কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬
১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

কুমিল্লা

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় জারিফ,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি ও তোমাদের বাড়ির সবাই ভালো আছ। গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের সঙ্গে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ভ্রমণ করেছি। সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

খুব সকালে কুমিল্লা থেকে যাত্রা করে দুপুরের আগেই আমরা করতোয়া নদীর তীরবর্তী মহাস্থানগড়ে পৌঁছাই। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, মূর্তি, শিলালিপি, অলংকার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা নিদর্শন দেখে বিস্মিত হয়েছি। পথপ্রদর্শক জানান, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের রাজধানী ছিল এ স্থান এবং এর ইতিহাস আড়াই হাজার বছরেরও পুরোনো। উঁচু দুর্গপ্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ দেখার সময় মনে হচ্ছিল, ইতিহাসের কোনো জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্যে এসে পড়েছি। আমরা গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, জিয়ৎকুণ্ড ও বৈরাগীর ভিটাসহ কয়েকটি প্রত্নস্থানও দেখি।

শিক্ষক প্রাচীন নগর-পরিকল্পনা, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন যুগের সংস্কৃতির পরিচয় ব্যাখ্যা করেন। বইয়ে পড়া ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পেয়ে বিষয়গুলো অনেক স্পষ্ট হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীর ফেলা বর্জ্য দেখে খারাপ লেগেছে। এমন অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানা সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে আবার যেতে চাই।

আজ আর নয়। তোমার পড়াশোনার খবর জানিয়ে চিঠি দিও। কাকু-কাকিমাকে আমার সালাম জানাবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

মাসুদ

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, সড়কের ত্রুটি এবং পথচারীর নিরাপদ পারাপারের অভাব এর প্রধান কারণ। পাহাড়ি বাঁক, বন্দরকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের চাপ এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার চট্টগ্রামের ঝুঁকি আরও বাড়ায়। এতে প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং পরিবারে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে। এ অবস্থা রোধে চালকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত, যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা, গতিসীমা ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত সংকেত, আলোকসজ্জা, ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও পদচারী-সেতু নির্মাণ জরুরি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ, স্কুলভিত্তিক সড়কনিরাপত্তা শিক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রতিটি দুর্ঘটনার বিজ্ঞানসম্মত তদন্তও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিলে এ প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুমিছিল অনেকটাই থামানো সম্ভব।

বিনীত

আরিফ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দৈনিক প্রথম আলো।

৩. যেকোনো একটি বিষয়ে সারাংশ / সারমর্ম লেখো:
উত্তর জীবনের অভাব মানুষকে কর্ম, উদ্যম ও সেবার সুযোগ দেয়। নিজের ও অন্যের অভাব পূরণের প্রচেষ্টাতেই বৈচিত্র্য, অগ্রগতি ও মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে; তাই অভাবই কর্ম ও সেবাধর্মের অন্যতম উৎস।
উত্তর তারুণ্য প্রাণশক্তি, সাহস ও নবসৃষ্টির প্রতীক। নবীনদের দুরন্ত উদ্যম ও বাধাহীন কর্মপ্রেরণাই জড়তা, ভীরুতা ও মৃত্যুচেতনাকে আঘাত করে সমাজে নতুন জীবন জাগাতে পারে; তাই সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে।
৪. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

মানুষের মর্যাদা জন্মস্থান, বংশ বা পারিবারিক সম্পদে নির্ধারিত হয় না; তার সৎ, মহৎ ও কল্যাণকর কর্মই প্রকৃত পরিচয় নির্মাণ করে। সাধারণ পরিবেশে জন্ম নিয়েও উত্তম কাজের মাধ্যমে মানুষ সমাজে সম্মান ও অমরত্ব অর্জন করতে পারে।

জন্ম মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। কেউ ধনী পরিবারে, কেউ দরিদ্র ঘরে; কেউ নগরে, কেউ প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মায়। তাই জন্মের জন্য অহংকার বা লজ্জা—দুটিই অযৌক্তিক। বংশগৌরব, পদ বা সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেলেও তা ব্যক্তির নিজস্ব কৃতিত্ব নয়। ইতিহাসে বহু মানুষ প্রতিকূল ও অনাড়ম্বর পরিবেশ থেকে উঠে এসে শিক্ষা, শ্রম, সততা ও মানবসেবার মাধ্যমে বিশ্বকে আলোকিত করেছেন। আবার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও অসৎ কর্মের কারণে অনেকে ঘৃণিত হয়েছেন। কাজের মধ্যেই মানুষের বিবেক, যোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশ পায়। কৃষকের উৎপাদন, শ্রমিকের নির্মাণ, শিক্ষকের জ্ঞানদান, চিকিৎসকের সেবা কিংবা নাগরিকের ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ—প্রত্যেক সৎ কর্ম সমাজকে এগিয়ে নেয়। নিজের উন্নতির সঙ্গে অন্যের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করাই ভালো কর্মের লক্ষণ। তবে সুনামের জন্য লোকদেখানো কাজ নয়; নিষ্ঠা, নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি উপকারের ভিত্তিতেই কর্মের মূল্য বিচার করতে হয়।

