দৃশ্যকল্প-১: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গঠিত হয়। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধ ত্বরান্বিত হয় এবং সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
দৃশ্যকল্প-২ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাতে ভূমিকা রাখে বিশ্বের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারী সমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীরা শুধু ঘরে বসে থাকেননি, বরং তাঁরা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা করা, আশ্রয় দেওয়া এবং গোপনে তথ্য সরবরাহ করার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন। এছাড়া অনেক নারী সরাসরি অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পুরুষদের পাশাপাশি সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গঠিত প্রথম সরকার তথা 'মুজিবনগর সরকার' গঠনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রির পর মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে একটি সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় এই স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়, যা ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকার দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সুশৃঙ্খলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং বহির্বিশ্বে মিশন স্থাপন করে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করে। এই সরকারের সুদক্ষ নেতৃত্বেই মাত্র নয় মাসে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর একটি বিষয় গঠিত হয়, যা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর (২৬শে মার্চ) ১৫ দিন পর ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ মুজিবনগর সরকার গঠনের বিষয়টিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাতে ভূমিকা রাখা শক্তিশালী রাষ্ট্রটি হলো তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র 'সোভিয়েত ইউনিয়ন' (বর্তমান রাশিয়া), যাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাশক্তিগুলো দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে ভারত ছাড়াও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো আমাদের সমর্থন জানায়। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানি জান্তাকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায় এবং তাদের প্রচারমাধ্যমে পাকিস্তানিদের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাতে ভূমিকা রাখে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে আমেরিকা যখন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, তখন সেটি ছিল আমাদের বিজয়ের পথে এক বিরাট চক্রান্ত। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে পরপর 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে সেই প্রস্তাব বাতিল করে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রান্তটি রুখে দেয়। এই ভেটো প্রদানের ফলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং যৌথ বাহিনীর চূড়ান্ত আক্রমণের পথ সুগম হয়। যুদ্ধবিরতি হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনিশ্চিত হয়ে পড়তো।
তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফ্রন্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের এই যুগান্তকারী ও অকৃত্রিম সহায়তাই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিল।
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির আকর্ষণে প্রধানত জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়।
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। পৃথিবীর অতি নিকটতম হওয়ায় চাঁদের আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশের জলরাশি ফুলে ওঠে সেখানে জোয়ার হয়। একই সাথে আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তিতে বিপরীত দিকেও জোয়ার হয়। এই দুই জোয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে পানি কমে গিয়ে ভাটার সৃষ্টি হয়।
পৃথিবী গোলাকার এবং পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে বলে পূর্বের স্থান গুলোতে আগে সূর্যোদয় হয়। প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট হয়। কোনো স্থান পশ্চিমে অবস্থিত হলে তার সময় পূর্বের স্থান থেকে কম হয়।
