যশোর
১৫ই জুন ২০২৬
প্রিয় রায়হান,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। সম্প্রতি ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ভ্রমণের যে আনন্দময় ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।
গত শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে সকালে যশোর থেকে রওনা হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে পৌঁছাই। মুঘল আমলের এ অসমাপ্ত দুর্গের নির্মাণকাজ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ মুহাম্মদ আজম শুরু করেন; পরে শায়েস্তা খান এর দায়িত্ব নেন। প্রবেশপথ পেরিয়ে সুবিস্তৃত উদ্যান, জলাধার, প্রাচীর ও স্থাপনার সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখে আমরা মুগ্ধ হই। পরীবিবির সমাধিসৌধের কারুকাজ, দরবার হল ও হাম্মামখানা এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। জাদুঘরে সংরক্ষিত মুদ্রা, অস্ত্র, পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রী দেখে মুঘল বাংলার প্রশাসন, স্থাপত্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাই। একজন পথপ্রদর্শক দুর্গের ইতিহাস ও বিভিন্ন স্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করায় পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে দর্শনার্থীর ভিড়ের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও প্রত্নসম্পদের নিরাপত্তা রক্ষা করা যে জরুরি, তা অনুভব করেছি।
ঐতিহাসিক নিদর্শন শুধু বিনোদনের স্থান নয়; জাতির অতীত ও পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। সুযোগ পেলে তুমিও লালবাগ কেল্লা দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
সাদমান/সাদিকা
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা
বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।
বিনীত
আদিব/আদিবা
যশোর।
মানুষের মহত্ত্ব কেবল নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগে প্রকাশ পায় না; অন্যের কল্যাণে স্বার্থ, শ্রম ও সম্পদ ত্যাগ করার মধ্যেই মনুষ্যত্বের প্রকৃত বিকাশ ঘটে। সংযম ও ত্যাগ মানুষকে সংকীর্ণ আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর মানবসমাজের সঙ্গে যুক্ত করে।
ভোগের আকাঙ্ক্ষা অসীম। একটি চাহিদা পূরণ হলে আরেকটি জন্ম নেয়; ফলে মানুষ লোভ, প্রতিযোগিতা ও অসন্তোষের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। বিপরীতে ত্যাগের মনোভাব মানুষকে সহমর্মী, উদার ও দায়িত্বশীল করে। মা সন্তানের জন্য নিজের আরাম বিসর্জন দেন, শিক্ষক শিক্ষার্থীর উন্নতির জন্য শ্রম দেন, আর দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরেরা জীবন উৎসর্গ করেন—এসব ত্যাগেই মানবিক মহিমা উজ্জ্বল। সমাজে ধনী ব্যক্তি যদি সম্পদের অংশ অসহায়ের শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করেন, জ্ঞানী ব্যক্তি যদি জ্ঞান ভাগ করেন এবং সক্ষম মানুষ যদি দুর্যোগে বিপন্নের পাশে দাঁড়ান, তবে পারস্পরিক আস্থা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ত্যাগ মানে প্রয়োজনহীন আত্মনিপীড়ন বা সব সম্পদ পরিত্যাগ নয়; ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজন পূরণ করে লোভ সংযত রাখা এবং বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য স্বেচ্ছায় কিছু ছাড় দেওয়াই প্রকৃত ত্যাগ। নিজের কর্তব্য অবহেলা করে লোকদেখানো দানও ত্যাগের আদর্শ নয়।
অতএব, সংযত ভোগ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন হলেও ত্যাগই মানুষকে হৃদয়ের ঐশ্বর্য ও নৈতিক উচ্চতা দেয়। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করলেই মনুষ্যত্ব পূর্ণতা লাভ করে।
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।
খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।
সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বরগুনা জিলা স্কুলে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
মুনিম, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক
বরগুনা, ৩০শে জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে গতকাল বরগুনা জিলা স্কুলে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সফলতা কামনা করেন। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের একজন নতুন পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুভূতি জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের হাতে স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশিত হয়। আনন্দ ও বিচ্ছেদের মিশ্র অনুভূতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
বরিশালে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
নাবিল/নাবিলা, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো
বরিশাল, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা একাডেমির প্রদর্শনীতে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।
ভূমিকা
ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, আনন্দ ও জাতীয় গৌরবের অন্যতম উৎস। একসময় সীমিত পরিসরে খেলা হলেও ধারাবাহিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং গণমানুষের সমর্থনে ক্রিকেট আজ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জাতীয় দল, নারী দল ও বয়সভিত্তিক দলের অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়িয়েছে।
