ঢাকা বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যকল্প-১: ফারদিনের বয়স ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পরে তার মা-বাবা তাকে একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন। সেখানে সমবয়সী অনেক বন্ধু পেয়ে সে খুব খুশি হয়। কিছু দিনের মধ্যেই তার আচার-আচরণে পরিবর্তনের পাশাপাশি সময়মতো কাজ শেষ করার মনোভাব তৈরি হয়।

দৃশ্যকল্প-২: জনাব সাইফুল একজন চাকরিজীবী। তিনি বেতনের টাকা হতে বাসা ভাড়া ও সকল প্রকার বিল পরিশোধ করেন। সন্তানদের পড়ালেখার খরচ এবং চিকিৎসার ব্যয়ভারও বহন করেন। ছুটির দিনে সবাইকে নিয়ে তিনি পার্কে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে যান।

উত্তর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় এবং সমাজের রীতিনীতি ও আদর্শ আয়ত্ত করে, তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
উত্তর

পরিবারকে আয়ের একক বলা হয় কারণ আধুনিক যুগে পরিবারের সদস্যরা বেঁচে থাকার তাগিদে এবং পরিবারের চাহিদা মেটাতে বাইরে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। আগে পরিবারের প্রয়োজনীয় সব বস্তু ঘরেই উৎপাদিত হতো, কিন্তু বর্তমানে পরিবার তার সদস্যদের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবার নিজের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা বা পণ্য ক্রয় করে এবং সদস্যরা বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে আয় করে। এই আয়ের মাধ্যমেই পরিবারের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ নির্বাহ করা হয়। মূলত সদস্যদের সামগ্রিক আয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি টিকে থাকে বলে একে আয়ের একক বলা হয়।

উত্তর

ফারদিনের আচরণে বিদ্যালয়ের প্রভাব পড়েছে।

বিদ্যালয় সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিদ্যালয়ে শিক্ষক, সহপাঠী, নিয়মশৃঙ্খলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা, শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখে। তাই বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার প্রভাবেই ফারদিনের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত বিষয়গুলোর (অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনোদন) মধ্যেই পরিবারের কার্যাবলি সীমাবদ্ধ নয়; এর পরিধি আরও ব্যাপক। উদ্দীপকে সাইফুল সাহেবের মাধ্যমে পরিবারের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও বিনোদনের দিকগুলো ফুটে উঠলেও একটি আদর্শ পরিবার শিশুর মানসিক ও নৈতিক বিকাশে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরিবারের অন্যতম প্রধান কাজ হলো শিশুর জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং স্নেহ-ভালোবাসার মাধ্যমে তার মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উদ্দীপকে অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক কাজের কথা থাকলেও পরিবারের 'জৈবিক' এবং 'মনস্তাত্ত্বিক' কাজগুলো উহ্য রয়েছে। শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে মা-বাবার মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি, যা কেবল অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। পরিবার থেকেই শিশু সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। এছাড়া, পরিবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে। বর্তমান সমাজে অনেক কাজ হাসপাতাল বা বিদ্যালয় গ্রহণ করলেও, শিশুর নৈতিক চরিত্র গঠন ও নিরাপদ আশ্রয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত পার্ক বা আত্মীয়ের বাসায় বেড়ানো কেবল সাময়িক বিনোদন, কিন্তু পারিবারিক আড্ডা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা শিশুর মানসিক প্রশান্তির প্রধান উৎস।

পরিশেষে বলা যায়, সাইফুল সাহেব পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন সত্য, কিন্তু এর বাইরেও শিশুর সামাজিকীকরণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের মতো মৌলিক কাজগুলো পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কেবল উদ্দীপকের কাজ গুলোর মধ্যেই পরিবারের ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি শিশুর সামগ্রিক জীবন গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক (Sun Spot) বলে।
উত্তর

