উদ্দীপকে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্বজনমত গঠনকারী সরকারটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা 'মুজিবনগর সরকার', যার একটি সুনির্দিষ্ট গঠন কাঠামো ছিল।
মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহত করতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল এটি গঠিত হয়। প্রশাসনিক কাজের জন্য এতে ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। এছাড়া মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, কমরেড মণি সিং প্রমুখ নেতাদের নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছিল। সরকারের কাঠামোতে রাষ্ট্রপতি ও সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম. মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ.এইচ. এম. কামারুজ্জামান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মূলত এই শক্তিশালী কাঠামোর মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দক্ষতার সাথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল।
হ্যাঁ, আমি সোনিয়ার দাদার শেষ উক্তি-“বিশ্ববাসীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়”-এর সাথে সম্পূর্ণ একমত।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ববিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। ভারত সরাসরি এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষের প্রস্তাবে 'ভেটো' দিয়ে অসামান্য অবদান রাখে। পাশাপাশি গ্রেট ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম বাংলাদেশের পক্ষে শক্তিশালী বিশ্বজনমত গঠন করে।
উদ্দীপকে সোনিয়ার দাদা বিশ্ববাসীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনের কথা বলেছেন। বাস্তবে ভারতের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা ও যৌথ কমান্ড গঠনের ফলেই পাকিস্তানি বাহিনী দ্রুত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। অপরদিকে, বিবিসির মতো ব্রিটিশ গণমাধ্যম এবং সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাপী জনমত ও তহবিল গঠনে সাহায্য করে, যা আমাদের চূড়ান্ত স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করে। পরিশেষে বলা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্বের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের এমন সর্বাত্মক সমর্থন ছাড়া এত অল্প সময়ে সুসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন প্রায় অসম্ভব ছিল। বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক সমর্থন এবং বন্ধুরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের ফলেই মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। তাই সোনিয়ার দাদার মন্তব্যটি শতভাগ ঐতিহাসিক সত্য।
দুটি স্থানের দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য এবং $1$ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য $4$ মিনিট সময়ের ব্যবধানের সূত্র ব্যবহার করে 'B' স্থানের স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করায় পূর্বের স্থানগুলোতে সময় এগিয়ে থাকে এবং পশ্চিমের স্থানগুলোতে সময় পিছিয়ে থাকে। উদ্দীপকের 'A' স্থানটি পূর্ব দ্রাঘিমায় এবং 'B' স্থানটি পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত। তাই 'A' থেকে 'B' এর সময়ের ব্যবধান নির্ণয় করে তা বিয়োগ করতে হবে।
উদ্দীপক অনুসারে, 'A' এর দ্রাঘিমা $75^{\circ}$ পূর্ব এবং 'B' এর $140^{\circ}$ পশ্চিম।
স্থান দুটির মোট দ্রাঘিমার পার্থক্য ($75^{\circ} + 140^{\circ}$) = $215^{\circ}$।
আমরা জানি, $1^{\circ}$ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য $4$ মিনিট। সুতরাং $215^{\circ}$ এর জন্য পার্থক্য হবে ($215 \times 4$) = $860$ মিনিট বা $14$ ঘণ্টা $20$ মিনিট।
'B' স্থানটি 'A' এর পশ্চিমে থাকায় এর সময় কম হবে। 'A' স্থানে সময় সকাল ১০টা হলে, 'B' স্থানের সময় হবে = (সকাল ১০টা – $14$ ঘণ্টা $20$ মিনিট) = পূর্ববর্তী দিনের সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২৫ ডিসেম্বর তারিখে 'A' এবং 'B' স্থান দুটির দিনের দৈর্ঘ্য কোনোভাবেই একই হবে না, বরং সম্পূর্ণ বিপরীত হবে। কারণ 'A' ও 'B' স্থান দুটি দুই গোলার্ধে অবস্থিত।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে সূর্যকে পরিক্রমণের সময় মেরুরেখা নির্দিষ্ট কোণে হেলে থাকে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে। সূর্যরশ্মির পতন কোণের এই তারতম্যের কারণেই মূলত পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
উদ্দীপক অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর তারিখে 'A' স্থানটি $30^{\circ}$ দক্ষিণ অক্ষাংশে এবং 'B' স্থানটি $50^{\circ}$ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। আমরা জানি, ২২শে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলে থাকে এবং মকরক্রান্তি রেখায় সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড় হয়। অন্যদিকে, উত্তর গোলার্ধে আলো তির্যকভাবে পড়ায় দিন ছোট হয়।
