অধ্যায়-১০: অবতার ও আদর্শ জীবন চরিত

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-১০: অবতার ও আদর্শ জীবন চরিত - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৬৯টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

আনন্দ অত্যন্ত ধর্মানুরাগী। সে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করে। সে নিত্য গীতা পাঠ করে। সে ঈশ্বরের স্বরূপ জানতে আরও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা শুরু করে। সে এসব পড়ে জানতে পারে ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান ঈশ্বরের বিভিন্ন নাম। ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
১. ভগবান কে?
"ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস”-ব্যাখ্যা কর।
আনন্দ স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে কী জেনেছিল বর্ণনা কর।
আনন্দ স্রষ্টা অবতাররূপে যে পৃথিবীতে নেমে আসতেন তার কারণ জানতে পারল, তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
যিনি ভূতগণের উৎপত্তি, বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহলোকে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা জানেন তিনিই ভগবান।
(খ)
হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছে ভগবান স্বয়ং। 'ধর্মমূলো হি ভগবান, সর্ববেদময়ো হরিঃ।' ঈশ্বর আছেন। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সকল জীবের অন্তরাত্মা। সবকিছুই তার থেকে সৃষ্ট। সুতরাং ঈশ্বরই ধর্মের মূল উৎস।
(গ)
আনন্দ ঈশ্বররূপে স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে জেনেছিল।
ব্রহ্ম যখন জীব জগতের উপর প্রভুত্ব করেন তখন তাঁকে ঈশ্বর বলে। ঈশ্বর জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। এই জন্য তাঁকে পরমেশ্বর বলা হয়। ঈশ্বরের রূপের শেষ নেই। তিনি অনন্তরূপী; জ্ঞানীর কাছে তিনি ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরামাত্মা এবং ভক্তের কাছে তিনি ভগবান। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ঈশ্বর অনন্ত অসীম। তাঁর কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি শাশ্বত, তিনি নিত্য, শুদ্ধ ও পরম পবিত্র। তিনি সকল কর্মের ফলদাতা। যে যে রকম কর্ম করে তিনি তাকে সে রকম ফল দিয়ে থাকেন। ঈশ্বর নিরাকার। প্রয়োজনে তিনি সাকার হতে পারেন। কারণ অনন্ত তাঁর শক্তি। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজ করেন। ঋগবেদ অনুসারে তিনি পরম পুরুষ, তাঁর সহস্র, মস্তক, সহস্র চক্ষু, সহস্র চরণ। এ কথার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতাই বোঝানো হয়েছে। তিনি অদ্বিতীয়। তিনি জ্যোতিঃস্বরূপ, তিনি সকলের মধ্যে বিরাজ করেন।
সুতরাং বলা যায়, আনন্দ স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কে উপরিউক্ত বিষয়গুলো জেনেছিল।
(ঘ)
আনন্দ স্রষ্টা অবতাররূপে যে পৃথিবীতে নেমে আসতেন তার কারণ জানতে পারল, পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো-হিন্দুধর্মে অবতার বলতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে স্বেচ্ছায় নিরাকার ঈশ্বরের জীব বা সাকাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়াকে বোঝানো হয়। এই সকল 'অবতার' সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও অতিলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন। 'অবতার' শব্দটি তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জীবরূপে মর্ত্যে ঈশ্বরের অবতরণ। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন। যেমন- নৃসিংহ, রাম, শ্রীকৃষ্ণ প্রভৃতি ঈশ্বরের অবতার। ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরম সত্তা বা পরমেশ্বর থেকে উদ্ভূত সকল অবতারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে, ভগবান বিষ্ণু অনেকবার অবতার হিসেবে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এ পৃথিবীতে এসেছেন। বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু নয়বার অবতার হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। কলিযুগের শেষে তিনি কল্কিরূপে দশম অবতার হিসেবে অবতীর্ণ হবেন। পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীতে যখন অত্যাচার, অনাচার বিরাজ করে তখন ঈশ্বর অবতাররূপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মর্তে নেমে আসেন এবং দুষ্টের দমন করেন।
লাবণ্য প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে, শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে, ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে পূজা করেন। পূজা শেষে প্রতিদিন গীতা ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেন। অন্যদিকে তার স্বামী অতনু বাবু প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। তাঁরা উভয়েই মনে করেন "মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।"
২. উপাসনা কাকে বলে?
সাকার উপাসনা বলতে কী বোঝ?
