দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ইপিআর (EPR)-এর পূর্ণরূপ হলো 'ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস' (East Pakistan Rifles)।
উত্তর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, সামরিক ভাষায় তাকেই 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়। এটি ছিল স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক গোপন সামরিক নীলনকশা। এর আওতায় পাকিস্তানি সেনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় অতর্কিত হামলা চালায়। এর ফলে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায় এবং পুরো দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের 'ঘটনা-১' অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক দিনটিকে নির্দেশ করে, যা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করা এবং বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ঐ দিনই ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই সরকারের সঠিক নেতৃত্বেই সমগ্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ১৭ই এপ্রিলের এই ঘটনাটির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। শপথ গ্রহণের পর মুজিবনগর সরকার প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করে। বহির্বিশ্বে মিশন স্থাপন করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করে। সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদের নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন ও তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। মূলত ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল শপথ নেওয়া এই সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই বাংলার মুক্তিকামী জনতা চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।

উত্তর

হ্যাঁ, উদ্দীপকের 'ঘটনা-২' অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের চূড়ান্ত বিজয়ের ঘটনাটি আজও বিশ্বের নিপীড়িত ও স্বাধীনতাকামী জনগণকে অনুপ্রাণিত করে, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এই দিনেই পৃথিবীর মানচিত্রে 'বাংলাদেশ' নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষিত, বাঙালির এক অবিস্মরণীয় বিজয়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৬ই ডিসেম্বরের এই বিজয় বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষ অসীম সাহসিকতায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের চরম আত্মত্যাগের ফলেই ১৬ই ডিসেম্বর এই বিজয় অর্জিত হয়, যা প্রমাণ করে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে অত্যাচারী শাসক নতি স্বীকার করতে বাধ্য।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় বিশ্বের পরাধীন জাতিকে ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করার সাহস যোগায়। এটি শেখায় যে, স্বাধীনতার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকলে কোনো অপশক্তিই দমিয়ে রাখতে পারে না। তাই এই দিনটি সারা বিশ্বের শোষিত ও মুক্তিকামী মানুষের অধিকার আদায়ের এক চিরন্তন প্রেরণা।

২. প্রেক্ষাপট-১ : জনাব সাখাওয়াত হোসেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত আয়কর ও তার বসত বাড়ির খাজনা পরিশোধ করেন। তিনি সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেক্ষাপট-২: জনাব শরিফুল ইসলাম একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে তার মতামত প্রকাশ করেন।
উত্তর ভূখণ্ড বলতে রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখাকে বোঝায়, যার মধ্যে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা এবং আকাশসীমা অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

আইনের অনুশাসন থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং বিনা অপরাধে কাউকে আটক রাখা সম্ভব হয় না। এটি ধনী-দরিদ্র, দুর্বল-সবল নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান বিচার পাওয়ার পথ সুগম করে। ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

একটি রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বাঁচার জন্য রাষ্ট্র যেমন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, তেমনি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। নাগরিকদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত আয়কর ও খাজনা প্রদান করা, রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত বিভিন্ন দায়িত্ব সততার সাথে পালন করা। নাগরিকদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণই রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করে এবং প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করে।

উদ্দীপকের জনাব সাখাওয়াত হোসেন একজন সচেতন নাগরিকের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়মিত আয়কর ও তার বসতবাড়ির খাজনা পরিশোধ করেন, যা রাষ্ট্রের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এছাড়াও তিনি সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। তার এই কর্মকাণ্ড নাগরিকের দায়িত্বের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। সুতরাং বলা যায়, তার মাধ্যমে নাগরিকের কর্তব্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে।

উত্তর

না, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ এ উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি তথা আইনসভা আইনের একমাত্র উৎস নয়, বরং এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আইনের অন্যতম প্রধান উৎস।

আইনসভা বা পার্লামেন্ট হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের সর্বোচ্চ ফোরাম, যেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনস্বার্থে আইন তৈরি করেন। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ডের মতে, আইনসভা ছাড়াও আইনের আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে। এগুলো হলো- প্রথা, ধর্ম, বিচারসংক্রান্ত রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা এবং ন্যায়বোধ। সমাজে প্রচলিত দীর্ঘকালের রীতিনীতি বা প্রথা এবং ধর্মীয় অনুশাসনও আইনের অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি।

