দৃশ্যপট-১ : মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো মুক্তির সংগ্রামকে সমর্থন জানায়। এর মধ্যে একটি দেশ ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে। দেশটি যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
দৃশ্যপট-২: জনাব 'X' বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অন্যদেরও যুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। তার ভাই জনাব 'Y' হাসপাতালে যত যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধা আসেন তাদের দিনরাত চিকিৎসা করে শারীরিকভাবে সুস্থ করে তুলে যুদ্ধে ফিরে যেতে সহায়তা করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা ও সুসংহত করতে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যেই মূলত মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল।
২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের পর যুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি সরকারের প্রবল প্রয়োজন ছিল। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ই এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের সুনিপুণ নেতৃত্বেই রণাঙ্গন পরিচালনা এবং বহির্বিশ্বে সমর্থন আদায়ের কাজ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
দৃশ্যপট-১ এ নির্দেশিত দেশটি হলো তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া), যারা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রেখেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে। তারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে অবিলম্বে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানায়। তাদের প্রচারমাধ্যমগুলোতেও পাকিস্তানিদের বর্বরতার খবর প্রচার করে বাংলাদেশের পক্ষে শক্তিশালী বিশ্বজনমত গড়ে তোলা হয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন তাতে 'ভেটো' প্রদান করে তা বাতিল করে দেয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ইতিবাচক ভূমিকাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। তাদের এই যুগান্তকারী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ফলেই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায় এবং আমাদের চূড়ান্ত বিজয় ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকের জনাব 'X' ও 'Y'-এর মতো পেশাজীবী শ্রেণির অবদান ছিল সত্যিই অপরিসীম ও অনন্য।
যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকেন, তারাই পেশাজীবী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী ও সাংবাদিকদের বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নেন। তারা পরিকল্পনা সেল গঠন করে তথ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ জনাব 'X' শিক্ষক হয়েও যুদ্ধে অংশ নেন এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেন। অন্যদিকে, চিকিৎসক ভাই 'Y' আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। তাদের এই কাজগুলো মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের পেশাজীবীদের আত্মত্যাগের চিত্রটিই তুলে ধরে, যারা পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং মানসিক মনোবল বৃদ্ধিতে পেশাজীবীদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। তাদের মেধা, শ্রম ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল হয়েছিল। তাই বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তব রণাঙ্গন-উভয়ক্ষেত্রেই পেশাজীবীদের এই বহুমুখী ও গৌরবদীপ্ত অবদানের কারণেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করার সময় দিন ও তারিখের যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তা নিরসনের জন্যই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার প্রয়োজন।
মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে ১৮০ ডিগ্রি অগ্রসর হলে সময়ের পার্থক্য হয় ২৪ ঘণ্টা। ফলে একই স্থানে বারের গরমিল ঘটে। এই সমস্যা সমাধানে প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর দিয়ে এই কাল্পনিক রেখাটি টানা হয়েছে, যা অতিক্রমকালে তারিখ একদিন যোগ বা বিয়োগ করে বারের সঠিক সমন্বয় করা হয়। সময়ের এই বিভ্রাট দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক।
উদ্দীপকের চিত্রে 'P' অবস্থানটি ২৩শে সেপ্টেম্বর (শারদ বিষুব) এবং ২২শে ডিসেম্বরের (মকর সংক্রান্তি) মাঝামাঝি একটি সময়কে নির্দেশ করছে।
২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে। ২৩শে সেপ্টেম্বরের পর সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে হেলতে থাকে। ৫ই নভেম্বর নাগাদ সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার কাছাকাছি অবস্থান করে। উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরতে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন ক্রমান্বয়ে ছোট হতে থাকে এবং রাত ক্রমান্বয়ে বড় হয়। এই সময়ে উত্তর গোলার্ধে শীতের আমেজ শুরু হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে এবং রাত ক্রমান্বয়ে ছোট হয়।
সুতরাং, 'P' অবস্থানে উত্তর গোলার্ধে দিন ছোট ও রাত বড় হবে, আর দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ দিন বড় ও রাত ছোট হবে।
পৃথিবী পরিক্রমণকালে 'P' ও 'Q' অবস্থানে একই ধরনের ঋতু পরিলক্ষিত হয় না। ঋতু পরিবর্তনের এই ভিন্নতা পৃথিবীর অক্ষের কৌণিক অবস্থান এবং সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণের কারণে ঘটে।
উদ্দীপকের চিত্রে 'P' অবস্থানটি ২৩শে সেপ্টেম্বর (শারদ বিষুব) এবং ২২শে ডিসেম্বরের (মকর সংক্রান্তি) মধ্যবর্তী সময়। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে ঝুঁকতে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন ছোট এবং রাত বড় হতে থাকে। সূর্যের রশ্মি উত্তর গোলার্ধে তির্যকভাবে পড়ে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে পড়তে শুরু করে। ফলাফলস্বরূপ, উত্তর গোলার্ধে (যেমন: বাংলাদেশে) এ সময় শরৎকাল শেষ হয়ে শীতের আভাস বা হেমন্তকাল বিরাজ করে। অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন বসন্তকাল শেষ হয়ে গ্রীষ্মের আগমন ঘটে।
আবার উদ্দীপকের চিত্রে 'Q' অবস্থানটি ২১শে মার্চ (মহাবিষুব) এবং ২১শে জুনের (কর্কট সংক্রান্তি) মধ্যবর্তী সময়। এ সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধের দিকে হেলতে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট হতে থাকে। সূর্যের রশ্মি উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ লম্বভাবে পড়তে থাকে। ফলাফলস্বরূপ, উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তকাল শেষ হয়ে গ্রীষ্মের আমেজ বা গ্রীষ্মকাল শুরু হয়। অপরদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শরৎকাল বিরাজ করে। পৃথিবীর গোলীয় আকৃতি এবং অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে উত্তর গোলার্ধে যখন যে ঋতু থাকে, দক্ষিণ গোলার্ধে তার ঠিক বিপরীত ঋতু বিরাজ করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, 'P' ও 'Q' অবস্থানে পৃথিবীর গোলার্ধভেদে ভিন্ন ভিন্ন ঋতু পরিলক্ষিত হয়। অবস্থানের পার্থক্যের কারণে সূর্যের আলোর পতন কোণ ও দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ঘটে, যা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুর সৃষ্টি করে।
