যশোর বোর্ড ২০২৬
১.

উদ্দীপক (i)

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও,

তার মতো সুখ কোথাও কী আছে?

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

উদ্দীপক (ii)

যত বড়োই ঝড় আসুক না কেন

পাখির নীড়ে ঝরা পালকের মতো

শেষটায় কিছু না কিছু থেকে যায়

এবং থেকে যাওয়াটাই জীবন।

উত্তর দাঁতের মাড়ির রোগ নিরাময় ও দাঁত ভালো রাখার জন্য বহু লোক নিমগাছের কচি ডালগুলো চিবোয়।
উত্তর

নিমগাছের ভেষজ উপযোগিতা নয়, বরং এর কচি পাতার স্নিগ্ধ সবুজ রূপ ও থোকা থোকা ফুলের অপরূপ সুবাসের নিখাদ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে কবি নিমগাছটির দিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

বনফুলের 'নিমগাছ' গল্পে মানুষ কেবল নিমের ডাল-পাতা ভেঙে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করত। কিন্তু একদিন একজন সৌন্দর্যপ্রেমিক কবি এসে কোনো ক্ষতি না করে গাছটির চমৎকার রূপ ও প্রকৃতির অমলিন লাবণ্য দেখে হৃদয় দিয়ে তার প্রশংসা করেন। শিল্পীর এই নিঃস্বার্থ মুগ্ধতার কারণেই কবি অপলক চোখে তাকিয়ে ছিলেন।

উত্তর

উদ্দীপক (i)-এ নিজের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার যে মহান ব্রতের কথা বলা হয়েছে, তার সাথে 'নিমগাছ' গল্পের নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছটি কাউকে আঘাত না করে আজীবন তার ছাল, পাতা, ডাল ও হাওয়া দিয়ে মানুষের রোগমুক্তি ও পরিবেশের কল্যাণ সাধন করে যায়। সে কোনো প্রতিদানের আশা করে না; বরং পরহিতৈষণাকেই জীবনের একমাত্র ধর্ম মনে করে।

উদ্দীপক (i)-এর কামিনী রায়ের চরণেও নিজের কথা ভুলে পরের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার যে স্বর্গীয় আনন্দের কথা বলা হয়েছে, তা নিমগাছের আত্মত্যাগী স্বভাবের সাথেই হুবহু মিলে যায়।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। শত অবহেলা ও ঝড়ের মাঝেও সংসারের মায়াজালে সব ত্যাগ করে থেকে যাওয়াই যে জীবন, এই সত্য উদ্দীপক (ii) এবং 'নিমগাছ' গল্পের শেষ চরণে সমভাবে বিদ্যমান।

'নিমগাছ' গল্পের শেষ জাদুকরি চরণে লেখক দেখিয়েছেন যে, নিমগাছটির কবির সাথে চলে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মাটির গভীরে ছড়িয়ে থাকা শিকড়ের কারণে সে যেতে পারে না। ঠিক তেমনি মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মনিপুণা লক্ষ্মীবউটিও শত লাঞ্ছনা, বঞ্চনা ও অবহেলার মধ্যেও সংসার ফেলে কোথাও চলে যায় না। সংসারের মায়ার শৃঙ্খল আঁকড়ে থেকে যাওয়াই তার জীবন হয়ে দাঁড়ায়।

উদ্দীপক (ii)-এও ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হলেও পাখির নীড়ে থেকে যাওয়া পালকের মতো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা এবং 'থেকে যাওয়াটাই জীবন' বলে যে পরম সত্য উচ্চারিত হয়েছে, তা লক্ষ্মীবউটির সেই ট্র্যাজিক বন্দিদশা ও বেঁচে থাকার লড়াইকেই প্রকাশ করে।

অতএব, আঘাত ও অবহেলার মাঝেও মায়ার বন্ধনে নিঃশব্দে টিকে থাকার ভাবার্থটি গল্প ও উদ্দীপকে সুগভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

২. করিম ও রহিমা দুই ভাই-বোন। সারাদিন তারা রৌদ্রে দৌড়াদৌড়ি, পুকুরে মাছ ধরা, গাছে চড়ে বেড়ানো, গাছগাছালি থেকে ফল সংগ্রহ করে বেড়ায়। তারা মায়ের কথা শোনে না বললেই চলে। প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, তাদের সহজ-সরল জীবন-যাপন যেন গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি।
উত্তর হরিহর পাওনা টাকা তাগাদার জন্য অন্নদা রায়ের বাড়ি (বা দশঘরিয়া অঞ্চলে) গিয়েছিল।
উত্তর

