ঘটনা-২: মুক্তিযুদ্ধের সময় 'A' নামক প্রতিবেশী রাষ্ট্র শরণার্থীদের আশ্রয় ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৌরজগতের আংশিক চিত্র
উদ্দীপকের আংশিক সৌরজগতের চিত্রে 'A' চিহ্ন দ্বারা সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা 'শুক্র' গ্রহটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
শুক্র সৌরজগতের একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্রহ এবং দূরত্বের বিচারে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এই গ্রহটির ২২৫ দিন সময় লাগে। গ্রহটির কোনো উপগ্রহ নেই এবং এটি নিজ অক্ষে অত্যন্ত ধীর গতিতে আবর্তিত হয়। শুক্রের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল থাকলেও তাতে কোনো অক্সিজেন নেই, বরং শতকরা প্রায় ৯৬ ভাগই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসে পূর্ণ। এই বিষাক্ত ও ঘন কার্বন ডাইঅক্সাইডের মেঘের কারণে গ্রহটিতে প্রচুর এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে। গ্রহটির ভূপৃষ্ঠে বাতাসের চাপ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৯০ গুণ বেশি। একে আমরা ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা রূপে দেখতে পাই। উদ্দীপকের চিত্রে সূর্য থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে 'A' গ্রহটির অবস্থান দেখা যায়, যা শুক্র গ্রহের বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
উদ্দীপকের সৌরজগতের চিত্রে 'B' এবং 'C' দ্বারা যথাক্রমে সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ 'পৃথিবী' এবং চতুর্থ গ্রহ 'মঙ্গল' কে নির্দেশ করা হয়েছে।
পৃথিবী হলো সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যা প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণ আদর্শ। অন্যদিকে, মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর ঠিক পরেই অবস্থিত হলেও এর প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত রুক্ষ, শীতল এবং জীবের বসবাসের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। উদ্দীপকের চিত্রে তৃতীয় কক্ষপথে থাকা 'B' বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে এবং এর ভূপৃষ্ঠে পর্যাপ্ত পানি বিদ্যমান। এর গড় তাপমাত্রা $13.90^\circ$ সেলসিয়াস। অপরদিকে, চতুর্থ কক্ষপথে থাকা 'C' বা মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের চরম অভাব রয়েছে; এখানে কেবল শতকরা ৩ ভাগ নাইট্রোজেন ও ২ ভাগ আরগন গ্যাস আছে। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল অনেক বেশি ঠান্ডা।
পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর ('B') আয়তন ও ওজন মঙ্গলের ('C') তুলনায় অনেক বেশি। পৃথিবীর উপগ্রহ একটি, কিন্তু মঙ্গলের উপগ্রহ দুটি। পাথরগুলোতে মরিচা পড়ায় মঙ্গল লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। আলো, বাতাস ও পানির উপস্থিতির কারণে পৃথিবী বাসযোগ্য হলেও, অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের অভাবে মঙ্গলকে একটি প্রাণহীন গ্রহে পরিণত করেছে।
ঘটনা-১: রাজু ছুটিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় বেড়াতে যায়। সে লক্ষ করল, একটি নদী পানিতে টইটুম্বুর অথচ কয়েক ঘণ্টা পর দেখল পানি কমে তলানীতে নেমে গেছে।
ঘটনা-২:
স্থানের নাম
অক্ষাংশ
দ্রাঘিমাংশ
তারিখ
A
২৪°৩৪′ উত্তর
৯২°৪৫′ পশ্চিম
২৫ জুন
B
২৭°৩০′ দক্ষিণ
৬০°১৫′ পশ্চিম
২৫ জুন
উদ্দীপকে রাজুর দেখা ঘটনাটি হলো নদীতে জোয়ার-ভাটার প্রভাব। পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির আকর্ষণে সমুদ্র বা নদীর পানি নিয়মিতভাবে ওঠানামা করে। পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরপর একই স্থানে জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে রাজু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে প্রথমে নদীটি পানিতে টইটুম্বুর দেখে, যা জোয়ারের প্রবল অবস্থার নির্দেশক। জোয়ারের সময় সমুদ্রের ফুলে ওঠা পানি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবেশ করে নদীকে পূর্ণ করে তোলে। পরবর্তীতে কয়েক ঘণ্টা পর সে নদীর পানি কমে তলানিতে নেমে যেতে দেখে, যা ভাটার প্রভাব। ভাটার সময় সেই পানি পুনরায় সমুদ্রে ফিরে যাওয়ায় নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই রাজুর দেখা নদীর পানির এই নাটকীয় পরিবর্তনের মূল কারণ হলো জোয়ার-ভাটা।
উদ্দীপকের ছকে নির্দেশিত 'A' স্থানটি উত্তর গোলার্ধে এবং 'B' স্থানটি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় ২৫ জুন তারিখে স্থান দুটিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঋতু পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে আপন মেরুরেখায় হেলে থাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠে লম্ব বা তির্যকভাবে পতিত হয়। লম্বভাবে পড়া স্থানে তাপ বেশি থাকায় গ্রীষ্মকাল এবং তির্যকভাবে পড়া স্থানে তাপ কম থাকায় শীতকাল হয়।
ছকে ২৫ জুন তারিখে 'A' স্থানটি $24^\circ 34'$ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। আমরা জানি, ২১শে জুন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে ২৫ জুনের কাছাকাছি সময়ে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত 'A' স্থানে দিন দীর্ঘ ও রাত ছোট হয়। পর্যাপ্ত সূর্যতাপ পাওয়ার কারণে সেখানে তখন গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