১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করলে সময় ও বারের যে বিভ্রাট ঘটে, তা নিরসনের জন্য আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে ১৮০ ডিগ্রি অতিক্রম করলে সময়ের পার্থক্য হয় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন। ফলে একই স্থানে বারের গরমিল দেখা দেয়। এই রেখাটি অতিক্রম করার সময় জাহাজ বা বিমান চালকরা তারিখ একদিন যোগ বা বিয়োগ করে বারের সমন্বয় করেন, যা বৈশ্বিক যোগাযোগ ও সময় গণনার বিভ্রান্তি দূর করে।

উত্তর

চিত্রের ‘Z’ অংশটি হলো বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল।

ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের নিচে পৃথিবীর কেন্দ্রীয় স্তরকে কেন্দ্রমণ্ডল বলে। এর বাইরের অংশটি তরল অবস্থায় থাকা লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত এবং একে বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়। চিত্রে ‘Z’ দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের চারপাশের এই স্তরটিই দেখানো হয়েছে।

উত্তর

চিত্র-২ এর 'C' নির্দেশিত গ্রহটি হলো পৃথিবী এবং 'D' নির্দেশিত গ্রহটি হলো মঙ্গল; তবে এই দুটির মধ্যে কেবল পৃথিবী গ্রহে জীবের বসবাস সম্ভব, মঙ্গলে নয়।

পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ এবং একমাত্র জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য আদর্শ। এতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে এবং এর গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস, যা প্রাণ ধারণের জন্য সহনীয়। এছাড়া ভূত্বকে পর্যাপ্ত পানি এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর বিদ্যমান।

অন্যদিকে, মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ জীবের বসবাসের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল। এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য এবং পানির পরিমাণ খুবই কম। মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে এবং এর বায়ুমণ্ডলে প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন (৩%) ও আরগন (২%) গ্যাস রয়েছে, যা প্রাণের বিকাশে সহায়ক নয়।

সুতরাং বলা যায়, পৃথিবী গ্রহে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আলো, বাতাস, পানি ও সহনীয় তাপমাত্রা থাকলেও মঙ্গল গ্রহে এগুলোর চরম অভাব রয়েছে। মঙ্গলের রুক্ষ উপরিভাগ এবং প্রতিকূল গ্যাসীয় উপাদানের কারণে সেখানে প্রাণের স্পন্দন সম্ভব নয়। তাই যৌক্তিক বিশ্লেষণ শেষে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের গ্রহ দুটির মধ্যে কেবল 'C' অর্থাৎ পৃথিবীতেই জীবের বসবাস সম্ভব।

৩. তথ্য-১ : 'A' অর্থব্যবস্থায় উৎপাদক যেমন নিজের পছন্দের দ্রব্য উৎপাদন করতে পারেন তেমনি ভোক্তাও তার ইচ্ছামতো দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে পারেন। রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করে না।
তথ্য-২ : 'B' অর্থব্যবস্থায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাত প্রধানত সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে কিছু কিছু কলকারখানা ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত হয়।
উত্তর কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে অর্থনীতিতে উপযোগ বলা হয়।
উত্তর

উৎপাদনের উপকরণসমূহ- ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা ও সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে উদ্যোক্তা বা সংগঠক বলা হয়। উদ্যোক্তা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বহন করেন।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই একজন উদ্যোক্তা নতুন সম্পদ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেন। উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয় করে প্রাপ্ত আয় থেকে উপকরণগুলোর পাওনা পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা-ই উদ্যোক্তার মুনাফা বা আয়।

উত্তর

তথ্য-১-এ ধনতান্ত্রিক বা মুক্তবাজার অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে।

এ অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ প্রধানত ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং উদ্যোক্তা মুনাফার উদ্দেশ্যে স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়ায় বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। তাই তথ্য-১ ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।

উত্তর

আমি উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে একমত যে, তথ্য-২-এ বর্ণিত মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সরকার নিয়ন্ত্রিত অংশ মূলত সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়। মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকলেও জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো সাধারণত মুনাফামুখী না হয়ে জনকল্যাণমুখী হয়ে থাকে।