পূজা বা আচারের পবিত্রতা রক্ষার জন্য বাসি কাপড়ে কাঁচা আম বা আচার স্পর্শ করা নিয়ম নয় বলে দুর্গা অপুকে এ কথা বলেছিল।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আম আঁটির ভেঁপু' গল্পে দুর্গা অপুকে সঙ্গে নিয়ে পটলিদের বাগান থেকে কাঁচা আম কুড়িয়ে এনেছিল। সে অপুকে নুন ও তেল আনতে বলে। অপু আম মাখাতে চাইলে দুর্গা তাকে বারণ করে জানায় যে তার কাপড় বাসি, অর্থাৎ সকালের শুচিতা রক্ষা হয়নি। গ্রামীণ সনাতন সংস্কারে বাসি কাপড়ে ফল বা আচার মাখালে তা নষ্ট হয়ে যায় বলে দুর্গা এই সাবধানতা উচ্চারণ করেছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের করিম ও রহিমার দুরন্ত শৈশব, রোদে দৌড়াদৌড়ি, গাছে চড়া ও ফল কুড়ানোর মাঝে 'আম আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার চিরন্তন গ্রামীণ শৈশবের চঞ্চলতার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

'আম আঁটির ভেঁপু' গল্পে দেখা যায়, দুর্গা রোদের মধ্যে বনের ভেতর ঘুরে বেড়ায়, কাঁচা আম ও জারুল ফল কুড়ায় এবং ছোট ভাই অপুকে নিয়ে প্রকৃতির কোলে আনন্দ খুঁজে পায়। মায়ের বারণ সত্ত্বেও তাদের এই বাঁধনহারা দুরন্তপনাই গ্রামীণ শৈশবের আসল সৌন্দর্য।

উদ্দীপকের করিম ও রহিমাও সারাদিন রোদে দৌড়ে, গাছে চড়ে ও ফল সংগ্রহ করে প্রকৃতির কোলে বড় হচ্ছে, যা অপু-দুর্গার গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবির সাথেই সরাসরি মেলে।

উত্তর

মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। উদ্দীপকে মা চরিত্রের কোনো গভীরতা বা পারিবারিক সংগ্রাম অনুপস্থিত, পক্ষান্তরে 'আম আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া চরিত্রটি এক চরম অভাবগ্রস্ত, স্নেহময়ী ও দায়িত্বশীল গৃহিণীর প্রতীক।

গল্পে সর্বজয়া কেবল সন্তানদের শাসন করা মা নন; তিনি একটি ভাঙা সংসারের চালিকাশক্তি। স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, চরম দারিদ্র্য, প্রতিবেশীদের খোঁটা এবং চাল-ডালের টানাপোড়েনের মাঝেও তিনি সন্তানদের বুকে আগলে রাখেন। শত কষ্টের মাঝেও দুর্গা ও অপুর প্রতি তাঁর অপত্য স্নেহ ও সংসারের প্রতি আত্মত্যাগ তাঁকে এক অমর মাতৃমূর্তিতে রূপ দিয়েছে।

উদ্দীপকে কেবল 'তারা মায়ের কথা শোনে না' এই একটি দায়সারা বাক্যে মায়ের প্রসঙ্গ এসেছে। এতে সর্বজয়ার মতো কোনো দারিদ্র্যের সংগ্রাম, মাতৃত্বের ব্যাকুলতা বা পারিবারিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটেনি।

সুতরাং, উদ্দীপকের নামমাত্র মা চরিত্র কোনোভাবেই বিভূতিভূষণের অমর চরিত্র সর্বজয়ার সমকক্ষ হতে পারে না।

৩. শান্ত তার গ্রামের বাড়ি ছেড়ে পরিবারের সাথে শহরে চলে যাবে। গ্রামের পুকুর, আমবাগান ও খেলার সাথিদের সঙ্গে তার এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিদায়কালে বন্ধুরা তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানাল কিন্তু শান্তর বাবা বুঝতে পারল তার মনের অনুভূতি। শান্ত বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
উত্তর প্রকৃতি তার ভাষা দিয়ে, নদীর কলতান ও উদার নির্জনতা দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
উত্তর

