বরিশাল বোর্ড ২০২৬
১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো;
উত্তর একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। মাতৃভাষার জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। ভাষাশহিদদের স্মরণে দিনটি বাংলাদেশে শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ স্বীকৃতি বাংলা ভাষা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছে এবং পৃথিবীর সব মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এ দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, খালি পায়ে প্রভাতফেরি করে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং আলোচনা সভা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিবসটির প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা চর্চা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণে কাজ করতে হবে। সব মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল শিক্ষা।
উত্তর মোবাইল ফোন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। তারবিহীন এই যন্ত্র সহজে বহন করা যায় বলে যে কোনো স্থান থেকে দূরের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব। বর্তমানের স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, ই-মেইল, ক্যামেরা, মানচিত্র, ক্যালকুলেটর ও নানা অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ফলে অনলাইন পাঠ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ব্যাংকিং, কেনাকাটা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দুর্যোগের সংবাদ আদান-প্রদান সহজ হয়েছে। অপরাধী শনাক্তকরণ ও উদ্ধারকাজেও মোবাইল ফোন কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি পড়াশোনা ও কর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, সময় নষ্ট করে এবং চোখ, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। গুজব ছড়ানো, সাইবার হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও রয়েছে। পথ চলা বা যানবাহন চালানোর সময় ফোন ব্যবহার দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখা, অপরিচিত লিংক এড়ানো এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা উচিত। শিশু-কিশোরদের ব্যবহারে অভিভাবকের যুক্তিসংগত তত্ত্বাবধানও দরকার। মোবাইল ফোন নিজে ভালো বা মন্দ নয়; সচেতন, সংযত ও কল্যাণকর ব্যবহারই একে মানুষের উন্নতির সহায়ক করে তোলে।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

বরিশাল

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল,

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা নেবেন। সম্প্রতি আপনার লেখা ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ উপন্যাসটি পড়েছি। বইটির একজন কিশোর পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি জানাতেই এই পত্র।

মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল ও বেদনাময় বিষয়কে কিশোরদের সহজ ভাষায় আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। ইবুর চোখ দিয়ে রাশেদের সাহস, দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগ দেখার সময় মনে হয়েছে, ঘটনাগুলো যেন আমার সামনেই ঘটছে। রাশেদ কোনো অতিমানব নয়; সাধারণ এক কিশোর হয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং দেশের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে সে অসাধারণ হয়ে উঠেছে। তার পরিণতি আমাকে ব্যথিত করেছে, কিন্তু সেই বেদনা মুক্তিযুদ্ধের মূল্য ও স্বাধীনতার তাৎপর্য আরও গভীরভাবে বুঝিয়েছে।

বইটির সংলাপ স্বাভাবিক, কাহিনি গতিশীল এবং চরিত্রগুলো জীবন্ত। ভয় ও অনিশ্চয়তার মাঝেও কিশোরদের বন্ধুত্ব এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস পাঠককে আশাবাদী করে। উপন্যাসটি পড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ জন্মেছে এবং দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে ভাবতে শিখেছি। আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ সাহিত্যজীবন কামনা করি।

ইতি

আপনার স্নেহাশিসপ্রার্থী পাঠক

সুলতান/সুলতানা

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬

বরাবর

ব্যবস্থাপক

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

বরিশাল সদর শাখা, বরিশাল

বিষয়: ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপনের জন্য ঋণ মঞ্জুরের আবেদন।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মালা/মাহিন, বরিশাল সদর উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর স্থানীয় বাজারে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। এ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, মুদ্রণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেওয়া হবে। উদ্যোগটির জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, দোকান সাজানো এবং প্রাথমিক পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৪,০০,০০০ টাকা প্রয়োজন। নিজস্ব সঞ্চয় থেকে ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে পারব; অবশিষ্ট ৩,০০,০০০ টাকা আপনার ব্যাংকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজন।

