অধ্যায়-৬: মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ)

এসএসসি · বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

অধ্যায়-৬: মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ) - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বহুনির্বাচনি ও বোর্ড সমাধান

১২টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।

১.

মধ্যযুগের বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
i. মসলিন কাপড়
ii. আদা
iii. কাঁচা মরিচ

নিচের কোনটি সঠিক?

  1. i ও ii
  2. খ
    i ও iii
  3. গ
    ii ও iii
  4. ঘ
    i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি 'অধ্যায়-৬: মধ্যযুগে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস' অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও পাঠ্যবইয়ের তথ্যানুযায়ী প্রণীত। সঠিক উত্তর: 'i ও ii'।
২.

নিচের প্রবাহ চিত্রটি লক্ষ করে প্রশ্নের উত্তর দাও:

উপরের প্রবাহ চিত্রের '?' চিহ্নিত স্থানটি বাংলার কোন শাসককে নির্দেশ করছে?

প্রশ্নের ছবি
  1. ক
    ইব্রাহিম শর্কি
  2. খ
    সাইফুদ্দিন হামজা শাহ
  3. গ
    গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. রাজা গণেশ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) রাজা গণেশ

ব্যাখ্যা:
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পাঠ্যবইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায় (‘মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস - ইলিয়াস শাহী ও রাজা গণেশের শাসন’)-এর আলোকে বিশদ বিশ্লেষণ:

১. উদ্দীপকের ঐতিহাসিক পরম্পরা ও ঘটনাক্রম:
• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাইফুদ্দিন হামজা শাহ সিংহাসনে বসেন (১৪১০-১৪১২ খ্রি.)। হামজা শাহ নিহত হলে তাঁর ক্রীতদাস শিহাবউদ্দিন বায়েজিদ শাহ (১৪১২-১৪১৪ খ্রি.) বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• এ সময় ভাতুড়িয়ার প্রভাবশালী হিন্দু অমাত্য রাজা গণেশ অত্যন্ত ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন এবং প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হন।
• ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ সুলতান শিহাবউদ্দিন বায়েজিদ শাহ ও তাঁর পুত্র আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে হত্যা/সিংহাসনচ্যুত করে ইলিয়াস শাহী বংশের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার সিংহাসন সরাসরি দখল করেন।
• পরবর্তীকালে বিখ্যাত সুফি দরবেশ নূর কুতুব উল আলমের মধ্যস্থতায় রাজা গণেশের পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ (জালাল উদ্দিন মাহমুদ) নাম ধারণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন (১৪১৫-১৪৩২ খ্রি.)।

২. প্রবাহ চিত্র বিশ্লেষণ:
$$\text{শিহাবউদ্দিন বায়জিদ শাহ} \longrightarrow [\;\mathbf{?}\;] \longrightarrow \text{জালাল উদ্দিন মাহমুদ}$$
• উদ্দীপকে প্রদর্শিত শিহাবউদ্দিন বায়জিদ শাহ এবং জালাল উদ্দিন মাহমুদের মধ্যবর্তী '?' চিহ্নিত ঐতিহাসিক শাসক হলেন রাজা গণেশ।

অতএব, সঠিক উত্তর হলো ঘ) রাজা গণেশ।

৩. উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও :জমিদার নাফিস তার অঞ্চলের শক্তি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য অশ্বারোহী বাহিনীর পাশাপাশি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন।উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিদার নাফিসের সাথে মধ্যযুগের বাংলার কোন সুলতানের মিল রয়েছে?
  1. ক
    বখতিয়ার খলজি
  2. খ
    মুহম্মদ শিরান খলজি
  3. গিয়াসউদ্দি ইওজ খলজি
  4. ঘ
    আলি মর্দান খলজি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি 'অধ্যায়-৬: মধ্যযুগে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস' অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ও পাঠ্যবইয়ের তথ্যানুযায়ী প্রণীত। সঠিক উত্তর: 'গিয়াসউদ্দি ইওজ খলজি'।
উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
৪. একলাখি মসজিদ কী?
কেন বাংলার মধ্যযুগের মুঘল শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
তথ্য-১ এ নির্দেশিত সমাজের নারীদের অবস্থা বর্ণনা কর।
তুমি কি মনে কর তথ্য-২-এ নির্দেশিত বিষয়ে মধ্যযুগের বাংলায় সুলতানি আমলের শাসকদের ভূমিকা ছিল অন্যতম? বিশ্লেষণ কর।
সমাধান ও উত্তর
(ক)
একলাখি মসজিদ হলো মূলত একটি কবর।
(খ)
মুঘল আমলে বাংলার শাসকগণ স্থাপত্যকলার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(গ)