অতনু বাবুর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।
"মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"-মন্তব্যটি উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে যথার্থতা নিরূপণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে।
(খ)
ঈশ্বরের কোনো গুণ বা আকারের উপাসনা করার পদ্ধতিকে সাকার উপাসনা বলে।
মূলত এ ধরনের উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমাকে (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি) উদ্দেশ্য করেই করা হয়। প্রতীক উপাসনা সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি প্রকৃতিতে প্রকাশিত। পূজা করাকে সগুণ উপাসনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
(গ)
অতনু বাবুর ঈশ্বর আরাধনার পদ্ধতিকে নিরাকার উপাসনা বলা হয়।
'নিরাকার' শব্দের অর্থ যার কোনো আকার নেই। মূলত এ ধরনের উপাসনা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে করা হয়। জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ। এ উপাসনা ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতিকে উদ্দেশ্য করে করা হয় না। নিরাকাররূপে ঈশ্বর অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করেন। তাঁকে উপলব্ধি করে তাঁর উপাসনা করা হয়। হিন্দুধর্মালম্বী কেউ নিরাকার, কেউবা সাকার উপাসনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে পূজা বা আরাধনা করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অতনু বাবু প্রতিদিন সকালে ধ্যানে বসে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। যা নিরাকার উপাসনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, অতনু বাবুর আরাধনার পদ্ধতিকে নিরাকার উপাসনা বলে।
(ঘ)
"মানব জীবনে উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম”- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে উপাসনার গুরুত্বকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
উপাসনা আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে এবং মনে সুন্দর অনুভূতির সৃষ্টি করে। উপাসনার মধ্য দিয়ে আমাদের মনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে আমরা যেকোনো ভাবাবেগ দ্বারা সহজেই তাড়িত হই না। এছাড়া উপাসনার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর ও ভক্তের মধ্যে এক অনাবিল চেতনার সৃষ্টি হয়।
উপাসনার মধ্য দিয়ে শুধু যে ভক্ত আর ভগবানের মধ্যে সেতুবন্ধ রচিত হয় তা নয়। উপাসনার মধ্য দিয়ে মানুষ সত্য পথে পরিচালিত হয়। ব্যক্তির মধ্যে অহং, আমিত্ব ভাব ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। অপরদিকে উপাসনার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি মোক্ষলাভ করতে পারে। এর ফলে ব্যক্তির চিরমুক্তি ঘটে। তার আর পুনর্জন্ম হয় না।
তাই সার্বিক আলোচনা অন্তে বলা যায়, দৈনন্দিন জীবনে উপাসনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের সকলের নিয়মিত উপাসনা করতে হবে।
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো:
উদ্দীপকের ছবি
৩. মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ কে নির্দেশ করেছেন?
যোগ সাধনায় আসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
প্রদর্শিত ছবিটির ধারণা ও পদ্ধতি বর্ণনা কর।
প্রদর্শিত ছবিটি নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে এর কী প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ মহর্ষি পতঞ্জলি নির্দেশ করেছেন।
(খ)
আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয়। একটা স্থির ও সুখকর ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। আসনে শরীরে ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন। আসন নানা প্রকার। যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি। এই আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করেন। যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
(গ)
প্রদর্শিত ছবিটিতে অর্ধকূর্মাসনকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি হলো-
কূর্ম অর্থ হলো কচ্ছপ। এই আসন অনুশীলনকালে দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলা হয়। এ আসনটি অনুশীলনের নিয়ম হলো প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসতে হয়। তখন দুই হাঁটু আর দুই পায়ের পাতা জোড়া লাগানো থাকে, নিতম্ব থাকে গোড়ালির উপরে। পায়ের তলা থাকে উপর দিকে ফেরানো। এসময় হাত হাঁটুর উপর আরাম করে পাতা থাকবে। হাঁটু থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত সমস্ত অংশ মাটিতে লেগে থাকবে। এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলতে হবে। নমস্কার করার ভঙ্গিতে এক হাতের তালু আর এক হাতের তালুর সাথে লাগিয়ে এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আর এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল জড়িয়ে ধরতে হবে।
হাত দুটো দুই কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে। এবার হাত সোজা রেখে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং হাতের সংযুক্ত তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে রাখতে হবে। এ সময় যাতে নিতম্ব গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে এবং পেটে, বুকে, পাঁজরের দুইপাশে ও উরুতে হালকা চাপ পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় নিশ্চল হয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে। তারপর হাত পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিন বার করতে হবে।
(ঘ)
অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।