আমি একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের হিসাব, প্রশিক্ষণ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় জামিনদারের কাগজপত্র সংযুক্ত করেছি। সম্ভাব্য আয় থেকে ব্যাংকের নির্ধারিত কিস্তি ও সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে সক্ষম হব। ব্যাংক চাইলে প্রকল্পস্থল পরিদর্শন ও অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করতে পারে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার কাগজপত্র ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী ৩,০০,০০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক

মালা/মাহিন

বরিশাল সদর, বরিশাল

মোবাইল: ০১৭XXXXXXXX

সংযুক্তি: ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের প্রাক্কলন, প্রশিক্ষণ সনদ, পরিচয়পত্র ও জামিনদারের কাগজপত্র।

৩. যেকোনো একটি বিষয়ে সারাংশ/সারমর্ম লেখো:
উত্তর সমাজের লক্ষ্য শুধু মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা নয়, তার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। অথচ প্রেম ও সৌন্দর্যবোধহীন, অহংকারী ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ অন্যের সার্থকতা বাধাগ্রস্ত করে; তাদের মানবপ্রেমের বুলি আন্তরিক উপলব্ধিহীন।
উত্তর আশাই মানুষকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায় এবং সংসারের কর্মচক্র সচল রাখে। তার মোহময় শক্তিতে মানুষ অনিশ্চয়তা ও দুঃখ উপেক্ষা করে অবিরাম জীবনসংগ্রামে অংশ নেয়; আশা না থাকলে সকল উদ্যোগ ও অগ্রগতি স্তব্ধ হয়ে যেত।
৪. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো;
উত্তর

শিক্ষার আলো ছাড়া মানুষ জীবনের পথ ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে চিনতে পারে না; আবার বাস্তব জীবনে প্রয়োগহীন বিদ্যাও কার্যকর শক্তি হারায়। তাই জ্ঞান ও জীবনের নিবিড় যোগেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও সার্থক মানবজীবন গড়ে ওঠে।

বিদ্যা মানুষকে সত্য-মিথ্যা বিচার, সমস্যা বিশ্লেষণ, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং কল্যাণকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়। এ আলো না থাকলে মানুষ কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও সংকীর্ণতার অন্ধকারে পথ হারায়। কিন্তু কেবল বইয়ের তথ্য মুখস্থ করে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়াই প্রকৃত বিদ্যা নয়। কৃষিবিজ্ঞান যদি মাঠে ফলন না বাড়ায়, চিকিৎসাজ্ঞান যদি রোগীর সেবা না করে, নৈতিক শিক্ষা যদি আচরণে সততা না আনে এবং প্রযুক্তিজ্ঞান যদি মানুষের সমস্যা সমাধান না করে, তবে সেই বিদ্যা পঙ্গুর মতো নিষ্ক্রিয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা জ্ঞানকে যাচাই, সংশোধন ও সমৃদ্ধ করে; অন্যদিকে বিদ্যা অভিজ্ঞতাকে যুক্তি, শৃঙ্খলা ও দূরদৃষ্টি দেয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তত্ত্বের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ, অনুশীলন, গবেষণা, সৃজনশীল কাজ ও সমাজসেবার সুযোগ থাকা দরকার। জীবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা মানুষকে শুধু কর্মদক্ষ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিকও করে তোলে।

অতএব, জীবনকে আলোকিত করতে বিদ্যা প্রয়োজন এবং বিদ্যাকে সচল ও অর্থবহ করতে জীবনের সংযোগ অপরিহার্য। জ্ঞানকে উপলব্ধি করে কর্মে ও চরিত্রে প্রয়োগ করলেই শিক্ষা পূর্ণতা পায়।

উত্তর

প্রবহমানতা নদীকে স্বচ্ছ ও জীবন্ত রাখে, আর পরিবর্তন ও সৃজনশীলতা একটি জাতিকে সচল রাখে। স্রোতহীন নদী যেমন শৈবালে আবদ্ধ হয়, তেমনি প্রাণশক্তিহীন জাতি জীর্ণ লোকাচার ও অন্ধ সংস্কারের বন্ধনে অগ্রসর হতে পারে না।

