ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬
১.

অংশ-(i) :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

অংশ-(ii): আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

উত্তর 'প্রত্যুপকার' গল্পে বন্দি লোকটির জন্মস্থান ছিল দামেস্ক নগর।
উত্তর

খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও তাঁর পরম উপকারীর প্রতি নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই বন্দি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।

খলিফা জানতে পারেন যে দামেস্কের এই বন্দি ব্যক্তিটিই একসময় আলীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আজ আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে খলিফার ক্রোধ থেকে সেই ব্যক্তির জীবনভিক্ষা চাইলেন। আলীর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাকুলতা খলিফার মন গলিয়ে দেয় এবং তিনি বন্দিকে মুক্তি দেন। তাই আলীর উদ্যোগের কারণেই বস্তুত বন্দির জীবন রক্ষা পেয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ নিজের স্বার্থ ও জীবন বিসর্জন দিয়ে পরের উপকারে আত্মনিয়োগ করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অজ্ঞাত মহানুভব ব্যক্তির পরোপকারী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।

'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং রাজরোষের চরম ঝুঁকি নিয়ে আলীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা একটুও ভাবেননি।

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কামিনী রায়ের 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি' চরণেও অন্যের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের কথা বলা হয়েছে, যা দামেস্কের আশ্রয়দাতার মহৎ চরিত্রের সাথেই সরাসরি মেলে।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। অংশ-(ii)-এর মূলভাব হলো অপকারীর অপকার ভুলে তাকেও ভালোবাসা ও তার ঘর বাঁধা (শত্রুকে ক্ষমা ও প্রতিদান), পক্ষান্তরে আলী ইবনে আব্বাসের বৈশিষ্ট্য হলো উপকারীর ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতার সাথে তার জীবন রক্ষা করা।

'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রটি হলো উপকারের যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার অর্থাৎ 'কৃতজ্ঞতাবোধের' এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দামেস্কের ব্যক্তি আলীর উপকার করেছিলেন, তাই আলী তাঁর ঋণ শোধ করতে জীবন বাজি রেখেছেন। এখানে কোনো শত্রুতা বা অপকারের বিষয় ছিল না।

অন্যদিকে, উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতার চরণে যিনি ঘর ভেঙেছেন বা ক্ষতি করেছেন, তার প্রতিও প্রেম ও ক্ষমা প্রদর্শনের এক মহত্তর সাধনার কথা বলা হয়েছে।

উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীর অপকার সহ্য করে তাকে ভালোবাসা— এই দুইয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, অংশ-(ii)-এর ভাববস্তুর সাথে আলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি এক নয়।

২.

(i) আপনাকে বড়ো বলে বড়ো সেই নয়
লোকে যারে বড়ো বলে বড়ো সে-ই হয়।

(ii) এক রাতে হাজি মুহম্মদ মহসীনের ঘরে চোর প্রবেশ করে। চোরকে তিনি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। চোর সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে কাঁপছিল আর কাঁদছিল। কিন্তু হাজি মুহম্মদ মহসীন তাকে কোনো শাস্তি তো দিলেনই না, উল্টো তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় দিলেন

উত্তর 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে শেষ পর্যন্ত হজরত আয়েশা (রা.) মহানবীর মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন।
উত্তর

হজরত মুহম্মদ (স.) রক্তের রক্তে ও মাংসে গড়া একজন রক্ত-মাংসের রক্তমজ্জার মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর চারিত্রিক শুচিতা, স্বর্গীয় সাধনা ও মানবপ্রেমের অনন্য উচ্চতায় তিনি সমগ্র মানবজাতির মাঝে এক দুর্লভ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী দেখিয়েছেন যে, মহানবী নিজেকে কখনো অতিপ্রাকৃতিক কোনো দেবতা বা ঈশ্বর দাবি করেননি। তিনি সাধারণ মানুষের মতোই ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও শোক অনুভব করেছেন। কিন্তু লোভ, অহংকার ও প্রতিশোধহীন এমন নিষ্কলঙ্ক মহামানব পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি আসেনি বলেই মানুষ হিসেবেও তিনি চিরদুর্লভ।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ (i) 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবীর পরম অহংকারহীন বিনয়, নিজেকে কেবল আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং জনসাধারণের শ্রদ্ধায় নিজেকে বড় না ভাবার গুণের দিকে ইঙ্গিত করে।

