ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬
১.

দৃশ্যপট-১ : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর একটি সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে এবং বিশ্বজনমত গঠন করে।

দৃশ্যপট-২: বিশ্বের প্রভাবশালী একটি দেশ মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে বিশ্বজনমত গঠন করে। তাছাড়াও দান সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সেই দেশের একজন অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করেন।

উত্তর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল, বাংলাদেশের ইতিহাসে তা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
উত্তর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ বিজয়ের পথকে সুগম করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার বিরাট অংশ ছিল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তারা স্বাধীনতার বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনতে সহায়তা করে। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিজয় অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।
উত্তর

দৃশ্যপট-১ এ উল্লিখিত সরকারটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা 'মুজিবনগর সরকার'। এই সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্যই একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহত করতে এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সর্বজনীন রূপ দিতে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের প্রবীণ ও শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, যা সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুজিবনগর সরকারের এই উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী ন্যাপ) নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (মোজাফফর ন্যাপ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ। এছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড মণি সিং এবং জাতীয় কংগ্রেসের শ্রী মনোরঞ্জন ধর এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই চারজন শীর্ষ নেতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদকে নিয়ে মোট ৬ সদস্যের এই উপদেষ্টা পরিষদটি গঠিত হয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় অমূল্য দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

উত্তর

দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত দেশটি হলো গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের অসামান্য এবং গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে ব্রিটেন বাংলাদেশের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করে। বিশেষ করে লন্ডনের প্রচারমাধ্যম এবং ব্রিটিশ পত্রপত্রিকাগুলো বহির্বিশ্বে বাঙালিদের ওপর চলা নির্যাতন এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ সংগ্রামের খবর সার্থকভাবে প্রচার করে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ বলা হয়েছে, দেশটির একজন অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর আয়োজন করেন। বাস্তবে, বিখ্যাত ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পণ্ডিত রবি শংকরকে সাথে নিয়ে এই ঐতিহাসিক কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এই কনসার্ট মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্বব্যাপী বিপুল জনমত সৃষ্টি করে এবং শরণার্থীদের সাহায্যার্থে বিশাল অর্থ তহবিল গঠনে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। ব্রিটিশ সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল। তাদের গণমাধ্যম বিবিসির সংবাদ প্রচার এবং জর্জ হ্যারিসনের মতো ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত মানবিক উদ্যোগ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থন পেতে ভীষণভাবে সাহায্য করেছিল। তাই আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে গ্রেট ব্রিটেনের এই বহুমুখী ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

২. নিম্নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ উল্লেখ করা হলো-
(i) ২১ মার্চ
(ii) ২১ জুন
(iii) ২৩ সেপ্টেম্বর
(iv) ২২ ডিসেম্বর
উত্তর নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে অর্ধবৃত্তাকার কাল্পনিক রেখাগুলো টানা হয়েছে, তাদের দ্রাঘিমা রেখা বলে।
উত্তর

অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র এবং সূর্যের মিলিত প্রবল আকর্ষণে সমুদ্রে যে শক্তিশালী জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।

অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর দুই বিপরীত পাশে অবস্থান করে। উভয় ক্ষেত্রেই চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় (সমসূত্রে) থাকার কারণে এদের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে সমুদ্রের পানি অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ফুলে উঠে এই প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ২১ মার্চ, ২১ জুন, ২৩ সেপ্টেম্বর এবং ২২ ডিসেম্বর তারিখসমূহ পৃথিবীর 'বার্ষিক গতি' ও কক্ষপথে এর ফলে সৃষ্ট বিশেষ অবস্থানগুলোকে নির্দেশ করে।

মহাকর্ষ শক্তির আকর্ষণে পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘুরতে ঘুরতে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবীর এই পরিক্রমণ গতিকেই বার্ষিক গতি বলে। সূর্যকে একবার পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।