ক্রিকেটের বিকাশ
বাংলাদেশে ক্রিকেটের চর্চা ঔপনিবেশিক আমলে শুরু হলেও স্বাধীনতার পর খেলাটি নতুনভাবে সংগঠিত হয়। বিদ্যালয়, কলেজ, জেলা ও ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়াড় তৈরি হতে থাকে। বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য হয়। ঘরোয়া অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ফলে দল ধীরে ধীরে শক্তি অর্জন করে।
আইসিসি ট্রফি ও বিশ্বকাপের দ্বার
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা। এ সাফল্যের মাধ্যমে দেশ প্রথমবার ১৯৯৯ সালের একদিনের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই জয় দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ক্রিকেটকে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ
২০০০ সালের জুনে বাংলাদেশ দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা লাভ করে এবং একই বছরের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলে। টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য, কৌশল ও ধারাবাহিকতার কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। শুরুতে নানা ব্যর্থতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে স্মরণীয় টেস্ট জয় অর্জন করেছে। তবু বিদেশের ভিন্ন পরিবেশে দীর্ঘ সময় ভালো খেলা এবং ধারাবাহিক ব্যাটিং এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
একদিনের ও টি-টোয়েন্টি অগ্রগতি
একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি সবচেয়ে দৃশ্যমান। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়, ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণ এবং ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা দেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন। ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ও বাংলাদেশের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। টি-টোয়েন্টিতে প্রতিভা থাকলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত, শক্তিশালী ব্যাটিং ও নিখুঁত ডেথ বোলিংয়ে আরও উন্নতি প্রয়োজন।
যুব ও নারী ক্রিকেটের সাফল্য
২০২০ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে; এটি যেকোনো পর্যায়ে দেশের প্রথম আইসিসি বিশ্বশিরোপা। এ অর্জন পরিকল্পিত বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দেখিয়েছে। নারী ক্রিকেট দলও ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে। নারী খেলোয়াড়দের নিয়মিত ঘরোয়া লিগ, নিরাপদ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ বাড়ালে সাফল্যের ভিত্তি আরও শক্ত হবে।
ক্রিকেটের প্রভাব
আন্তর্জাতিক ম্যাচে জাতীয় পতাকা ও সংগীত দেশের মানুষকে এক আবেগে ঐক্যবদ্ধ করে। ক্রিকেট খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, আম্পায়ার, মাঠকর্মী, ধারাভাষ্যকার, ক্রীড়া সাংবাদিক ও সম্প্রচারকসহ নানা পেশায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন পর্যটন, পরিবহন, হোটেল ও বিজ্ঞাপন খাতেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায়। শিশু-কিশোরেরা খেলোয়াড়দের পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা থেকে অনুপ্রেরণা পায়।
বর্তমান সমস্যা
কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক সুযোগ, মানসম্মত মাঠের অভাব, দুর্বল জেলা লিগ, অনিয়মিত স্কুল ক্রিকেট এবং প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। টেস্ট, একদিনের ও টি-টোয়েন্টি—তিন ধরনের ক্রিকেটের জন্য উপযোগী খেলোয়াড় গড়ে তুলতে আলাদা পরিকল্পনা দরকার। অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ, চোট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় মানের ঘাটতিও উদ্বেগের বিষয়।
উন্নয়নের করণীয়
দেশব্যাপী স্কুল, বয়সভিত্তিক ও জেলা ক্রিকেট নিয়মিত করতে হবে। পেস ও স্পিন বোলিং, উইকেটকিপিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ের বিশেষায়িত একাডেমি গড়ে তুলতে হবে। খেলোয়াড়দের পুষ্টি, ক্রীড়াবিজ্ঞান, মানসিক প্রস্তুতি ও চোট পুনর্বাসনে পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট ও প্রতিযোগিতার মান উন্নত, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সফরের আগে পরিবেশভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে। নারী ও প্রতিবন্ধী ক্রিকেটেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
উপসংহার
বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথ সংগ্রাম, আশা ও অর্জনে ভরা। আইসিসি ট্রফি থেকে টেস্ট মর্যাদা, বিশ্বকাপের স্মরণীয় জয়, যুব বিশ্বশিরোপা ও নারী দলের এশিয়া কাপ সাফল্য প্রমাণ করে যে পরিকল্পনা ও অধ্যবসায় থাকলে বাংলাদেশ বড় অর্জন করতে পারে। তৃণমূলের শক্ত ভিত্তি, সুশাসন ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হলে বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের অবস্থান আরও মর্যাদাপূর্ণ হবে।
ভূমিকা
