অধ্যায়-৪: হিন্দুধর্মে সংস্কার

এসএসসি · হিন্দুধর্ম শিক্ষা

অধ্যায়-৪: হিন্দুধর্মে সংস্কার - হিন্দুধর্ম শিক্ষা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

৯টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ্য করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
১. সমাবর্তন কাকে বলে?
বিবাহের মূল পর্ব কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-১ এর বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
চিত্র-২ এর উল্লিখিত সংস্কারটির গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, তাকে সমাবর্তন বলে।
(খ)

বিবাহের মূল পর্বই হচ্ছে সম্প্রদানপর্ব।

বিবাহের নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে বর ও কনেকে বিয়ের পিঁড়িতে মুখোমুখি বসতে হয়; বর পূর্বমুখী এবং কনে পশ্চিমমুখী হয়ে বসে। যিনি কন্যা সম্প্রদান করবেন তিনি উত্তরমুখী হয়ে বসেন। পুত্তলি অঙ্কিত, আম্রপল্লবে সুশোভিত এবং গঙ্গাজলপূর্ণ একটি ঘটের উপর বরের চিৎ করা ডান হাতের উপর কনের ডান হাত স্থাপন করা হয়। এরপর লাল গামছায় বাঁধা পাঁচটি ফল, কুশপত্র ও ফুলের মালা দিয়ে হাত দুটি বেঁধে দেওয়া হয়। সম্প্রদানকর্তা দেবতাদের নাম উচ্চারণপূর্বক উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও আনন্দঘন মাঙ্গলিক পরিবেশের মধ্যে কন্যা সম্প্রদান সম্পন্ন করেন।

(গ)

উদ্দীপকের চিত্র-১ এর বিষয়টি হিন্দুধর্মের পারলৌকিক সংস্কার 'আদ্যশ্রাদ্ধ'-কে নির্দেশ করে।

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল উত্তীর্ণ হলে তার পরদিন এই শ্রাদ্ধের আয়োজন করা হয়। আদ্যশ্রাদ্ধের পূর্ণ নাম 'আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ'। একজন মাত্র মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে করা হয় বলেই এর এরূপ নাম। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধে প্রথমে প্রদীপ প্রজ্বলিত করে বাস্তুপুরুষ, যজ্ঞেশ্বর ও ভূস্বামীর পূজা করতে হয়। এরপর মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা ও বিছানা প্রভৃতি শ্রদ্ধাসহকারে উৎসর্গ করা হয় এবং পিণ্ডদান করে শ্রাদ্ধ সমাপ্ত করা হয়।

উদ্দীপকের চিত্র-১ এ দেখা যায়, একজন পুরোহিতের উপস্থিতিতে ও তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় আচার মেনে মৃত ব্যক্তির পারলৌকিক মঙ্গলের জন্য শ্রদ্ধাসহকারে বিভিন্ন সামগ্রী উৎসর্গ ও দান করা হচ্ছে। সুতরাং চিত্র-১ এর বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

(ঘ)

উদ্দীপকের চিত্র-২ এ প্রদর্শিত সংস্কারটি হলো 'বিবাহ'। হিন্দু সমাজ ও ধর্মীয় জীবনে এ সংস্কারটির গুরুত্ব অপরিসীম।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে মানবজীবনের দশবিধ সংস্কারের মধ্যে বিবাহই সর্বশ্রেষ্ঠ। হিন্দুবিবাহ কেবল কোনো সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি জীবনের পবিত্রতম মাঙ্গলিক অধ্যায় ও ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী হচ্ছেন পুরুষের সহধর্মিণী; স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই এককভাবে সম্পন্ন হয় না। বিবাহের মাধ্যমে বর ও বধূ অগ্নির সম্মুখে ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণের পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে আমৃত্যু সুখে-দুঃখে একাত্ম হয়ে থাকার প্রতিজ্ঞা করে।