এই বার্ষিক গতির কারণে কক্ষপথে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর মেরুরেখা সবসময় ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে। উদ্দীপকে উল্লিখিত চারটি তারিখ মূলত সূর্যকে পরিক্রমণকালে কক্ষপথে পৃথিবীর এমন চারটি বিশেষ অবস্থানকে নির্দেশ করে, যখন সূর্যরশ্মির পতন কোণের এই তারতম্যের কারণে পৃথিবীতে

দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে, যা মূলত পৃথিবীর বার্ষিক গতিরই ফলাফল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত তারিখসমূহ মূলত পৃথিবীর বার্ষিক গতিকে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত তারিখগুলো মূলত পৃথিবীর বার্ষিক গতির চারটি বিশেষ অবস্থান, যা সরাসরি পৃথিবীর বুকে ঋতু পরিবর্তনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।

পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং মেরুরেখার হেলানো অবস্থানের কারণে এই চারটি নির্দিষ্ট তারিখে ভূপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মির পতন কোণের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। তাপমাত্রার এই পার্থক্যের ফলেই মূলত পৃথিবীতে ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।

২১ জুন সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে সেখানে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল থাকে। আবার, ২২ ডিসেম্বর সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এর ঠিক বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে, অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়।

অন্যদিকে, ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং পৃথিবীর উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে। ফলে ২১ মার্চের দিকে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল থাকে এবং ২৩ সেপ্টেম্বরের দিকে উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল দেখা যায়। সুতরাং বিশ্লেষণ শেষে এটি সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের তারিখগুলো ঋতু পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মহাকর্ষ শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পৃথিবী নিজ অক্ষে বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করার গতিকেই আহ্নিক গতি বলে।
উত্তর

১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখাকে অবলম্বন করে প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত যে কাল্পনিক রেখাটি কল্পনা করা হয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।

মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে ১৮০ ডিগ্রি অগ্রসর হলে সময়ের পার্থক্য হয় ২৪ ঘণ্টা। ফলে একই স্থানে দিন ও তারিখের যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তা নিরসনের জন্যই এই রেখাটি টানা হয়েছে। এটি অতিক্রমকালে জাহাজ বা বিমান চালকরা তারিখ একদিন যোগ বা বিয়োগ করে বারের সমন্বয় করে থাকেন।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রে সৌরজগতের গ্রহগুলোর ধারাবাহিক অবস্থান (A, B, C, D) বিবেচনা করলে, 'C' দ্বারা সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ 'পৃথিবী'-কে বোঝানো হয়েছে।

পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব $১৫$ কোটি কিলোমিটার এবং এটি $৩৬৫$ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এর আয়তন $৫১০,১০০,৪২২$ বর্গ কি.মি.। সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আদর্শ উপাদান রয়েছে।

উদ্দীপকে 'C' গ্রহটি অর্থাৎ পৃথিবীর একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে, যেখানে জীবের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন বিদ্যমান। এছাড়া এর পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা $১৩.৯০°$ সেলসিয়াস, যা প্রাণের জন্য সম্পূর্ণ সহনীয়। ভূত্বকে পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবং পরিবেশ অনুকূল হওয়ার কারণে এটি সৌরজগতের একমাত্র জীববৈচিত্র্যপূর্ণ গ্রহে পরিণত হয়েছে। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রে 'D' দ্বারা সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ 'মঙ্গল'-কে বোঝানো হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, পানি ও অনুকূল তাপমাত্রার অভাবে জীবনধারণ সম্পূর্ণ অসম্ভব।

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গলের অবস্থান এবং এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে এর ৬৮৭ দিন সময় লাগে। মঙ্গলের ব্যাস ৬,৭৭৯ কি.মি. এবং ওজন পৃথিবীর প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। এর ডিমোস ও ফেবোস নামে দুটি উপগ্রহ আছে।
উদ্দীপকে 'D' গ্রহটিকে পৃথিবীর ('C') ঠিক পরের কক্ষপথে দেখানো হয়েছে। পৃথিবীর মতো মঙ্গলেও একটি বায়ুমণ্ডল রয়েছে, তবে তা জীবের জন্য একেবারেই অনুকূল নয়। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে শতকরা ৩ ভাগ নাইট্রোজেন এবং ২ ভাগ আরগন গ্যাস থাকলেও অক্সিজেনের চরম অভাব রয়েছে। এছাড়া গ্রহটিতে পানির পরিমাণ খুবই নগণ্য।