যেহেতু 'A' স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে, তাই ২৫ ডিসেম্বর তারিখে সেখানে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করবে এবং দিন অনেক বড় হবে। অপরদিকে, 'B' স্থানটি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে শীতকাল থাকবে এবং দিন ছোট হবে। গোলার্ধগত এই পার্থক্যের কারণেই একই তারিখ হওয়া সত্ত্বেও স্থান দুটির দিনের দৈর্ঘ্য এক হবে না।
দৃশ্যকল্প-১ : সজল তার মা-বাবার সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্র দেখে মুগ্ধ হয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে সমুদ্রের প্রবল গর্জন এবং ঢেউ দেখে সে ভয় পায়। বাবা বলেন, অমাবস্যার কারণে সমুদ্র এতোটা উত্তাল হয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২ : আনিস সাহেব সৌরজগৎ সম্পর্কে ক্লাসে পড়াতে গিয়ে বলেন, সৌরজগতের ৩য় গ্রহটিই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে এবং জীবের জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ।
দৃশ্যকল্প-১ এর ঘটনাটি আমার পাঠ্যবইয়ের অমাবস্যা তিথিতে সংঘটিত 'ভরা কটাল' বা তেজ কটাল জোয়ারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের পানি নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার বলে। অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে সমসূত্রে অবস্থান করে। এই সময়ে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের ফলে যে শক্তিশালী ও প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূগোলকের ভাষায় ভরা কটাল বলা হয়।
উদ্দীপকে সজল কক্সবাজারে রাতে সমুদ্রের প্রবল গর্জন ও বিশালাকার ঢেউ দেখে ভয় পায়। তখন তার বাবা জানান, অমাবস্যার কারণে সমুদ্র এতোটা উত্তাল হয়েছে। অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ এবং সূর্য পৃথিবীর একই সরলরেখায় থাকে বলে জলভাগের ওপর তাদের আকর্ষণ শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই প্রবল আকর্ষণে সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অনেক বেশি ফুলে ওঠে এবং ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। সজলের দেখা সমুদ্রের এই উত্তাল অবস্থা মূলত অমাবস্যার প্রভাবে সৃষ্ট ভরা কটালেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
দৃশ্যকল্প-২ এ আনিস সাহেবের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ সৌরজগতের ৩য় গ্রহ অর্থাৎ 'পৃথিবী'-ই একমাত্র গ্রহ যেখানে জীবের জীবনধারণের জন্য সকল অনুকূল পরিবেশ ও উপাদান বিদ্যমান।
জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রধানত পরিমিত তাপ, পানি এবং বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসীয় উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন) প্রয়োজন। অন্যান্য গ্রহে বায়ুমণ্ডল না থাকা, বিষাক্ত গ্যাস থাকা অথবা মাত্রাতিরিক্ত তাপ বা চরম শীত থাকার কারণে সেগুলোতে প্রাণের স্পন্দন একেবারেই অসম্ভব।
উদ্দীপকে আনিস সাহেব সৌরজগতের ৩য় গ্রহ সম্পর্কে বলেছেন, যা পৃথিবীকে নির্দেশ করে। সূর্য থেকে তৃতীয় স্থানে থাকায় পৃথিবী যে তাপ পায় তা জীবজগতের জন্য একদম সহনীয়। এর গড় তাপমাত্রা $13.90^{\circ}$ সেলসিয়াস। এছাড়া পৃথিবীর ভূত্বকে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি এবং একে ঘিরে রয়েছে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল, যা প্রাণিজগতের শ্বাসকার্য ও উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকেও পৃথিবীকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, শুক্র গ্রহে বিষাক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং মঙ্গলে অত্যন্ত শীত ও অক্সিজেনের অভাব রয়েছে। অর্থাৎ সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে পৃথিবীর মতো এমন নিখুঁত ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নেই।
তাই বলা যায়, আনিস সাহেব পৃথিবীকে জীবনধারণের জন্য একমাত্র আদর্শ গ্রহ বলে যে দাবি করেছেন, তা ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ সঠিক।
দৃশ্যকল্প-১: 'ক' দেশের সরকার তার নিজ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আধুনিক যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র কিনেছেন। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে জনবল বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব 'খ' একজন ধনী ব্যবসায়ী। তার একাধিক বাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থাকলেও তিনি নিয়ম মাফিক কর প্রদান করেন না, অথচ তিনি সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