প্রবন্ধে দেখা যায়, আরবের একচ্ছত্র অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাধারণ মানুষের মতো মাটিতে বসতেন এবং কোনো মানুষ তাঁর সামনে ভয়ে কাঁপলে বলতেন— 'ভয় পেয়ো না, আমি কোনো রাজা নই; শুষ্ক মাংস ভক্ষণকারিণী এক কুরাইশ নারীর সন্তান।' তিনি কখনো নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করেননি।

অংশ (i)-এর আত্মপ্রশংসা বর্জন করে মানুষের ভালোবাসায় বড় হওয়ার যে নীতিবাণী রয়েছে, তা মহানবীর সেই অনুপম বিনয় ও আত্মবিলুপ্তির মহিমাকে নির্দেশ করে।

উত্তর

মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ। অংশ-(ii)-এ চোরকে ক্ষমা করা ও সাহায্য দেওয়ার মাধ্যমে মহানবীর ক্ষমার দৃষ্টান্তের কিয়দংশ ফুটে উঠলেও তাঁর চরিত্রের সমগ্র ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাপ্তির তুলনায় এটি একটি ক্ষুদ্র খণ্ডচিত্র মাত্র।

'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবীর চরিত্র ছিল অনন্ত গুণের আধার। সেখানে যেমন রয়েছে ক্ষমার মহত্ত্ব, তেমনি রয়েছে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সুবিচার, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক মনোভাব, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতির শৃঙ্খলা, শোকের মাঝে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা এবং মৃত্যুভয়হীন সত্যের বাণী প্রচার।

উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কেবল মহসীনের একটি বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে চোরকে অর্থসাহায্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এটি মহৎ মানবিক আচরণ হলেও মহানবীর সমগ্র কালজয়ী ব্যক্তিত্বকে ধারণ করতে সম্পূর্ণ অপারগ।

সুতরাং, উদ্দীপকের অংশ-(ii) মহানবীর অনুপম ক্ষমার একটি ক্ষুদ্র রূপ ছুঁয়ে গেলেও তাঁর চরিত্রের সমগ্রতাকে ধারণ করতে পারেনি।

৩.

(i) "একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়
যেথায় কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু
নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়,"

(ii) "ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, "কেষ্টা বেটাই চোর।"
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ, চিৎকার করি 'কেষ্টা'-
যত করি তাড়া, নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।"

উত্তর 'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতে কাবুলের লোকেরা শীতকালে পাহাড়ের গর্তে বা খাদের জমাট বরফ খাজা চাহলতন থেকে সংগ্রহ করতেন।
উত্তর

লেখক যখন আফগানিস্তানের তীব্র শীতে রাতের বেলা ঘরে একা ঘুমাতে সাহস পাচ্ছিলেন না, তখন তাঁর এই ভয়ের কারণ বুঝতে না পেরে সরলদেহী আবদুর রহমান ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল।

সৈয়দ মুজতবা আলী আফগানিস্তানের কাবুলে নির্জন বাড়িতে শীতের রাতে ডাকাত বা ভুতুড়ে নির্জনতার আশঙ্কায় কিছুটা শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু আফগান পাহাড়ি জীবনের সাথে অভ্যস্ত এবং দানবীয় শক্তির অধিকারী আবদুর রহমানের কাছে এমন ভয়ের কোনো যুক্তিই ছিল না। শহুরে বাবুদের এই মনস্তাত্ত্বিক ভয় তার কাছে অচেনা ছিল বলেই সে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ (i)-এ ফেলে আসা জন্মভূমি ও পল্লীপ্রকৃতির প্রতি যে আকুল ভালোবাসা ও নস্টালজিয়া প্রকাশ পেয়েছে, তার সাথে 'প্রবাস বন্ধু' রচনায় বিদেশের মাটিতে বসে লেখকের স্বদেশের নদী ও মাটির প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটি ইঙ্গিত করে।

'প্রবাস বন্ধু' রচনায় লেখক কাবুলের সৌন্দর্য উপভোগ করলেও প্রবাসের কনকনে শীত ও নিঃসঙ্গতার মাঝে মাঝে বারবার তাঁর মন বাংলার শ্যামল রূপ ও চেনা পরিবেশের দিকে ফিরে যেত।