বিবাহের মাধ্যমেই গার্হস্থ্যজীবনের সূচনা হয়। এর দ্বারা স্বামী সন্তানের জনক হিসেবে পিতৃত্ব এবং স্ত্রী জননীরূপে মাতৃত্ব লাভ করেন। মাতা, পিতা, পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার। এই পারিবারিক পরিমণ্ডলকে কেন্দ্র করেই মানুষের মধ্যকার প্রেম-প্রীতি, স্নেহ, মায়া-মমতা ও বাৎসল্যের মতো সুকুমার বৃত্তিগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে বিকশিত হয়। পরিবারের সকল সদস্যের ভরণ-পোষণ ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিকতার বিকাশ ঘটে, যা আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার হিসেবে কাজ করে।

অতএব, পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তির আত্মিক মুক্তি, সমাজধর্ম পালন এবং পারিবারিক জীবনে স্থিতি ও পূর্ণতা আনয়নে বিবাহ সংস্কারের ভূমিকা অনন্য ও অনস্বীকার্য।

সৌগত রায় একজন স্বনামধন্য ডাক্তার। প্রতিবেশী মিতালি সবেমাত্র এম,এ পাশ করে চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিচ্ছে। মিতালির বাবা উপযুক্ত বয়সে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুঁজছেন। বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে গেলেন পাত্রপক্ষ অনেক টাকা যৌতুক দাবি করলে দরিদ্র পিতার পক্ষে তা সম্ভম্ব না হওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায়। এমতাবস্থায় সৌগত রায় বিনা পণে মিতালিকে বিবাহ করে। সৌগত রায় মনে করে, "যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ।”
২. পূরকপিণ্ড কাকে বলে?
সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হয় কেন?
সৌগত রায় এবং মিতালির বিবাহ অনুষ্ঠানের পর্বসমূহ বর্ণনা কর।
“যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ”-সৌগত রায়ের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ দিনে ও দশম দিনে পিণ্ড দান করতে হয়। এই পিণ্ডকে বলা হয় পূরকপিণ্ড।
(খ)
বিশেষত শিক্ষাজীবনের পরবর্তী সময়ে নিজেকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শিক্ষক বা গুরুর উপদেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেননা শিক্ষার্থীকে ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা যেসব মূল্যবান উপদেশ দেন তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের দিকনির্দেশনাস্বরূপ। তাই সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হয়।
(গ)
সৌগত রায় এবং মিতালির বিবাহ অনুষ্ঠানের পর্বসমূহ বর্ণনা করা
হলো-
হিন্দু বিবাহের কিছু বিধিবিধান শাস্ত্রীয়, কিছু অনুষ্ঠান স্ত্রী-আচার। হিন্দুবিবাহ কোনো চুক্তি নয়, জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, গুরু, পুরোহিত, আত্মীয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণকে সাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনির মাধ্যমে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় যজ্ঞ এবং কতগুলো লোকাচারের মাধ্যমে।
বিবাহ অনুষ্ঠানের অনেক পর্ব আছে। যেমন- আশীর্বাদ, অধিবাস, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ, গায়ে হলুদ (গাত্র হরিদ্রা), বর-বরণ, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সম্প্রদান, যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা, সিঁথিতে বিবাহ চিহ্ন, সপ্তপদীগমন, বাসি বিয়ে, অষ্টমঙ্গলা প্রভৃতি। এর মধ্যে কিছু পর্ব শাস্ত্রীয়, আর কিছু অঞ্চলভেদে লোকাচার।
(ঘ)
"যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ"- সৌগত রায়ের উক্তিটি
যথার্থ।
যৌতুক প্রথা বহুকাল ধরে সমাজে প্রচলিত রয়েছে। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রথার ফলে অনেক পরিবারের সুখ-শান্তি চিরতরে হারিয়ে যায়।
যৌতুক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে এখনও অনেক পরিবারে নারীদের ওপর চালানো হয় বিভিন্ন নিপীড়ন ও মানসিক নির্যাতন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে কন্যাকে পাত্রস্থ করতে চাইলে কনের বাবাকে পাত্রের বাবার সকল চাহিদা মেটাতে হয়। পণের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেক সময় কনের বাবা তার সর্বস্ব বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। বিয়ের পরও এ প্রথার অবসান হয় না। বরং বিয়ের পরও বউকে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অর্থ-সম্পদ আনতে বাধ্য করা হয়। যৌতুকের জন্য বউয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়ে থাকে। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এ পণপ্রথা নিন্দনীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যৌতুক প্রথা এক ধরনের সামাজিক সমস্যা। তাই এ সমস্যা নির্মূলের জন্য প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সামাজিক প্রতিরোধ এবং নারীকে শিক্ষিত ও সচেতন করে যথাযোগ্য মর্যাদা দান।
সুধীর বাবুর পিতার মৃত্যুতে পনেরো দিন হবিষ্যান্ন ও ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করেন। এরপর শাস্ত্রানুযায়ী পরবর্তী কার্য সম্পাদন করেন। অন্যদিকে সুকেশ বাবুর বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে বারোদিন কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করেন।
৩. শ্রাদ্ধ কাকে বলে?
অন্নপ্রাশন বলতে কী বোঝায়?
সুধীর বাবু কোন বর্ণের লোক? পাঠ্যের আলোকে বর্ণনা করো।
সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু কি একই বর্ণের লোক? পাঠের আলোকে যুক্তি দাও।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয়, তাকে শ্রাদ্ধ বলে।
(খ)
অন্নপ্রাশন অতি পরিচিত একটি হিন্দুধর্মীয় সংস্কার। পুত্রের ষষ্ঠ মাসে এবং কন্যার পঞ্চম, অষ্টম বা দশম মাসে পূজাদি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম অন্নভোজনের নাম অন্নপ্রাশন।
(গ)