দৃশ্যকল্প-১ এ- রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত 'জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা' সংক্রান্ত কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষার্থে প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। আধুনিক রাষ্ট্রগুলো স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, 'ক' দেশের সরকার নিজ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ক্রয় করেছে। পাশাপাশি তারা প্রতিরক্ষা বাহিনীতে জনবল বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ রাষ্ট্রের প্রাথমিক ও অপরিহার্য কাজ হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং, দৃশ্যকল্পটিতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখ্য কার্যাবলি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
দৃশ্যকল্প-২ এর আলোকে জনাব 'খ'-কে কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল সুনাগরিক বলা যাবে না।
রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, তেমনি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর মধ্যে নিয়মিত কর ও খাজনা প্রদান করা অন্যতম প্রধান কর্তব্য। নাগরিকদের প্রদেয় করই হলো রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস, যা দিয়ে সরকার প্রশাসনিক, প্রতিরক্ষা এবং নানাবিধ জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, জনাব 'খ' একজন ধনী ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারকে নিয়মমাফিক কর প্রদান করেন না। অথচ তিনি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ঠিকই ভোগ করছেন। তার এই কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা নাগরিক হিসেবে তার ওপর অর্পিত অন্যতম প্রধান আর্থিক দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার শামিল।
অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর নির্ভরশীল। একজন সুনাগরিক শুধু রাষ্ট্রের সুবিধাই ভোগ করেন না, সততার সাথে নিজ কর্তব্যও পালন করেন। জনাব 'খ' সুবিধা নিলেও কর প্রদানে বিরত থেকে রাষ্ট্রের উন্নয়নে অসহযোগিতা করছেন। তার এই আচরণ নাগরিক কর্তব্যের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই সবদিক বিবেচনায় তাকে কোনোভাবেই সুনাগরিক বলা যৌক্তিক হবে না।
দৃশ্যকল্প-১: A নামক জেলা শহরটির আয়তন প্রায় ১৫০০ বর্গকিলোমিটার এবং শহরটিতে প্রায় ৯০ হাজার লোক বসবাস করে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলার সকল কাজ পরিচালিত হয়।
দৃশ্যকল্প-২: ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে X এলাকার একজন কলেজ ছাত্রী Y-কে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। Y-এর বাবা X-এর বাবাকে ব্যাপারটি জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেন না। পরবর্তীতে Y-এর বাবা থানায় অভিযোগ করেন এবং উপযুক্ত বিচার পান।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত 'A' নামক জেলা শহরটির বর্ণনায় রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত উপাদান 'সার্বভৌমত্ব' অনুপস্থিত রয়েছে। একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য চারটি অপরিহার্য উপাদান প্রয়োজন। যেমন- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। এক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা, যা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখে। এই ক্ষমতা ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা জনসমষ্টি কখনোই একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ 'A' নামক জেলাটিতে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (১৫০০ বর্গকিলোমিটার) এবং পর্যাপ্ত জনসমষ্টি (৯০ হাজার লোক) রয়েছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এর দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালিত হচ্ছে, যা সরকারব্যবস্থার একটি ক্ষুদ্র রূপ নির্দেশ করে। কিন্তু জেলা প্রশাসন রাষ্ট্রের অধীনস্থ একটি প্রশাসনিক ইউনিট মাত্র, এর কোনো চূড়ান্ত, চরম বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই অন্যান্য উপাদান থাকলেও সার্বভৌমত্বের অভাবে এটি রাষ্ট্র নয়।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ Y-এর বাবার উপযুক্ত বিচার পাওয়ার ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে 'আইনের দৃষ্টিতে সাম্য' এবং আইনের শাসনের ধারণাকে নিশ্চিত করে।