অংশ (i)-এও ছোট্ট সোনার গাঁ, কোকিল-দোয়েলের ডাক এবং নদীর আপন ঠিকানায় ছুটে চলার যে চিরন্তন বাংলার রূপ আঁকা হয়েছে, তা লেখকের প্রবাসী মনের স্বদেশপ্রেমের সুরকেই নির্দেশ করে।

উত্তর

না, উদ্দীপকের অংশ (ii)-এর কেষ্টাকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের যথার্থ প্রতিনিধি কোনোভাবেই বলা যায় না; বরং তাদের চরিত্র ও মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।

রবীন্দ্রনাথের 'পুরাতন ভৃত্য' কবিতার কেষ্টা ছিল এক নির্যাতিত, গৃহকর্ত্রীর গালাগালি খাওয়া এবং কথায় কথায় চোর অপবাদ পাওয়া এক দুর্বল ও নিরুপায় পরিচারক। তাকে সারাক্ষণ তাড়া দিয়ে রাখতে হতো।

পক্ষান্তরে, 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমান ছিল বিশাল পর্বতসম দেহধারী, স্বাধীনচেতা, অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং মনিবের চেয়েও এক কদম এগিয়ে সেবা দেওয়া এক রাজকীয় আতিথেয়তাসম্পন্ন আফগান যুবক। সে কাউকে ভয় পেত না; বরং ভালোবেসে লেখককে নিজের তৈরি খাবারের পাহাড়ে ডুবিয়ে দিত। তার মধ্যে কোনো হীনম্মন্যতা ছিল না।

অতএব, লাঞ্ছিত কেষ্টার সাথে বলিষ্ঠ ও স্নেহশীল আবদুর রহমানের চরিত্রের কোনো মৌলিক মিল নেই; তাই কেষ্টা আবদুর রহমানের প্রতিনিধি নয়।

৪. দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারালেও নিজাম দমে যাননি। মা-বাবা তাঁকে দৃষ্টিহীনদের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। তাঁর অদম্য চেষ্টা আর পরিবারের ঐকান্তিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি এখন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
উত্তর সুভার গ্রামের নাম ছিল চণ্ডীপুর।
উত্তর

মানুষ তার শরীরের বা মনের গভীর ক্ষত ও যন্ত্রণার কথা মুখে প্রকাশ না করলেও অন্তরে সেই দীর্ঘশ্বাস ও অবহেলার কষ্ট আজীবন তাজা থাকে বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভাকে তার মা 'গর্ভের কলঙ্ক' ভাবতেন এবং সমাজে সবাই তাকে এক বোঝা মনে করত। সুভা কথা বলতে পারত না ঠিকই, কিন্তু মানুষের তাচ্ছিল্য ও অবহেলার আঘাত তার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করত। সুভা সেই অপমানের বেদনা কখনো ভুলতে পারত না বলেই লেখক এই গভীর সত্যটি তুলে ধরেছেন।

উত্তর

উদ্দীপকের নিজাম ও 'সুভা' গল্পের সুভাকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দিক থেকে মেলানো যায়— যেখানে নিজাম দৃষ্টিহীন এবং সুভা বাক্প্রতিবন্ধী।

'সুভা' গল্পে সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে অক্ষম এক কিশোরী। বাক্প্রতিবন্ধকতার কারণে সে সমাজের অন্য সাধারণ শিশুদের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে পারত না।

উদ্দীপকের নিজামও দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। ইন্দ্রিয়গত এই শারীরিক অপূর্ণতা ও প্রতিবন্ধকতার দিক থেকেই নিজাম ও সুভা চরিত্র দুটি একই বিন্দুর যাত্রী।

উত্তর

মন্তব্যটির পক্ষে শতভাগ যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে। সুভাকে যদি তার পিতা-মাতা সমাজের কুসংস্কার ও লোকলজ্জার শিকার না করে আধুনিক শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতেন, তবে তার জীবনও উদ্দীপকের নিজামের মতো সফল ও মর্যাদাপূর্ণ হতে পারত।

'সুভা' গল্পে সুভার বাবা-মা বোবা মেয়েকে সমাজের কলঙ্ক ভেবে তাকে গোপনে কলকাতার এক পাত্রের কাছে ঠকিয়ে বিয়ে দেন এবং সুভাকে এক চরম অন্ধকারের মুখে ঠেলে দেন। অথচ সুভার ছিল অসীম অনুভূতিশীল মন এবং প্রকৃতির সাথে কথা বলার তীব্র বুদ্ধি।

