অধ্যায়-৯: ধর্মপথ ও আদর্শ জীবন

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৯: ধর্মপথ ও আদর্শ জীবন - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১৩টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো:
উদ্দীপকের ছবি
১. মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ কে নির্দেশ করেছেন?
যোগ সাধনায় আসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
প্রদর্শিত ছবিটির ধারণা ও পদ্ধতি বর্ণনা কর।
প্রদর্শিত ছবিটি নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে এর কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ মহর্ষি পতঞ্জলি নির্দেশ করেছেন।
(খ)
আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয়। একটা স্থির ও সুখকর ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। আসনে শরীরে ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন। আসন নানা প্রকার। যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি। এই আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করেন। যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
(গ)
প্রদর্শিত ছবিটিতে অর্ধকূর্মাসনকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি হলো-
কূর্ম অর্থ হলো কচ্ছপ। এই আসন অনুশীলনকালে দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলা হয়। এ আসনটি অনুশীলনের নিয়ম হলো প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়। তখন দুই হাঁটু আর দুই পায়ের পাতা জোড়া লাগানো থাকে, নিতম্ব থাকে গোড়ালির উপরে। পায়ের তলা থাকে উপর দিকে ফেরানো। এসময় হাত হাঁটুর উপর আরাম করে পাতা থাকবে। হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সমস্ত অংশ মাটিতে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলতে হবে। নমস্কার করার ভঙ্গিতে এক হাতের তালু আর এক হাতের তালুর সাথে লাগিয়ে এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আর এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল জড়িয়ে ধরতে হবে।
হাত দুটো দুই কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে। এবার হাত সোজা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং হাতের সংযুক্ত তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে রাখতে হবে। এ সময় যাতে নিতম্ব গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে এবং পেটে, বুকে, পাঁজরের দুইপাশে ও উরুতে হালকা চাপ পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় নিশ্চল হয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে। তারপর হাত পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিন বার করতে হবে।
(ঘ)
অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
অর্ধকূর্মাসন অনুশীলন করলে শরীর অনেক শিথিল হয়, মেরুদণ্ড সতেজ হয়, পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো সবল ও সক্রিয় হয়। আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে। মস্তিষ্ক শান্ত হয়। যকৃৎ ভালো থাকে। অজীর্ণ, অম্বল, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয়। হজমশক্তি বাড়ে। পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে। হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের উপকার হয়। পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে। কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয়। পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে। পেট ও উরুর পেশি সবল হয়।
অর্ধকূর্মাসনের কারণে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে। শারীরিক সুস্থতার কারণে মানসিক শান্তিও বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এই আসন অনুশীলনে মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং ব্যক্তি সুখ ও দুঃখ সমানভাবে গ্রহণ করার উপযোগিতা অর্জন করে। এ আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আসনকারী আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়, ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন হয়।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অর্ধকূর্মাসনের সঠিক অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানটিতে সে ভাইয়ের হাতে ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দেয়। অন্যদিকে সুমনাদের বাড়িতে একটি ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি মূলত বৈষ্ণবীয় অনুষ্ঠান নামে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে একে অপরকে আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেয়। এ উপলক্ষ্যে বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটে।
২. বাংলার বাইরে 'দোলযাত্রা' কী নামে পরিচিত?
'দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান'- বুঝিয়ে লেখো।
শুভ্রা কোন ধর্মাচার পালন করে? ব্যাখ্যা করো।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুমনার পালনকৃত অনুষ্ঠানটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বাংলার বাইরে 'দোলযাত্রা' হোলি উৎসব নামে পরিচিত।
(খ)
দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
দেহকে আশ্রয় করে আত্মার অভিযাত্রা। আবার, আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব হয়। দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয়, আত্মাহীন দেহ জড়। অর্থাৎ জড় বস্তুর আত্মা নেই তাই নিশ্চল, প্রাণহীন ও ক্রিয়াহীন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণের উক্তিতে জানা যায়- আত্মা জন্মহীন, মৃত্যুহীন শাশ্বত, পুরাতন হয়েও চির নতুন। মানুষ পুরাতন কাপড় পরিত্যাগ করে যেমন নতুন কাপড় পরিধান করে, আত্মাও তেমনি পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহে প্রবেশ করে। আত্মার এই দেহ পরিবর্তনকে জন্ম ও মৃত্যু বলে। তাই দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
(গ)
শুভ্রা রাখীবন্ধন ধর্মাচার পালন করেন।
'রাখী' কথাটি রক্ষা শব্দ থেকে উৎপন্ন। হিন্দু ধর্মাচারের মধ্যে রাখীবন্ধন অন্যতম। এদিন বোনেরা তাদের ভাইদের হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। ভাই-বোনের মধ্যকার আজীবন ভালোবাসার প্রতীক বহন করে এই রাখীবন্ধন। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয় এবং এতে ভাই-বোনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ পর্বটি পালন করা হয় বিধায় এ দিনটি রাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
উদ্দীপকে শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানটিতে সে ভাইয়ের হাতে ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দেয়। যা পাঠ্যবইয়ের রাখীবন্ধনের মিল রয়েছে, তাই বলা যায়, শুভ্রা রাখীবন্ধন ধর্মাচার পালন করেন।
(ঘ)