জীবের 'বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন, তরল পানি এবং পরিমিত তাপমাত্রা অপরিহার্য। কিন্তু পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল গ্রহ অনেক বেশি ঠান্ডা এবং এর গড় উত্তাপ হিমাঙ্কের অনেক নিচে। এর রুক্ষ উপরিভাগে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের এই চরম অভাব ও তীব্র শীতল পরিবেশের কারণেই মূলত মঙ্গল গ্রহে প্রাণের স্পন্দন তৈরি হওয়া বা জীবনধারণ করা অসম্ভব।

৪. সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমান নগর মহল্লার দুটি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তর নাগরিকত্ব বলতে রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করে এর রাজনৈতিক অধিকার ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাধ্য থাকাকে বোঝায়।
উত্তর

রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি হলো সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা।

সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়। এই ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দিকটি রাষ্ট্রের মধ্যকার সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং বাহ্যিক দিকটি রাষ্ট্রকে যেকোনো বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখে।

উত্তর

উদ্দীপকে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের কাজটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত; সুনির্দিষ্টভাবে এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ।

রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র যেসব বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য কাজ বলে। সমাজের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিবৃত্ত করার জন্য রাষ্ট্র পুলিশ ও র‍্যাবের মতো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলে, যা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সালমান নগর মহল্লায় একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেখানে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা উপস্থিত হয়। এক্ষেত্রে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য কাজ। সুতরাং, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপটি রাষ্ট্রের মুখ্য কার্যাবলিকেই সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মতো অপরিহার্য কাজের বাইরেও আধুনিক রাষ্ট্র নাগরিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য নানাবিধ কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।

বর্তমানে রাষ্ট্র কেবল আইন প্রয়োগ ও কর আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন একটি কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং নৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে আধুনিক রাষ্ট্র স্বেচ্ছায় যেসব উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাকেই রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কাজ বলা হয়।

উদ্দীপকে আমরা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক কাজ দেখতে পাই, যেখানে পুলিশ ও র‍্যাব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। কিন্তু এর বাইরেও রাষ্ট্র জনগণের জন্য বহুমাত্রিক কল্যাণমূলক কাজ করে। নাগরিকদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্রই করে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় হাসপাতাল নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং টিকাদানের মতো কর্মসূচিগুলোও পরিচালনা করা হয়। এছাড়া দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজের অংশ। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও রাষ্ট্র নিশ্চিত করে।

পরিশেষে বলা যায়, একটি রাষ্ট্র যত উন্নত হয়, জনগণের সার্বিক কল্যাণে এর এমন ঐচ্ছিক কাজের পরিধিও তত বিস্তৃত হয়।

৫. মি. মামুন সম্প্রতি 'X' দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি সেখানে লক্ষ করলেন সকল উৎপাদন পরিচালিত হয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এবং সেখানে ব্যক্তিগত সম্পদের কোনো ধারণা নেই।
উত্তর মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগিতা ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অর্থনীতিতে ভোগ বলা হয়।
উত্তর উৎপাদনের অপরিহার্য তিনটি উপকরণ-ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন কার্য পরিচালনা ও সম্পাদন করাকে সংগঠন বলে। যিনি এই সংগঠনের কাজ করেন, তাকে সংগঠক বা উদ্যোক্তা বলা হয়। উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা রয়েছে, তা মূলত সংগঠকই বহন করেন এবং বিভিন্ন উপকরণের সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
উত্তর