সুধীর বাবু বৈশ্য বর্ণের লোক।

'শৌচ' শব্দের অর্থ 'শুচিতা'। সুতরাং 'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে আমাদের অশৌচ হয়। কারণ প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমাদের মন শোকে আচ্ছন্ন হয়। আমাদের চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। তখন আমরা অশুচি হই। মাতা-পিতার মৃত্যুর পর অশৌচ কালে হাবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়। এসময় কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়। অশৌচকালে উঠানে একটি তুলসী গাছ রোপণ করে সেখানে প্রতিদিন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জল ও দুগ্ধ প্রদান করতে হয়। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ দিনে ও দশম দিনে পিণ্ড দান করতে হয়। এই পিণ্ডকে বলা হয় পূরকপিণ্ড। পূরক পিণ্ড দিতে হয় মোট দশটি। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন করে নববস্ত্র পরিধান করতে হয়। অশৌচান্তের দ্বিতীয় দিবসে হয় শ্রাদ্ধ। অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচ পালনের দিবস সংখ্যা বেশি। বৈশ্যের পনেরোদিন অশৌচ পালনের বিধান আছে। তবে বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের বা গোত্রের মানুষ দশ দিন অশৌচ পালন করে একাদশ কিংবা ত্রয়োদশ দিবসে, কেউ কেউ পনের দিন অশৌচ পালন করে ষোড়শ দিবসে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে থাকেন।

উদ্দীপকে সুধীর বাবুর পিতার মৃত্যুতে পনেরো দিন হবিষ্যান্ন ও ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করেন। এরপর শাস্ত্রানুযায়ী পরবর্তী কার্য সম্পাদন করেন। যা পাঠ্য বইয়ের বৈশ্য বর্ণের অশৌচ পালনের মিল রয়েছে। তাই বলা যায় সুধীর বাবু বৈশ্য বর্ণের লোক।