উদ্দীপকে দেখা যায়, নিজামের পিতা-মাতা হতাশ না হয়ে তাঁকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের স্কুলে পড়িয়েছেন এবং সার্বিক সহায়তা দিয়ে সরকারি শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিবারের ভালোবাসা ও সমাজের সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। সুভা যদি সেই সহানুভূতি ও শিক্ষা পেত, তবে তার জীবনের এমন করুণ ট্র্যাজেডি ঘটত না। সুতরাং, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।

৫. জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে রাখির বাবার ৯০% লিভার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় লিভার প্রতিস্থাপনই তাঁকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় রাখি তাঁর নিজের লিভারের একটা অংশ তাঁর বাবাকে দান করেন। এতে তাঁর বাবা বেঁচে যান। এখন বাবা-মেয়ে দুজনই সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
উত্তর 'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতা সম্রাট বাবরের চোখে কোনো নিদ (ঘুম) ছিল না।
উত্তর

পুত্রের মুমূর্ষু অবস্থায় রাজপ্রাসাদের চিকিৎসকদের অপারগতা ও স্তব্ধতা পিতার বুকফাটা যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে কবি নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন।

গোলাম মোস্তফার 'জীবন বিনিময়' কবিতায় দেখা যায়, শাহজাদা হুমায়ুনের রোগ নিরাময়ে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্তানের জীবন যখন মৃত্যুর মুখে, তখন কারও কোনো সান্ত্বনা বা আশার বাণী না থাকা এবং এই শীতল নীরবতা পিতা বাবরের অন্তরে গভীর রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করেছিল। তাই তিনি একে নিষ্ঠুর আখ্যা দেন।

উত্তর

উদ্দীপকে রাখির বাবার হঠাৎ এক জটিল দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া এবং চিকিৎসকদের জবাব দেওয়ার ঘটনাটি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় তরুণ শাহজাদা হুমায়ুনের কঠিন রোগে শয্যাশায়ী হওয়া ও চিকিৎসকদের ব্যর্থতার ঘটনার সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় সুঠাম দেহের হুমায়ুন হঠাৎ এক অজ্ঞাত কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় এবং রাজবৈদ্যরা তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দেন।

উদ্দীপকের রাখির বাবারও আকস্মিক কঠিন ব্যাধি এবং চিকিৎসকদের অপারগতার চরম দৃশ্য হুমায়ুনের মুমূর্ষু পরিস্থিতির ট্র্যাজেডিকেই তুলে ধরে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি এ মন্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। উদ্দীপকের রাখি যেভাবে পরম আত্মত্যাগে নিজের একটি কিডনি দিয়ে পিতাকে বাঁচিয়ে তুলেছে, তা 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা সম্রাট বাবরের পুত্রের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার আত্মোৎসর্গেরই এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবর কোনো জাগতিক সম্পদের মায়া করেননি; তিনি আল্লাহর দরবারে পুত্রের জীবনের বিনিময়ে নিজের অমূল্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। আত্মদানের এই মহান শক্তিতে হুমায়ুন নতুন জীবন পেয়েছিলেন।

উদ্দীপকের রাখিও নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ (কিডনি) দিয়ে পিতার জীবন রক্ষা করেছে। রক্তের সম্পর্কের মানুষের জন্য নিজের দেহ ও জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ভালোবাসার যে পরাকাষ্ঠা বাবর দেখিয়েছিলেন, রাখি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তবতায় ঠিক সেই আত্মত্যাগেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।

অতএব, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মাহুতির মহান আদর্শের দিক থেকে রাখি নিঃসন্দেহে সম্রাট বাবরেরই যোগ্য প্রতিরূপ।

৬. যেদিন আমার মহাঘুমে বুজবে দুই চোখ
পাড়া প্রতিবেশী সবাই পাবে কিছু শোক।
চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা, সাগর-নদী-জল
এই পৃথিবী যেমন আছে রবে অবিকল।
আমি যে এই পৃথিবীর লোক ভুলে যাবে সবে,
শুধু থাকব না আর আমি একা সবই রবে ভবে।
উত্তর 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় খেয়ানৌকাগুলো এসে চরের খুব কাছে লেগেছে।
উত্তর