অতএব, কোথায় বা কোন পরিবারে জন্ম হয়েছে তা নয়, জীবনে কী কাজ করা হয়েছে সেটিই মানুষের আসল পরিচয়। সৎ ও কল্যাণকর কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই জন্ম সার্থক এবং মানুষ সত্যিকার অর্থে মহান হয়।

উত্তর

মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। দুর্দিনের অন্ধকারের আড়ালেই সুদিনের আলো অপেক্ষা করে; তাই বিপদে ভয় না পেয়ে ধৈর্য, সাহস ও আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

মেঘ সাময়িকভাবে সূর্য বা চাঁদকে ঢেকে দিলেও তাদের আলো নিভিয়ে দিতে পারে না। বাতাসে মেঘ সরে গেলে আকাশ আবার উজ্জ্বল হয়। মানবজীবনেও রোগ, শোক, অভাব, ব্যর্থতা ও অপমান কখনো কালো মেঘের মতো নেমে আসে। দুর্বলচিত্ত মানুষ তখন মনে করে, এ সংকটের আর শেষ নেই; ফলে সে হতাশ হয়ে কর্মশক্তি হারায়। কিন্তু ইতিহাস ও ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা বলে, চেষ্টা ও সময়ের সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। পরীক্ষায় ব্যর্থ শিক্ষার্থী নতুন পরিকল্পনায় পরিশ্রম করে সফল হতে পারে; বিপর্যস্ত জাতিও ঐক্য ও সংগ্রামের মাধ্যমে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। প্রতিকূলতা মানুষের ধৈর্য, সাহস ও সুপ্ত শক্তিকে পরীক্ষা করে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেয়। তাই দুঃসময়ে আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবতা বুঝে পরিকল্পিতভাবে সংকট মোকাবিলা করা উচিত। অন্ধ আশায় বসে থাকা নয়, আশাবাদকে কর্মের শক্তিতে রূপ দেওয়াই সাফল্যের পথ।

অতএব, রাতের পরে যেমন ভোর আসে, দুঃখের পরেও তেমনি সুখের সম্ভাবনা জাগে। ধৈর্য ও কর্মে অটল মানুষই দুর্দিন পেরিয়ে জীবনের আলো ফিরে পায়।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

প্রথম বিকল্প

পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

হাবিবা, বিদ্যালয় প্রতিবেদক

পটুয়াখালী, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গতকাল পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সকালে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রবীণ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছাপত্র দিয়ে নবীনদের স্বাগত জানায়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ইতিহাস, শৃঙ্খলা, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিচিতিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি নিয়মিত উপস্থিতি, সততা, সময়ানুবর্তিতা এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। কয়েকজন শিক্ষক নিরাপদ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ, পরামর্শসেবা এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন ছাত্রী নতুন পরিবেশে সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।

দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশিত হয়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব নিজ নিজ কার্যক্রম তুলে ধরে এবং নবীনদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। পরিচয়পর্ব ও প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ আয়োজন নবীনদের ভয় ও সংকোচ দূর করে বিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের বন্ধন গড়তে সহায়তা করেছে।

দ্বিতীয় বিকল্প

কুড়িগ্রামে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

সুমন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর অথচ আবেগঘন পরিবেশে গতকাল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা আয়োজনে অংশ নেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর নবীনদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নিয়ম, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও পরামর্শসেবার সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নবীনদের কৌতূহলী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক শিক্ষার্থী হওয়ার আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে স্মারক, কলম ও শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুজদের পক্ষ থেকে মানপত্র পাঠ করা হলে বিদায়ীরা বিদ্যালয়ের স্মৃতি, শিক্ষকদের অবদান এবং ছোটদের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত বক্তব্য দেয়। শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সততার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশিত হয়। নবীন ও বিদায়ীদের সম্মানে প্রীতিভোজের আয়োজনও ছিল। আনন্দ ও বেদনার মিলিত এ অনুষ্ঠান একদিকে নতুনদের বিদ্যালয়জীবনে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে বিদায়ীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় শুভকামনা ও মূল্যবোধের প্রেরণা দিয়েছে।

উত্তর

পদ্মার তীরে সবুজ বেষ্টনী গড়তে বৃক্ষরোপণ উৎসব

রাকিব, রাজশাহী প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ

রাজশাহী, ১৬ই জুলাই ২০২৬: নদীতীরের পরিবেশ রক্ষা, ভাঙনপ্রবণ মাটি স্থিতিশীল করা এবং নগরবাসীর জন্য সবুজ পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে গতকাল পদ্মা নদীর তীরবর্তী নির্ধারিত এলাকায় বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সকালে নদীতীরের একটি উন্মুক্ত স্থানে দেশীয় গাছের চারা রোপণ করে জেলা প্রশাসক উৎসবের উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, উপযুক্ত বৃক্ষের শিকড় তীরের মাটি ধরে রাখতে, ধুলা ও তাপ কমাতে, পাখি ও ছোট প্রাণীর আবাস গড়তে এবং নদীপারের সৌন্দর্য বাড়াতে সহায়তা করে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, বন্যার পানি নিষ্কাশন, বাঁধের নিরাপত্তা ও চরাঞ্চলের প্রতিবেশ বিবেচনা না করে এলোমেলো গাছ লাগানো যাবে না। তাই পানি সহনশীল ও স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী দেশীয় প্রজাতি বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে।

উৎসবে নদীর পাড় ও সংযোগ সড়কের পাশে হিজল, করচ, অর্জুন, নিম, বকুল এবং বিভিন্ন ফলদ গাছের কয়েক শ চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সরিয়ে চারা ঘিরে সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করেন। প্রতিটি অংশের পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত চারা প্রতিস্থাপন এবং বেঁচে থাকার হিসাব রাখার দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। নদীতীর দখল, মাটি কাটা ও গাছ নষ্ট করা বন্ধে সচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হয়।

আয়োজকেরা জানান, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক চরিত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিয়মিত তদারকি চলবে। পরিকল্পিত রোপণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত হলে এ সবুজ বেষ্টনী পদ্মাতীরের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও বিনোদনমূল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় সংঘটিত ঐতিহাসিক গণআন্দোলনই ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ বহু ভাষাসংগ্রামীর আত্মত্যাগ এ আন্দোলনকে চূড়ান্ত মর্যাদা দেয়। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম বাঙালির জাতীয়তাবোধ, স্বাধিকারচেতনা এবং পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণ করে।

পটভূমি

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের ফলে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। ভাষা ছিল তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি হাতিয়ার। পূর্ব বাংলার ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ এ অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।

প্রথম পর্যায়

১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের ভাষা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বাংলার দাবিতে জনমত গড়ে তোলে। ২১শে মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দান এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ধর্মঘট, সভা ও মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলন ক্রমে বিস্তৃত হয়।

১৯৫২ সালের আন্দোলন

১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আবার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বক্তব্য দিলে পূর্ব বাংলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১শে ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার ছাত্রসভায় শিক্ষার্থীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি

ছাত্ররা ছোট ছোট দলে ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং বহুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। তাঁদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলে আন্দোলন সারা পূর্ব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। ২২শে ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদেও শফিউর রহমান শহিদ হন। ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করে; পরে পুলিশ তা ভেঙে দেয়।

দাবির স্বীকৃতি

ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ ও অব্যাহত গণআন্দোলনের মুখে শাসকগোষ্ঠী বাংলার দাবি উপেক্ষা করতে পারেনি। ১৯৫৪ সালের ৭ই মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার জন্য বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য

ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ করে। এ আন্দোলনের চেতনা ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা জোগায়। একুশকে কেন্দ্র করে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের সমৃদ্ধ ধারা সৃষ্টি হয়েছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতীক হয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশের উদ্যোগে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। এ স্বীকৃতি শুধু বাংলার মর্যাদা নয়; বিশ্বের সব মাতৃভাষা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং নিজ ভাষায় শিক্ষার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে।

করণীয়

ভাষাশহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরে শুদ্ধ ও কার্যকর বাংলা ব্যবহার, মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পরিভাষা সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার। বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করাই একুশের শিক্ষা।

উপসংহার

ভাষা আন্দোলন বাঙালির ইতিহাসে অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রথম মহান বিজয়। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের ন্যায়, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে শেখায়। একুশের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়াই তাঁদের প্রতি যথার্থ সম্মান।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।