উদ্দীপকের ছকে দেওয়া আছে, 'L' স্থানের দ্রাঘিমা ১৪০° পূর্ব এবং সময় বিকাল ৩টা। 'K' স্থানের দ্রাঘিমা ২০° পূর্ব। স্থান দুটির মোট দ্রাঘিমার পার্থক্য (১৪০°-২০°) = ১২০°। আমরা জানি, ১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। সুতরাং ১২০° এর জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (১২০ × ৪) = ৪৮০ মিনিট বা ৮ ঘণ্টা। যেহেতু 'K' স্থানটি 'L' স্থানের পশ্চিমে অবস্থিত, তাই 'K' স্থানের সময় ৮ ঘণ্টা কম হবে। অতএব, 'K' স্থানের স্থানীয় সময় হবে (বিকাল ৩টা - ৮ ঘণ্টা) = সকাল ৭টা।
যেহেতু 'K' এবং 'L' স্থান দুটি ভিন্ন গোলার্ধে অবস্থিত তাই উদ্দীপকে বর্ণিত ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে 'K' এবং 'L' স্থান দুটিতে একই ধরনের ঋতু বিরাজ করবে না, বরং সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত ঋতু পরিলক্ষিত হবে।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে সূর্যকে পরিক্রমণকালে মেরুরেখা সবসময় নির্দিষ্ট কোণে হেলে থাকে। ফলে বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যরশ্মির পতন কোণের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। তাপমাত্রার এই পার্থক্যের কারণেই মূলত পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হয় এবং দুই গোলার্ধে বিপরীত ঋতু দেখা যায়।
উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে 'K' স্থানটি ৪৬° উত্তর অক্ষাংশে (উত্তর গোলার্ধ) এবং 'L' স্থানটি ২০° দক্ষিণ অক্ষাংশে (দক্ষিণ গোলার্ধ) অবস্থিত। ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এই তারিখের দেড় মাস পূর্ব থেকে দেড় মাস পর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল থাকে।
যেহেতু ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখটি ২৩শে সেপ্টেম্বরের খুব কাছাকাছি, তাই এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত 'K' স্থানে তাপমাত্রা মধ্যম ধরনের হবে এবং শরৎকাল বিরাজ করবে। অপরদিকে, একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত 'L' স্থানে ঠিক তার বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ বসন্তকাল দেখা যাবে। সুতরাং এটি সুস্পষ্ট যে, গোলার্ধগত অবস্থানের পার্থক্যের কারণে স্থান দুটিতে কখনোই একই ঋতু বিরাজ করবে না।
দৃশ্যপট-১ : গিনি উপসাগরের একটি স্থান। এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা পৃথিবীকে সমান দুইভাগে ভাগ করে।
দৃশ্যপট-২ : প্রশান্ত মহাসাগরের একটি স্থান। এখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা অতিক্রম করার সময় স্থানীয় সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য সময় পরিবর্তন করতে হয়।
কোনো একটি দেশের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় বা প্রমাণ সময়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দ্রাঘিমারেখার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় সময় নির্ধারিত হয় বলে একটি বড় দেশের বিভিন্ন স্থানে সময়ের পার্থক্য দেখা দেয়। এতে ট্রেন, বিমান বা দাপ্তরিক যোগাযোগে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই বিভ্রাট এড়াতে দেশের মধ্যভাগের কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার সময়কে পুরো দেশের প্রমাণ সময় ধরে কাজ করা হয়, যা সকল বিভ্রান্তি দূর করে।
দৃশ্যপট-২ এ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে কল্পিত যে রেখাটির কথা বলা হয়েছে, তা হলো 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা'।
পৃথিবীর মানচিত্রে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে অবলম্বন করে সম্পূর্ণ জলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত একটি কাল্পনিক রেখা টানা হয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় পৌঁছালে সময়ের পার্থক্য হয় ১২ ঘণ্টা এবং দুই দিক মিলিয়ে একই রেখায় ২৪ ঘণ্টা বা একদিনের ব্যবধান তৈরি হয়। মূলত পূর্বগামী জাহাজ বা বিমান এই রেখা অতিক্রম করলে স্থানীয় সময়ের সাথে মিল রাখতে একদিন বিয়োগ করে এবং পশ্চিমগামী জাহাজ, একদিন যোগ করে। অর্থাৎ বারের গরমিল দূর করতে সময় ও তারিখের সমন্বয় করাই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার মূল কাজ।
দৃশ্যপট-২ এ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি স্থানে রেখা অতিক্রমের সময় সামঞ্জস্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
কোনো স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট-১ এ নির্দেশিত 'মূল মধ্যরেখা' দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