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুমনার পালনকৃত দোলযাত্রা অনুষ্ঠানটির প্রভাব অপরিসীম।
ফাল্গুনি পূর্ণিমার দিন এ উৎসব পালন করা হয়। এ দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর কুমকুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। তারপর গৃহের সকলে পরস্পরকে রং বা আবীর মাখিয়ে আনন্দ করে। এতে পরিবারের বিদ্যমান যেকোনো দ্বন্দ্ব একে অপরকে আবীর দিয়ে রাঙানোর মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। তারপর গৃহের আবীর খেলা শেষ হলে বাড়ির বাইরে সকলে বের হয় রং খেলার জন্য।

এ দিন সকল আত্মীয়-স্বজনরা রং খেলার (হোলি) জন্য বাড়িতে জড়ো হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাড়াপড়শীরাও রং খেলার জন্য অন্য সকলের সাথে যোগ দেয়। এছাড়া ফাল্গুন মাসের শুক্লা চতুর্দশীর দিন 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গলকে দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়।
দোলযাত্রা উৎসব সকল ভেদাভেদ ভুলে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। আমাদের চারপাশকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে। এ উৎসবের দিন সকলে শত্রু-মিত্র নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন রং খেলায় মত্ত হয়ে সকল বিভেদ ভুলে যায়। সকলেই হয়ে যায় একাত্ম। এটাই দোল উৎসবের সর্বজনীনতা।

নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো:
উদ্দীপকের ছবি
৩. স্তেয় কাকে বলে?
প্রত্যাহার বলতে কী বোঝায়?
চিত্র : ১ এর আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
চিত্র : ২ এর আসন অনুশীলনের মাধ্যমে মানবজীবনে কী কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় বা চুরি বলে।
(খ)
প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া।
বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয়। এমতাবস্থায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করে সমাধি লাভকে যোগ বলা হয়। আর যোগসাধনার মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গুলোকে বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে প্রত্যাহার করতে পারে।
(গ)
চিত্র-১ এর আসনটি হলো হলাসন। এ আসনটি অনুশীলন পদ্ধতি
বর্ণনা করা হলো -
'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হল অর্থাৎ লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। এ আসনটি অনুশীলন পদ্ধতি হলো- পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে। হাত দুটো সোজা করে শরীরের দু পাশে রাখতে হবে। এবার নিশ্বাস ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে যেন পায়ের আঙ্গুলগুলো মাটি স্পর্শ করতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে আসনটি তিন বার অনুশীলন করতে হবে।
(ঘ)
চিত্র-২ এর আসনটি হলো বৃক্ষাসন। এ আসন অনুশীলনের মাধ্যমে মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবপড়ে।
বৃক্ষাসন অনুশীলনকালে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো দেখায় বলে একে বৃক্ষাসন বলা হয়। এ আসন অনুশীলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলন করার ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পায়ে জোর পাওয়া যায়, চলাফেরা করার ক্ষমতা বাড়ে। উরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
বৃক্ষাসন অনুশীলন করলে হাতের ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। হাঁটু, কনুই, বগল সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রীতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ও গ্রন্থি সবল ও নমনীয় হয়। পায়ের ব্যথায় বিশেষ উপকার পাওয়া যায় এবং পায়ে কোনো দিন বাত হতে পারে না। যাদের হাত-পা কাঁপে, বিশেষ করে পা দুর্বল তাদের জন্য বৃক্ষাসন অনুশীলন খুবই সহায়ক। অনেকের রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল থাকার দরুন বা অন্য কোনো কারণে পায়ের ধমনিতে শক্ত হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলনে তা রোধ করা যায়। ফলে থ্রম্বোসিস হতে পারে না।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলন শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমরা এ আসনটি নিয়মিত অনুশীলন করব।
অয়ন ও অর্পা দুই ভাই-বোন। তারা দুজনে নিয়মিত যোগাসন অনুশীলন করে। অয়ন পেটের বায়ুর প্রকোপ কমানোর জন্য একটি আসন অনুশীলন করে। অপরদিকে, অর্পা যে আসনটি অনুশীলন করে তাতে তার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৪. আসন কাকে বলে?
অষ্টাঙ্গযোগ বলতে কী বোঝায়?
অয়ন তার পেটের বায়ুর প্রকোপ কমতে কোন আসনটি অনুশীলন করে? ব্যাখ্যা করো।
অর্পার অনুশীলনকৃত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে।
(খ)
মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের যে আটটি ধাপকে নির্দেশ করেছেন, সেগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গযোগ বলে।
অষ্টাঙ্গযোগ যোগসাধনার এমন একটি পথ যাতে প্রতি মানুষ নির্ভয়ে পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে চলতে পারে। নিজেদের জীবন সুখ-শান্তি ও আনন্দের মাধ্যমে কাটাতে পারে। মহর্ষি পতঞ্জলি বলেন যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি এই আটটি যোগের অঙ্গ। এগুলো একত্রে অষ্টাঙ্গযোগ নামে পরিচিত।
(গ)
অয়ন তার পেটের বায়ুর প্রকোপ কমাতে অর্ধকূর্মাসন আসনটি অনুশীলন করে।
কূর্ম অর্থ হলো কচ্ছপ। এই আসন অনুশীলনকালে দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলা হয়। এ আসনটি অনুশীলনের নিয়ম হলো প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়। তখন দুই হাঁটু আর দুই পায়ের পাতা জোড়া লাগানো থাকে, নিতম্ব থাকে গোড়ালির উপরে। পায়ের তলা থাকে উপর দিকে ফেরানো। এসময় হাত হাঁটুর উপর আরাম করে পাতা থাকবে। হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সমস্ত অংশ মাটিতে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলতে হবে। নমস্কার করার ভঙ্গিতে এক হাতের তালু আর এক হাতের তালুর সাথে লাগিয়ে এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আর এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল জড়িয়ে ধরতে হবে।
হাত দুটো দুই কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে। এবার হাত সোজা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং হাতের সংযুক্ত তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে রাখতে হবে। এ সময় যাতে নিতম্ব গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে এবং পেটে, বুকে, পাঁজরের দুইপাশে ও উরুতে হালকা চাপ পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় নিশ্চল হয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে। তারপর হাত পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিন বার করতে হবে।
উদ্দীপকে অয়ন পেটের বায়ুর প্রকোপ কমানোর জন্য একটি আসন অনুশীলন করে, যা অর্ধকূর্মাসনকে নির্দেশ করে।
(ঘ)
অর্পার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো বৃক্ষাসন।
উদ্দীপকে অর্পা যে আসনটি অনুশীলন করে তাতে তার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বৃক্ষাসনের ফলেই তার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বৃক্ষাসন অনুশীলনকালে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের মতো দেখায় বলে একে বৃক্ষাসন বলা হয়। এ আসন অনুশীলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলন করার ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পায়ে জোর পাওয়া যায়, চলাফেরা করার ক্ষমতা বাড়ে। উরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
বৃক্ষাসন অনুশীলন করলে হাতের ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। হাঁটু, কনুই, বগল সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রীতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ও গ্রন্থি সবল ও নমনীয় হয়। পায়ের ব্যথায় বিশেষ উপকার পাওয়া যায় এবং পায়ে কোনো দিন বাত হতে পারে না। যাদের হাত-পা কাঁপে, বিশেষ করে পা দুর্বল তাদের জন্য বৃক্ষাসন অনুশীলন খুবই সহায়ক। অনেকের রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল থাকার দরুন বা অন্য কোনো কারণে পায়ের ধমনিতে শক্ত হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলনে তা রোধ করা যায়। ফলে থ্রম্বোসিস হতে পারে না।
সুতরাং বলা যায়, অর্পা বৃক্ষাসন অনুশীলন করে।

অধ্যায়-৯: ধর্মপথ ও আদর্শ জীবন আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।