উদ্দীপকে মি. মামুন যে 'X' দেশ ভ্রমণ করেছেন, সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকে এবং এখানে সম্পদের ওপর কোনো ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত নয়। একটি সার্বিক কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র নিজেই উৎপাদনের চারটি উপাদানকে সমন্বিত করে এবং সমাজের সকল সদস্যের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উৎপাদন কার্যের নির্দেশনা ও পরিচালনা করে থাকে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. মামুন 'X' দেশে ভ্রমণ করে লক্ষ করেন যে সেখানে সকল উৎপাদন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদের কোনো ধারণা নেই। সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং ব্যক্তিমালিকানার অনুপস্থিতি কেবল সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতেই দেখা যায়। যেহেতু 'X' দেশে ব্যক্তিগত মুনাফার বদলে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সমগ্র উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাই এটি স্পষ্টভাবে একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কোনো মিল নেই, কারণ এদের মূলনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র এবং সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মুনাফার কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে। এখানে ব্যক্তিমালিকানা, অবাধ প্রতিযোগিতা এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কিছু খাত সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

উদ্দীপকের 'X' দেশে ব্যক্তিগত সম্পদের কোনো ধারণা নেই এবং সব উৎপাদন রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র আলাদা। বাংলাদেশে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থনীতি প্রচলিত। এখানে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটছে, ব্যক্তি স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও ভোগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং আয়ের একটি বড় অংশ পুঁজিপতিদের হাতে সঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, 'X' দেশের অর্থনীতি হলো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত একটি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে নাগরিকের ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। অপরদিকে, বাংলাদেশে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সরকারি উদ্যোগের সংমিশ্রণে মিশ্র অর্থনীতি চলমান, যেখানে উৎপাদনে বেসরকারি উদ্যোগই প্রধান চালিকাশক্তি। তাই মালিকানা ও উৎপাদন বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থব্যবব্যবস্থা উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

৬. শিমুল তার পিতামাতা, চাচা-চাচিদের সাথে গ্রামে বসবাস করত। সম্প্রতি বিবাহ করে সে ঢাকায় বসবাস শুরু করেছে।
উত্তর যে প্রক্রিয়ায় মানব শিশু ক্রমশ সমাজের নিয়মকানুন ও রীতিনীতি আয়ত্ত করে সমাজের একজন পূর্ণাঙ্গ ও দায়িত্বশীল মানুষে পরিণত হয়, তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
উত্তর গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক হয়। গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে গভীর যোগাযোগ থাকে এবং তাদের সম্পর্কে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। সুখে-দুঃখে, বিয়ে বা জন্মদিনের মতো যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রতিবেশীরাই সবার আগে এগিয়ে আসে এবং প্রথম অংশীদার হিসেবে পাশে দাঁড়ায়। মূলত সহজ-সরল জীবনযাপন ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণেই গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের মধ্যে এমন নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
উত্তর

উদ্দীপকে শিমুলের ঢাকার পরিবারটি বিবাহের পর নবদম্পতির বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে একটি 'নয়াবাস পরিবার' এবং আকারের ভিত্তিতে একটি 'একক পরিবার'।

সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র পরিবারকে একক পরিবার বলা হয়। অন্যদিকে, বিবাহের পর নবদম্পতি যখন স্বামী বা স্ত্রী কারও পিতার বাড়িতে বসবাস না করে সম্পূর্ণ পৃথক কোনো স্থানে নতুন সংসার গড়ে তোলে, তখন তাকে নয়াবাস পরিবার বলে। আধুনিক পেশাগত কারণে বর্তমানে শহর অঞ্চলে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা বেশি দেখা যায়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, শিমুল পূর্বে গ্রামে তার পিতামাতা ও চাচা-চাচিদের সাথে একটি বড়ো পরিবারে বসবাস করত। কিন্তু সম্প্রতি বিবাহ করার পর সে তার পিতৃগৃহ ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে বসবাস শুরু করেছে। যেহেতু শিমুল কেবল তার স্ত্রীকে নিয়ে একটি নতুন সংসার পেতেছে এবং সম্পূর্ণ আলাদা শহরে থাকছে, তাই এটি নয়াবাস ও একক পরিবারের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যটি পূর্ণাঙ্গরূপে সমর্থন করি যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত শিমুলের গ্রামের পরিবারটি অর্থাৎ 'যৌথ পরিবার' বর্তমান যুগে নানা কারণে ভেঙে যাচ্ছে।