প্রকৃতি কখনো শান্ত ও স্নিগ্ধ, আবার কখনো ভয়ংকর ও বিধ্বংসী। ঝড়ের রাতে তার প্রচণ্ড রূপ মানুষের অসহায়তা, সাহস ও পারস্পরিক নির্ভরতার কথা গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়। আমার জীবনে দেখা একটি ঝড়ের রাত আজও শব্দ, অন্ধকার ও আতঙ্কের জীবন্ত স্মৃতি হয়ে আছে।
ঝড়ের পূর্বাভাস
দিনটি ছিল বৈশাখের শেষ দিকে। সকাল থেকেই বাতাসে অস্বাভাবিক গরম ও ভারী ভাব ছিল। দুপুরে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও পাখিদের চলাচল কমে যায় এবং গাছের পাতাও যেন স্থির হয়ে থাকে। বিকেলের দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় প্রবল কালবৈশাখীর আশঙ্কা জানানো হয়। বাবা উঠানের ঢিলা জিনিস ঘরে তুললেন, জানালার পাল্লা পরীক্ষা করলেন এবং টর্চ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স কাছে রাখলেন। আমরা মোবাইল ফোন চার্জ করে গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে দিই।
আকাশের পরিবর্তন
সন্ধ্যার কিছু আগে পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। দূরে বিদ্যুতের আঁকাবাঁকা ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু তখনো বৃষ্টি নামেনি। হঠাৎ গরম বাতাস থেমে গিয়ে চারদিকে এক অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধুলোর ঘূর্ণি উঠল, গাছের মাথা দুলতে লাগল এবং পাখিরা আতঙ্কে আশ্রয় খুঁজতে ছুটল। আমরা দ্রুত দরজা-জানালা বন্ধ করে বাড়ির সবচেয়ে মজবুত ঘরে জড়ো হলাম।
ঝড়ের তাণ্ডব
রাত নামতেই প্রবল দমকা বাতাস বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল। টিনের চাল কাঁপতে লাগল, জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা ও ছোট ডালপালা সজোরে আঘাত করছিল। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেল। ঘন ঘন বজ্রপাতের আলোয় মুহূর্তের জন্য উঠান ও বাঁকানো গাছগুলো দেখা যাচ্ছিল। কাছেই একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ার বিকট শব্দে ছোট ভাই ভয় পেয়ে কেঁদে উঠল। মা তাকে কাছে টেনে শান্ত করলেন। আমরা জানালা থেকে দূরে, মেঝেতে নিচু হয়ে বসে ছিলাম এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
ভয় ও মানবিকতা
ঝড়ের মাঝেই পাশের বাড়ির বৃদ্ধ দম্পতির কথা মনে পড়ে আমাদের উদ্বেগ বাড়ল। তাঁদের ঘর তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাইরে বের হওয়া তখন বিপজ্জনক বলে বাবা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, প্রতিবেশী যুবকেরা ঝড়ের আগে তাঁদের একটি পাকা বাড়িতে নিয়ে গেছে। খবরটি শুনে স্বস্তি পেলাম। দূরে মানুষের ডাক শোনা গেলেও বিদ্যুৎ-তারের ঝুঁকি ও উড়ন্ত টিনের কারণে কেউ তাড়াহুড়া করে বাইরে যায়নি। জরুরি সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখা হয়।
ঝড় থামার পর
প্রায় এক ঘণ্টা তীব্র তাণ্ডবের পর বাতাস ধীরে ধীরে কমে এল। বৃষ্টি তখনো পড়ছিল, তবে বজ্রপাত দূরে সরে গেছে। পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরেই অপেক্ষা করি। গভীর রাতে বাইরে তাকিয়ে দেখি উঠান পানিতে ভরা, কলাগাছ ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তার ওপর বড় ডাল পড়ে আছে। অন্ধকারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থাকতে পারে বলে বাবা কাউকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেন।
সকালের দৃশ্য ও সহায়তা
পরদিন ভোরে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হলো। অনেক গাছ উপড়ে গেছে, কয়েকটি কাঁচা ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয় মানুষ দল বেঁধে রাস্তার ডাল সরায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে এবং বিপজ্জনক তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেন। সবাই মিলে কাজ করায় বিপর্যয়ের মধ্যেও সাহস ও সহমর্মিতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
অভিজ্ঞতার শিক্ষা
সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে, দুর্যোগকে অবহেলা করা যায় না। আগাম সতর্কবার্তা মানা, মজবুত আশ্রয় নির্বাচন, টর্চ-পানি-ওষুধ প্রস্তুত রাখা, জানালা ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকা এবং ঝড় চলাকালে বাইরে না যাওয়া জীবন রক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিবেশী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সমাজকে আগে থেকেই ভাগ করে নিতে হয়।
উপসংহার
একটি ঝড়ের রাত শুধু ভয় ও ধ্বংসের স্মৃতি নয়; এটি প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যও শেখায়। প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ ক্ষুদ্র হলেও বিজ্ঞানসম্মত সতর্কতা ও সম্মিলিত মানবিকতায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আবার নতুনভাবে দাঁড়াতে পারে।
ভূমিকা
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।
মাদক ও মাদকাসক্তি
যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তির কারণ
কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।
শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।
প্রতিরোধের উপায়
সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা
প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।