মানুষের ব্যক্তিগত পার্থিব স্বপ্ন ও আশা চিরকাল ধ্বংস হয়ে যায় না; বরং তা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাত ধরে নব নব রূপে চিরকাল বেঁচে থাকে বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার অন্যতম গভীর দার্শনিক উপলব্ধি হলো মানুষের সুন্দর জীবনের আকাঙ্ক্ষা। মানুষ মরণশীল হলেও ভালোবাসা, স্বপ্ন ও সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা অবিনশ্বর। এক ব্যক্তি চলে গেলে অন্য মানুষ এসে সেই স্বপ্নের হাল ধরে। তাই মানুষের সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীর বুক থেকে কখনোই নিঃশেষ হয়ে ঝরে পড়ে না।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে মানুষের মৃত্যু হলে পাড়া-প্রতিবেশীর সাময়িক শোক প্রকাশ করার যে বাস্তবতা বর্ণিত হয়েছে, তা 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুর ক্ষণস্থায়িত্বের সাথে সম্পর্কিত।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি বলেছেন, তিনি একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যাবেন। উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণেও মহাঘুমে চোখ বোজার পর প্রতিবেশীদের ক্ষণিক শোক পাওয়ার পার্থিব নিয়মের কথাই বলা হয়েছে। উভয়ের মধ্যেই মানবজীবনের অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর সত্যটি স্বীকৃত হয়েছে।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মন্তব্যটির সাথে সম্পূর্ণ একমত। উদ্দীপকের শেষ চার চরণে মানুষের অনুপস্থিতির পরও প্রকৃতির অনন্ত ও অবিকল টিকে থাকার যে শাশ্বত সত্য উচ্চারিত হয়েছে, তা-ই মূলত 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কেন্দ্রীয় সুর।

জীবনানন্দ দাশ কবিতায় দেখিয়েছেন যে, ব্যক্তি মানুষ বা বড় বড় সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু চন্দ্র-সূর্য, নদী, চালতাফুলের গন্ধ ও লক্ষ্মীপেঁচার গান চিরকাল অব্যাহত থাকে। পৃথিবীর সৌন্দর্য কোনো মানুষের মৃত্যুর জন্য থেমে থাকে না।

উদ্দীপকের শেষ চার চরণেও স্পষ্ট বলা হয়েছে— চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা ও সাগর-নদী অবিকল থাকবে, মানুষ ভুলে গেলেও এই প্রকৃতির রূপ অপরিবর্তিত থাকবে।

মানুষের নশ্বরতা এবং প্রকৃতির শাশ্বত অমরতার এই পরম জীবনদর্শন উদ্দীপক ও কবিতার চরণে একাকার হয়ে গেছে। সুতরাং, উভয়ের মূল সুর সম্পূর্ণ অভিন্ন।

৭. উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন শিহাব। জীবনের শেষ বয়সে এসে শৈশবের স্মৃতি তাঁর মনে বারবার ভেসে ওঠে। কুয়াশাভেজা ভোর, ফসলের মাঠ, বর্ষার নদীতে মাছ ধরা প্রভৃতি ঘটনা শিহাবকে স্মৃতিকাতর করে তোলে। দেশে ফিরে আসতে চাইলেও স্ত্রী-সন্তানেরা রাজি হয়নি। তাঁর স্ত্রী বলেন “দেশে তোমার কে আছে?” উত্তরে শিহাব বলেন, “দেশেই তো আমার শিকড়।”
উত্তর 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় মাছরাঙা বাঁশবাগানের মাথায় বা নুয়ে পড়া ডালের ওপর বসে থাকে।
উত্তর

কবি ভৌগোলিক দূরত্বের ঊর্ধ্বে উঠে অন্তরের গভীর আত্মিক টান, স্মৃতি ও স্বপ্নের চিরন্তন নিয়মে এই মাতৃভূমির শ্যামল প্রকৃতির সাথেই জড়িয়ে আছেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।