নদীর জল অবিরাম প্রবাহিত হলে ময়লা সরে যায়, দুই তীর উর্বর হয় এবং জনজীবনে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। প্রবাহ বন্ধ হলেই শৈবাল, কচুরিপানা ও আবর্জনা জমে নদীর চলার পথ রুদ্ধ করে। জাতির জীবনেও জ্ঞানচর্চা, প্রশ্ন, শ্রম, উদ্ভাবন ও পরিবর্তনের সাহসই স্রোতের কাজ করে। যে সমাজ যুক্তির আলোয় প্রথাকে যাচাই করে এবং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থাকে উন্নত করে, সে এগিয়ে যায়। কিন্তু কর্মশক্তি ও মুক্তচিন্তা হারালে অন্ধ অনুকরণ, কুসংস্কার, বৈষম্য ও অর্থহীন আচার তার প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর অর্থ সব ঐতিহ্য বর্জন করা নয়; ভাষা, শিল্প, মানবিক মূল্যবোধ ও কল্যাণকর রীতি জাতির পরিচয় রক্ষা করে। পরিত্যাজ্য হলো সেই লোকাচার, যা মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, যুক্তিবোধ ও উন্নতির পথ রোধ করে। জীবন্ত জাতি তাই ঐতিহ্যের মঙ্গলকর অংশ ধারণ করে এবং ক্ষতিকর জীর্ণতা সাহসের সঙ্গে দূর করে।

অতএব, জাতিকে স্থবিরতার শৈবাল থেকে মুক্ত রাখতে শিক্ষা, কর্ম, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সংস্কারের স্রোত সচল রাখা চাই। গতিশীল জীবনবোধই জাতিকে জীর্ণ লোকাচারের বাধা অতিক্রম করে উন্নতির পথে নিয়ে যায়।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো;
উত্তর

আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

আদি/আদিবা, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

আলুটিলা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ জীবনে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও দেশসেবার লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ফুল ও স্মারক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, উত্তরপত্রের পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ছোট নাটকের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন হয়ে ওঠে।

শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। দোয়া ও সফল ভবিষ্যতের কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সুশৃঙ্খল এ আয়োজন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আবেগাপ্লুত করার পাশাপাশি আসন্ন পরীক্ষার জন্য নতুন সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

উত্তর

ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মাসুম/মাসুমা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাক

ময়মনসিংহ, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল জেলার ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্‌ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা বিদ্যালয়ের দেয়ালপত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো।
উত্তর

ভূমিকা

অর্থ, শ্রম, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বিপণনের উদ্যোগ যিনি গ্রহণ করেন, তিনি কৃষি উদ্যোক্তা। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে শিক্ষিত ও উদ্ভাবনী তরুণদের জন্য এ পেশা আত্মকর্মসংস্থান, নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বড় সুযোগ।

কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা

প্রথাগত কৃষক সাধারণত পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রি করেন। কৃষি উদ্যোক্তা শুরু থেকেই বাজার, ব্যয়, লাভ, ঝুঁকি ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেন। তিনি শুধু ফসল চাষে সীমাবদ্ধ নন; বীজ ও চারা উৎপাদন, মাছ চাষ, দুগ্ধ ও পোলট্রি খামার, মৌচাষ, কৃষিযন্ত্র ভাড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং অনলাইন বিপণনেও উদ্যোগ নিতে পারেন।

উদ্যোগ নির্বাচনের প্রস্তুতি

সফল উদ্যোগের আগে স্থানীয় মাটি, পানি, আবহাওয়া, কাঁচামাল, শ্রম, যোগাযোগ ও বাজারের চাহিদা যাচাই করতে হয়। সম্ভাব্য ক্রেতা, প্রতিযোগী, উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য ও লাভের হিসাবসহ বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরি জরুরি। নিজের দক্ষতা ও পুঁজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট পরিসরে শুরু করে ফলাফল বিশ্লেষণের পর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করলে ঝুঁকি কমে।