(ঘ)
সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু একই বর্ণের লোক নয়। সুধীর বাবু বৈশ্য বর্ণ এবং সুকেশ বাবু ক্ষত্রিয় বর্ণের লোক।
'শৌচ' শব্দের অর্থ 'শুচিতা'। সুতরাং 'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে আমাদের অশৌচ হয়। কারণ প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমাদের মন শোকে আচ্ছন্ন হয়। আমাদের চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। তখন আমরা অশুচি হই। মাতা-পিতার মৃত্যুর পর অশৌচ কালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়। এসময় কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়।
অশৌচকালে উঠানে একটি তুলসী গাছ রোপণ করে সেখানে প্রতিদিন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জল ও দুগ্ধ প্রদান করতে হয়। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ দিনে ও দশম দিনে পিণ্ড দান করতে হয়। এই পিণ্ডকে বলা হয় পূরকপিণ্ড। পূরক পিণ্ড দিতে হয় মোট দশটি। অশৌচান্তে মস্তক মুণ্ডন করে নববস্ত্র পরিধান করতে হয়। অশৌচান্তের দ্বিতীয় দিবসে হয় শ্রাদ্ধ। অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌছ পালনের দিবস সংখ্যা বেশি। ক্ষত্রিয়দের বারো দিন এবং বৈশ্যের পনেরো দিন অশৌচ পালনের বিধান আছে। সুতরাং বলা যায় যে, সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু একই বর্ণের লোক না।
দৃশ্যকল্প-১: আশিষের বাবা গত রাতে মারা গেছে। আশিষ পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় কাঠ বাঁশের আটি বেঁধে শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানকার সবকাজ সম্পন্ন করে সকলে বাড়ি ফিরে আসে।
দৃশ্যকল্প-২ : বলাইয়ের মা মারা গেছে। বলাই মায়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠান পালন করে। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ডেকে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য-সামগ্রী উৎসর্গ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
৪. জাতকর্ম কাকে বলে?
বিবাহের উল্লেখযোগ্য পর্বের ব্যাখ্যা দাও।
দৃশ্যকল্প-১ এ আশিষের বাবার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন কাজটির পদ্ধতি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
দৃশ্যকল্প-২ এ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বলাইয়ের মায়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পালিত অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
জন্মের পর পিতা যব, যষ্ঠিমধু ও ঘৃতদ্বারা সন্তানের জিহ্বা স্পর্শ করে মন্ত্রোচ্চারণ করেন একে বলে জাতকর্ম।
(খ)
গায়ে হলুদ হিন্দু বিবাহের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বর-কনের স্ব স্ব বাড়িতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হয়। বর বা কনেকে একটি আসনের উপর বসানো হয়। বড়রা ধান, দূর্বা প্রভৃতি দিয়ে আশীর্বাদ করে আর ছোটরা নমস্কার করে গালে, কপালে, হাতে হলুদ মাখিয়ে দেয়। সাথে সাথে মিষ্টিমুখও করানো হয়।
(গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ আশিষের বাবার শবদাহ করার পদ্ধতি
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
শবদেহ দাহ করার জন্য প্রথমে মৃত দেহটিকে বস্ত্রাবৃত করে, মালা ও চন্দনাদি দ্বারা বিভূষিত করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃতদেহের মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে তাকে কুশের ওপর শয়ন করানো হয়। এরপর দাহকারী স্নান করে এসে মৃতদেহের গায়ে তেল ও কাঁচা হলুদ মাখিয়ে স্নান করান। স্নানের পর মৃতদেহকে নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দিতে হয়। এরপর দুই চোখ, দুই কান, নাকের দুই ছিদ্র ও মুখ, এই সপ্তছিদ্রে স্বর্ণ বা কাঁসা দ্বারা আচ্ছাদন করা হয়। তারপর পিণ্ডদান করা হয়। এরপর আমকাঠ ও চন্দনকাঠ দিয়ে চিতা সাজানো হয়। তারপর শবকে চিতায় শয়ন করানো হয় এবং দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ আশিষের বাবা গত রাতে মারা গেছে। আশিষ
পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় কাঠ-বাঁশের আটি বেঁধে শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানকার সবকাজ সম্পন্ন করে সকলে বাড়ি ফিরে আসে। যা শবদাহ কাজের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, আশিষ ধর্মীয় বিধান মেনে শবদাহ কাজটি সম্পন্ন করে।
(ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বলাইয়ের মায়ের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পালিত আদ্যশ্রাদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।
আদ্যশ্রাদ্ধের যে শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্ব আছে তা নয়, পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকেও এর গুরুত্ব যথেষ্ট। কেউ মারা গেলে পড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন যেমন দেখতে আসেন তেমনি মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তার পরিবার, জ্ঞাতিবর্গের দুঃখের সাথে একাত্ম হন। এতে মানুষের মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। সকলেই সমব্যথী হয়। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের একটি মিলনমেলাও হয়। একজনের প্রতি আরেক জনের শ্রদ্ধা ভালোবাসা বেড়ে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ বলাইয়ের মা মারা গেছে। বলাই মায়ের
আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে একটি অনুষ্ঠান পালন করে। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ডেকে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্যসামগ্রী উৎসর্গ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। যা পাঠ্যবইয়ের আদ্যশ্রাদ্ধের সাথে মিল রয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আদ্যশ্রাদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।

অধ্যায়-৪: হিন্দুধর্মে সংস্কার আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।