মিশ্র অর্থব্যবস্থায় বেসরকারি খাত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক খাতগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। এ খাতগুলোতে রাষ্ট্র এমনভাবে দাম ও সেবা নির্ধারণ করে যাতে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে সুবিধা পায়। এখানে প্রধান লক্ষ্য থাকে জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

উদ্দীপকের তথ্য-২-এ দেখা যায়, বড় বড় ব্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতগুলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্র একক কোনো ব্যক্তির মুনাফার কথা চিন্তা না করে সমগ্র জাতির কল্যাণের কথা ভাবে, তাই এসব খাতে মুনাফার চেয়ে সেবাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে দুর্যোগ বা সংকটের সময় সরকার এসব খাত ব্যবহারের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখে ও জনদুর্ভোগ লাঘব করে।

পরিশেষে বলা যায়, মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রিত অংশটি একটি 'সেফটি নেট' হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি খাতের শোষণের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র এই জনকল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করে। তাই সরকার নিয়ন্ত্রিত অংশটি মুনাফার ঊর্ধ্বে ওঠে সামাজিক কল্যাণকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

৪. তথ্য-১: $(GNP) = (GDP) + (X - M)$
তথ্য-২ : $\bar{Y} = \frac{Y}{P}$
উত্তর GNP-এর পূর্ণরূপ হলো- Gross National Product বা মোট জাতীয় উৎপাদন।
উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প খাতের অবদান ক্রমবর্ধমান হলেও এর প্রকৃতি মূলত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনির্ভর এবং এখানে মৌলিক ও ভারী শিল্পের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, জ্বালানি বা ভারী যন্ত্রপাতির মতো মৌলিক শিল্পের প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, সার, পাট ও চামড়ার মতো শিল্পের প্রসার ঘটলেও ভারী বা মৌলিক শিল্পের বিকাশ এখনো অপ্রতুল, যা দেশের শিল্পখাতের প্রকৃতির একটি অন্যতম প্রধান দুর্বলতা।
উত্তর

উদ্দীপকের ধারণাটি মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP নির্ণয়কে নির্দেশ করে।

প্রদত্ত সম্পর্ক অনুযায়ী, GNP = GDP + (X − M)। এখানে GDP হলো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য, X হলো রপ্তানি এবং M হলো আমদানি। অর্থাৎ GDP-এর সঙ্গে নিট রপ্তানি যোগ করলে উদ্দীপকে প্রদত্ত নিয়মে GNP পাওয়া যায়। যেমন, GDP ১,০০০ কোটি টাকা, রপ্তানি ২০০ কোটি ও আমদানি ১৫০ কোটি হলে GNP = ১,০০০ + (২০০ − ১৫০) = ১,০৫০ কোটি টাকা।

উত্তর

উদ্দীপকের 'তথ্য-২' দ্বারা মাথাপিছু আয় ($\bar{Y}$) নির্ণয়ের সূত্র নির্দেশ করা হয়েছে এবং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক এবং যথার্থ বলে আমি মনে করি।

মাথাপিছু আয় হলো কোনো দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান নির্ধারণের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক নির্দেশক। দেশের মোট জাতীয় আয়কে (Y) মোট জনসংখ্যা (P) দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় ($\bar{Y}$) পাওয়া যায়। তবে শুধু আর্থিক মাথাপিছু আয় বাড়লেই জীবনমান উন্নত হয় না, এর জন্য মূল্যস্তরও স্থিতিশীল থাকা প্রয়োজন। যদি কোনো দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বা মূল্যস্তরও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়, তবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না। ফলে জীবনযাত্রার মানেরও কোনো উন্নতি ঘটে না। কারণ, বর্ধিত আয় দিয়ে তাকে আগের মতোই একই পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করতে হয়, যা তার প্রকৃত আয় বৃদ্ধি নির্দেশ করে না। অপরদিকে, মাথাপিছু আয় বাড়লে এবং সেই তুলনায় দ্রব্যমূল্য অপরিবর্তিত থাকলে বা আয় বৃদ্ধির চেয়ে ধীরগতিতে বাড়লে মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পায়। তখন তারা পূর্বের চেয়ে অধিক দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ে সক্ষম হয়। তাই বলা যায়, নিছক আর্থিক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি নয়, বরং মূল্যস্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিই জনগণের জীবনমানকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

তাই বলা যায়, মাথাপিছু আয় (Y) বৃদ্ধি পেলে এবং মূল্যস্তর অপরিবর্তিত থাকলে বা আয় বৃদ্ধির চেয়ে কম হারে বৃদ্ধি পেলে জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পাবে।

৫.