আইনের দৃষ্টিতে সাম্য বলতে বোঝায় সমাজে ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আইনের চোখে সমান। এখানে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাড়তি সুবিধা পায় না এবং অপরাধ করলে তাকে সমভাবে শাস্তির আওতায় আনা হয়। ফলে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে X একজন সাধারণ কলেজ ছাত্রী Y-কে উত্ত্যক্ত করে। সামাজিকভাবে এর কোনো সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে Y-এর বাবা আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেন এবং আইনের সাহায্যে উপযুক্ত বিচার পান। এখানে অপরাধীর সামাজিক প্রভাব বা অর্থপ্রতিপত্তি আইনি ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অপরিহার্য। সমাজে আইনের প্রাধান্য বজায় থাকলে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে সাহস পায় না। উদ্দীপকের ঘটনায় প্রভাবশালী অপরাধীকে শাস্তির আওতায় এনে প্রমাণ করা হয়েছে যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সুতরাং, উপযুক্ত বিচারপ্রাপ্তির এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্যকেই সম্পূর্ণভাবে সুনিশ্চিত করে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের নাগরিকরা দেশে বা বিদেশে অবস্থান করে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে, তার আর্থিক মূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে। একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)-এর সাথে প্রবাসীদের আয় যোগ করে এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের আয় বিয়োগ করলে মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP পাওয়া যায়। গাণিতিকভাবে, $\mathrm{GNP} = \mathrm{GDP} + (\text{প্রবাসী আয়} – \text{দেশে থাকা বিদেশিদের আয়})$।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, X দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য বা GDP হলো $1,29,000$ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া দেশটিতে প্রবাসী আয় $16,000$ কোটি এবং বিদেশিদের আয় $12,500$ কোটি মার্কিন ডলার। সুতরাং সূত্রানুযায়ী, X দেশের $\mathrm{GNP} = 1,29,000 + (16,000 – 12,500) = 1,29,000 + 3,500 = 1,32,500$ কোটি মার্কিন ডলার। অতএব, গাণিতিক হিসাব শেষে বলা যায়, X দেশটির মোট জাতীয় উৎপাদন $1,32,500$ কোটি মার্কিন ডলার।
Y-এর অনুন্নত দেশটিকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার প্রধান শর্ত হলো মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। যেসব দেশে অব্যবহৃত সম্পদ ও অদক্ষ জনসংখ্যা থাকে, তারা দারিদ্র্যের চক্রে আবদ্ধ থাকে। এই চক্র ভাঙতে হলে দ্রুত শিল্পায়ন এবং আধুনিক আর্থসামাজিক অবকাঠামো গড়া অপরিহার্য। উদ্দীপকে উল্লিখিত Y-এর দেশটির মাথাপিছু আয় মাত্র $1100$ মার্কিন ডলার, যা নিম্ন আয়ের নির্দেশক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দেশটিকে প্রথমে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। এই দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রচুর অব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশটিকে শুধু কৃষিনির্ভর না করে আধুনিক ও ভারী শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করে মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সর্বোপরি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে মাথাপিছু আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং Y-এর দেশটি একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে।
উদ্দীপকের ছক A-তে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমাজতন্ত্র অভিমুখী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা সফল হয়নি। কালক্রমে রাষ্ট্রীয়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের সম্মুখীন হলে বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হতে দেখা যায় এবং ব্যক্তি উদ্যোগের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে।
উদ্দীপকের ছক A-তে সামন্ত প্রথার অবসান, স্বল্প সংখ্যক মানুষের কাছে অধিক সম্পদের কেন্দ্রীভবন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অলাভজনক হয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে জমিদারি বা সামন্ত প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। স্বাধীনতার পর সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে অলাভজনক হতে থাকে, ফলে বেসরকারি খাতের প্রসার ঘটে। এই পুঁজিবাদী বৈশিষ্ট্যের কারণেই দেশের আয়ের বৃহত্তর অংশ অল্পসংখ্যক পুঁজিপতির হাতে জমা হয়। সুতরাং, বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিরই বাস্তব চিত্র।
উদ্দীপকের ছক B-তে ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে, যা একত্রে একটি দেশের সামগ্রিক জাতীয় সম্পদ; আর এ সম্পদ সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জাতীয় সম্পদ বলতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ এবং সমাজের সমষ্টিগত সম্পদকে একত্রে বোঝায়। ব্যক্তিগত সম্পদ মানুষ নিজ স্বার্থেই রক্ষা করে, কিন্তু সমষ্টিগত সম্পদ (যেমন- সরকারি হাসপাতাল, প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ) যেহেতু সম্মিলিতভাবে সবাই ভোগ করে, তাই এগুলো রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ অত্যন্ত জরুরি।