দৃশ্যপট-১ এ গিনি উপসাগরের কথা বলা হয়েছে, যেখানে মূল মধ্যরেখা এবং নিরক্ষরেখা পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করেছে। এই মূল মধ্যরেখার মান হলো ০ ডিগ্রি। অন্যদিকে, দৃশ্যপট-২ এ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়া ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাকে ভিত্তি করে টানা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কথা বলা হয়েছে, যা দিন ও তারিখ ঠিক রাখতে ব্যবহৃত হয়।
যেকোনো স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের প্রধান ভিত্তি হলো ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা। এই রেখা থেকেই পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অন্যান্য সকল দ্রাঘিমারেখা অঙ্কন করা হয়। গ্রিনিচের এই মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকেই ওই স্থানের দ্রাঘিমা হিসেবে পরিমাপ করা হয়, যা দৃশ্যপট-১ এর মূল বিষয়বস্তু।
অন্যদিকে, দৃশ্যপট-২ এর আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাজ হলো কেবল দীর্ঘ জলপথ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বার ও তারিখের বিভ্রান্তি নিরসন করা। এই রেখাটির সাহায্যে কখনোই কোনো স্থানের দ্রাঘিমা পরিমাপ করা যায় না, বরং এটি নিজেই মূল মধ্যরেখার ওপর ভিত্তি করে ১৮০ ডিগ্রি দূরে অবস্থিত। যা দ্বারা কোনো স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়।
তাই যৌক্তিকভাবে এটি সুস্পষ্ট যে, কোনো স্থানের দ্রাঘিমা এবং সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার চেয়ে দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত মূল মধ্যরেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য।
উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রের 'ক' অংশে রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি প্রতিফলিত হয়েছে।
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র বাধ্যতামূলকভাবে যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা এই ধরনের কাজের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, 'X' রাষ্ট্রের 'ক' অংশের কাজগুলো হলো রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে রাষ্ট্র স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকে। এছাড়া বিচারালয়ের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজের মধ্যে পড়ে। যেহেতু উদ্দীপকের 'ক' অংশের কাজগুলো একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও শৃঙ্খলার জন্য বাধ্যতামূলক, তাই এগুলো সুস্পষ্টভাবেই রাষ্ট্রের অপরিহার্য কার্যাবলিকে নির্দেশ করে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রকে নিশ্চিতভাবেই একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়।
বর্তমানে যেসব রাষ্ট্র নাগরিকদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে, তাদের কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা হয়। এসব রাষ্ট্র জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে বিবিধ ঐচ্ছিক কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে।
উদ্দীপকের ছকে 'X' রাষ্ট্রের 'খ' অংশে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বয়স্ক ভাতা প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বয়স্কদের ভাতা প্রদান করা আধুনিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কাজ।
'X' রাষ্ট্র শুধু তার অপরিহার্য কাজগুলো অর্থাৎ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তি ও ভাতার মতো বিষয়গুলোতেও নজর দিয়েছে। যেসব রাষ্ট্র এমন বহুমুখী জনহিতকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সেই রাষ্ট্রগুলোই প্রকৃত, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। সুতরাং, জনকল্যাণে এমন বহুমুখী ভূমিকার কারণেই 'X' রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
কয়েকজন উৎপাদনকারীর মধ্যে কথোপকথন :
উৎপাদনকারী-১ : আজকাল উৎপাদন ব্যয় কমানো খুব কঠিন। শ্রমিকগণ অনেক সচেতন। ফলে মুনাফাও আগের মতো হয় না।
উৎপাদনকারী-২ : আমাদের দেশে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতা ভোগ করি। তবে প্রয়োজনে সরকার সহযোগিতা করে।
