-
রাজার মূর্তি
-
আবুল ফজল-এর 'আইন-ই-আকবরী'
-
স্মৃতিস্তম্ভ
-
মৃৎ শিল্প
এসএসসি · বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
সিলেট বোর্ড ২০২৫
৪১টি প্রশ্ন রয়েছে। নিচে কয়েকটি নমুনা দেখো; সব প্রশ্ন, উত্তর ও ব্যাখ্যা পেতে সাবস্ক্রাইব করো।
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও :লিলির দাদু তাকে এমন এক যুগের গল্প বলেন যে যুগে মূর্তি গড়তে ধাতুর ব্যবহার করা হতো।অনুচ্ছেদে কোন কোন ধাতুকে ইঙ্গিত করা হয়েছে?
i. অষ্টধাতু ও কষ্টিপাথর
ii. লোহা ও তামা-
iii. সোনা ও বুগা
নিচের কোনটি সঠিক?
-
i ও ii
-
ii ও iii
-
i ও iii
-
i, ii ও iii
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
চিত্রের স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন কে?
-
ধর্মপাল
-
মহীপাল
-
রামপাল
-
গোপাল
সঠিক উত্তর: ক) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা:
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পাঠ্যবইয়ের পঞ্চম অধ্যায় (‘প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস: পাল যুগের শিল্প ও স্থাপত্য’)-এর আলোকে বিশদ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ:
১. উদ্দীপকের প্রত্নতাত্ত্বিক চিত্র বিশ্লেষণ:
• উদ্দীপকের চিত্রে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 'পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার' বা 'সোমপুর মহাবিহার' (Somapura Mahavihara)-এর কেন্দ্রীয় ক্রুশাকার মন্দিরের দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে।
• এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার, যা ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক 'বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান' (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
২. নির্মাতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
• পাল রাজবংশের দ্বিতীয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল (আনুমানিক ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) অষ্টম শতকের শেষভাগে বা নবম শতকের শুরুতে এই সুবিশাল মহাবিহারটি নির্মাণ করেন।
• পাহাড়পুর থেকে আবিষ্কৃত মাটির সিলমোহরে খোদাই করা রয়েছে: 'শ্রী-সোমপুরে-শ্রী-ধর্মপালদেব-মহাবিহারার্য-ভিক্ষু-সঙ্ঘস্য', যা চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে মহারাজ ধর্মপালই এই মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
অতএব, চিত্রে প্রদর্শিত স্থাপত্যটি পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের স্থাপত্যটি নির্মাণের ফলে—
i. বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠে
ii. বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শ প্রসার লাভ করে
iii. বৌদ্ধ সম্প্রদায় শিক্ষার সুযোগ পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
-
i ও ii
-
ii ও iii
-
i ও iii
-
i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকে প্রদর্শিত স্থাপত্যটি হলো রাজা ধর্মপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (সোমপুর মহাবিহার)।
এনসিটিবি (NCTB) নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পাঠ্যবই অনুযায়ী এই স্থাপত্যটি নির্মাণের সুদূরপ্রসারী ফলাফল:
• ১. আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে ওঠা (বিবৃতি i সঠিক): সোমপুর মহাবিহার তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিগণিত হতো। ভারত, চীন, তিব্বত, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া থেকে শিক্ষার্থী ও পণ্ডিতরা এখানে ধর্ম, দর্শন, চিকিৎসাবিদ্যা ও ব্যাকরণ অধ্যয়নের জন্য আসতেন।
• ২. বৌদ্ধ ধর্মের আদর্শ প্রসার লাভ (বিবৃতি ii সঠিক): এখান থেকেই বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা ও মানবকল্যাণের আদর্শ সমগ্র বঙ্গদেশ এবং বহিঃবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এই মহাবিহারের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
• ৩. বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি (বিবৃতি iii সঠিক): ১৭৭টি আবাসিক কক্ষ সংবলিত এই বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া এবং শাস্ত্রীয় ও জ্ঞানচর্চার সার্বিক সুযোগ লাভ করত।
অতএব, উদ্দীপকের স্থাপত্যটি নির্মাণের ফলে প্রদত্ত তিনটি ফলাফলই (i, ii ও iii) অর্জিত হয়েছিল।