অপরদিকে, এই একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। ফলে $27^\circ 30'$ দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত 'B' স্থানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। এতে সেখানে দিন ছোট ও রাত বড় হয় এবং উত্তাপের তীব্র অভাবে শীতকাল দেখা যায়। সুতরাং, গোলার্ধগত অবস্থানের পার্থক্যের কারণেই একই তারিখে 'A' ও 'B' স্থানে ভিন্ন ঋতু পরিলক্ষিত হয়।
ঘটনা-১: জনাব কামাল সাহেব দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত সদস্য। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিধান তৈরির জন্য তিনি তার প্রতিষ্ঠানে একটি প্রস্তাবনা প্রণয়ন করেন এবং পরবর্তীতে প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে বিধানটি পাশ হয়।
ঘটনা-২ : হালিম সাহেব কারখানার মালিক। তিনি তার কারখানার উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন। অর্জিত আয় থেকে সরকারকে নির্দিষ্ট হারে কর দেন।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ আইনের প্রধান উৎস 'আইনসভা' বা পার্লামেন্টকে নির্দেশ করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভাই আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আইনসভায় জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরি এবং পুরোনো আইনের সংশোধন করে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব কামাল সাহেব একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত সদস্য। তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেন এবং সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তা আইনে পরিণত হয়। আধুনিক রাষ্ট্রগুলোতেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় এভাবেই সম্মতির মাধ্যমে আইন তৈরি করেন। সুতরাং, জনাব কামালের এই কাজের প্রক্রিয়াটি সুস্পষ্টভাবেই আইনের আধুনিক ও প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
না, উদ্দীপকের হালিম সাহেরের কর্মকাণ্ড একজন নাগরিকের সকল দায়িত্ব পালনের জন্য কখনোই যথেষ্ট নয়। নাগরিক হিসেবে সুবিধা ভোগের পাশাপাশি একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের প্রতি বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর মধ্যে কর প্রদান, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, আইন মান্য করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা অন্যতম। উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ হালিম সাহেব পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন এবং আয় থেকে সরকারকে নিয়মিত কর দিচ্ছেন। তার এই কাজ রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মজবুত করছে। কর প্রদান নাগরিকের একটি অন্যতম আর্থিক দায়িত্ব হলেও এটিই একমাত্র কর্তব্য নয়।
একজন নাগরিককে আরও কিছু অপরিহার্য কাজ করতে হয়। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকা, প্রচলিত আইন মেনে চলা, সৎ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। হালিম সাহেব কেবল অর্থনৈতিক দায়িত্বটি পালন করেছেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। তাই তার কর্মকাণ্ড নাগরিক হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
ঘটনা-১: মি. জন একজন পরিশ্রমী মানুষ। দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে একটি কারখানা স্থাপন করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তার কারখানা দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
ঘটনা-২: বকুলপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি উদ্যোগে সম্প্রতি সেখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হযেছে। স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা ছাড়াও সেখানে আশপাশের কয়েক গ্রামের লোকজনও চিকিৎসা নিতে অসেন।
মালিকানার ওপর ভিত্তি করে মি. জনের প্রতিষ্ঠানটি 'ব্যক্তিগত সম্পদ' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা-জমি, বাড়িঘর, কলকারখানা, অর্থসম্পদ, গাড়ি ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীকে ব্যক্তিগত সম্পদ বলা হয়। একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব উদ্যোগ, শ্রম ও মূলধন কাজে লাগিয়ে যে সম্পদ সৃষ্টি বা অর্জন করেন এবং যার ওপর তার পূর্ণ আইনি অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাকেই ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, মি. জন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। তিনি তার ব্যক্তিগত চেষ্টা, শ্রম ও নিজস্ব উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে একটি কারখানা স্থাপন করেছেন। বর্তমানে তার এই কারখানাটি দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেহেতু মি. জন সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে ও অর্থে কারখানাটি গড়ে তুলেছেন এবং এর ওপর তার ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত, তাই এটি ব্যক্তিগত সম্পদের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