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-২ এ জনাব শরিফুল ইসলাম একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে তার মতামত প্রকাশ করেন। তার এই কার্যক্রমটি মূলত আইনসভার সাথে সম্পর্কিত, যা আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক উৎস। জনপ্রতিনিধিরা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এখানে যুগের চাহিদানুযায়ী আইন তৈরি করেন। কিন্তু এই আইনসভাই সব আইন সৃষ্টি করে না। অনেক সময় বিচারকরা প্রচলিত আইনের অভাবে নিজস্ব ন্যায়বোধ থেকে রায় দেন, যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়। আবার প্রখ্যাত আইনবিশারদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা ধর্মীয় গ্রন্থ থেকেও রাষ্ট্র বহু আইন গ্রহণ করে থাকে।

তাই সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, বর্তমান যুগে আইনসভা আইনের প্রধানতম উৎস হলেও এটি কখনই আইনের একমাত্র উৎস নয়।

৩. আফজাল সাহেব তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে রিসাকে নিয়ে শহরে বাস করেন। অন্যদিকে, জনাব সাকিব তার বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গ্রামে বাস করেন।
উত্তর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবারের বিশেষ নিয়ম-নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং কার্যগত সাংগঠনিক ভিত্তির সামগ্রিক রূপই হলো পারিবারিক কাঠামো।
উত্তর

শিশুর সামাজিকীকরণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যমটি হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয়। পরিবারে শিশু প্রাথমিক শিক্ষা পেলেও বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে তার আচরণের পরিকল্পিত পরিবর্তন ঘটে এবং সে সমাজের বৃহত্তর রীতিনীতি আয়ত্ত করে।

বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের সংস্পর্শে আসে। এখান থেকেই সে শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের মতো সামাজিক গুণাবলি অর্জন করে। এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি শিশুকে ভবিষ্যতের কর্মজগৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে, যা তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে অপরিহার্য।

উত্তর

উদ্দীপকের আফজাল সাহেবের পরিবারটি হলো 'একক পরিবার' বা 'অণু পরিবার'। স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান নিয়ে গঠিত পরিবারকেই একক পরিবার বলা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, আফজাল সাহেব শহরে শুধু তার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে রিসাকে নিয়ে বাস করেন, যা একক পরিবারের একটি আদর্শ উদাহরণ।

সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, একক পরিবার মূলত দুই পুরুষে আবদ্ধ থাকে পিতামাতা এবং তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অবিবাহিত সন্তান। আধুনিক নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বর্তমানে শহরগুলোতে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আফজাল সাহেবের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, তিনি তাঁর বাবা-মা বা অন্য আত্মীয়দের সাথে বসবাস না করে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি আলাদা সংসার পরিচালনা করছেন।

আফজাল সাহেবের এই পরিবার কাঠামোতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সুযোগ বেশি থাকে। শহরের সীমিত আবাসন ও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে এ ধরনের পরিবার গঠন এখন একটি সাধারণ প্রবণতা। একক পরিবারে শিশুরা সাধারণত পিতামাতার নিবিড় সান্নিধ্য পায়। সুতরাং, সদস্যদের সংখ্যা ও অবস্থানের ভিত্তিতে আফজাল সাহেবের পরিবারটি একটি সার্থক একক পরিবার।

উত্তর

উদ্দীপকের জনাব সাকিবের পরিবারটি একটি 'যৌথ পরিবার'। যখন কোনো পরিবারে বিবাহিত পুত্র তার সন্তানাদি এবং পিতামাতার কর্তৃত্বাধীনে একই সংসারে বাস করে, তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। সাকিব তাঁর স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও বাবা-মায়ের সাথে একত্রে গ্রামে বাস করেন, যা একটি চিরাচরিত যৌথ পরিবার কাঠামো।

যৌথ পরিবারের প্রধান সুবিধা হলো সদস্যদের মধ্যে গভীর সংহতি এবং নিরাপত্তা। সাকিবের সন্তানদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে দাদা-দাদির সান্নিধ্য নৈতিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে বড়ো ভূমিকা রাখবে। এছাড়া অর্থনৈতিক কাজেও সবাই পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে এবং বিপদে একাকী বোধ করার সুযোগ থাকে না। উৎসব-পার্বণে এই পরিবার গুলোতে আনন্দের আমেজ বেশি থাকে।