ঘটনা-ক : ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের অবদান অপরিসীম। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশ ছিল এই শ্রেণির মানুষ।

ঘটনা-খ : বিবিসি এবং ইউরোপের একটি দেশের অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংবাদ পরিবেশন করে। বিশেষ করে ওই দেশের একজন সংগীত শিল্পী কনসার্টের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত তৈরি করার পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহ করেন।

উত্তর ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাঙালি ছাত্র-জনতা যে রক্তক্ষয়ী ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, ইতিহাসে তা-ই ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
উত্তর

স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী দলকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার হীন উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা মূলত 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনা করেছিল।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা না দিয়ে পাকিস্তানি শাসকরা টালবাহানা শুরু করে। তারা আলোচনার নামে সময় নষ্ট করে ২৫শে মার্চ রাতে অতর্কিতভাবে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত সামরিক অভিযান চালিয়ে স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল।

উত্তর

ঘটনা-খ-এ যুক্তরাজ্যের অবদানের কথা বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসি নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করে বাংলাদেশের গণহত্যা ও মুক্তিসংগ্রামের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে। ব্রিটিশ জনমত বাংলাদেশের পক্ষে গড়ে ওঠে। একই সময়ে জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্করের উদ্যোগে নিউইয়র্কে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও জনগণ ত্রাণ সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বব্যাপী সমর্থন লাভ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-ক তে বর্ণিত গোষ্ঠীটি হলো এদেশের 'ছাত্রসমাজ', যাদের মহান আত্মত্যাগ ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন হতো।

পাকিস্তানের চব্বিশ বছরের ইতিহাসে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের প্রতিটি সংগ্রামেই ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল অবিস্মরণীয়।

উদ্দীপকের ঘটনা-ক তে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সকল আন্দোলনে এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখে। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার বিরাট অংশ ছিল তারা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি আমাদের বীর ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগের দিকেই ইঙ্গিত করে, যারা স্কুল-কলেজ ছেড়ে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে ছাত্ররাই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিপুল অংশগ্রহণ, গেরিলা আক্রমণ ও অকাতরে প্রাণ বিসর্জন যুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল। ছাত্রসমাজের এই সংঘবদ্ধ শক্তি ও অমিত তেজ ছাড়া পাকিস্তানি সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হতো না। তাই উদ্দীপকের মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

৬. প্রেক্ষাপট-১: জনাব 'X' একজন বিচারক। একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে প্রচলিত আইনে রায় দিতে পারছিলেন না। এখন তিনি পূর্বের ওই রূপ একটি মামলার উচ্চ আদালতের রায় অনুসরণ করেন এবং মামলার রায় দেন।
প্রেক্ষাপট-২ : শিক্ষক জনাব 'Y' সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যালয়ের সকল কাজ করেন। নিয়মিত কর দেন। নির্বাচনের সময় ভোট দেন। ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন স্থান দর্শন করেন।
উত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে লাস্কির মতে, “যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলা হয়।”
উত্তর

মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় রাষ্ট্রকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।

আদিম সমাজে মানুষ গোত্রভিত্তিক বসবাস করলেও সভ্যতার বিকাশে নিজেদের সমস্যা সমাধান ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে। রাষ্ট্র তার সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে সমাজের সকল মানুষকে একটি ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে এবং নাগরিকদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

উত্তর

উদ্দীপকে আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায় বা বিচারিক নজিরের কথা বলা হয়েছে।