তথ্য-১ এ নির্দেশিত সমাজ হলো মধ্যযুগের হিন্দু সমাজ। এ সময় সমাজে জাতিভেদ প্রথা বিদ্যমান ছিল এবং নারীরা সমাজে অবহেলিত ছিল।

উদ্দীপকের তথ্য-১ এ ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈশ্য ও শূদ্র উল্লেখ রয়েছে। যা প্রাচীন বাংলার সামাজিক অবস্থাকে নির্দেশ করে। প্রাচীন বাংলার সমাজে নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহুসংখ্যক পুরুষ স্ত্রীকে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করতো। কন্যা মাতা-পিতার ওপর, স্ত্রী স্বামীর ওপর, বিধবারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। হিন্দু সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পত্তির ওপর স্ত্রীদের কোনো অধিকার ছিল না। সমাজে সতীদাহ প্রথার প্রচলিত ছিল। তবে বাংলায় সর্বত্র এ প্রথা বাধ্যতামূলক ছিল না। তথাপি এ যুগে অনেক নারী নিজ যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিজেদের স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত করতে সমর্থ হয়েছিল। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এ যুগের নারীদের কৃতিত্ব কম ছিল না। বিত্তশালী পরিবারে নিয়মিত শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা হতো। বীণা, তানপুরা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে এ যুগের নারীরা পারদর্শী ছিল।

(ঘ)

হ্যাঁ, আমি মনে করি তথ্য-২-এ নির্দেশিত বিষয়ে মধ্যযুগের বাংলায় সুলতানি আমলের শাসকদের ভূমিকা ছিল অন্যতম।

উদ্দীপকের তথ্য-২-এ উল্লিখিত ইউসুফ-জুলেখা, রসুল বিজয়, চৈতন্য ভগবত বাংলায় সুলতানি আমলের সাহিত্যের অগ্রগতি তুলে ধরে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও উন্নতির জন্য পাল ও সেন যুগের মতোই সুলতানি শাসন কালের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে প্রথমেই যাঁর নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন তিনি হলেন ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর শাসন কালেই প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর প্রণয়মূরক কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' ফার্সি রচনা দেখে অনুবাদ করেন। সুলতানি যুগে আরও কয়েকজন কবি ফার্সি কার্য্যের অনুবাদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে দৌলত উজির বাহরাম খান ও দোনা গাজীর নাম উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক সাহিত্য রচনার পথপ্রদর্শক হিসেবে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই অবদান উল্লেখযোগ্য। বিজয়কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন 'রসুল বিজয়' কাব্য রচয়িতা জয়নুদ্দীন। বাংলার মুসলমান কবিরা পদাবলি রচনা করেন। চাঁদ কাজী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম পদাবলি কাব্যের স্রষ্টা। পিরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে এ যুগে মুসলমান কবিরা অনেক কাব্য বাংলায় রচনা করেন। বৈষ্ণব কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

বাংলা ভাষায় তিনিই সর্বপ্রথম শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন চরিত্র গ্রন্থ চৈতন্য ভগবত রচনা করেন।

অধ্যায়-৬: মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ) আনলক করো

এই অধ্যায়টি প্রিমিয়াম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সব প্রশ্ন অনুশীলন করতে সাবস্ক্রাইব করো।