উদ্দীপকের ছক B-তে 'স্বপ্ন সুপার সপ' হলো ব্যক্তিগত সম্পদ। অন্যদিকে, 'স্থানীয় হাসপাতাল' এবং 'বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি' হলো সমষ্টিগত বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ব্যক্তিগত সম্পদ মালিক নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ করলেও হাসপাতাল বা কয়লাখনির মতো সমষ্টিগত সম্পদ শুধু সরকারি পাহারায় পুরাপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে এগুলো ব্যবহারে যত্নবান হতে হবে। কেউ যেন এসব সম্পদের ক্ষতিসাধন বা অপচয় না করে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা নাগরিকেরই দায়িত্ব।
রাষ্ট্রের একার পক্ষে বিপুল পরিমাণ সমষ্টিগত সম্পদ সবসময় পাহারা দেওয়া কঠিন। তাই সাধারণ মানুষের মাঝে মমত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি না হলে এসব সম্পদের অপব্যবহার ঠেকানো যাবে না। হাসপাতালের কোনো যন্ত্রপাতি যেন নষ্ট না হয় বা রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদের যেন অবৈধ পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করতে জনগণের সতর্ক অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় ঢাল। সুতরাং, জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
দৃশ্যকল্প-১: সেলিম তার বাবা-মা, ভাই, চাচা ও দাদিসহ একই পরিবারে বাস করত। সম্প্রতি বিয়ের পর বৌসহ সে অন্য শহরে বসবাস করছে।
দৃশ্যকল্প-২: রিফা ও আবিদ দুইজন চাচাতো ভাইবোন। রিফা জাতীয় পর্যায়ের একজন বিতর্কিক এবং সে একটি বিভাগীয় শহরে বাস করে। আবিদ গ্রামে বসবাস করলেও একজন রোভার স্কাউট এবং জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারু হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত সেলিমের বর্তমান পরিবারটি আকারের ভিত্তিতে একটি 'একক পরিবার' এবং বসবাসের স্থান অনুযায়ী একটি 'নয়াবাস পরিবার'। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র পরিবারকে একক পরিবার বলা হয়। অন্যদিকে, বিবাহের পর নবদম্পতি স্বামী বা স্ত্রী কারও পিতৃগৃহে বসবাস না করে সম্পূর্ণ নতুন কোনো স্থানে আলাদা সংসার পাতলে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে। চাকরি বা পেশাগত কারণে বর্তমানে এ ধরনের পরিবার বেশি দেখা যায়।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, সেলিম আগে 'তার বাবা-মা, ভাই, চাচা ও দাদিসহ একটি যৌথ পরিবারে বাস করত। কিন্তু সম্প্রতি বিয়ের পর সে তার পিতৃগৃহ ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে অন্য একটি শহরে গিয়ে বসবাস শুরু করেছে। যেহেতু সেলিম বর্তমানে কেবল তার স্ত্রীকে নিয়ে একটি নতুন সংসার গড়ে তুলেছে এবং সম্পূর্ণ নতুন শহরে থাকছে, তাই সমাজকাঠামোর দৃষ্টিকোণ থেকে তার এই বর্তমান পরিবারটি একইসাথে 'একক পরিবার' এবং 'নয়াবাস পরিবার'-এর সুস্পষ্ট উদাহরণ।
রিফা ও আবিদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও ফলাফল ইতিবাচক হলেও, পরিবেশগত ও উপাদানগত ভিন্নতার কারণে তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া হুবহু একই ধরনের নয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমাজের নিয়মকানুন আয়ত্ত করে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়াই হলো সামাজিকীকরণ। বাংলাদেশের সমাজকাঠামো মূলত গ্রাম ও শহর এই দুই ভাগে বিভক্ত এবং উভয় পরিবেশে সামাজিকীকরণের উপাদানগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। শহরের জটিল সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তির আচরণকে এককভাবে রূপ দেয়, আবার গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় গোষ্ঠী অন্যভাবে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রিফা একটি বিভাগীয় শহরে বাস করে এবং সে জাতীয় পর্যায়ের একজন বিতর্কিক। তার সামাজিকীকরণে শহরের আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিতর্ক সংঘ (স্থানীয় গোষ্ঠী) এবং শহরের আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, আবিদ গ্রামে বাস করলেও সে একজন রোভার স্কাউট ও সাঁতারু। তার সামাজিকীকরণে গ্রামের খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ, স্থানীয় গোষ্ঠী বা ক্লাব এবং স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রম প্রভাব ফেলেছে। উভয়েই নিজ নিজ পরিবেশের উপাদানের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সফলতা পেয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, রিফা ও আবিদ উভয়েই যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে পূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু রিফার সামাজিকীকরণ ঘটেছে শহরের আধুনিক ও আনুষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে, যেখানে যুক্তিবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রাধান্য পেয়েছে। আর আবিদের সামাজিকীকরণ ঘটেছে গ্রামীণ সমাজের স্থানীয় গোষ্ঠী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের নিবিড় সান্নিধ্যে। পরিবেশ ও মাধ্যমের এই সুস্পষ্ট ভিন্নতার কারণেই তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ একরকম নয়।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।