তবে এই কাঠামোর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। সদস্যদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার ছোটো ছোটো বিষয়ে মতের অমিল থেকে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সময় একক স্বাধীনতার অভাববোধ দেখা দেয়, যা কখনো কখনো সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, গ্রামীণ সমাজে সাকিবের মতো যৌথ পরিবারগুলো আজও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে টিকে আছে। যদিও বর্তমানের ভোগবাদী মানসিকতা ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এ ধরনের পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, তবুও পারস্পরিক সহমর্মিতা ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক বোঝাপড়া থাকলে সাকিবের এই যৌথ পরিবার একটি আদর্শ সুখী পরিবার হতে পারে।

৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সূর্যের মধ্যে মাঝে মাঝে যে কালো দাগ দেখা যায় তাকে সৌরকলঙ্ক (Sun Spot) বলে।
উত্তর

ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলা হয়।

প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য ভূপৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কাল্পনিক রেখা টানা হয়। ওই রেখাটি পৃথিবীর বিপরীত পাশে যে বিন্দুতে পৌঁছায়, সেটিই প্রথম বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান। কোনো স্থানের অক্ষাংশ যত ডিগ্রি হয়, তার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশও তত ডিগ্রি কিন্তু বিপরীত গোলার্ধের হয়। এছাড়া উভয় স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১৮০ ডিগ্রি।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-১ এর 'P' স্তরটি ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে উপরের স্তর অশ্মমণ্ডল বা শিলামণ্ডলকে নির্দেশ করছে।

অশ্মমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এর গভীরতা স্থানভেদে ৩০ থেকে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ স্তরের প্রধান উপাদানগুলো হলো অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ ও ক্যালসিয়াম। সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়ামের আধিক্যের কারণে এই স্তরটিকে সংক্ষেপে 'সিয়াল' (Sial) স্তর বলা হয়।

অশ্মমণ্ডলের উপরিভাগকে ভূত্বক বলা হয়, যা পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণ। এই ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ১৭ কিলোমিটার। তবে মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে এর গভীরতা বেশি এবং মহাসাগরের তলদেশে এর গভীরতা সবচেয়ে কম থাকে। এই স্তরের ওপরই আমরা বসবাস করি এবং এটি জীবজগতের আধার হিসেবে কাজ করে।

উত্তর

চিত্র-২ এর 'C' গ্রহটি হলো পৃথিবী, যা সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয়। আমি এই বক্তব্যের সাথে একমত যে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলই মূলত একে জীবের বসবাসের উপযোগী করেছে।

বায়ুমণ্ডল হলো পৃথিবীকে বেষ্টন করে থাকা বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের আবরণ। এতে থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন প্রাণীর শ্বাসকার্যের জন্য এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য অপরিহার্য। বায়ুমণ্ডল ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে প্রাণিকুলকে রক্ষা করে। এছাড়া বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরে মেঘ, বৃষ্টি ও আর্দ্রতা তৈরি হয়, যা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী দিনের বেলায় প্রচণ্ড উত্তপ্ত এবং রাতে হিমাঙ্কের নিচে শীতল হয়ে যেত, যা জীবনের প্রতিকূল হতো।

পরিশেষে বলা যায়, অন্যান্য গ্রহে বায়ুমণ্ডল থাকলেও তাতে অক্সিজেনের অভাব বা বিষাক্ত গ্যাসের আধিক্য রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের ভারসাম্য ও তাপমাত্রার সহনীয় অবস্থা একে আদর্শ গ্রহে পরিণত করেছে। তাই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলই এই গ্রহে প্রাণ ধারণের প্রধান ও মূল নিয়ামক।

৫. ২০২২-২৩ অর্থ বছরে 'X' দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। দেশটিতে বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার আশানুরূপ বিস্তার ঘটেনি। তবে সম্প্রতি দেশটি শিক্ষায়, জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসসহ আর্থসামাজিক কিছু সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
উত্তর ভোক্তা নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে দ্রব্যটি সরাসরি ক্রয় ও ভোগ করে এবং যা আর পুনরায় বিক্রয় হয় না, তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে।
উত্তর