কোনো মামলায় উচ্চ আদালত আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেন, অনুরূপ পরবর্তী মামলায় নিম্ন আদালত তা অনুসরণ করে। এভাবে বিচারকের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত নজিরে পরিণত হয়ে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ অনুযায়ী জনাব 'Y' একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার অধিকাংশ প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন বলে আমি মনে করি।

নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মেনে চলা, কর প্রদান এবং সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হলো মৌলিক কর্তব্য। এছাড়া সন্তানদের সুশিক্ষিত করা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্বগুলোর সুষ্ঠু পালনের ওপরই একটি রাষ্ট্রের সফলতা, উন্নতি ও সুশাসন নির্ভর করে।

উদ্দীপকের জনাব 'Y' সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেন, যা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও আইন মান্য করার বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন, যা রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস। এছাড়া তিনি ভোট প্রদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন স্থান দর্শন করার মাধ্যমে সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন।

তবে এক্ষেত্রে নাগরিকের আরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে যেমন- দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জাতীয় বীরদের অবদান স্মরণ করা। জনাব 'Y' যদি এই নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বগুলোও সচেতনভাবে পালন করেন, তবেই তার দায়িত্ব পালন পূর্ণতা পাবে।

পরিশেষে বলা যায়, জনাব 'Y' নাগরিকের প্রধান ও আবশ্যিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করেছেন। তার এই দায়িত্বশীল আচরণ একজন সুনাগরিকের পরিচায়ক এবং রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ট্রপোমণ্ডলের ঊর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপস বলা হয়।
উত্তর পৃথিবী তার অক্ষের ওপর দ্রুতবেগে আবর্তিত হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখায়, তাকে কেন্দ্রাতিগ শক্তি (Centrifugal Force) বলে। এই শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা জলরাশি কঠিন ভূ-ভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাইরে নিক্ষিপ্ত হতে চায়। জোয়ার-ভাটা সৃষ্টিতে এই কেন্দ্রাতিগ শক্তি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।
উত্তর

‘গ’ স্থানের দ্রাঘিমা ৮৮° পূর্ব এবং ‘খ’ স্থানের দ্রাঘিমা ৭২° পশ্চিম। তাই দ্রাঘিমার পার্থক্য = ৮৮° + ৭২° = ১৬০°।

প্রতি ১° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। সুতরাং সময়ের পার্থক্য = ১৬০ × ৪ মিনিট = ৬৪০ মিনিট = ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। ‘খ’ স্থান ‘গ’-এর পশ্চিমে, তাই সেখানে সময় কম হবে।

১৬ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৪০ মিনিট − ১০ ঘণ্টা ৪০ মিনিট = ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টা।

অতএব ‘খ’ স্থানের স্থানীয় সময় ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টা।

উত্তর

উদ্দীপকের 'ক' ও 'গ' স্থানে উল্লিখিত ১৬ ডিসেম্বর তারিখে একই ঋতু বিদ্যমান থাকবে না; কারণ স্থান দুটি পৃথিবীর ভিন্ন দুটি গোলার্ধে অবস্থিত।

উদ্দীপক অনুসারে, 'গ' স্থানটি ২২° উত্তর অক্ষাংশে (উত্তর গোলার্ধ) এবং 'ক' স্থানটি ৩৪° দক্ষিণ অক্ষাংশে (দক্ষিণ গোলার্ধ) অবস্থিত। পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে দুই গোলার্ধে সূর্যের আলো ভিন্ন কোণে পতিত হয়। ২২শে ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে এই সময়ের কাছাকাছি (১৬ ডিসেম্বর) দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড় ও রাত ছোট হয় এবং সেখানে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।

বিপরীতভাবে, ১৬ ডিসেম্বর তারিখে উত্তর গোলার্ধে সূর্য অত্যন্ত তির্যকভাবে কিরণ দেয় এবং দিনের চেয়ে রাত বড় হয়। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে পর্যাপ্ত তাপের অভাবে শীতকাল বিরাজ করে। যেহেতু 'গ' স্থানটি উত্তর গোলার্ধে, তাই সেখানে তখন শীতকাল। অন্যদিকে, 'ক' স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে হওয়ায় সেখানে তখন গ্রীষ্মকাল থাকবে। সুতরাং, একই তারিখ হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে স্থান দুটিতে ভিন্ন ঋতু অনুভূত হবে।

