্যবোধ কী?
ধার্মিকের স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
সুবলের চরিত্রের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।
গরিব লোকটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা মন্দ কাজ তা বিচার করার বিবেচনা শক্তিকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে।
(খ)
ধার্মিক ব্যক্তি ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ অনুসারে ধর্মের পথে চলেন। ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ যার মধ্যে প্রকাশ পায় তিনিই ধার্মিক। তিনি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। ধার্মিক ব্যক্তি কখনো ধৈর্য হারান না। তিনি মানুষকে ক্ষমা করেন। তিনি দম্ভ দ্বারা পরিচালিত হন না।
(গ)
সুবলের চরিত্রের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের প্রহ্লাদ চরিত্রের মিল রয়েছে।
সত্যযুগে দৈত্যদের রাজা ছিল হিরণ্যকশিপু। দৈত্যরা চিরকাল দেবতাদের প্রতি রুষ্ট ছিল। কিন্তু দেবতাবিদ্বেষী হিরণ্যকশিপুর ঘরেই জন্ম নিয়েছিলেন হরিভক্ত প্রহ্লাদ। দম্ভ ও কর্তৃত্বের জোরে হিরণ্যকশিপু নিজের হরিভক্ত পুত্রকে বারংবার মারতে উদ্যত হয়। কিন্তু সে এই পাপকার্যে সফল হয়নি। উদ্দীপকেও দেখা যায় বিত্তশালী ও শক্তিশালী রাজন নিজেকে সর্বময় ক্ষমতায় অধিকারী মনে করে। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস নেই বলে সে হরিভক্ত আপনজনকে বারবার মারার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে সে সফল হয়নি।
উদ্দীপকে সুবল ছিল হরিভক্ত। কিন্তু তার বাবা ছিলেন হরিবিদ্বেষী। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায় মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সুবলকে বিভিন্নভাবে হত্যা করার চেষ্টা করে। প্রহ্লাদের চরিত্রে যেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সুবলের মধ্যেও সেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই বলা যায়, সুবলের চরিত্রের সাথে প্রহ্লাদ চরিত্রের মিল রয়েছে।
(ঘ)
গরিব লোকটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের গরিব কাঠুরিয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে এক গ্রামে বাস করতেন এক গরিব লোক। পাশের বন থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কখনো অসৎ কাজ করতেন না। গরিব লোকটির দারিদ্র্য দূর হলো। যা পাঠ্যবইয়ের গরিব কাঠুরিয়ার সাথে মিল রয়েছে।
একদিন এক কাঠুরিয়া বনে কাঠ কাটার সময় তার কুঠারটি অসাবধানতাবশত নদীর জলে পড়ে যায়। কুঠারের শোকে সে মনের দুঃখে কাঁদতে লাগল। এমন সময় জলের ভেতর থেকে জলদেবতা উঠে আসল এবং বিস্তারিত শুনে জলে ডুব দিল। এরপর একবার সোনার কুঠার এবং আর একবার রুপার কুঠার নিয়ে উঠল। দুবারই কাঠুরিয়া প্রত্যাখ্যান করল। তখন জলদেবতা লোহার কুঠারটি নিয়ে এলে সেটিকে সে তার নিজের বলে দাবি করল। এতে খুশি হয়ে জলদেবতা কাঠুরিয়াকে তিনটি কুঠারই দিলেন। সোনা ও রুপার কুঠার দুটি বিক্রি করে কাঠুরিয়ার দুঃখ লাঘব হলো।
সুতরাং বলা যায়, গরিব লোকটির সাথে গরিব কাঠুরিয়ার ঘটনার মিল রয়েছে।

অধ্যায়-৮: ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।