চণ্ডীপুর গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া শান্ত ও কলনাদিনী নদীটি গ্রামবাসীর নিত্যদিনের কাজে কল্যাণময়ী মায়ের মতো সেবা দিয়ে যায় বোঝাতেই তাকে 'গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী' বলা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পে নদীর বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন, নদীটি কোনো বড় নদীর মতো ধ্বংসাত্মক নয়; বরং সে গ্রামের গৃহস্থালির ঘাটে ঘাটে জল দিয়ে, মানুষের স্নান ও তৃষ্ণা মিটিয়ে পরম লক্ষ্মী মেয়ের মতো নীরবে কাজ করে যায়। গ্রামের জনজীবনের ধমনীস্বরূপ এই কল্যাণময় রূপের জন্যই তাকে গ্রামলক্ষ্মী নদী বলা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের শান্তর অনেক খেলার সাথি থাকা এবং বিদায়কালে তাদের উপস্থিতি 'সুভা' গল্পে সুভার কোনো মানব খেলার সাথি না থাকা ও চরম নিঃসঙ্গতার সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভার সাথে গ্রামের কোনো ছেলেমেয়ে খেলত না; তারা তাকে ভয় পেত বা এড়িয়ে চলত। সুভার কোনো বন্ধু ছিল না বলে সে গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলি এবং ছাগল-বিড়ালের সাথে সখ্য গড়ে তুলেছিল।

পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের শান্তর একদল খেলার সাথি ছিল যারা বিদায়লগ্নে তাকে আন্তরিক বিদায় সম্ভাষণ জানায়। সমবয়সীদের এই মানবিক সান্নিধ্য পাওয়ার দিক থেকেই শান্তর সাথে সুভার চরম বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। উদ্দীপকে শান্তর বাবার সহানুভূতিশীল আচরণ একটি সাধারণ আবেগীয় সান্ত্বনা মাত্র, কিন্তু 'সুভা' গল্পে পিতা বাণীকণ্ঠের সমবেদনা ও অন্তর্বেদনা ছিল বহুগুণে সুতীব্র, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক।

'সুভা' গল্পে বাণীকণ্ঠ অন্য কন্যাদের চেয়ে বোবা সুভাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। সুভার নির্বাক চোখের ভাষা পিতা নিজের অন্তরের গভীরতম বেদনা দিয়ে অনুভব করতেন। সমাজে বোবা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠের বুকে যে নীরব রক্তক্ষরণ ও অশ্রুহীন কান্না জমে থাকত, তা কোনো সাধারণ পিতার ক্ষণিকের কষ্টের মতো ছিল না; তা ছিল এক আমৃত্যু মানসিক ট্র্যাজেডি।

উদ্দীপকের শান্তর বাবা কেবল গ্রাম ছাড়ার মুহূর্তে ছেলের মন খারাপ দেখে তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, যা নিতান্তই একটি সাময়িক আবেগ।

বাণীকণ্ঠের বুকের সেই আজীবন পাথরচাপা দীর্ঘশ্বাসের তুলনায় উদ্দীপকের পিতার সহানুভূতি কখনোই তেমন সুতীব্র নয়। অতএব, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।

৪.

দৃশ্যকল্প (i)

আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়

যেথায় কোকিল ডাকে কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু।

নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়।

দৃশ্যকল্প (ii)

ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি

আমার দেশের মাটি।

এই দেশেরই মাটি জলে,

এই দেশেরই ফুলে ফলে

তৃষ্ণা মেটাই মেটাই ক্ষুধা

পিয়ে এরি দুধের বাটি।

উত্তর বারি-রূপ কর হলো— প্রজা যেমন রাজাকে রাজস্ব বা কর প্রদান করে, তেমনি কপোতাক্ষ নদও সাগরকে জলরূপ কর বা রাজস্ব প্রদান করে।
উত্তর

চৌদ্দ মাত্রার এবং চৌদ্দ চরণের সুনির্দিষ্ট নিয়মে রচিত এবং একটিমাত্র ভাব ও অন্ত্যমিল বিশিষ্ট ইংরেজি 'সনেট'-এর আদর্শ রূপ অনুসরণে রচিত হওয়ায় 'কপোতাক্ষ নদ' একটি সার্থক চতুর্দশপদী কবিতা।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত এ কবিতাটিতে প্রথম আট চরণে (অষ্টক) ভাবের প্রবর্তনা এবং শেষ ছয় চরণে (ষটক) ভাবের পরিণতি অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিন্যস্ত হয়েছে। এর ক-খ-ক-খ অন্ত্যমিলের সুশৃঙ্খল ছন্দ এবং চৌদ্দ অক্ষরের পরিমিত মাত্রা একে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সনেটের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উত্তর

