সিলেট বোর্ড ২০২৬
১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান

ভালুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদ

বিষয়: ফুলবাড়ি গ্রামে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি ভালুকগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

একটি সুশৃঙ্খল গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়বে। তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের একটি উপযুক্ত কক্ষ বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।

অতএব, ফুলবাড়ি গ্রামে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

শফি/শাফিনা

ফুলবাড়ি, ভালুকগাছি ইউনিয়ন।

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: আমাদের এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

আমাদের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় কেন্দ্রটির সেবাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; কর্মরতদেরও নিয়মিত পাওয়া যায় না। বিনা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত থাকে না, রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অচল এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রম অনিয়মিত। ভবনের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগীকে দূরের জেলা হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও প্রতিকার পায়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সচল যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

তামিম/তামিমা

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো।

৩. যেকোনো একটি সারাংশ ,সারমর্ম লেখো:
উত্তর বিদ্যা মূল্যবান হলেও সৎ চরিত্র তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। চরিত্রহীন বিদ্বানের জ্ঞান বিষধর সাপের মাথার মণির মতো বিপজ্জনক; তাই জ্ঞানলাভের লোভেও দুর্জনের সঙ্গ পরিত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উত্তর নতুন প্রজন্মের জন্য জঞ্জাল, ব্যর্থতা ও ধ্বংস থেকে মুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করা বর্তমান মানুষের দায়িত্ব। মৃত্যুর আগে সর্বশক্তি দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করাই নবজাতকের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
৪. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।

অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।

অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

বগুড়ার স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ

আবরার, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো

বগুড়া, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বগুড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উত্তর

নওগাঁ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নিহাল, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক সমকাল

নওগাঁ, ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল নওগাঁ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, সততা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ অর্জনই শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের পক্ষ থেকে একজন শিক্ষার্থী নতুন বিদ্যালয়ে নিজের আশা ও অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতা কামনা করে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ইতিহাস, নিয়মাবলি, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পর্কে পরিচিতিমূলক উপস্থাপনা দেওয়া হয়। নবীনদের মধ্যে তথ্যপত্র ও বার্ষিক কার্যক্রমের তালিকা বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশন করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও নবীনদের সফল শিক্ষাজীবনের শুভকামনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ আয়োজন নতুন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে পরিচিত করে তাদের সংকোচ দূর ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করেছে।

৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় সংঘটিত ঐতিহাসিক গণআন্দোলনই ভাষা আন্দোলন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ বহু ভাষাসংগ্রামীর আত্মত্যাগ এ আন্দোলনকে চূড়ান্ত মর্যাদা দেয়। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম বাঙালির জাতীয়তাবোধ, স্বাধিকারচেতনা এবং পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণ করে।

পটভূমি

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের ফলে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। ভাষা ছিল তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি হাতিয়ার। পূর্ব বাংলার ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ এ অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।

প্রথম পর্যায়

১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের ভাষা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বাংলার দাবিতে জনমত গড়ে তোলে। ২১শে মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দান এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ধর্মঘট, সভা ও মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলন ক্রমে বিস্তৃত হয়।

১৯৫২ সালের আন্দোলন

১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন আবার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বক্তব্য দিলে পূর্ব বাংলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১শে ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার ছাত্রসভায় শিক্ষার্থীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি

ছাত্ররা ছোট ছোট দলে ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং বহুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। তাঁদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলে আন্দোলন সারা পূর্ব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। ২২শে ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদেও শফিউর রহমান শহিদ হন। ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করে; পরে পুলিশ তা ভেঙে দেয়।

দাবির স্বীকৃতি

ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ ও অব্যাহত গণআন্দোলনের মুখে শাসকগোষ্ঠী বাংলার দাবি উপেক্ষা করতে পারেনি। ১৯৫৪ সালের ৭ই মে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়। ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার জন্য বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য

ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ করে। এ আন্দোলনের চেতনা ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা জোগায়। একুশকে কেন্দ্র করে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের সমৃদ্ধ ধারা সৃষ্টি হয়েছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতীক হয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশের উদ্যোগে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। এ স্বীকৃতি শুধু বাংলার মর্যাদা নয়; বিশ্বের সব মাতৃভাষা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং নিজ ভাষায় শিক্ষার অধিকারের প্রতি সম্মান প্রকাশ করে।

করণীয়

ভাষাশহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরে শুদ্ধ ও কার্যকর বাংলা ব্যবহার, মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পরিভাষা সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার। বিদেশি ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করাই একুশের শিক্ষা।

উপসংহার

ভাষা আন্দোলন বাঙালির ইতিহাসে অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রথম মহান বিজয়। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের ন্যায়, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াতে শেখায়। একুশের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়াই তাঁদের প্রতি যথার্থ সম্মান।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।