তারিখ: ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬
বরাবর
ব্যবস্থাপক
সোনালী ব্যাংক পিএলসি
দিনাজপুর সদর শাখা, দিনাজপুর
বিষয়: ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপনের জন্য ঋণ মঞ্জুরের আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি শুভ্র/শুভ্রা, দিনাজপুর সদর উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর স্থানীয় বাজারে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। এ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, মুদ্রণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেওয়া হবে। উদ্যোগটির জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, দোকান সাজানো এবং প্রাথমিক পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৪,০০,০০০ টাকা প্রয়োজন। নিজস্ব সঞ্চয় থেকে ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে পারব; অবশিষ্ট ৩,০০,০০০ টাকা আপনার ব্যাংকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজন।
আমি একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের হিসাব, প্রশিক্ষণ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় জামিনদারের কাগজপত্র সংযুক্ত করেছি। সম্ভাব্য আয় থেকে ব্যাংকের নির্ধারিত কিস্তি ও সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে সক্ষম হব। ব্যাংক চাইলে প্রকল্পস্থল পরিদর্শন ও অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করতে পারে।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার কাগজপত্র ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী ৩,০০,০০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
শুভ্র/শুভ্রা
দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর
মোবাইল: ০১৭XXXXXXXX
সংযুক্তি: ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের প্রাক্কলন, প্রশিক্ষণ সনদ, পরিচয়পত্র ও জামিনদারের কাগজপত্র।
দিনাজপুর
১৫ই জুন ২০২৬
প্রিয় রাকিব,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি সিলেটে ভালো আছ। সম্প্রতি ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ভ্রমণের যে আনন্দময় ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।
গত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সকালে দিনাজপুর থেকে রওনা হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে পৌঁছাই। মুঘল আমলের এ অসমাপ্ত দুর্গের নির্মাণকাজ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ মুহাম্মদ আজম শুরু করেন; পরে শায়েস্তা খান এর দায়িত্ব নেন। প্রবেশপথ পেরিয়ে সুবিস্তৃত উদ্যান, জলাধার, প্রাচীর ও স্থাপনার সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখে আমরা মুগ্ধ হই। পরীবিবির সমাধিসৌধের কারুকাজ, দরবার হল ও হাম্মামখানা এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। জাদুঘরে সংরক্ষিত মুদ্রা, অস্ত্র, পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রী দেখে মুঘল বাংলার প্রশাসন, স্থাপত্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাই। একজন পথপ্রদর্শক দুর্গের ইতিহাস ও বিভিন্ন স্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করায় পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে দর্শনার্থীর ভিড়ের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও প্রত্নসম্পদের নিরাপত্তা রক্ষা করা যে জরুরি, তা অনুভব করেছি।
ঐতিহাসিক নিদর্শন শুধু বিনোদনের স্থান নয়; জাতির অতীত ও পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। সুযোগ পেলে তুমিও লালবাগ কেল্লা দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
মিঠুন
বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।
অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।
যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।
অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।
অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।
হাজী মুহাম্মদ মহসীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
আকিব, বগুড়া প্রতিনিধি, দৈনিক জনকণ্ঠ
বগুড়া, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল জেলার হাজী মুহাম্মদ মহসীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা বিদ্যালয়ের দেয়ালপত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।
খুলনার স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ
সৌরভ/সুরভি, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভূমিকা
সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।
সময়ের স্বরূপ
সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।
ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব
সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।
শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা
শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।
জাতীয় জীবনে গুরুত্ব
একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।
সময় অপচয়ের ফল
অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।
সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়
প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
উপসংহার
জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।
ভূমিকা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও সাহিত্যিক। নারী যখন শিক্ষা, কর্ম ও সামাজিক অধিকার থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, তখন তিনি লেখনী, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্তি ও মর্যাদার পথ নির্মাণ করেন।
জন্ম ও পারিবারিক পরিবেশ
রোকেয়া ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ আবু আলী সাবের এবং মাতা রাহাতুল্লোসা সাবেরা চৌধুরানী। রক্ষণশীল ও কঠোর পর্দাপ্রথার পরিবারে মেয়েদের বাংলা ও ইংরেজি শেখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জ্ঞানপিপাসু রোকেয়া বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বোন করিমুল্লোসার সহযোগিতায় গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
বিবাহ ও সাহিত্যচর্চার প্রেরণা
১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। উদারমনস্ক স্বামী রোকেয়াকে বাংলা ও ইংরেজি চর্চা এবং সমাজসেবায় উৎসাহ দেন। স্বামীর সহযোগিতায় তাঁর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে স্বামীর মৃত্যুর পরও রোকেয়া তাঁর আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।
নারীশিক্ষা বিস্তারে অবদান
স্বামীর স্মৃতিতে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিকূলতার কারণে পরে কলকাতায় গিয়ে ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করেন। রক্ষণশীল পরিবারের অভিভাবকদের বোঝাতে তিনি ঘরে ঘরে গিয়েছেন এবং ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ক্রমে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। নারীশিক্ষা যে কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং আত্মমর্যাদা, অধিকারবোধ ও স্বনির্ভরতার পথ—এ বিশ্বাসই তাঁর কাজের ভিত্তি ছিল।
সাহিত্যিক জীবন
১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ‘নবপ্রভা’ পত্রিকায় ‘পিপাসা’ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে ‘মতিচুর’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, ইংরেজি রচনা Sultana’s Dream বা ‘সুলতানার স্বপ্ন’, উপন্যাস ‘পদ্মরাগ’ এবং ‘অবরোধবাসিনী’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যঙ্গ, যুক্তি ও কল্পনার সাহায্যে তিনি নারীর অবরুদ্ধ জীবন, পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং মানসিক দাসত্বের সমালোচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্য একই সঙ্গে শিল্পসফল ও সমাজজাগরণমূলক।
সংগঠন ও সমাজসংস্কার
নারীদের সংগঠিত ও সহায়তা করতে রোকেয়া ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র নারীর শিক্ষা, কর্মদক্ষতা ও কল্যাণে কাজ করা হয়। তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, একতরফা তালাক, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং নারীর প্রতি সব ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর লক্ষ্য পুরুষের বিরোধিতা নয়; নারী ও পুরুষের সমঅধিকার ও সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
চিন্তাদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতা
রোকেয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি এগোতে পারে না। শিক্ষা নারীর বিচারবুদ্ধি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। আজ নারীরা শিক্ষা, প্রশাসন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য ও রাজনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে; এর পেছনে রোকেয়ার সংগ্রাম এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। তবে বাল্যবিবাহ, সহিংসতা, বৈষম্য ও শিক্ষাবঞ্চনা পুরোপুরি দূর হয়নি বলে তাঁর চিন্তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
মৃত্যু ও স্মৃতি
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর কলকাতায় রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন ৯ই ডিসেম্বর বাংলাদেশে ‘রোকেয়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। তাঁর জীবন নারীমুক্তি, শিক্ষা ও মানবমর্যাদার সংগ্রামের উজ্জ্বল প্রতীক।
উপসংহার
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি নারীকে আত্মসচেতনতার পথে আহ্বান জানিয়েছেন। সাহস, যুক্তিবোধ ও মানবিকতার এই উত্তরাধিকার তাঁকে শুধু নারী জাগরণের অগ্রদূত নয়, সমগ্র বাঙালি সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শকে পরিণত করেছে।
ভূমিকা
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।
মাদক ও মাদকাসক্তি
যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তির কারণ
কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।
শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।
প্রতিরোধের উপায়
সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা
প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।