দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
উত্তর বিশ্ববিদ্যালয় হলো উচ্চশিক্ষা, মৌলিক গবেষণা, জ্ঞান সৃষ্টি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে পাঠদান, গবেষণা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মী তৈরি করে না; শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সমাজবোধও গড়ে তোলে। শিক্ষক ও গবেষকেরা নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন করে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, ভাষা, সাহিত্য ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে অবদান রাখেন। পাঠাগার, গবেষণাগার, সেমিনার, বিতর্ক, সংস্কৃতিচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা ও জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে। তবে মানসম্মত শিক্ষক, গবেষণা-অর্থায়ন, আবাসন, প্রযুক্তিসুবিধা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও জবাবদিহির ঘাটতি উচ্চশিক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সংকীর্ণতা ও সনদনির্ভরতার বদলে মেধা, স্বাধীন চিন্তা, অন্তর্ভুক্তি এবং দেশের প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সার্থকতা।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো।
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

থানা নির্বাহী অফিসার

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

বিষয়: কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমাদের বিদ্যালয়ে বহু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও তাদের ব্যবহারের উপযোগী কোনো পূর্ণাঙ্গ পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, অভিধান, সংবাদপত্র ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধান, রচনা ও বিতর্কের প্রস্তুতি এবং অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট।

বিদ্যালয়ের একটি উপযুক্ত কক্ষকে পাঠাগার হিসেবে নির্ধারণ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শ্রেণি ও বয়স অনুযায়ী মানসম্মত বই, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী সংগ্রহ এবং একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে পাঠাগারটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের বই সংগ্রহ অভিযানে যুক্ত করলে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

বিনীত

রিহান/রিহানা

শ্রেণি: দশম

কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

উত্তর

ছাত্রাবাস

পায়রাবন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

রংপুর

১৫ই আগস্ট ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সামনে নির্বাচনি পরীক্ষা বলে আমার প্রস্তুতির কথা জানাতে আজ তোমাকে লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন একটি সময়সূচি মেনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করছি। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো শিক্ষকদের কাছে বুঝে নিয়েছি এবং নিয়মিত নমুনা প্রশ্ন ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করছি। সপ্তাহে দুদিন পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লেখা, উপস্থাপন ও ভুল সংশোধনের অনুশীলন করছি। গণিতের সূত্র, ব্যাকরণের নিয়ম এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও চিত্রের জন্য আলাদা খাতা তৈরি করেছি। শিক্ষকরা আমার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও সামান্য ব্যায়ামের দিকেও খেয়াল রাখছি। অযথা বাইরে যাওয়া ও মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার জন্য দোয়া করবে, যেন সুস্থ থেকে মনোযোগসহ নির্বাচনি পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। ভালো ফল হলে এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতিও আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিতে পারব।

আজ আর নয়। বাবা ও ছোটদের আমার সালাম ও স্নেহ দিও।

ইতি

তোমার স্নেহের

প্রান্ত/প্রান্তিকা

৩. সারাংশ সারমর্ম লেখোঃ
উত্তর মানুষ অভ্যাসের দাস; তাই কোনো বদভ্যাস এক দিনে ত্যাগ করা যায় না। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মিথ্যাচার ও কুপ্রবৃত্তি জয় করে সত্যবাদী ও চরিত্রবান হতে হয়।
উত্তর নতুন প্রজন্মের জন্য জঞ্জাল, ব্যর্থতা ও ধ্বংস থেকে মুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করা বর্তমান মানুষের দায়িত্ব। মৃত্যুর আগে সর্বশক্তি দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করাই নবজাতকের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
৪. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।

খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।

সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত

লাবিব/লাবিবা, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

মানিকছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, অভিনয় ও লোকঐতিহ্যের চর্চা শিক্ষার্থীর মনন, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এরপর শ্রেণিভিত্তিক দেশাত্মবোধক ও লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, একক অভিনয়, নৃত্য এবং দেয়ালপত্রিকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিভিত্তিক একটি নাটিকা দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।

বিকেলে অতিথিরা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে বই, সনদ ও স্মারক তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের তৈরি চিত্রকর্ম ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনীও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা ছিল। সমবেত সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা আরও দৃঢ় করেছে।

উত্তর

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২৬: বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়লে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে কোনো কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, পরিচ্ছন্নতা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা, উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রধান উপায়।

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমিভাব বা ত্বকে ফুসকুড়ি ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও বিপদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে; অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাত ব্যথানাশক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া সেগুলো গ্রহণ করা বিপজ্জনক।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল ও নির্মাণাধীন ভবনের ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ফ্রিজের ট্রে ও ছাদের নালায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে এবং সপ্তাহে অন্তত একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। দিনে এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকায় পূর্ণ হাতার পোশাক, মশারি, জানালার জালি ও অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার জরুরি। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারকে নিয়মিত নজরদারি, বর্জ্য অপসারণ, প্রজননস্থল ধ্বংস, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার। গুজব ও ভুল চিকিৎসা এড়িয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিপদের লক্ষণ সম্পর্কে সবাইকে জানানোই প্রাণহানি কমাতে পারে।

৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা

ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। অল্প জায়গা ও সামান্য সরঞ্জামে খেলা যায় বলে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এর ব্যাপক চর্চা রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখা গেলেও দেশের ফুটবলকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফুটবলের ঐতিহ্য

এ দেশের মাঠে ফুটবলের চর্চা বহু পুরোনো। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার ক্লাব ফুটবল, জাতীয় লিগ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট দর্শকদের বিপুল আনন্দ দিয়েছে। একসময় আবাহনী, মোহামেডানসহ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। জাতীয় দলও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

জনপ্রিয়তার কারণ

ফুটবলের নিয়ম তুলনামূলক সহজ এবং একটি বল পেলেই অনেকজন একসঙ্গে খেলতে পারে। দ্রুত গতি, কৌশল, দলগত সমন্বয় এবং মুহূর্তে ফল বদলে যাওয়ার উত্তেজনা দর্শককে আকৃষ্ট করে। গ্রামাঞ্চলের খোলা মাঠ, বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় টুর্নামেন্ট ফুটবলকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি রেখেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিশ্বকাপের সম্প্রচারও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ায়।

জাতীয় ও ক্লাব ফুটবল

জাতীয় দলের মূল ভিত্তি শক্তিশালী ঘরোয়া ফুটবল। পেশাদার লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, জেলা লিগ এবং আন্তবিদ্যালয় টুর্নামেন্ট নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ক্লাবগুলোর নিজস্ব অনুশীলন মাঠ, যুবদল, দক্ষ প্রশিক্ষক, চিকিৎসা ও ফিটনেস ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বচ্ছ দলবদল, সময়মতো পারিশ্রমিক এবং সুষ্ঠু রেফারিং খেলাটির পেশাদার পরিবেশ উন্নত করে।

নারী ফুটবলের অগ্রগতি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দেশের মানুষের আস্থা ও আনন্দ বাড়িয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক কিশোরী শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দলগত নৈপুণ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে নিরাপদ আবাসন, পুষ্টি, শিক্ষা, নিয়মিত লিগ, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও পুরুষ উভয় দলের সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই দেশের ফুটবল বিস্তৃত ভিত্তি পাবে।

বর্তমান সমস্যা

পর্যাপ্ত মাঠের অভাব, অনিয়মিত জেলা লিগ, দুর্বল বয়সভিত্তিক কাঠামো, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের ফুটবলের প্রধান সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত বা দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষকদের আধুনিক জ্ঞান, খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও ক্রীড়াবিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা না থাকলে প্রতিভা বিকশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়।

উন্নয়নের করণীয়

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লিগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমি প্রশিক্ষণ, সুষম খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রশিক্ষক ও রেফারিদের মানোন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, তথ্যভিত্তিক খেলোয়াড় মূল্যায়ন এবং বিদেশি দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি ম্যাচ জরুরি। ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, পৃষ্ঠপোষক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও ফলাফলের জবাবদিহি থাকাও প্রয়োজন।

ফুটবলের সামাজিক গুরুত্ব

ফুটবল শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। কিশোর-তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য দেশের পরিচিতি বাড়ায় এবং নানা শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষকে একই আনন্দে ঐক্যবদ্ধ করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতিভা ও জনসমর্থনের অভাব নেই; প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নয়নব্যবস্থা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সততা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে দেশের ফুটবল আবার গ্যালারিতে প্রাণ ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।