ঘটনা-২ এ উল্লিখিত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি একটি 'সমষ্টিগত সম্পদ', যা সংরক্ষণে নাগরিক ও রাষ্ট্র উভয়েরই সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে যেসব সম্পদ ভোগ করে এবং যার ওপর সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকে, তাকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে। সরকারি হাসপাতালের মতো সম্পদ রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে নির্মাণ করে। তাই এগুলো যত্নসহকারে রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
উদ্দীপকের বকুলপুর গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেধা নিশ্চিত করছে। এটি সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত যত্নবান হতে হবে। কেউ' যেন ভবনের বা চিকিৎসা যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতিসাধন করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে এবং কোনো অপচেষ্টা দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অপব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎ, পানি বা চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহারে সকলকে মিতব্যয়ী হতে হবে। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে, স্থানীয় জনগণকেই এর রক্ষণাবেক্ষণে সচেতন পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে। সকলের এই সম্মিলিত পদক্ষেপেই সম্পদটি দীর্ঘকাল মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগ প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। এ ব্যবস্থায় উদ্যোক্তার প্রধান লক্ষ্য থাকে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা। বাজারে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দ্রব্যের চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং মুনাফা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রায়শই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে শোষণ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' রাষ্ট্রে উৎপাদন, ভোগ ও বণ্টন প্রক্রিয়া দ্রব্যের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যার ফলে উৎপাদকরা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই কাজ করে। মুনাফা সর্বাধিক করার এই প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রে শ্রমিক শোষণের চিত্র ফুটে ওঠে । এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের 'B' রাষ্ট্রে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং 'C' রাষ্ট্রে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, যাদের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়ায় মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে, যেখানে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণও কাজ করে। অপরদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে ব্যক্তি মালিকানার কোনো স্থান নেই; উৎপাদনের সকল উপকরণ এবং সম্পদের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অধীনে থাকে এবং সরকারই কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের 'B' রাষ্ট্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেই উৎপাদন ও বিনিয়োগ পরিচালিত হয়, যা মিশ্র অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে, 'C' রাষ্ট্রে সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে ব্যক্তির কোনো স্বাধীন উদ্যোগ নেই এবং সর্বাধিক মুনাফার বদলে জনগণের সার্বিক কল্যাণই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য থাকে। এটি মূলত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সুস্পষ্ট রূপ। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, 'B' রাষ্ট্র মিশ্র নীতির কারণে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে, যেখানে ব্যক্তি খাতে আংশিক আয় বৈষম্য থাকতে পারে। কিন্তু 'C' রাষ্ট্রে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে সম্পদের সুষম বণ্টন হয় এবং কোনো শ্রমিক শোষণ বা আয় বৈষম্য থাকে না।
সুতরাং, মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে দেশ দুটির অর্থনৈতিক নীতি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
ঘটনা-১ : 'B' নামক দেশের বেশির ভাগ জনগণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়। উক্ত দেশের জনগণের ৮৫% মানুষ দক্ষ ও বহুমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত।
ঘটনা-২ : খড়িতলা গ্রামের মাহাবুব পরের জমি বর্গাচাষ করেন। ওই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ জমিতে মজুর খাটে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বাজারে তাদের বাগানে উৎপাদিত আমের দামও কম।
$\text{মাথাপিছু আয়} = \frac{\text{মোট জাতীয় আয়}}{\text{মোট জনসংখ্যা}}$