যখন দাদা-দাদি বা পিতামাতার অধীনে বিবাহিত পুত্র, তার সন্তানাদি ও অন্যান্য আত্মীয় একই সংসারে বসবাস করে, তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। একসময় গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবারের আধিক্য থাকলেও আধুনিকায়ন ও নগরকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী পরিবার কাঠামোটি বর্তমানে দ্রুত বিলুপ্তির পথে।

উদ্দীপকে শিমুল তার পিতামাতা ও চাচা-চাচিদের সাথে গ্রামে বাস করত, যা একটি যৌথ পরিবারের দৃষ্টান্ত। কিন্তু বিয়ের পর সে ঢাকায় চলে যায় এবং আলাদা সংসার গড়ে তোলে। শিমুলের এই গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমানো প্রমাণ করে যে, গ্রামীণ যৌথ পরিবারের সদস্যরা এখন জীবিকা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে শহরের দিকে ঝুঁকছে। ফলে তাদের আদি পরিবারটি ভেঙে ক্ষুদ্র বা একক পরিবারে পরিণত হচ্ছে। মূলত শিল্পায়ন, নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোগবাদী মানসিকতার প্রসারের কারণেই যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং দারিদ্র্য মানুষকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করছে। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কর্মব্যস্ততা ও আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে শিমুলের মতো অনেকেই এখন আর যৌথ পরিবারের বন্ধনে থাকতে চাইছেন না। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

৭. প্রেক্ষাপট-১ : মি. শাওন 'ক' দেশে কর্মরত আছেন। সেই দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ৫৩,৯৩০ টাকা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত।
প্রেক্ষাপট-২ : 'খ' দেশটি নিম্ন মাথাপিছু আয়ের দেশ। দেশটিতে জনগণের মাথাপিছু আয় ২৮৬০ টাকা এবং অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
উত্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে।
উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে, একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে।

জিডিপি পরিমাপের ক্ষেত্রে দেশের ভৌগোলিক সীমানাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। একটি দেশের সীমানার ভেতরে বসবাসকারী দেশি নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিক উভয় গোষ্ঠীর দ্বারাই উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার মূল্য জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে দেশের কোনো নাগরিক যদি বিদেশে অবস্থান করে আয় করেন, তা জিডিপিতে গণ্য হয় না।

উত্তর

প্রেক্ষাপট-১ এ উল্লিখিত 'ক' দেশটি মূলত একটি উন্নত দেশ, কারণ এই দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় অনেক বেশি এবং জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত উন্নত।

যেসব দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকে, তাদের উন্নত দেশ বলা হয়। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত শিল্পনির্ভর এবং সেখানে সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার অত্যন্ত উচ্চ। এছাড়া উন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো, নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই দেশগুলোর প্রধান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য।

উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট-১ এ মি. শাওন যে 'ক' দেশে কর্মরত আছেন, সেখানকার মাথাপিছু আয় ৫৩,৯৩০ টাকা (বা ডলার), ওয়ার্ল্ড ব্যাংক রিপোর্ট, ২০২৩ অনুসারে যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই উচ্চ আয়ের কারণে দেশটির জনগণ তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরও বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ সঞ্চয় করতে পারে। সঞ্চয় থেকে মূলধন গঠন এবং বৃহৎ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। তাই বলা যায়, 'ক' দেশটি উন্নত দেশের সকল অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যই ধারণ করে।

উত্তর

প্রেক্ষাপট-২ এর অনুন্নত বা উন্নয়নশীল 'খ' দেশটিকে 'ক' দেশের মতো উন্নত দেশে রূপান্তর করতে হলে কৃষির আধুনিকায়ন, দ্রুত শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামোর ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।

অনুন্নত দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কৃষির ওপর অতি নির্ভরশীলতা, নিম্ন মাথাপিছু আয় এবং ব্যাপক বেকারত্ব। এসব দেশের জনসংখ্যা সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত থাকে এবং কারিগরি জ্ঞানের অভাবে তারা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে না। ফলে মূলধন ও বিনিয়োগের অভাবে দেশটি দারিদ্র্যের চক্রে আবর্তিত হতে থাকে।