৮. ঘটনা-১ : ৫ম শ্রেণির ছাত্র হাসনাইন নিজের ঘড়ি, চশমা, বই, খাতা, ক্যালকুলেটর, জ্যামিতি বক্স গুছিয়ে রাখে।
ঘটনা-২: দশম শ্রেণির ছাত্র তানিম বাসার পাশে অবস্থিত অফিসের সরকারি গাছ দুর্বৃত্তদের কেটে নিতে দেখলে সে ৯৯৯-এ ফোন করে। পুলিশ এসে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উত্তর বিদ্যমান মূলধন সামগ্রীর সাথে নতুন মূলধন (যেমন- অর্থ, যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল) যুক্ত হওয়াকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলে।
উত্তর

কোনো দ্রব্য বা সেবার চাহিদার তুলনায় যোগান বা সরবরাহের পরিমাণ কম হওয়াকে অর্থনীতির ভাষায় সম্পদের অপ্রাচুর্যতা বলে।

মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সেই অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। প্রকৃতিতে যেসব দ্রব্য চাহিদার তুলনায় কম থাকে এবং যা পেতে হলে মূল্য পরিশোধ করতে হয়, সেগুলোরই অপ্রাচুর্যতা থাকে; যেমন-খাদ্য বা পোশাক। অন্যদিকে, বাতাসের জোগান চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় এর কোনো অপ্রাচুর্যতা নেই।

উত্তর

ফারদিনের ব্যবহৃত বস্তুগুলো ব্যক্তিগত সম্পদ।

যে সম্পদের ওপর কোনো ব্যক্তির একক মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার থাকে এবং যা তিনি নিজের প্রয়োজন পূরণে ব্যবহার করেন, তাকে ব্যক্তিগত সম্পদ বলে। উদ্দীপকে ফারদিনের নিজস্ব ব্যবহারের বস্তুগুলোর ওপর তার ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে; তাই সেগুলো ব্যক্তিগত সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

উদ্দীপকের ঘটনা-২-এ সরকারি গাছ বা 'সমষ্টিগত সম্পদ' রক্ষায় তানিমের ৯৯৯-এ ফোন করার পদক্ষেপটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও সামগ্রিকভাবে সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণের জন্য কেবল এই একটি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়।

সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে যেসব সম্পদ ভোগ করে এবং যার ওপর সকলের সমান অধিকার থাকে, তাকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে; যেমন- রাস্তাঘাট, সরকারি বন বা অফিস। এ ধরনের সম্পদ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। নাগরিকেরা নিজেরা যেমন এই সম্পদের ক্ষতি করবে না, তেমনি অন্য কেউ ক্ষতি করলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

উদ্দীপকে তানিম তার বাসার পাশের সরকারি গাছটি দুষ্কৃতকারীদের কাটতে দেখে দ্রুত ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানায়। এর ফলে পুলিশ এসে পদক্ষেপ নেয় এবং গাছটি রক্ষা পায়। তানিমের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্বশীলতার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত, যা একটি নির্দিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে সরাসরি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তবে, একটি দেশের বিশাল সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে শুধু পুলিশকে খবর দেওয়াই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্পদের প্রতি সর্বস্তরের জনগণের গভীর সচেতনতা ও মমত্ববোধ। সবাইকে সমষ্টিগত সম্পদের অপব্যবহার রোধে মিতব্যয়ী হতে হবে, যেমন- অপ্রয়োজনে পানি বা বিদ্যুৎ অপচয় না করা। এছাড়া, সম্পদ সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোর যথাযথ তদারকি এবং গণমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও অত্যন্ত জরুরি। তাই বলা যায়, তানিমের পদক্ষেপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হলেও সম্পদ সংরক্ষণে সামগ্রিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।