আহসান হাবীবের 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য হলো মাটির সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। বাস্তব জীবনে কবি হয়তো সব জায়গায় উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর সত্তা ও হৃদয় এই দেশের ধানের গন্ধ, নদী ও ঘাসের সাথে চিরদিনের জন্য একাত্ম। এই গভীর মমত্ববোধকেই কবি 'স্বাপ্নিক নিয়ম' বলেছেন।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রবাসে থেকেও শিহাবের শৈশবের কুয়াশাভেজা ভোর, ফসলের মাঠ ও বর্ষার নদীর স্মৃতিকাতরতার সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির জন্মভূমির চিরচেনা প্রকৃতির সাথে নাড়ির সম্পর্কের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি প্রমাণ করেছেন যে তিনি এই দেশের কোনো অতিথি বা অপরিচিত পথিক নন; তিনি মাটির সোঁদা গন্ধ, শালিকের ডাক ও কার্তিক নবান্নের চিরন্তন সন্তান।

উদ্দীপকের শিহাবও দূর প্রবাসে আধুনিক জীবন কাটালেও তাঁর হৃদয় পড়ে থাকে দেশের শান্ত শ্যামল প্রকৃতির মাঝে। এই তীব্র দেশপ্রেম ও শিকড়ের টানের দিক থেকেই উভয় বর্ণনার মাঝে অকৃত্রিম সাদৃশ্য বিদ্যমান।

উত্তর

“দেশেই তো আমার শিকড়”— উদ্দীপকে শিহাবের এই উক্তিটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল অস্তিত্ববাদী দর্শনের এক সার্থক ও চূড়ান্ত প্রতিফলন।

আহসান হাবীব কবিতায় দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে মানুষ যেখানেই যাক না কেন, জন্মভূমির ধূলিকণা ও প্রকৃতিই তার মূল আত্মপরিচয়। যে মাটির আলো-বাতাসে মানুষ বড় হয়েছে, সেই মাটির সাথে তার সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হতে পারে না। কবি এই মাটির কেউ নন এমন কথা অস্বীকার করে নিজের চিরন্তন মালিকানা দাবি করেছেন।

উদ্দীপকের শিহাবও বিদেশের সমস্ত প্রাচুর্য ও পরিবারের আপত্তির মুখে দৃঢ়তার সাথে জানান যে তাঁর অস্তিত্বের শিকড় গাঁথা রয়েছে এই মাতৃভূমির মাটিতেই। শিকড় ছাড়া যেমন কোনো বৃক্ষ বাঁচতে পারে না, তেমনি জন্মভূমি ছাড়া মানুষের পূর্ণাঙ্গ আত্মিক অস্তিত্ব অসম্ভব।

অতএব, শিহাবের কথাটি কবিতার সেই চিরন্তন ভাবাদর্শ— অর্থাৎ দেশমাতৃকার সাথে মানুষের শাশ্বত নাড়ির টানকেই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করেছে।

৮. এবারের কাল বৈশাখির ঝড়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। মধুপুর গ্রামে ঝড়ে বাড়ি-ঘর উড়ে যায়, গাছপালা ও টেলিফোন-বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। কাল বৈশাখির সাথে হওয়া শিলা বৃষ্টিতে চাষিদের ফল-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গ্রামের চাষি মকবুল অসহায় ভাবে হাহাকার করে বলেন- গরিবের উপরই সব সময় কেন ঝড়ের এই তাণ্ডব!
উত্তর 'বোশেখ' কবিতায় কবি মহাবীর হনুমানের কথা রামায়ণে বা পুরাণের গল্পে পড়েছেন।
উত্তর

বৈশাখী ঝড়ের যে সংহারক রুদ্রমূর্তি আজ মানুষের আশ্রয় ধ্বংস করছে, অতীতে সেই বাতাসই প্রকৃতির বুকে ফুল ফোটাত এবং স্নিগ্ধ পরশ বুলাত— সেই কল্যাণময় রূপকে ফিরিয়ে আনার তাগিদেই কবি বাতাসকে তার অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সুফিয়া কামালের 'বোশেখ' কবিতায় বাতাস কেবল ঝড়ের ধ্বংসলীলা নয়, একসময় সে ছিল স্নিগ্ধ ও প্রাণসঞ্চারী মলয় বাতাস। কবি চান বৈশাখের বাতাস যেন ধ্বংসযজ্ঞ ত্যাগ করে পুনরায় দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ ও শান্তির বাতাস হিসেবে আবির্ভূত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে কালবৈশাখি ঝড়ের প্রচণ্ড তাণ্ডবে ঘরবাড়ি উড়ে যাওয়া, গাছপালা ভেঙে পড়া এবং দরিদ্র চাষিদের ফল-ফসলের বিপুল ক্ষতির মাধ্যমে 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত বৈশাখী ঝড়ের প্রলয়ংকরী ধ্বংসলীলার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে বৈশাখের রুদ্র বাতাস মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের পর গ্রাম লন্ডভন্ড করে দেয়, দরিদ্র মানুষের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং অসহায় মানুষকে পথের ভিখারি বানিয়ে ছাড়ে।