উদ্দীপকের 'খ' দেশের মাথাপিছু আয় মাত্র ২৮৬০ টাকা এবং এর অর্থনীতি সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর। একে 'ক' দেশের মতো উন্নত করতে হলে প্রথমেই সনাতন কৃষিব্যবস্থার পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়বে। পাশাপাশি, কৃষিনির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান ও ভারী শিল্প স্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। উন্নত যোগাযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের মতো অর্থনৈতিক অবকাঠামো শক্তিশালী করলে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি, সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলে 'খ' দেশের জাতীয় আয় দ্রুত বাড়বে এবং একসময় এটি 'ক' দেশের মতো উন্নত দেশে পরিণত হতে সক্ষম হবে।

৮. বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একজন সম্মানিত সেক্টর কমান্ডার বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধবন্ধের প্রস্তাব দেয় তখন একটি দেশ ভেটো প্রদান করে তা বাতিল করে দেয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ভূমিকা ছিল অসাধারণ।
উত্তর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করাই হলো জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
উত্তর

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের নারী সমাজের অসামান্য আত্মত্যাগ ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণেই তাঁদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান, খাবার সরবরাহ, আহতদের সেবা-শুশ্রুষা এবং গোপনে তথ্য আদান-প্রদানের মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন। এছাড়া অসংখ্য নারী সরাসরি অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্মুখ সমরেও বীরত্বের সাথে লড়াই করেছেন।

উত্তর

উদ্দীপকে সম্মানিত সেক্টর কমান্ডার ভেটো প্রদানকারী দেশ বলতে তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র 'সোভিয়েত ইউনিয়ন' বা বর্তমান রাশিয়াকে বুঝিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ভারত ছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি বাংলাদেশের পক্ষ অবলম্বন করে। তারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায় এবং নিজেদের প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে বিশ্বজনমত গড়ে তোলে। উদ্দীপকের সেক্টর কমান্ডার জাতিসংঘে ভেটো প্রদানের যে কথা বলেছেন, তা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন তাতে 'ভেটো' দিয়ে তা বাতিল করে দেয়। এই ভেটোর কারণেই স্বাধীনতাবিরোধী আন্তর্জাতিক চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে যায় এবং মিত্রবাহিনীর চূড়ান্ত বিজয় ত্বরান্বিত হয়।

আলোচনার, শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত সেক্টর কমান্ডার ভেটো প্রদানকারী দেশ বলতে মূলত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) কথা উল্লেখ করেছেন। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

উত্তর

"বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ভূমিকা ছিল অসাধারণ"- উদ্দীপকে সম্মানিত সেক্টর কমান্ডারের এই মন্তব্যটি ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে সম্পূর্ণ যথার্থ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়। তাদের দেশের সরকার, প্রচারমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণ বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালিদের ওপর চলা নির্যাতনের খবর তুলে ধরে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সহায়তা করে।

উদ্দীপকের মন্তব্যে এই অবদানের কথাই স্মরণ করা হয়েছে। সে সময় লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। বিবিসি এবং ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এছাড়া ব্রিটিশ নাগরিক জর্জ হ্যারিসন 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর আয়োজন করে বিশ্বব্যাপী বিপুল জনমত ও তহবিল গঠন করেন। পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ও ইতালির প্রচারমাধ্যমগুলোও আমাদের পক্ষে ব্যাপক সোচ্চার ছিল।

পরিশেষে বলা যায়, পরাশক্তি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর এই নৈতিক, কূটনৈতিক এবং তথ্যগত সহায়তার ফলেই মাত্র নয় মাসে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছিল। বিশ্বমঞ্চে এই সমর্থন না পেলে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন দীর্ঘায়িত ও আরও কঠিন হতো। তাই সেক্টর কমান্ডারের মূল্যায়নটি শতভাগ সঠিক ও যৌক্তিক।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।