অর্ধকূর্মাসন অনুশীলন করলে শরীর অনেক শিথিল হয়, মেরুদণ্ড সতেজ হয়, পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো সবল ও সক্রিয় হয়। আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে। মস্তিষ্ক শান্ত হয়। যকৃৎ ভালো থাকে। অজীর্ণ, অম্বল, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয়। হজমশক্তি বাড়ে। পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে। হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের উপকার হয়। পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে। কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয়। পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে। পেট ও উরুর পেশি সবল হয়।
অর্ধকূর্মাসনের কারণে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে। শারীরিক সুস্থতার কারণে মানসিক শান্তিও বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এই আসন অনুশীলনে মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং ব্যক্তি সুখ ও দুঃখ সমানভাবে গ্রহণ করার উপযোগিতা অর্জন করে। এ আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আসনকারী আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়, ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন হয়।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য অর্ধকূর্মাসনের সঠিক অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শ্যামল খুব মেধাবী এবং ভালো ছাত্র ছিল। সে অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে অর্থ জোগাড় করার জন্য সে চুরি এবং মিথ্যার আশ্রয় নিতে থাকে। তার বাবা-মা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে শ্যামলকে মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দেন।
৪. নমস্কার কত প্রকার?
মাদক গ্রহণ কেন অধর্ম? বুঝিয়ে লেখ।
শ্যামলের এই অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায়গুরো আলোচনা কর।
'অসৎ সঙ্গের দৌরাত্ম্যে মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে'-পাঠ্যপুস্তক এবং শ্যামলের জীবনের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
নমস্কার তিন প্রকার।
(খ)
মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিসাধন করে- এসব কারণে মাদক গ্রহণ অধর্ম।
মাদকদ্রব্য গ্রহণে শরীরে নানা রোগের সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে। বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়। ফলে মানুষ নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেকে অসৎ উপায় অবলম্বন করে। মাদক গ্রহণকারীরা পরিবার ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায়। এসব অন্যায়ের কারণে মাদক গ্রহণ অধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
(গ)
ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে শ্যামলের মাদকাসক্তি প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। মাদকাসক্তির প্রতিকার ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পারিবারিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য শ্যামলের পরিবারের সকল সদস্যকে বোঝাতে হবে যে আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করছেন। তাই কোনোভাবেই দেহকে অপবিত্র করা যাবে না। হিন্দু ধর্মানুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপসমূহের অন্যতম। এ সব ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দান করে মাদকাসক্তির প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
শ্যামলকে শুধু শাসন নয়, সচেতনও করতে হবে। তাকে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কেননা ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে জীবন পবিত্র হয়। তাই বলা যায়, এ সব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শ্যামলের মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।
(ঘ)
মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে অসৎ সঙ্গীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
আমরা জানি, মাদকাসক্তি অনৈতিক ও অধর্মের পথ। কারণ মাদকদ্রব্য মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়। মাদক গ্রহণকারীর স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে দেখে অনেকেই এর দিকে আকৃষ্ট হতে পারে। কেননা মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে সঙ্গী-সাথিদের অত্যধিক প্রভাব রয়েছে।
মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি। বর্তমান সমাজের অনেক তরুণ অসৎ সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই ঘৃণ্য বিষয়টির সাথে জড়িয়ে পড়েছে। বস্তুত মানুষের জীবনে সঙ্গীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। একটি প্রবাদ আছে 'সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।' এ কারণে কেউ যদি বন্ধু হিসেবে খারাপ চরিত্রের কাউকে বেছে নেয় তবে আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে এটা প্রকট আকার ধারণ করে। কেউ মাদকাসক্ত ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করলে তারও মাদকাসক্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়। অনেক সময় মাদকাসক্ত সঙ্গীকে দেখে কৌতূহলবশত তার বন্ধুরা মাদক গ্রহণ করতে পারে যা শেষ পর্যন্ত আসক্তিতে পরিণত হয়। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা স্পষ্ট যে, মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে অসৎ সঙ্গীদের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এর ফলে একজন অন্যজনকে মাদকাসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। যার দৃষ্টান্ত আমরা শ্যামলের জীবনে দেখতে পাই।

অধ্যায়-১০: অবতার ও আদর্শ জীবন চরিত আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।