উন্নয়নের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' নামক দেশটি মূলত একটি উন্নত দেশের প্রকৃতিকে নির্দেশ করে। যেসব দেশের মাথাপিছু আয় বেশি, জীবনযাত্রার মান উচ্চ এবং অর্থনীতি মূলত শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর, তাদের উন্নত দেশ বলা হয়। এসব দেশের জনগণ উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়, যার ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও রপ্তানি বাণিজ্যে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, 'B' দেশের অধিকাংশ জনগণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে ব্যাপকহারে রপ্তানি হয়। তাছাড়া দেশটির ৮৫% মানুষ দক্ষ ও বহুমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত, যা উন্নত মানবসম্পদের প্রমাণ দেয়। উন্নত শিল্পখাত, রপ্তানিমুখী অর্থনীতি এবং দক্ষ জনশক্তির এই চিত্রটি প্রমাণ করে যে, 'B' দেশটি একটি শক্তিশালী ও উন্নত দেশ।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ মাহাবুবের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের কৃষি খাতের অনুন্নত অবস্থা, উপকরণ সংকট ও বাজারজাতকরণের সমস্যাজনিত অর্থনৈতিক অনগ্রসরতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। কৃষিপ্রধান দেশে সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতি, মূলধন বা উপকরণের অভাব এবং ত্রুটিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে কৃষির কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান অনুন্নত থেকে যায়।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ মাহাবুব ও তার গ্রামের মানুষের বর্গাচাষ, উপকরণের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং আমের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের কৃষি খাতের এ দুর্বলতাগুলোকেই তুলে ধরে। এ অবস্থা মোকাবিলায় সরকার কৃষিনীতির মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা ও সারে ভর্তুকি প্রদান করছে এবং কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে এই অনগ্রসরতা পুরাপুরি কাটাতে কৃষকদের সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ প্রদান, গ্রামীণ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা অপরিহার্য। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলেই মাহাবুবের মতো কৃষকদের অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং কৃষি খাতের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
ঘটনা-১ : সন্তু চাকরির সুবাদে বহু বছর আগে গ্রাম ছেড়ে শহরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। শহরে থেকে গ্রামে বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে দেখা করতে যান।
ঘটনা-২: জায়ান বাড়ির ছোটো ছেলে হওয়ায় বাবা-মা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি সবাই তাকে খুব আদর করে। দাদা-দাদি তাকে গল্প শোনায়। চাচা-চাচির প্রেরণায় পড়শীদের সাথে খেলাধুলা করে।
আকারের ভিত্তিতে সন্তুর বসবাসরত শহরের পরিবারটি হলো একটি 'একক পরিবার' বা 'অণু পরিবার'।
সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত দুই পুরুষের ক্ষুদ্র পরিবারকে একক পরিবার বলা হয়। এ ধরনের পরিবারের বন্ধন সাধারণত পিতামাতা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আধুনিক যুগে শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং পেশাগত কারণে শহরগুলোতে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, সন্তু চাকরির সুবাদে নিজের গ্রাম ছেড়ে শহরে কেবল তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি তার বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে বসবাস করেন না, বরং মাঝে মাঝে তাদের সাথে দেখা করতে যান। যেহেতু সন্তুর পরিবারে কেবল স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তানেরাই একত্রে থাকছে, যা দুই পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী আকারের ভিত্তিতে এটি স্পষ্টভাবে একটি একক পরিবারের কাঠামোকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এর জায়ানের পরিবারটি হলো যৌথ পরিবার। শিশুর সামাজিকীকরণে জায়ানের মতো 'বর্ধিত পরিবার' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
তিন পুরুষের পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ পরিবারকে যৌথ পরিবার বলে, যেখানে পিতামাতা ছাড়াও দাদা-দাদি, চাচা-চাচি একত্রে বসবাস করেন। শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। পরিবারের বিভিন্ন বয়সের সদস্যদের আদর-যত্ন, শাসন ও দিকনির্দেশনা শিশুর মধ্যে স্নেহ, সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ জায়ান তার বাবা-মা, দাদা-দাদি ও চাচা-চাচির সাথে বসবাস করে। সে দাদা-দাদির কাছ থেকে গল্প শোনে, যা তার জ্ঞান ও নৈতিকতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আবার চাচা-চাচির প্রেরণায় সে পড়শীদের সাথে খেলাধুলা করে। প্রতিবেশীদের সাথে মেলামেশার ফলে সে সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করতে পারছে, যা তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের পথ সুগম করছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, একটি শিশু জন্ম নেওয়ার পর সমাজজীবনের প্রাথমিক শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই পেয়ে থাকে। জায়ানের যৌথ পরিবারে অনেক সদস্য থাকায় সে সবার স্নেহপূর্ণ সংস্পর্শে থেকে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণগুলো শিখছে। একক পরিবারের শিশুরা যেখানে অনেক সময় একাকীত্বে ভোগে, সেখানে জায়ানের মতো যৌথ পরিবারগুলো শিশুর মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ গঠনে একটি চমৎকার বিদ্যালয় হিসেবে কাজ করে। তাই জায়ানের পরিবারের কাঠামো শিশুর সামাজিকীকরণে সত্যিই অনন্য।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।