উদ্যোক্তার গুণাবলি

কৃষি উদ্যোক্তাকে পরিশ্রমী, সৎ, ধৈর্যশীল, উদ্ভাবনী ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত, হিসাব সংরক্ষণ, শ্রমিক পরিচালনা, দর-কষাকষি এবং ক্রেতার আস্থা অর্জনের দক্ষতা তাঁর দরকার। রোগবালাই, আবহাওয়া ও বাজারদরের পরিবর্তনে বিচলিত না হয়ে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের মানসিকতাও সফলতার শর্ত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার

মানসম্মত বীজ, মাটি পরীক্ষা, সুষম সার, আধুনিক সেচ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিযন্ত্র উৎপাদন ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মোবাইল পরামর্শ, ডিজিটাল হিসাব, অনলাইন বাজার এবং শীতল সংরক্ষণ প্রযুক্তি ঝুঁকি ও অপচয় কমায়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন অতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংকঋণ, সমবায় বা সরকারি সহায়তা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা যায়। ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধক্ষমতা ও নগদ প্রবাহ হিসাব করা জরুরি। একই খামারে উপযোগী একাধিক পণ্য উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ অবকাঠামো, সঠিক নথি এবং সম্ভব হলে ফসল বা খামারবিমা ক্ষতির ঝুঁকি কমায়।

সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ

কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হওয়ায় পরিচ্ছন্ন সংগ্রহ, মানভিত্তিক বাছাই, উপযুক্ত প্যাকেজিং, গুদাম ও শীতল পরিবহনের ব্যবস্থা দরকার। দুধ থেকে দই, ফল থেকে জ্যাম বা আচার এবং শস্য থেকে প্যাকেটজাত খাদ্য তৈরি করলে মূল্য সংযোজন হয়। মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমবায়, কৃষকের বাজার, চুক্তিভিত্তিক বিক্রি ও অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারে।

বাংলাদেশে সম্ভাবনা

দেশের বিপুল জনসংখ্যা কৃষিপণ্যের বড় বাজার। বৈচিত্র্যময় মাটি ও জলবায়ুতে ধান, সবজি, ফল, ফুল, মাছ, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতেও সম্ভাবনা বাড়ছে। নারী ও তরুণেরা বাড়ির আঙিনা বা ক্ষুদ্র জমি থেকে নিরাপদ খাদ্য, নার্সারি, মাশরুম বা অনলাইন বিপণনের উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

জমির স্বল্পতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, পুঁজির অভাব, অস্থিতিশীল বাজারদর, সংরক্ষণঘাটতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব উদ্যোক্তাদের প্রধান বাধা। এসব মোকাবিলায় সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষিত উপকরণ, কৃষি সম্প্রসারণসেবা, কার্যকর শীতাগার, উন্নত পরিবহন এবং স্বচ্ছ বাজারতথ্য নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থার সেবাকে উদ্যোক্তার কাছে সহজে পৌঁছে দিতে হবে।

নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব

খাদ্য মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভুল ওজন বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাভ করা অনৈতিক। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ক্রেতার প্রতি জবাবদিহি একজন কৃষি উদ্যোক্তার মৌলিক দায়িত্ব।

উপসংহার

পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সততা ও বাজারজ্ঞান একত্রিত হলে কৃষি লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। সফল কৃষি উদ্যোক্তা নিজের স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

উত্তর

ভূমিকা

ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। অল্প জায়গা ও সামান্য সরঞ্জামে খেলা যায় বলে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এর ব্যাপক চর্চা রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখা গেলেও দেশের ফুটবলকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফুটবলের ঐতিহ্য

এ দেশের মাঠে ফুটবলের চর্চা বহু পুরোনো। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার ক্লাব ফুটবল, জাতীয় লিগ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট দর্শকদের বিপুল আনন্দ দিয়েছে। একসময় আবাহনী, মোহামেডানসহ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। জাতীয় দলও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

জনপ্রিয়তার কারণ

ফুটবলের নিয়ম তুলনামূলক সহজ এবং একটি বল পেলেই অনেকজন একসঙ্গে খেলতে পারে। দ্রুত গতি, কৌশল, দলগত সমন্বয় এবং মুহূর্তে ফল বদলে যাওয়ার উত্তেজনা দর্শককে আকৃষ্ট করে। গ্রামাঞ্চলের খোলা মাঠ, বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় টুর্নামেন্ট ফুটবলকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি রেখেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিশ্বকাপের সম্প্রচারও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ায়।

জাতীয় ও ক্লাব ফুটবল

জাতীয় দলের মূল ভিত্তি শক্তিশালী ঘরোয়া ফুটবল। পেশাদার লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, জেলা লিগ এবং আন্তবিদ্যালয় টুর্নামেন্ট নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ক্লাবগুলোর নিজস্ব অনুশীলন মাঠ, যুবদল, দক্ষ প্রশিক্ষক, চিকিৎসা ও ফিটনেস ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বচ্ছ দলবদল, সময়মতো পারিশ্রমিক এবং সুষ্ঠু রেফারিং খেলাটির পেশাদার পরিবেশ উন্নত করে।

নারী ফুটবলের অগ্রগতি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দেশের মানুষের আস্থা ও আনন্দ বাড়িয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক কিশোরী শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দলগত নৈপুণ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে নিরাপদ আবাসন, পুষ্টি, শিক্ষা, নিয়মিত লিগ, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও পুরুষ উভয় দলের সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই দেশের ফুটবল বিস্তৃত ভিত্তি পাবে।

বর্তমান সমস্যা

পর্যাপ্ত মাঠের অভাব, অনিয়মিত জেলা লিগ, দুর্বল বয়সভিত্তিক কাঠামো, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের ফুটবলের প্রধান সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত বা দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষকদের আধুনিক জ্ঞান, খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও ক্রীড়াবিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা না থাকলে প্রতিভা বিকশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়।

উন্নয়নের করণীয়

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লিগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমি প্রশিক্ষণ, সুষম খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রশিক্ষক ও রেফারিদের মানোন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, তথ্যভিত্তিক খেলোয়াড় মূল্যায়ন এবং বিদেশি দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি ম্যাচ জরুরি। ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, পৃষ্ঠপোষক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও ফলাফলের জবাবদিহি থাকাও প্রয়োজন।

ফুটবলের সামাজিক গুরুত্ব

ফুটবল শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। কিশোর-তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য দেশের পরিচিতি বাড়ায় এবং নানা শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষকে একই আনন্দে ঐক্যবদ্ধ করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতিভা ও জনসমর্থনের অভাব নেই; প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নয়নব্যবস্থা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সততা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে দেশের ফুটবল আবার গ্যালারিতে প্রাণ ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।

উত্তর

ভূমিকা

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম আনন্দময় মাধ্যম লঞ্চ। নদীর বিস্তার, তীরের জনজীবন, খোলা আকাশ ও চলমান প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায় বলে লঞ্চ ভ্রমণ আমার বিশেষ প্রিয়। গত শীতের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার একটি লঞ্চ ভ্রমণ আমার স্মৃতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে।

যাত্রার প্রস্তুতি

আগেই টিকিট সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে আমরা ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছাই। ঘাটে তখন যাত্রী, কুলি, ফেরিওয়ালা ও নানা গন্তব্যের লঞ্চের ব্যস্ত সমাবেশ। লঞ্চে উঠে প্রথমেই আমাদের কেবিন, জরুরি বহির্গমনপথ ও জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটের অবস্থান দেখে নিই। প্রয়োজনীয় পানি, শুকনা খাবার ও হালকা শীতের পোশাক সঙ্গে ছিল। যাত্রী তালিকা ও টিকিট যাচাই শেষে কর্মীরা নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।

যাত্রার সূচনা

সন্ধ্যার পর বাঁশির শব্দে লঞ্চ ধীরে ধীরে ঘাট ছেড়ে চলতে শুরু করল। সদরঘাটের উজ্জ্বল আলো এবং সারি সারি নৌযান ক্রমে পেছনে মিলিয়ে গেল। বুড়িগঙ্গার ব্যস্ত জলপথ পেরিয়ে লঞ্চ যখন প্রশস্ত নদীতে পৌঁছাল, শহরের কোলাহল কমে চারদিকে শান্ত পরিবেশ নেমে এল। ডেকে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা বাতাসে নদীর গন্ধ এবং ইঞ্জিনের ছন্দময় শব্দ এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করছিল।

নদীর রাত

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই তীরের ঘরবাড়ির আলো দূরের জোনাকির মতো দেখা যাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে মাছ ধরার নৌকা, বালুবাহী জাহাজ ও বিপরীত দিক থেকে আসা লঞ্চের আলো অন্ধকার নদীকে জীবন্ত করে তুলছিল। আকাশ পরিষ্কার থাকায় অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছিল; জলে তাদের প্রতিফলন আরও মনোমুগ্ধকর লাগছিল। মেঘনার বিস্তীর্ণ বুকে পৌঁছে নদী যেন সাগরের রূপ নিল। আমরা রেলিং থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দৃশ্য উপভোগ করলাম এবং অপ্রয়োজনে ভিড় করিনি।

সহযাত্রী ও লঞ্চের জীবন

ডেকে নানা বয়স ও পেশার মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো। কেউ পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলেন। একজন প্রবীণ সহযাত্রী নদীপথের পুরোনো দিনের গল্প শোনালেন। বিক্রেতারা চা, ফল ও হালকা খাবার বিক্রি করছিলেন; তবে আমরা পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান দেখে প্রয়োজনমতো কিনলাম। নামাজের স্থান, খাবারঘর এবং কর্মীদের তৎপরতা লঞ্চটিকে যেন জলের ওপর চলমান ছোট জনপদে পরিণত করেছিল।

ভোরের সৌন্দর্য

ভোরে ডেকে উঠে দেখি পূর্ব আকাশ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে। কুয়াশার আবরণ ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো নদীর জলে সোনালি পথ তৈরি করল। তীরের তাল, নারকেল ও সুপারি গাছ, জেলেদের নৌকা, ঘাটে অপেক্ষমাণ মানুষ এবং পাখির ওড়াউড়ি দক্ষিণ বাংলার শান্ত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলছিল। কীর্তনখোলা নদীতে প্রবেশের পর বরিশাল শহরের ভবন ও ঘাট চোখে পড়তেই সবার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল।

নিরাপত্তা ও সচেতনতা

এ আনন্দদায়ক ভ্রমণ আমাকে নদীপথে নিরাপত্তার গুরুত্বও বুঝিয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, আবহাওয়ার সতর্কবার্তা মানা, বৈধ টিকিট ও যাত্রী তালিকা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করা জরুরি। যাত্রীদেরও রেলিংয়ে ঝুঁকে না দাঁড়ানো, শিশুদের নজরে রাখা, নদীতে বর্জ্য না ফেলা এবং কর্মীদের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।

উপসংহার

সকালে নিরাপদে বরিশাল ঘাটে নেমে আমাদের যাত্রা শেষ হয়, কিন্তু নদীর রাত, তারাভরা আকাশ ও সোনালি ভোরের ছবি মনে রয়ে যায়। লঞ্চ ভ্রমণ আমাকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নদী, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচয় করিয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতা বজায় রেখে এমন ভ্রমণের সুযোগ আবার পেলে আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব।