ভোলা
১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রিয় তুষার,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি ও তোমাদের বাড়ির সবাই ভালো আছ। গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের সঙ্গে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ভ্রমণ করেছি। সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।
খুব সকালে ভোলা থেকে যাত্রা করে দুপুরের আগেই আমরা করতোয়া নদীর তীরবর্তী মহাস্থানগড়ে পৌঁছাই। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, মূর্তি, শিলালিপি, অলংকার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা নিদর্শন দেখে বিস্মিত হয়েছি। পথপ্রদর্শক জানান, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের রাজধানী ছিল এ স্থান এবং এর ইতিহাস আড়াই হাজার বছরেরও পুরোনো। উঁচু দুর্গপ্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ দেখার সময় মনে হচ্ছিল, ইতিহাসের কোনো জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্যে এসে পড়েছি। আমরা গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, জিয়ৎকুণ্ড ও বৈরাগীর ভিটাসহ কয়েকটি প্রত্নস্থানও দেখি।
শিক্ষক প্রাচীন নগর-পরিকল্পনা, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন যুগের সংস্কৃতির পরিচয় ব্যাখ্যা করেন। বইয়ে পড়া ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পেয়ে বিষয়গুলো অনেক স্পষ্ট হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীর ফেলা বর্জ্য দেখে খারাপ লেগেছে। এমন অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানা সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে আবার যেতে চাই।
আজ আর নয়। তোমার পড়াশোনার খবর জানিয়ে চিঠি দিও। কাকু-কাকিমাকে আমার সালাম জানাবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
শিশির
১৫ই জুন ২০২৬
প্রধান শিক্ষক
খুলনা জিলা স্কুল
খুলনা
মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, নবম শ্রেণি
বিষয়: অনুপস্থিতির কারণে পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১০ই জুন থেকে ১৪ই জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে যোগ দিয়েছি। অনুপস্থিত সময়ের পাঠ, বাড়ির কাজ ও শ্রেণিকাজ সহপাঠীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার উপস্থিতির রেকর্ডে উল্লিখিত দিনগুলো অনুমোদিত ছুটি হিসেবে গণ্য করার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করছি।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির উল্লিখিত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।
বিনীত
সাজিদ
শ্রেণি: নবম
শাখা: ক
রোল: ১২
সংযুক্তি: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি।
বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।
অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।
খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।
সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
সাকিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলা বর্ণের নান্দনিক রূপ, শুদ্ধ বানান এবং হাতে লেখার চর্চা উৎসাহিত করতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়-কলেজের প্রতিযোগী, শিক্ষক, শিল্পী ও দর্শনার্থীরা আয়োজনে অংশ নেন।
সকালে চারুকলা অনুষদের ডিন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগেও পরিচ্ছন্ন, পাঠযোগ্য ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষা ও দৈনন্দিন যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ; তবে সৌন্দর্যের নামে অক্ষরের স্বীকৃত রূপ বিকৃত করা উচিত নয়। বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী প্রতিযোগীদের তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বাংলা গদ্য ও কবিতার নির্বাচিত অংশ লিখতে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা একই মানের কাগজ, কলম ও বসার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিযোগীদের নামের বদলে গোপন কোড ব্যবহার করেন, যাতে বিচার নিরপেক্ষ থাকে।
বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের স্পষ্টতা, সুষম আকার, শব্দের ব্যবধান, পঙ্ক্তির সামঞ্জস্য, শুদ্ধ বানান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি বাংলা লিপির বিবর্তন, ক্যালিগ্রাফি ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিল্পীরা সঠিক ভঙ্গিতে বসা, কলম ধরা, অক্ষর অনুশীলন এবং দ্রুততার সঙ্গে পাঠযোগ্যতা বজায় রাখার কৌশল দেখান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে তিন বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের হাতে বই, সনদ ও শিল্পসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচিত লেখাগুলো চারুকলা অনুষদের প্রদর্শনীকক্ষে এক সপ্তাহ প্রদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রতিযোগিতাটি তাদের শুদ্ধ ও যত্নশীল লেখার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আয়োজকেরা এ উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পাবনাের স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ
মিম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ
পাবনা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাবনাের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভূমিকা
মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাকৃতিক আকর্ষণ
বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ
পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
বর্তমান সমস্যা
অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।
উন্নয়নের করণীয়
দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন
পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।
উপসংহার
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।
ভূমিকা
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।
মাদক ও মাদকাসক্তি
যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তির কারণ
কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।
শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।
প্রতিরোধের উপায়
সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা
প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
ভূমিকা
প্রকৃতি কখনো শান্ত ও স্নিগ্ধ, আবার কখনো ভয়ংকর ও বিধ্বংসী। ঝড়ের রাতে তার প্রচণ্ড রূপ মানুষের অসহায়তা, সাহস ও পারস্পরিক নির্ভরতার কথা গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়। আমার জীবনে দেখা একটি ঝড়ের রাত আজও শব্দ, অন্ধকার ও আতঙ্কের জীবন্ত স্মৃতি হয়ে আছে।
ঝড়ের পূর্বাভাস
দিনটি ছিল বৈশাখের শেষ দিকে। সকাল থেকেই বাতাসে অস্বাভাবিক গরম ও ভারী ভাব ছিল। দুপুরে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও পাখিদের চলাচল কমে যায় এবং গাছের পাতাও যেন স্থির হয়ে থাকে। বিকেলের দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় প্রবল কালবৈশাখীর আশঙ্কা জানানো হয়। বাবা উঠানের ঢিলা জিনিস ঘরে তুললেন, জানালার পাল্লা পরীক্ষা করলেন এবং টর্চ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স কাছে রাখলেন। আমরা মোবাইল ফোন চার্জ করে গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে দিই।
আকাশের পরিবর্তন
সন্ধ্যার কিছু আগে পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। দূরে বিদ্যুতের আঁকাবাঁকা ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু তখনো বৃষ্টি নামেনি। হঠাৎ গরম বাতাস থেমে গিয়ে চারদিকে এক অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধুলোর ঘূর্ণি উঠল, গাছের মাথা দুলতে লাগল এবং পাখিরা আতঙ্কে আশ্রয় খুঁজতে ছুটল। আমরা দ্রুত দরজা-জানালা বন্ধ করে বাড়ির সবচেয়ে মজবুত ঘরে জড়ো হলাম।
ঝড়ের তাণ্ডব
রাত নামতেই প্রবল দমকা বাতাস বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল। টিনের চাল কাঁপতে লাগল, জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা ও ছোট ডালপালা সজোরে আঘাত করছিল। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেল। ঘন ঘন বজ্রপাতের আলোয় মুহূর্তের জন্য উঠান ও বাঁকানো গাছগুলো দেখা যাচ্ছিল। কাছেই একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ার বিকট শব্দে ছোট ভাই ভয় পেয়ে কেঁদে উঠল। মা তাকে কাছে টেনে শান্ত করলেন। আমরা জানালা থেকে দূরে, মেঝেতে নিচু হয়ে বসে ছিলাম এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
ভয় ও মানবিকতা
ঝড়ের মাঝেই পাশের বাড়ির বৃদ্ধ দম্পতির কথা মনে পড়ে আমাদের উদ্বেগ বাড়ল। তাঁদের ঘর তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাইরে বের হওয়া তখন বিপজ্জনক বলে বাবা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, প্রতিবেশী যুবকেরা ঝড়ের আগে তাঁদের একটি পাকা বাড়িতে নিয়ে গেছে। খবরটি শুনে স্বস্তি পেলাম। দূরে মানুষের ডাক শোনা গেলেও বিদ্যুৎ-তারের ঝুঁকি ও উড়ন্ত টিনের কারণে কেউ তাড়াহুড়া করে বাইরে যায়নি। জরুরি সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখা হয়।
ঝড় থামার পর
প্রায় এক ঘণ্টা তীব্র তাণ্ডবের পর বাতাস ধীরে ধীরে কমে এল। বৃষ্টি তখনো পড়ছিল, তবে বজ্রপাত দূরে সরে গেছে। পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরেই অপেক্ষা করি। গভীর রাতে বাইরে তাকিয়ে দেখি উঠান পানিতে ভরা, কলাগাছ ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তার ওপর বড় ডাল পড়ে আছে। অন্ধকারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থাকতে পারে বলে বাবা কাউকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেন।
সকালের দৃশ্য ও সহায়তা
পরদিন ভোরে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হলো। অনেক গাছ উপড়ে গেছে, কয়েকটি কাঁচা ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয় মানুষ দল বেঁধে রাস্তার ডাল সরায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে এবং বিপজ্জনক তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেন। সবাই মিলে কাজ করায় বিপর্যয়ের মধ্যেও সাহস ও সহমর্মিতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
অভিজ্ঞতার শিক্ষা
সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে, দুর্যোগকে অবহেলা করা যায় না। আগাম সতর্কবার্তা মানা, মজবুত আশ্রয় নির্বাচন, টর্চ-পানি-ওষুধ প্রস্তুত রাখা, জানালা ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকা এবং ঝড় চলাকালে বাইরে না যাওয়া জীবন রক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিবেশী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সমাজকে আগে থেকেই ভাগ করে নিতে হয়।
উপসংহার
একটি ঝড়ের রাত শুধু ভয় ও ধ্বংসের স্মৃতি নয়; এটি প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যও শেখায়। প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ ক্ষুদ্র হলেও বিজ্ঞানসম্মত সতর্কতা ও সম্মিলিত মানবিকতায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আবার নতুনভাবে দাঁড়াতে পারে।