দৃশ্যকল্প (i)-এ ছোট সোনার গাঁ, কোকিল-দোয়েলের ডাক এবং আপন ঠিকানায় নদীর ছুটে চলার যে মনোহর পল্লীপ্রকৃতির রূপ আঁকা হয়েছে, তার সাথে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার নদীমাতৃক রূপ ও নিসর্গশোভা সাদৃশ্যপূর্ণ।

'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষের কুলকুল ধ্বনি ও তার দুই তীরের শ্যামল রূপকে পরম ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন। নদীর সাথে পল্লীপ্রকৃতির এই মেলবন্ধন কবির স্মৃতিতে চিরউজ্জ্বল।

দৃশ্যকল্প (i)-এও শান্ত নদীর ছুটে চলা ও পাখির কলকাকলিতে ঘেরা গ্রামের সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা কপোতাক্ষের স্নিগ্ধ রূপের সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ।

উত্তর

যুক্তিসহ বিশ্লেষণে উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ। দৃশ্যকল্প (ii)-এ খাঁটি সোনার চেয়েও দেশের মাটিকে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং দেশের জল-ফলকে মাতৃদুগ্ধের সাথে তুলনা করার যে গভীর দেশপ্রেম ব্যক্ত হয়েছে, তা-ই মূলত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির ভাবনার মূল ভিত্তি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাসে বসে উপলব্ধি করেছিলেন যে বিদেশের কোনো ঐশ্বর্যই স্বদেশমাতৃকার সমকক্ষ নয়। তিনি কপোতাক্ষের জলকে 'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী' মাতৃস্নেহের সাথে তুলনা করেছেন। কবির কাছে স্বদেশের নদী ও মাটিই ছিল জীবনের পরম তৃষ্ণা মেটানোর একমাত্র সুধা।

দৃশ্যকল্প (ii)-এও বলা হয়েছে— 'ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি / আমার দেশের মাটি... পিয়ে এরি দুধের বাটি'।

মাতৃভূমির মাটিকে পরম ধন জ্ঞান করা এবং তার জলকে মায়ের দুধের সমতুল্য ভাবার এই আত্মিক চেতনাটি সরাসরি কবির অনুভূতির প্রতিধ্বনি। সুতরাং, দৃশ্যকল্প (ii) নিখুঁতভাবেই কবির ভাবনার দেশকে ধারণ করেছে।

৫. সোহাগ মিয়ার বড়ো আদুরে মেয়ে জারা। দিনমজুর করে সারাদিন অর্থ উপার্জন করলেও তার মেয়ে ও পরিবারকে বড্ড ভালোবাসে। বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার পাশ থেকে খাবার ও খেলনা কিনে আনতে ভুল হয় না তার। হঠাৎ করে একদিন সেই মেয়েটির এক দুর্ঘটনার খবর সোহাগ মিয়ার কাছে আসে। সোহাগ মিয়ার সবকিছু এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়।
উত্তর শাহজাদা হুমায়ুনের চিকিৎসার জন্য রাজপ্রাসাদের প্রধান প্রধান চিকিৎসক ও ভিষকবৃন্দকে ডাকা হয়।
উত্তর

সন্তানের চরম অসুস্থতায় শোকের অন্ধকার রাতে পিতা বাবরের আল্লাহর দরবারে আত্মদানের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে হুমায়ুনের আরোগ্য ও নবজীবনের উজ্জ্বল আশার আলো দেখা দিল বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।

গোলাম মোস্তফার 'জীবন বিনিময়' কবিতায় দেখা যায়, হুমায়ুনের জীবন যখন মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের সুস্থতা কামনা করেন। এই প্রার্থনার পরেই রোগের প্রকোপ কমতে থাকে এবং হুমায়ুনের দেহে জীবনের স্পন্দন ফিরে আসে। মৃত্যুর অন্ধকার কেটে গিয়ে আশার নবপ্রভাত সূচিত হওয়াকেই কবি ঊষার পূর্বাভাস বলেছেন।

