-
৯
-
১১
-
২১
-
৩৫
এসএসসি · বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
অধ্যায়-১২: সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯) - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান
৮টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো এবং প্রশ্নের উত্তর দাও:
চিত্রের ঐতিহাসিক ঘটনাটি কোন আন্দোলনকে নির্দেশ করে?
-
ভাষা আন্দোলন
-
৬ দফা আন্দোলন
-
গণঅভ্যুত্থান
-
মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ) গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা:
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পাঠ্যবইয়ের দ্বাদশ অধ্যায় (‘সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯) - ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান’)-এর আলোকে বিশদ বিশ্লেষণ:
১. ঐতিহাসিক চিত্র বিশ্লেষণ:
• উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত হয়েছে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে সাধারণ ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মেহনতি মানুষের উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল।
• এ সময় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দীর্ঘ দশ বছরের সামরিক স্বৈরশাসন, শোষণ, মৌলিক গণতন্ত্র এবং তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে বাঙালিদের কণ্ঠরোধের প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনতা রাস্তায় নেমে আসে।
• ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছাত্র সমাজের ঐতিহাসিক ১১ দফা এবং আইয়ুববিরোধী স্লোগান নিয়ে লাখো জনতার এই উত্তাল মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে সারা বাংলায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।
২. গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও ফলাফল:
• শহীদ আসাদ, কিশোর মতিউর, আনোয়ারা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগের ফলে আন্দোলনটি অপ্রতিরোধ্য গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
• তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করে।
• এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অতএব, চিত্রে প্রদর্শিত ঐতিহাসিক গণমিছিলটি নিশ্চিতভাবেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-কে নির্দেশ করে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা করা হয় এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়। এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। এ প্রদেশগুলোর রাজধানী হয় ঢাকা। অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কলকাতা। যা উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত শাসনকার্যের সুবিধার্থেই বাংলাকে বিভক্ত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি কমাতে এবং সকল ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) দুই ভাগ হচ্ছে। এখানে মূলত বঙ্গভঙ্গের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ বঙ্গভঙ্গের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছেল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে না পারায় এ অঞ্চলের জনগণ শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। কর্মহীনদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা থেকেই সারা ভারতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। সুতরাং কোলকাতাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি, ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলো, অপরদিকে পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলো। এভাবেই লর্ড কার্জন 'বিভেদ ও শাসন' নীতি প্রয়োগ করে যতটা না পূর্ব বাংলার কল্যাণে, তার চেয়ে বেশি ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক নয়, আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারও ছিল বঙ্গভঙ্গের উল্লেখযোগ্য উদ্দেশ্য।
ছক 'ক' ছয় দফা দাবির ১ম দফাকে ইঙ্গিত করছে।
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনে বাঙালি নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বিরোধী দলীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা দাবির ১ম দফাটি হলো- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা হবে সার্বভৌম।
উদ্দীপকের ছক 'ক' উল্লেখিত বিষয়গুলো হচ্ছে- কেন্দ্রীয় আইনসভা, প্রাদেশিক আইনসভা, সংসদীয় পদ্ধতি, ভোটাধিকার, যা ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবির ১ম দফাকে ইঙ্গিত করে।
হ্যাঁ, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ছক 'খ' অপরিহার্য ছিল।
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ছয় দফা দাবির ৩টি দাবি ছিল অর্থনৈতিক সংক্রান্ত। ছক-খ ছয় দফার তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম দফার প্রতি ইঙ্গিত করে। বঙ্গবন্ধু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক মুদ্রাব্যবস্থার কথা তৃতীয় দফায় উল্লেখ করেছেন। প্রদেশের শুল্ক আদায়ের ক্ষমতা চতুর্থ দফায় এবং প্রদেশের বহির্বাণিজ্যের অধিকারের কথা পঞ্চম দফায় উল্লেখ করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তান কখনো অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। প্রাদেশিক সরকারের হাতে মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক, বিমা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে সহজেই সকল অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। এরই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে যার ছয়টি দফার মধ্যে তিনটি দফায় ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ছক 'খ' অপরিহার্য ছিল।