উদ্দীপকের মধুপুর গ্রামের দৃশ্যও অবিকল বৈশাখী ঝড়ের সেই সংহারক ও ধ্বংসাত্মক রূপকেই নির্দেশ করে।

উত্তর

মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ। উদ্দীপকের চাষি মকবুলের আক্ষেপ— “গরিবের উপরই সব সময় কেন ঝড়ের এই তাণ্ডব!”— 'বোশেখ' কবিতার কবির অন্তর্নিহিত সামাজিক ক্ষোভ ও মূল সুরকেই ধারণ করে।

সুফিয়া কামালের 'বোশেখ' কবিতার মূল বেদনা হলো, প্রকৃতির যে কোনো ঝড় ও সামাজিক দুর্যোগে সবসময় দরিদ্র, নিঃস্ব ও সহায়হীন মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধনী ও ক্ষমতাবানরা সুরক্ষিত থাকলেও গরিবের মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও ঝড়ে ভেঙে পড়ে। কবি বৈশাখের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর অবসান চেয়েছেন।

উদ্দীপকের মকবুলও সেই চিরকালীন অবহেলিত কৃষক সমাজের মুখপাত্র হিসেবে প্রকৃতির এই নির্মম বৈষম্যের বিরুদ্ধে গভীর দীর্ঘশ্বাস ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের এই আত্মিক হাহাকারই কবিতার মূল প্রতিপাদ্য। সুতরাং, মকবুলের কথায় 'বোশেখ' কবিতার মূল সুরটি পরিপূর্ণভাবে মূর্ত হয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

মেজর এজাজ মনার বিচারের দৃশ্য আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবকে দেখতে বাধ্য করেছিল যাতে সে তাদের মনে চরম আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে এবং গ্রামের কোনো সচেতন মানুষ ভবিষ্যতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস না পায়।

আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেব ছিলেন সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্মানিত ব্যক্তি। মেজর এজাজ চেয়েছিল সমাজের এই শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সামনে বিচার ও শাস্তির এক নির্মম প্রদর্শনী করতে, যাতে তারা পাকিস্তানি জান্তার চরম বর্বর ক্ষমতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং পুরো গ্রামে এক নিস্তব্ধ ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্তারিত উত্তর

“নীলগঞ্জ বাংলাদেশের একটি নিভৃত গ্রামের প্রতিচ্ছবি”— '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন সমগ্র বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ধ্বংসযজ্ঞ ও তার বিপরীতে বাঙালির যে সম্মিলিত রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, নীলগঞ্জ তারই এক সার্থক প্রতীক।

উপন্যাসে দেখা যায়, ২৫শে মার্চের পর একটি শান্ত নিভৃত গ্রাম কীভাবে পাকিস্তানি হানাদারদের গানবোটের গোলার আঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিরীহ কৃষক, শিক্ষক, সাধারণ নারী ও যুবকদের ওপর নির্যাতন, রাজাকারদের দোসরবৃত্তি এবং তার বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ সমগ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাসেরই ক্ষুদ্র চালচিত্র। নীলগঞ্জের দীর্ঘশ্বাস ও বিজয় একাত্তরের সমগ্র জাতিরই প্রতিবিম্ব।

বিস্তারিত উত্তর

মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে সৎলোক বলেছিল কারণ সে আজিজ মাস্টারের চোখে-মুখে কোনো কাপুরুষতা, চাটুকারিতা বা ভয়ের ছাপ দেখেনি; বরং মাস্টারকে তাঁর নীতি, আদর্শ ও শিক্ষকের মর্যাদায় অবিচল দেখে সে অন্তরের বাধ্যবাধকতা থেকেই এ সত্য স্বীকার করেছিল।

মেজর এজাজ বহু সুবিধাবাদী মানুষকে বশ করতে পারলেও আজিজ মাস্টারের চারিত্রিক দৃঢ়তার সামনে এসে তার দাম্ভিকতা থমকে দাঁড়ায়। মাস্টার কোনো অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। একজন শত্রু অফিসার হওয়া সত্ত্বেও আজিজ মাস্টারের সততা ও নৈতিক উচ্চতার কাছে মেজর এজাজ পরাস্ত হয়ে তাঁকে 'সৎলোক' বলতে বাধ্য হয়েছিল।

বিস্তারিত উত্তর

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আগমন নীলগঞ্জ গ্রামের শান্ত ও সুশৃঙ্খল গ্রামীণ জনজীবনকে সম্পূর্ণ তছনছ, আতঙ্কগ্রস্ত ও রক্তাক্ত করে দিয়েছিল।

হানাদাররা গ্রামে প্রবেশ করেই ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, নিরীহ মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে এবং নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। বাজার-হাট বন্ধ হয়ে যায়, ফসল নষ্ট হয় এবং সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বন-জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। তবে এই চরম বিপর্যয়ের ভেতর দিয়েই গ্রামীণ জনতা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় একতাবদ্ধ হয় এবং যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে প্রতিরোধের সূচনা করে।

বিস্তারিত উত্তর

উক্তিটি সেলিনা হোসেনের '১৯৭১' উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদারদের অতর্কিত হত্যাযজ্ঞ ও আক্রমণের মুখে পড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বজনদের খোঁজা ও রক্ত-পরিবারের নিরাপত্তার তীব্র ব্যাকুলতার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।

মানুষের জীবনে যখন চরম মৃত্যুভয় ও বিপর্যয় নেমে আসে, তখন তার মনে সবার আগে নিজের পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও নিজ রক্তগোত্রের প্রিয়জনদের কথাই ভেসে ওঠে। নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষ যখন গানবোটের হামলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন প্রত্যেকেই নিজের রক্ত ও পরিবারের মানুষকে নিরাপদ করার জন্য হাহাকার করছিল। এই চিরন্তন মানবিক মনস্তত্ত্বই উক্তিটিতে প্রকাশ পেয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

সেলিনা হোসেনের '১৯৭১' উপন্যাসে রফিক চরিত্রটি হলো একাত্তরের বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজের এক অতুলনীয় প্রতীক।

রফিক ছিল নির্ভীক, আত্মত্যাগী এবং অসাধারণ সামরিক কৌশলী। সে পাকিস্তানি হানাদারদের গতিবিধি নজরে রাখত, স্থানীয় রাজাকারদের চক্রান্ত নস্যাৎ করত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচালনা করত। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সে শত্রুশিবিরে আঘাত হেনেছে এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব পণ করেছে। তার প্রজ্ঞা ও বীরত্ব উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের গতিময়তায় রূপ দিয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

সেনবাড়িতে কোনোদিন ডাকাত আসার কথা ছিল না কারণ সেনপরিবার ছিল গ্রামের অত্যন্ত সম্মানিত, নিরহংকার ও দরিদ্র মানুষের আশ্রয়স্থল; তাই সাধারণ চোর-ডাকাতরাও তাঁদের শ্রদ্ধা করত।

সেনবাড়ির সদস্যরা গ্রামের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার বিপদে পাশে দাঁড়াতেন এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতেন। কিন্তু একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের সহযোগী রাজাকাররা তথাকথিত 'ডাকাতের' ছদ্মবেশে বা রাজনৈতিক হিংসায় এই বাড়িটিতে আক্রমণ চালিয়ে লুটপাট ও নির্যাতন শুরু করে। এটি সাধারণ ডাকাতি ছিল না, এটি ছিল পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিস্ট তাণ্ডব।

বিস্তারিত উত্তর

সেলিনা হোসেনের '১৯৭১' উপন্যাসে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাঙালি জাতির প্রতি চরম জাতিগত বিদ্বেষ, বর্ণবাদী ঘৃণা ও ঔপনিবেশিক শোষণের নগ্ন রূপ ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তানি সামরিক অফিসাররা বাঙালিদের নিচু জাত, দুর্বল ও দেশদ্রোহী মনে করত। তারা মনে করত বাঙালি সংস্কৃতির কোনো মূল্য নেই এবং তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেওয়া উচিত। এই জাতিগত ঘৃণার কারণেই তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। উপন্যাসে পাকিস্তানি সেনাদের সংলাপ ও আচরণে এই জাতিগত অন্ধ বিদ্বেষ তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে।