ঢাকা বোর্ড ২০২৬
১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলজুড়ে এর বাংলাদেশ অংশ অবস্থিত; বনের বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। অসংখ্য নদী, খাল, চর ও জোয়ার-ভাটার জলধারা এ বনকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সুন্দরী গাছের আধিক্য থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা লবণসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও মাছ এ বনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও মৎস্য আহরণ করে বহু বনজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত শোষণ করে উপকূলীয় জনপদকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো রক্ষা করে। এটি কার্বন ধারণ, মাটির ক্ষয়রোধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পর্যটনের মাধ্যমেও পরিবেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, দূষণ, বননিধন ও অবৈধ শিকারে এ বন হুমকির মুখে। তাই বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা, নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ করা জাতীয় কর্তব্য।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

ঢাকা

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা বলে আমার প্রস্তুতির কথা জানাতে আজ তোমাকে লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন একটি সময়সূচি মেনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করছি। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো শিক্ষকদের কাছে বুঝে নিয়েছি এবং নিয়মিত নমুনা প্রশ্ন ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করছি। সপ্তাহে দুদিন পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লেখা, উপস্থাপন ও ভুল সংশোধনের অনুশীলন করছি। গণিতের সূত্র, ব্যাকরণের নিয়ম এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও চিত্রের জন্য আলাদা খাতা তৈরি করেছি। শিক্ষকরা আমার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও সামান্য ব্যায়ামের দিকেও খেয়াল রাখছি। অযথা বাইরে যাওয়া ও মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার জন্য দোয়া করবে, যেন সুস্থ থেকে মনোযোগসহ পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। পরীক্ষা শেষ হলেই বাড়ি ফিরব।

আজ আর নয়। বাবা ও ছোটদের আমার সালাম ও স্নেহ দিও।

ইতি

তোমার স্নেহের

প্রতীক

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান

চাটখিল ইউনিয়ন পরিষদ

চাটখিল, নোয়াখালী

বিষয়: ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা চাটখিল ইউনিয়নের অধিবাসী। আমাদের ইউনিয়নে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষ থাকলেও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য কোনো পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, কৃষি, স্বাস্থ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে মানসম্মত বই ও পত্রিকা পড়ার সুযোগ থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। একটি সুপরিচালিত গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, তরুণদের সৃজনশীলতা এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়বে। অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহার বাড়লে কিশোর-তরুণেরা মাদক, বাল্যবিবাহ ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকেও দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি উপযুক্ত কক্ষ প্রাথমিকভাবে পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, আসন, আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং একজন দায়িত্বশীল গ্রন্থাগারিকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের বই ও অর্থ সহায়তায় যুক্ত করলে উদ্যোগটি সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, চাটখিল ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

বিনীত

রুমি

চাটখিল ইউনিয়ন

চাটখিল, নোয়াখালী।

৩. যেকোনো একটি সারাংশ/সারমর্ম লেখো:-
উত্তর সমাজের লক্ষ্য শুধু মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা নয়, তার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। অথচ প্রেম ও সৌন্দর্যবোধহীন, অহংকারী ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ অন্যের সার্থকতা বাধাগ্রস্ত করে; তাদের মানবপ্রেমের বুলি আন্তরিক উপলব্ধিহীন।
উত্তর শৈশবেই সদুপদেশ গ্রহণ এবং সময়মতো কাজ করার অভ্যাস গড়তে হয়। যথাসময়ে বীজ না বুনে যেমন ফসল পাওয়া যায় না, তেমনি সুযোগ হারিয়ে পরে নিষ্ফল চেষ্টা করেও জীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
৪. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো
উত্তর

শুধু প্রাণ ও দৈহিক অস্তিত্ব মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ করে না। বিবেক, অনুভূতি, মানবিকতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ মনই একজন প্রাণীকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে।

সব জীবই খাদ্য গ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে, আত্মরক্ষা করে এবং বংশবিস্তার করে। মানুষও এসব জৈব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, কিন্তু তার বিশেষত্ব হলো চিন্তাশীল মন। মন মানুষকে ভালো-মন্দ বিচার, অন্যের দুঃখ অনুভব, সত্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষমতা দেয়। এই মনের শক্তিতেই মানুষ ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, আইন ও সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে। শুধু বুদ্ধি থাকলেই অবশ্য মনুষ্যত্ব পূর্ণ হয় না; সেই বুদ্ধির সঙ্গে বিবেক, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও সংযম যুক্ত হওয়া চাই। যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থে অন্যকে শোষণ করে, দুর্বলের কষ্টে উদাসীন থাকে বা জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে, সে দৈহিকভাবে মানুষ হলেও মানবিক অর্থে মানুষ নয়। বিপরীতে যে ব্যক্তি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, ভুল স্বীকার করে এবং সকল জীবের মর্যাদা রক্ষা করে, তার মধ্যেই প্রকৃত মানুষের পরিচয় প্রকাশ পায়। মনকে শিক্ষা, সৎ সঙ্গ, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সেবার মাধ্যমে পরিশীলিত করতে হয়; না হলে লোভ, হিংসা ও অহংকার তার মানবিক শক্তিকে নষ্ট করে।

অতএব, প্রাণ মানুষকে জীবিত রাখে, কিন্তু উদার ও বিবেকবান মন তাকে মনুষ্যত্ব দান করে। মানবিক গুণের চর্চায় মনকে বিকশিত করতে পারলেই মানুষ নামের সত্য মর্যাদা অর্জিত হয়।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সংগত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

চারুলতা বিদ্যানিকেতনে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

নাহিদ, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

ঢাকা, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে গতকাল চারুলতা বিদ্যানিকেতনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

ভোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয়। বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কিছুক্ষণ নীরবতা পালনের মাধ্যমে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গান পরিবেশনের পর বিদ্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান শিক্ষক শুদ্ধ বাংলা চর্চার পাশাপাশি পৃথিবীর সব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

দ্বিতীয় পর্বে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ীদের হাতে বই ও সনদ তুলে দেওয়ার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। সুশৃঙ্খল এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভাষার অধিকার, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা সম্পর্কে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

উত্তর

ঢাকার স্থানীয় সড়কের দুরবস্থায় জনদুর্ভোগ

জামিল, স্থানীয় প্রতিনিধি

ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা সবজি, ধান ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন এবং নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।