উত্তর

উদ্দীপকের জারা হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার দিক থেকে 'জীবন বিনিময়' কবিতার রোগাক্রান্ত ও মুমূর্ষু শাহজাদা হুমায়ুনের ভাগ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় তরতাজা তরুণ হুমায়ুন হঠাৎ এক অজানা কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকরা তার জীবনের আশা ছেড়ে দেন।

উদ্দীপকের চঞ্চল মেয়ে জারাও হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌঁছায়। পিতার চোখের মণি এই সন্তানের আকস্মিক জীবনাবসানের ঝুঁকির দিক থেকেই জারা হুমায়ুনের অবস্থার প্রতীক।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। উদ্দীপকের সোহাগ মিয়ার বেদনা একজন স্নেহময় পিতার সাধারণ শোক মাত্র, কিন্তু 'জীবন বিনিময়' কবিতার সম্রাট বাবরের আত্মত্যাগ ছিল অলৌকিক ও আত্মোৎসর্গের এক মহাকাব্যিক রূপ।

'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবর কেবল কান্নাকাটি করেননি; তিনি চিকিৎসকদের ব্যর্থতার পর পুত্রের জীবনের বিনিময়ে নিজের অমূল্য জীবন আল্লাহর দরবারে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি পুত্রের রোগশয্যা প্রদক্ষিণ করে নিজের প্রাণ দিয়ে পুত্রকে বাঁচিয়েছিলেন এবং নিজে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এটি ছিল আত্মদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকের সোহাগ মিয়া দুর্ঘটনার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং মানসিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাঁর মধ্যে কোনো বাস্তব আত্মাহুতি বা নিজের জীবন দিয়ে কন্যাকে বাঁচানোর সক্রিয় আত্মত্যাগ নেই।

অতএব, সোহাগ মিয়ার শোক যতই গভীর হোক না কেন, সম্রাট বাবরের সেই মহিমান্বিত ও সক্রিয় আত্মদানের সাথে এর কোনো তুলনা চলে না।

৬. রশিদ সাহেবের আবাসিক প্রকল্প সাইমাবাদের মধ্যে জাহিদের টিনের বাড়িটি একমাত্র আবাসস্থল। প্রভাবশালী রশিদ সাহেব বিনা নোটিশে লোক দিয়ে জাহিদদের বাড়িটি ভেঙে দেয়। নিরুপায় হয়ে জাহিদ তার বাল্যবন্ধু পুলিশের এসআই মুহিত হাসানকে বিষয়টি জানায়। মুহিত হাসান বাড়ির দলিলপত্র দেখে প্রশাসনিক ক্ষমতায় জাহিদের একমাত্র আশ্রয়টুকু ফিরিয়ে দেন। জাহিদ এরকম দখলদার দের হাত থেকে নিরীহ মানুষদের উদ্ধার করতে অনুরোধ করে।
উত্তর দয়ালু মেঘের সাথি হলো— বজ্র বা বিদ্যুৎ চমক (বিদ্যুতের আলো)।
উত্তর

সমাজে ধনী ও প্রভাবশালীদের দ্বারা দরিদ্রদের জমিজমা দখল ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তথাকথিত আইনি বিচার আসলে কতটা প্রহসন ও প্রতারণামূলক, তা ব্যঙ্গ করে বোঝাতে এ কথা বলা হয়েছে।

সুফিয়া কামালের 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের রুদ্র রূপকে আহবান করেছেন সমাজের অন্যায়-অবিচারের ধ্বংসকারী হিসেবে। সমাজে বহু সুবিচারের গল্প শোনা গেলেও বাস্তবে দরিদ্ররা সবসময় শোষিত হয়। এই কপট ও ভণ্ড বিচারব্যবস্থার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ থেকেই কবি এই বেদনাদায়ক মন্তব্য করেছেন।

উত্তর

উদ্দীপকের জাহিদের একমাত্র টিনের বাড়িটি প্রভাবশালী রশিদ সাহেব কর্তৃক অন্যায়ভাবে দখল ও ভেঙে ফেলার ঘটনাটি 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের আশ্রয় ধ্বংসকারী সামাজিক অবিচারের সাথে সংগতিপূর্ণ।

'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজের লোভী ও অত্যাচারী শ্রেণি দরিদ্রের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয় এবং তাদের নিঃস্ব করে পথে বসায়। কবি বৈশাখী ঝড়কে ডাক দিয়েছেন এই শোষকদের অহংকার ভেঙে চুরমার করার জন্য।

উদ্দীপকের জাহিদও প্রভাবশালী জমিদখলদারের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে, যা কবিতায় বর্ণিত শোষিত মানুষের চরম অসহায়তার বাস্তব রূপ।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী উক্তিটি অত্যন্ত সুপ্রযুক্ত ও যথার্থ। উদ্দীপকের এসআই মুহিত হাসান নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ন্যায়নিষ্ঠা দিয়ে দখলদারের হাত থেকে নিরীহ জাহিদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে 'বোশেখ' কবিতার কবির সুবিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেই ধারণ করেছেন।

সুফিয়া কামাল তাঁর কবিতায় বৈশাখকে এক বিপ্লবী শক্তিরূপে কামনা করেছেন— যা সকল ভণ্ডামি ও অত্যাচারকে ধ্বংস করে সমাজে প্রকৃত সত্য, সমতা ও সুবিচার কায়েম করবে। কবি এমন এক সমাজ চেয়েছেন যেখানে কোনো নিরীহ মানুষ যেন ক্ষমতাবানদের দ্বারা গৃহহারা না হয়।

উদ্দীপকের পুলিশ কর্মকর্তা মুহিত হাসান ঠিক সেই শক্তিরূপেই আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে নিরপেক্ষভাবে জাহিদের আশ্রয় ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মুহিত হাসানের এই ন্যায়পরায়ণ ভূমিকা কবির কাঙ্ক্ষিত শোষণমুক্ত ও সুবিচারভিত্তিক সমাজের স্বপ্নকেই মূর্ত করেছে। সুতরাং, তিনি কবির আকাঙ্ক্ষাকে যথার্থভাবে ধারণ করেছেন।

৭.

-উদ্দীপক (i) প্রাণ ফিরে আসে সব

মৃত ফসলের মাঠে।

চাতক পাখির ঠোঁটে হীরকের মতো, বৃষ্টির জল

প্রাণবন্ত পৃথিবী! দেখি ঘুম ভাঙ্গা

রিমঝিম সব বৃষ্টির ফল।

উদ্দীপক (ii) এসো শ্যামল সুন্দর

আনো তব তপোহরা তৃষ্ণাহরা সঙ্গসুধা

বিরহিণী চাহিয়া আছে আকাশে

বকুল মুকুল রেখেছে গাঁথিয়া

বাজিছে অঙ্গনে মিলন বাঁশরি।

উত্তর সওয়ার শব্দের অর্থ হলো— আরোহী বা যে আরোহণ করে (যেমন অশ্বারোহী)।
উত্তর

আষাঢ়ের মেঘাচ্ছন্ন আকাশে চারপাশ যখন স্নিগ্ধ ছায়ায় আবৃত হয়, তখন মানবমনে যে এক মিষ্টি বিষাদ, মায়াবী নীরবতা ও স্মৃতিকাতরতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাকে 'বিষণ্ণ মেদুর' বলা হয়েছে।

শামসুর রাহমানের 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ষার আবহ কেবল প্রাকৃতিক পরিবর্তনের নয়, তা মনের অনুভূতিরও প্রকাশ। মেঘলা দিনে মানুষের অন্তরে যেমন একটি মৃদু উদাসীনতা ও বিষাদের ছোঁয়া লাগে, তেমনি এক ধরনের স্নিগ্ধ আবেশ তৈরি হয়। প্রকৃতির এই শান্ত ও মায়াবী রূপকেই কবি বিষণ্ণ মেদুর বলেছেন।

উত্তর

উদ্দীপক (i)-এ বৃষ্টির পানির পরশে মৃত ফসলের মাঠে প্রাণ ফিরে আসা এবং ধরণীর সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠার সাথে 'বৃষ্টি' কবিতায় তৃষ্ণার্ত প্রকৃতিতে বৃষ্টির সঞ্জীবনী ক্ষমতার দিকটি ফুটে উঠেছে।

'বৃষ্টি' কবিতায় দেখা যায়, খরার রুক্ষতা ভেঙে যখন রিমঝিম বৃষ্টি নামে, তখন তৃষিত মাঠ-ঘাট নতুন জীবন পায়, ঘাস সতেজ হয় এবং প্রাণহীন প্রকৃতিতে প্রাণের আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপক (i)-এও চাতক পাখির তৃষ্ণা মেটা ও ঘুমভাঙা পৃথিবীর প্রাণবন্ত রূপের যে ছবি আঁকা হয়েছে, তা বৃষ্টির প্রাণসঞ্চারী রূপেরই প্রতিফলন।

উত্তর

যুক্তিসহ বিশ্লেষণে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। উদ্দীপক (ii)-এ বর্ষার আগমনে প্রকৃতির শ্যামল রূপান্তরের সাথে সাথে বিরহী মনের যে ব্যাকুল অপেক্ষা ও একাকীত্ব প্রকাশ পেয়েছে, তা 'বৃষ্টি' কবিতার রোমান্টিক বিষাদ ও মানবিক উপলব্ধিকে মূর্ত করেছে।

'বৃষ্টি' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, বৃষ্টি কেবল মাঠ-ঘাট ভেজায় না; তা মানুষের হৃদয়ের নিভৃত কোণে বিরহের সুর বাজিয়ে তোলে। দূর প্রবাসের মানুষের কথা মনে পড়ে, আকাশে মেঘ ডাকলে হৃদয় স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে এবং মানুষ এক ধরনের মধুর নিঃসঙ্গতা অনুভব করে।

উদ্দীপক (ii)-এ শ্যামল সুন্দর বর্ষাকে তৃষ্ণাহরা রূপের পাশাপাশি বিরহিণীর আকাশের দিকে চেয়ে থাকা ও বকুল মালা গেঁথে অপেক্ষার কথা বলে সেই চিরন্তন রোমান্টিক বিরহচেতনাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অতএব, প্রকৃতির রূপবদল এবং তার সাথে জড়িয়ে থাকা মানবমনের বিরহবেদনা— এই দুই স্তরের মেলবন্ধনে উদ্দীপক (ii) কবিতার মূল সুরকেই ধারণ করেছে।

বিস্তারিত উত্তর

মেজর এজাজের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে লেগেছিল কারণ নীলগঞ্জের শান্ত ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ভেতরে যে তীব্র প্রতিরোধের আগুন এবং মুক্তিবাহিনীর চোরাগোপ্তা গেরিলা আক্রমণের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে সে নিজের জীবনের চরম হুমকি অনুভব করছিল।

মেজর এজাজ ভেবেছিল নিরীহ গ্রামবাসীকে অতি সহজে দমন করা যাবে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস, কৌশলগত প্রতিরোধ এবং বাঙালিদের আপসহীন লড়াই দেখে তার সামরিক অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে— এই গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক ও নিশ্চিত পরাজয়ের ভয় থেকেই তার কপালে ঘাম জমেছিল।

বিস্তারিত উত্তর

“'১৯৭১' উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে আজিজ মাস্টারের ভূমিকাও কম নয়”— মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করলে দেখা যায়, আজিজ মাস্টার ছিলেন নীলগঞ্জ গ্রামের আত্মমর্যাদা, দেশপ্রেম ও নৈতিক প্রতিরোধের বাতিঘর।

আজিজ মাস্টার বন্দুক হাতে যুদ্ধ না করলেও তিনি ছিলেন জাতির মনস্তাত্ত্বিক পথপ্রদর্শক। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছেন, গ্রামবাসীকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং পাকিস্তানি সামরিক অফিসারদের চাটুকারিতা না করে সত্যের পথে অবিচল থেকেছেন। নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন না দিয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর আত্মোৎসর্গ সমগ্র উপন্যাসের কাহিনীকে এক অনন্য নৈতিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

বদিউজ্জামানের চোখ জবাফুলের মতো লাল হওয়ার কারণ ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা নীলগঞ্জের নিরপরাধ মানুষদের নির্বিচারে হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নারীদের লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে অন্তরে জ্বলে ওঠা তীব্র ক্ষোভ, আক্রোশ ও প্রতিহিংসার আগুন।

বদিউজ্জামান স্বচক্ষে তার চেনা জনপদের এই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। সেই বর্বরতার বিরুদ্ধে নিজের বুকের গভীর থেকে যে সীমাহীন ঘৃণা ও প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল, তা-ই তার দুই চোখে রক্তের মতো লাল হয়ে ফুটে উঠেছিল।

বিস্তারিত উত্তর

সেলিনা হোসেনের '১৯৭১' উপন্যাসে রফিক চরিত্রটি হলো একাত্তরের মুক্তিকামী তরুণ বাঙালি সেনাদের অদম্য সাহস, রণকৌশল ও অবিচল দেশপ্রেমের এক সার্থক মূল্যায়ন।

রফিক ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক দেশপ্রেমিক সৈনিক যে মাতৃভূমির মুক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে গেরিলা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সে শুধু অস্ত্র চালাত না, বরং তার ছিল প্রখর সামরিক বুদ্ধি ও দূরদর্শিতা। হানাদার ক্যাম্প ধ্বংস করা এবং স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে রফিকের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক।

বিস্তারিত উত্তর

“দাদা, বড়ো ভয় লাগে”— উক্তিটির তাৎপর্য হলো, একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব ও বোমাবর্ষণে সমগ্র দেশের শিশু-কিশোর ও অবুঝ মানুষের মনে যে অবর্ণনীয় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা নেমে এসেছিল, এটি তারই করুণ বহিঃপ্রকাশ।

উপন্যাসে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে গানবোট ও কামানের গর্জন যখন নীলগঞ্জ গ্রামকে কাঁপিয়ে তুলছিল, তখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক ছোট্ট বালিকা পরম আশ্রয়ের স্থান দাদার হাত শক্ত করে ধরে এই কথাটি বলেছিল। এটি কেবল একটি শিশুর ভয় নয়, বরং সমগ্র অবরুদ্ধ জাতির বিপন্ন অস্তিত্বের এক মর্মস্পর্শী হাহাকার।

বিস্তারিত উত্তর

সেলিনা হোসেনের '১৯৭১' উপন্যাসে ১৯৭১ সালের বাস্তব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে লেখকের শিল্পসম্মত কল্পনার এক অপূর্ব ও নিখুঁত মেলবন্ধন পরিলক্ষিত হয়েছে।

উপন্যাসে ২৫শে মার্চের কালরাত, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর অপারেশন সার্চলাইট, রাজাকারদের দেশদ্রোহিতা এবং মুক্তিবাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক তথ্যগুলো সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে বজায় রাখা হয়েছে। এর সাথে লেখক নীলগঞ্জ গ্রাম, মীর আলি, আজিজ মাস্টার, রফিক ও চিত্রা বুড়ির মতো চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত, পারিবারিক আবেগ ও ট্র্যাজেডিকে কল্পনার রঙে জীবন্ত করে তুলেছেন। ফলে উপন্যাসটি ইতিহাসের শুষ্কতা ছাড়িয়ে এক মহিমান্বিত শিল্পকর্মে রূপ নিয়েছে।

বিস্তারিত উত্তর

'১৯৭১' উপন্যাসের পটভূমিতে 'উজান দেশ' বলতে নদীর উজানের দিকে অবস্থিত নিরাপদ ও দুর্গম এলাকা কিংবা যেখান দিয়ে মানুষ শরণার্থী হয়ে সীমানা পার হয়ে ভারতে যাচ্ছিল বা মুক্তিবাহিনীর গোপন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল, সেই অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে।

পাকিস্তানি হানাদারদের আগ্রাসনের সময় ভাটি অঞ্চল বা মূল নদী তীরবর্তী জনপদগুলো যখন গানবোটের হামলায় ধ্বংস হচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য এবং মুক্তিকামী যুবকরা অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য উজানের দিকে পাড়ি জমাত। এটি ছিল সংকটকালের এক নিরাপদ আশ্রয় ও প্রতিরোধের ভূখণ্ড।

বিস্তারিত উত্তর

“'১৯৭১' উপন্যাসে কালবৈশাখি ঝড়ের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ”— উক্তিটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কালবৈশাখি ঝড় উপন্যাসটিতে কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং তা পাকিস্তানি শোষণ-অত্যাচারকে চূর্ণ করার এক প্রচণ্ড বিপ্লবী প্রতীকী রূপ।

কালবৈশাখি ঝড় যেভাবে প্রকৃতির সমস্ত জীর্ণতা ও আবর্জনা উড়িয়ে নিয়ে নতুন জীবনের সৃষ্টি করে, তেমনি উপন্যাসের কালবৈশাখির রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে তাদের ক্যাম্প তছনছ করে দেয়। ঝড়ের তাণ্ডব মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশনে প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে সাহায্য করেছিল এবং হানাদারদের অন্তরে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। তাই এই ঝড় ছিল মুক্তির এক পরম সহায়ক শক্তি।