উৎপাদনকারী-৩: ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে মুনাফার একটি অংশ দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হয়।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভূমির মালিককে খাজনা, শ্রমিককে মজুরি, মূলধনের মালিককে সুদ এবং উদ্যোক্তা বা সংগঠককে মুনাফা প্রদান করা হয়। একটি সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থায় উৎপাদনের এসব উপাদান তাদের অবদানের ভিত্তিতে ন্যায্য প্রাপ্ত আয় লাভ করে, যা অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনে এবং সমাজে সার্বিক অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের উৎপাদনকারী-২-এর বক্তব্যে 'মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার' ধারণা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাই হলো মিশ্র অর্থনীতি। এ ব্যবস্থায় দ্রব্য উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ভোগের ক্ষেত্রে যেমন ব্যক্তির মালিকানা ও উদ্যোগ স্বীকৃত, তেমনি জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা সহযোগিতাও থাকে। এখানে সম্পদের ওপর ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি অবাধ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিদ্যমান থাকে, তবে দুর্যোগ বা প্রয়োজনে সরকার পরোক্ষভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদকদের সাহায্য করতে পারে।
উদ্দীপকের উৎপাদনকারী-২ তার বক্তব্যে জানান যে, তাদের দেশের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদকরা যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করেন। অর্থাৎ তারা নিজেদের ইচ্ছামতো বিনিয়োগ ও উৎপাদন করতে পারেন। তবে প্রয়োজনে সরকার তাদের এই অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ করে থাকে। বেসরকারি খাতের অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ বা নিয়ন্ত্রণের এই যৌক্তিক সহাবস্থান কেবল মিশ্র অর্থনীতিতেই দেখা যায়। তাই বলা যায়, তার বক্তব্যে মিশ্র অর্থব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, বর্তমান বাংলাদেশে মূলত ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রাধান্যসহ একটি "মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা' প্রচলিত রয়েছে।
মিশ্র অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যক্তিমালিকানা ও ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি খাতের সহাবস্থান রয়েছে। দেশের কিছু মৌলিক শিল্প, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে সময়ের সাথে সাথে অর্থনীতির প্রায় সব খাত ক্রমশ বেসরকারি উদ্যোগের অধীনে চলে যাচ্ছে। অবাধ বাজার অর্থনীতি পরিচালিত হওয়ায় বেসরকারি খাতে উৎপাদনকারীদের মূল লক্ষ্য থাকে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা।
উদ্দীপকের উৎপাদনকারী-১-এর বক্তব্যে উৎপাদন ব্যয় ও মুনাফা অর্জনের চেষ্টার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, উৎপাদনকারী-২-এর বক্তব্যে ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সরকারি সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, যা মিশ্র অর্থনীতির সুস্পষ্ট নির্দেশক। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতিতে এই দুই উৎপাদকের বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলোরই মেলবন্ধন দেখা যায়। এখানে উৎপাদকরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও পুঁজিপতিদের মুনাফা বৃদ্ধির প্রবণতা এবং আয়ের অসম বণ্টনের মতো পুঁজিবাদী বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত প্রকট।
বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ক্রমশ সম্প্রসারিত হওয়ায় ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রায় সকল বৈশিষ্ট্যই এখানে দৃশ্যমান। মূলধনের মালিক ও সংগঠকরা উচ্চহারে মুনাফা অর্জন করায় আয়ের বৃহত্তর অংশ অল্পসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে, সেবামূলক খাতে সরকারি মালিকানা বিদ্যমান থেকে আংশিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থব্যবস্থা মূলত ব্যক্তি উদ্যোগনির্ভর মুনাফামুখী একটি মিশ্র অর্থনীতি।
সমাজের মোট ব্যয়ের ভিত্তিতে কোনো দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন পরিমাপ করা যায়। দেশের মোট আয় মূলত দুটি খাতে ব্যয়িত হয়-ভোগ্যদ্রব্য ও সেবা কেনার জন্য এবং মূলধন গঠনে বিনিয়োগ করার জন্য। এই সমস্ত ভোগ ও বিনিয়োগ ব্যয়ের যোগফলই হলো সমাজের মোট ব্যয় বা মোট জাতীয় উৎপাদন।
উন্নয়নের মাত্রার ভিত্তিতে উদ্দীপকে বর্ণিত 'Y' দেশটি মূলত একটি অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশ।
যেসব দেশে মাথাপিছু প্রকৃত আয় অনেক কম, জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হয় না, অর্থনীতিতে তাদের অনুন্নত দেশ বলা হয়। এসব দেশে কৃষির ওপর অতি নির্ভরশীলতা থাকে, শিল্প খাত দুর্বল হয় এবং চরম দারিদ্র্য, আমদানি নির্ভরতা ও বেকারত্ব বিরাজ করে।