সেবা বলতে এমন কোনো অবস্তুগত দ্রব্যকে বোঝায় যার উপযোগ এবং বিনিময় মূল্য আছে। যেমন- শিক্ষকের পাঠদান বা চিকিৎসকের চিকিৎসা প্রদান।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ যখন অন্যের প্রয়োজন মেটায় এবং যার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হয়, অর্থনীতিতে তাই সেবা। এটি মানুষের অদৃশ্য অভাব পূরণ করে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত X-দেশটি দ্বারা মূলত বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল প্রেক্ষাপট ছিল দীর্ঘ দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং চব্বিশ বছরের পাকিস্তানি শোষণ।

ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলটি একসময় সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনামলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং ইংল্যান্ডের কলকারখানায় উৎপাদিত সস্তা কাপড়ের প্রভাবে স্থানীয় বস্ত্রশিল্প ও কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে দেশটি শিল্পপণ্য রপ্তানিকারকের পরিবর্তে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি আমলে সম্পদ বণ্টন ও বাজেটে চরম বৈষম্যের শিকার হওয়ায় অর্থনীতির ভিত্তি পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়ে।

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রযুক্তি শিক্ষার অভাব এবং দারিদ্র্য মূলত এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক বঞ্চনারই উত্তরাধিকার। দীর্ঘ সময় ধরে পরাধীন থাকার ফলে দেশটির প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলের পরিকল্পিত শোষণই X-দেশটির অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার প্রধান ঐতিহাসিক কারণ বা প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচিত।

উত্তর

উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন X-দেশটির তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অপরিহার্য বলে আমি মনে করি।

উন্নত দেশ বলতে যাদের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান উচ্চ তাদের বোঝায়। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশই একাকী স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, X-দেশটিতে প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাব এবং দারিদ্র্য রয়েছে। উন্নত দেশগুলো থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মূলধন সহায়তা পেলে এই বাধা দূর করা সম্ভব। আবার উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি করা যায়। তৈরি পোশাক বা জনশক্তি রপ্তানির মতো বড় আয়ের উৎস গুলো মূলত উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলোর সাথে সুসম্পর্কের ওপরই নির্ভরশীল।

পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কারিগরি শিক্ষা বিস্তার এবং পণ্য রপ্তানির জন্য এই দেশ গুলোর সাথে সুসম্পর্ক রাখা জরুরি। উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা ও উন্নয়নশীল দেশ গুলোর সাথে অংশীদারিত্বই X-দেশটিকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে রূপান্তরের পথ সুগম করবে। তাই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই।

৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর উন্নয়ন বলতে বিদ্যমান অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়, যা মূলত দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি ও সার্বিক মানোন্নয়ন ঘটায়।
উত্তর

কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি এবং জীবনজীবিকার প্রধান উৎস। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১১.৩০ শতাংশ এবং মোট শ্রমশক্তির ৪৫ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত।

কৃষি আমাদের শিল্প খাতের কাঁচামাল যেমন- পাট, চা ও চামড়ার জোগান দেয়। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।

উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকেই মাথাপিছু আয় বলে।

মাথাপিছু আয় হলো কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান নির্ধারণের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক নির্দেশক। এর মাধ্যমে একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত হয়, আর আয় কম হলে জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী বা অনুন্নত থাকে।

উদ্দীপকে দেওয়া তথ্যমতে, 'C' দেশটির মোট জাতীয় আয় ৭,৮০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং মোট জনসংখ্যা ১২ কোটি। মাথাপিছু আয় নির্ণয়ের সূত্রানুসারে, মোট আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে। সুতরাং, 'C' দেশটির মাথাপিছু আয় হবে (৭,৮০০ ÷ ১২) = ৬৫০ মার্কিন ডলার। বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ৬৫০ মার্কিন ডলার আয়ের এ 'C' দেশটি একটি নিম্ন আয়ের বা অনুন্নত দেশ।

উত্তর

অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নির্দেশক মাথাপিছু আয়ের গাণিতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উদ্দীপকের 'A' দেশটি 'B' দেশ হতে অধিক উন্নত।

মাথাপিছু আয় বলতে কোনো দেশের নির্দিষ্ট সময়ের মোট জাতীয় আয় ও মোট জনসংখ্যার অনুপাতকে বোঝায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রয়ক্ষমতা উন্নত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।