উদ্দীপকের 'Y' দেশের দেখা যায়, দেশটির জনগণের বিশাল একটি অংশ তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। দেশটিতে কৃষি এবং শিল্প বর্ণনায় উভয় খাতেই উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম, যার কারণে তাদের আমদানি ব্যয় সর্বদা বেশি থাকে। নিম্ন মাথাপিছু আয়, মৌলিক চাহিদার অপূর্ণতা এবং পরনির্ভরশীল অর্থনীতির এ বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে একটি অনুন্নত দেশেরই প্রতিচ্ছবি। তাই বলা যায়, 'Y' একটি অনুন্নত দেশ।
উদ্দীপকের 'Y' এবং 'Z' দেশ দুটিই উন্নয়নশীল দেশ, তবে দুটি দেশের মধ্যে 'Z' দেশটিই বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করে।
উন্নয়নশীল দেশ হলো সেসব দেশ, যারা অনুন্নত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পরিকল্পিতভাবে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশে ধীরে ধীরে শিল্প খাতের প্রসার ঘটে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে থাকে।
উদ্দীপকের 'Z' দেশের জনগণ মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সঞ্চয়ে মনোযোগী হচ্ছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, যার পিছনে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা 'কাজ করছে। অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশও বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যেমন- বিভিন্ন মেয়াদে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মতো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিনির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগোচ্ছে। ফলে দেশে মাথাপিছু আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সর্বক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুতরাং তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, 'Y' দেশের মতো বাংলাদেশ এখন আর কেবল অনুন্নত বা চরম দারিদ্র্যপীড়িত নয়; বরং 'Z' দেশের মতোই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই আমি মনে করি, 'Z' দেশটির বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রকৃত স্বরূপকে নির্দেশ করে।
দৃশ্যপট-১ : প্রবাসফেরত জনাব রহমান সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেন। খামারে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী স্থানীয় বাজারে বিক্রির মাধ্যমে বেশ মুনাফা অর্জন করে।
দৃশ্যপট-২ : জনাব হক-এর ছেলে চাকরিসূত্রে ইউরোপে বসবাস করেন। সেখান থেকে পাঠানো টাকায় জনাব হক সংসারের খরচ মেটান।
বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্যতম বৈশিষ্ট্য দারিদ্র্যের চক্র- বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
নিম্ন আয়, সঞ্চয়হীনতা, মূলধনের অভাব এবং বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতার বৃত্তাকার অবস্থাই হলো দারিদ্র্যের চক্র। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় তাদের কোনো সঞ্চয় থাকে না। সঞ্চয় না থাকায় মূলধন বা পুঁজি গঠন হয় না এবং নতুন বিনিয়োগও কমে যায়। বিনিয়োগের অভাবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় না, ফলে বেকারত্ব বাড়ে এবং আয়ের স্তর আবারও নিচে নেমে যায়। আয়ের অভাবে ক্রমাগত দরিদ্র থাকার এই চক্রাকার অবস্থাকেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলা হয়।
দৃশ্যপট-১ এ বর্ণিত জনাব রহমানের খামার প্রতিষ্ঠার ঘটনাটি মূলত বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের 'কৃষি ও বনজ খাত' এবং সামগ্রিকভাবে 'মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)'-কে নির্দেশ করে।
জিডিপি (GDP) হলো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে উৎপাদিত সব চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য। অন্যদিকে, কৃষি খাত হলো অর্থনীতির সেই শাখা, যা ফসল, গবাদিপশু, মৎস্য ও বনজ সম্পদের উৎপাদন নিয়ে কাজ করে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই খাতের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, প্রবাসফেরত জনাব রহমান দেশে ফিরে তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছেন। যেহেতু তার খামারটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত, তাই এর উৎপাদিত পণ্যের আর্থিক মূল্য সরাসরি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া খামার প্রতিষ্ঠা করা মূলত কৃষি বা পশুপালন খাতেরই অন্তর্গত একটি কাজ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বা 'রেমিট্যান্স'-এর প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী, যা দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