উদ্দীপকের উপাত্ত অনুযায়ী, 'A' দেশের মাথাপিছু আয় (২,৩১,০০০ ÷ ১১) = ২১,০০০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, 'B' দেশের মাথাপিছু আয় (১,১৯,০০০ ÷ ১৪) = ৮,৫০০ মার্কিন ডলার। প্রাপ্ত এই গাণিতিক বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, 'B' দেশের তুলনায় 'A' দেশের মাথাপিছু আয় আড়াই গুণেরও বেশি।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিচারে মাথাপিছু আয়ের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, 'A' দেশের সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার 'B' দেশের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী ২১,০০০ ডলার মাথাপিছু আয় একটি উচ্চ আয়ের উন্নত দেশের পরিচায়ক, যেখানে ৮,৫০০ ডলার একটি উচ্চ মধ্য আয়ের নির্দেশক। সুতরাং সার্বিক জীবনমান, সামাজিক অবকাঠামো ও প্রবৃদ্ধির মাপকাঠিতে 'B' দেশ হতে 'A' দেশটি নিঃসন্দেহে অধিক উন্নত।

৭.

দৃশ্যপট-১: জনাব 'M' এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে যে কেউ যেকোনো ধরনের উৎপাদনকার্য পরিচালনা করতে পারেন। এতে কোনো বাধানিষেধ নেই এবং সরকারও কখনোই হস্তক্ষেপ করে না।

দৃশ্যপট-২: রহমান সাহেব বন্ধুদের সাথে একটি দেশে বেড়াতে যান। সেখানে তিনি পরিবারের জন্য বেশ কিছু প্রসাধনী কিনতে চাইলে দোকানদার তাকে জানালেন এতো দ্রব্যসামগ্রী একসাথে বিক্রির বিধান তাদের দেশে নেই অর্থনীতির প্রায় সব খাত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

উত্তর বিদ্যমান মূলধনসামগ্রীর সাথে নতুন মূলধন, যেমন- অর্থ, যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল যুক্ত হওয়াকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলে।
উত্তর

সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে নাগরিকের প্রধান ভূমিকা হলো সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বা ক্ষতি রোধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।

নাগরিকরা সমষ্টিগত সম্পদ, যেমন- রাস্তাঘাট, সেতু বা হাসপাতাল ব্যবহারে অত্যন্ত যত্নবান হবেন। কেউ এসব সম্পদের ক্ষতিসাধন করলে তা দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এছাড়া পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপচয় রোধে মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমে নাগরিকেরা জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

উত্তর

উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১-এর জনাব 'M'-এর বসবাসরত দেশটিতে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন থাকে। এ ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে যেকোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করেন। এখানে দ্রব্যের উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগ বাজারের চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং এসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, জনাব 'M' এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে উৎপাদনকার্য পরিচালনায় কোনো বাধানিষেধ নেই এবং সরকারও কোনো হস্তক্ষেপ করে না। পাঠ্যবইয়ের আলোকে, অবাধ উদ্যোগ গ্রহণ এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত মুক্তবাজার ব্যবস্থার এই বৈশিষ্ট্যগুলো ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিকেই নির্দেশ করে। তাই জনাব 'M'-এর দেশটি ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অধীন, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।

উত্তর

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এর ধনতান্ত্রিক এবং দৃশ্যপট-২ এর মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আয়বণ্টন প্রক্রিয়া কখনোই একই হবে না, বরং এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।

ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করে, ফলে আয়বৈষম্য দেখা দেয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে, যেখানে সরকারি খাত জনকল্যাণে কাজ করে আংশিক সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

দৃশ্যপট-১ এ সরকারের হস্তক্ষেপহীন যে, ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, সেখানে আয় বণ্টনে চরম বৈষম্য থাকে। অপরদিকে, দৃশ্যপট-২ এ রহমান সাহেবের দেখা দেশটিতে বেসরকারি খাতের প্রসারের পাশাপাশি দ্রব্যের অতিরিক্ত বিক্রির ওপর বিধিনিষেধের মাধ্যমে পরোক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়, যা মিশ্র অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য। এ ব্যবস্থায় বেসরকারি অংশে আয়বৈষম্য থাকলেও সরকারি অংশে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয়।