বিদেশে কর্মরত দেশের নাগরিকরা তাদের উপার্জিত অর্থের যে অংশ নিজ দেশে পরিবারের কাছে পাঠায়, তাকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বলে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) সাথে এই প্রবাসী আয় যোগ করলেই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) পাওয়া যায়। রেমিট্যান্স মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ জনাব হকের ছেলে ইউরোপে চাকরি করেন এবং সেখান থেকে দেশে টাকা পাঠান। এই টাকায় জনাব হকের সংসারের খরচ মেটানো হয়। এখানে জনাব হকের ছেলের পাঠানো অর্থই হলো রেমিট্যান্স। এর মাধ্যমে শুধু যে জনাব হকের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে তা নয়, বরং তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের স্থানীয় বাজারে পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে, যা অর্থনীতিকে সচল রাখে।
বাংলাদেশের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবাহ সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত মজবুত করে। প্রবাসী আয়ের ফলে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ এক অপরিহার্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত বিচার করার সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ।
মূল্যবোধ মানুষের সমাজবদ্ধ জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মূল্যবোধ অনুশীলনের মাধ্যমেই মানুষের আচরণে সামাজিক বিধিব্যবস্থা, আচার-ব্যবহার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে সমাজে বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধা, ছোটোদের প্রতি স্নেহ, সত্যবাদিতা ও ন্যায়বোধের মতো গুণাবলি বিকশিত হয়, যা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত রিটনের পরিবারটি আকারের ভিত্তিতে একটি 'যৌথ পরিবার'।
যখন দাদা-দাদি বা পিতামাতার কতৃত্বাধীনে বিবাহিত পুত্র ও তার সন্তানাদি এক সংসারে বাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। এ ধরনের পরিবারে দাদা-দাদি, পিতামাতা এবং তাদের সন্তান-সন্ততি একত্রে একই সংসারে বসবাস করে। আমাদের দেশের গ্রামীণ সমাজে এ ধরনের পরিবারের প্রচলন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই পরিবারের শিশুরা বয়োজ্যেষ্ঠদের নিবিড় সান্নিধ্য পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রিটনের মা-বাবা চাকরিজীবী হওয়ায় সে স্কুল থেকে ফিরে অবসর সময়ে তার দাদা-দাদির সাথে গল্প করে। যেহেতু রিটন তার বাবা-মা এবং দাদা-দাদির সাথে একই পরিবেশে বসবাস করে তাদের আদর-স্নেহে বেড়ে উঠছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তার পরিবারটি একটি যৌথ পরিবার।
টিটনের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত মাধ্যমটি হলো 'গণমাধ্যম' (পত্রিকা ও টিভি), যার গুরুত্ব আধুনিক সমাজ জীবনে অপরিসীম।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিনোদনমূলক বিষয়বস্তু পরিবেশন করার মাধ্যমই হলো গণমাধ্যম। আধুনিক যুগের সংস্কৃতি মূলত গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। সংবাদপত্র ও টেলিভিশন এর অন্যতম উদাহরণ। এই মাধ্যমগুলো মানুষের চিন্তাধারা, সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণা বিকাশে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে টিটনের মা-বাবা চাকরিজীবী হওয়ায় সে অবসরে পত্রিকা পড়ে ও টিভি দেখে। এই মাধ্যমগুলো তার সামাজিকীকরণে গভীর প্রভাব ফেলছে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে সে দেশ-বিদেশের ইতিহাস, সমাজ ও অর্থনীতি সম্পর্কে জানছে। আবার টেলিভিশনের বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার মানসিক বিকাশ ঘটছে এবং সে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠছে।
পরিশেষে বলা যায়, শিশুর সামাজিকীকরণে গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। পরিবার সামাজিকীকরণের প্রাথমিক মাধ্যম হলেও, টিটনের মতো চাকরিজীবী পিতামাতার সন্তানরা গণমাধ্যম থেকেই বৃহত্তর বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে। সে নিজেকে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। তাই টিটনের একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পত্রিকা ও টেলিভিশনের তথা গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।