উপর্যুক্ত বিশ্লেষণে বলা যায়, দৃশ্যপট-১-এর দেশে আয় বণ্টন সম্পূর্ণ মুনাফানির্ভর হওয়ায় ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হয়। কিন্তু দৃশ্যপট-২ এর দেশে আংশিকভাবে হলেও রাষ্ট্র জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্পদের সুষম বণ্টনের উদ্যোগ নেয়। তাই দেশ দুটোর আয় বণ্টন প্রক্রিয়া ভিন্ন প্রকৃতির।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর হিন্দু সমাজে উঁচু বর্ণের পাত্রের সাথে নিচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গঠিত হয়, তাকে অনুলোম বিবাহ ভিত্তিক পরিবার বলে।
উত্তর

বর্তমানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি পারিবারিক মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে এই শিশুদের পরিবারের বোঝা মনে করা হতো, কিন্তু বর্তমানে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পরিবারগুলো অধিক যত্নশীল হয়ে উঠছে।

পরিবার গুলো এখন এসব শিশুকে লুকিয়ে না রেখে তাদের বিশেষায়িত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে এসব শিশু আজ খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে, যা তাদের প্রতি সামাজিক সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

উত্তর

'কলাম-এ'-তে বর্ণিত উপাদান গুলো সামাজিকীকরণের 'সাংস্কৃতিক পরিবেশ'-কে নির্দেশ করছে। মানুষের সৃষ্টি করা যাবতীয় বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান নিয়ে এই পরিবেশ গঠিত হয়, যা মানুষের আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশের দুটি দিক থাকে- একটি হলো বস্তুগত (ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট) এবং অন্যটি অবস্তুগত (আচার-আচরণ, জ্ঞান-বিজ্ঞান)। উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘরবাড়ি বা রাস্তাঘাট মানুষের জীবনযাত্রার মান ও ধরন নির্ধারণ করে। আবার মানুষের অর্জিত জ্ঞান ও প্রচলিত আচার-আচরণ তার মানসিক প্রসারতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে সাহায্য করে। একটি উন্নত সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড়ো হওয়া শিশুর মধ্যে মার্জিত আচরণ ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।

মানুষ সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায় এই সাংস্কৃতিক উপাদানের সংস্পর্শে এসে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। উদ্দীপকের উপাদানগুলো মূলত সমাজ কাঠামোয় মানুষের পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো ব্যক্তিকে তার স্বকীয়তা বজায় রেখে একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। সুতরাং, মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিকাশে 'কলাম-এ'-এর নির্দেশিত সাংস্কৃতিক পরিবেশের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

উত্তর

'কলাম-বি'-তে নির্দেশিত মাধ্যমটি হলো 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠান' বা বিদ্যালয়। শিশুর সামাজিকীকরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল এই মাধ্যমটিই যথেষ্ট নয়। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া, যা পরিবার থেকে শুরু হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে সম্পন্ন হয়।

বিদ্যালয় শিশুকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম শেখালেও সামাজিকীকরণের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় পরিবারে। পরিবার থেকেই শিশু ভালোবাসা, ত্যাগ এবং প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা লাভ করে। মায়ের সান্নিধ্য ও মা-বাবার পারস্পরিক সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে যে প্রভাব ফেলে, তা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে পারে না। এছাড়া প্রতিবেশী দল ও খেলার সাথিদের মাধ্যমে শিশু সহযোগিতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনের বাস্তব শিক্ষা অর্জন করে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মানুষের নৈতিকতা ও বিবেকবোধ জাগ্রত করে এবং গণমাধ্যমগুলো জীবন-জগৎ সম্পর্কে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণা দেয়। গ্রামীণ বা শহুরে সমাজে স্থানীয় গোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসে শিশু স্বজাত্যবোধ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হয়। বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের বাইরে এই মাধ্যম গুলো শিশুর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক উন্মোচনে সহায়তা করে।

পরিশেষে বলা যায়, বিদ্যালয় শিশুকে সুনাগরিক ও কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তুললেও একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মানুষ হতে হলে পরিবার, সমাজ, ধর্ম ও গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রভাব প্রয়োজন। সবকটি মাধ্যমের সঠিক ভূমিকার মাধ্যমেই একজন শিশু পরিপূর্ণ সামাজিক সত্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তাই কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শিশুর সামাজিকীকরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।