ঘটনা-১ : সড়ক উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষ রাস্তার দু'পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়। এতে সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও দীর্ঘ মেয়াদে জনগণের যানজটের ভোগান্তি কমে।
ঘটনা-২ : দুটি স্কুলের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়। এর বিষয় ছিল- “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ আইনের শাসন কায়েম করে।”
ঘটনা-১ এর কাজটি রাষ্ট্রের 'কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
রাষ্ট্রের যেসব কাজ বাধ্যতামূলক নয় কিন্তু জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য করা হয়, তাকে ঐচ্ছিক কার্যাবলি বলে। আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জনকল্যাণের লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ কর্তৃপক্ষ সড়ক উন্নয়নের জন্য রাস্তার দু'পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে। যদিও এতে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি জনগণের যানজট নিরসন ও যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি করবে। জনগণের সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বাঁচার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ। সুতরাং, এই উচ্ছেদ ও রাস্তা প্রশস্তকরণের উদ্যোগটি রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ভূমিকারই অংশ।
ঘটনা-২ এর বিতর্কের বিষয়টি অর্থাৎ 'বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ আইনের শাসন কায়েম করে'- উক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যথার্থ।
আইনের শাসন বলতে আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্যকে বোঝায়। এটি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অপরিহার্য, যা কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই ন্যায়বিচার প্রদান করতে পারে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে নাগরিকরা তাদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়, যা সরকারকে স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।
ঘটনা-২ এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আইনের শাসনের মূল ভিত্তিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে সাধারণ নাগরিকরা হয়রানির শিকার হয় এবং প্রভাবশালীরা পার পেয়ে যায়। আবার গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে আইনের প্রাধান্য ক্ষুণ্ণ হয় এবং সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অবিচ্ছেদ্য। যেখানে বিচারালয় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা হয়, সেখানেই প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকের বিতর্কের বিষয়টি মূলত একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথনির্দেশ করে।
পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কিছুটা উন্নয়ন অর্জন করায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে অনেক সময় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
নিম্ন আয়ের দেশগুলো মূলত অনুন্নত। তবে এসব দেশের অধিকাংশে বেশ কিছুকাল আগে থেকেই উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছে। তারা নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এই ক্রমাগত উন্নয়ন প্রচেষ্টার কারণেই অনুন্নত হলেও এদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ধরা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-X এ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য 'কৃষিখাতের প্রকৃতি ও প্রতিবন্ধকতা'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
কৃষিখাত বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি হলেও এর উৎপাদন ব্যবস্থা এখনও সম্পূর্ণ আধুনিক হয়ে ওঠেনি। এই খাতে সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ, কৃষকদের ন্যায্য মজুরি না পাওয়া এবং পণ্য বাজারজাতকরণে পরিবহণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান।
উদ্দীপকের চিত্র-X এ আমরা দেখতে পাই, সেখানে 'পুরানো পদ্ধতির চাষাবাদ', 'উপযুক্ত মজুরি না দেওয়া' এবং 'ট্রাকে পণ্য পরিবহণের অসুবিধা'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়গুলো সরাসরি বাংলাদেশের কৃষি খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সাথে মিলে যায়। আমাদের কৃষিতে এখনও মান্ধাতা আমলের চাষাবাদ পদ্ধতি টিকে আছে, কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য ও মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পণ্য বাজারে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুতরাং, চিত্র-X মূলত বাংলাদেশের কৃষি খাতের অনুন্নত প্রকৃতিকেই তুলে ধরেছে।
উদ্দীপকের চিত্র-Y এ বাংলাদেশের অর্থনীতির 'শিল্প খাত'-এর প্রতিবন্ধকতাকে নির্দেশ করা হয়েছে এবং সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি ও পরিকল্পিত অবকাঠামোগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটানো সম্ভব।
শিল্প খাত দেশের অর্থনীতির একটি ক্রমবর্ধমান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুতের উচ্চদাম, ভারী বা মৌলিক শিল্পের সংকট (যেমন- লোহা ও ইস্পাত) এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এ খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা চিত্র-Y তে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা উত্তরণের জন্য সরকার 'জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০' প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ ও মৌলিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পায়নের প্রধান শর্ত হলো পুঁজি, তাই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সহজ শর্তে শিল্পঋণ বিতরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে শিল্প খাতের এ সংকটগুলো দূর হবে। এর মাধ্যমে দেশে আধুনিক শিল্প গড়ে উঠবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।
আন্তর্জাতিক তারিখ গণনায় ১৮০° দ্রাঘিমারেখা একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা অতিক্রম করলে ক্যালেন্ডারের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়।
মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিম দিকে ১৮০° অগ্রসর হলে সময়ের ব্যবধান হয় ১২ ঘণ্টা, অর্থাৎ দুই দিক থেকে গণনা করলে একই রেখায় সময়ের পার্থক্য দাঁড়ায় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন। এই সমস্যা সমাধানে ১৮০° রেখাকে ভিত্তি করে জলভাগের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এই রেখাটি পূর্বগামী জাহাজ বা বিমান অতিক্রম করলে তারিখ থেকে একদিন বিয়োগ করে এবং পশ্চিমগামী হলে একদিন যোগ করে তারিখের সমন্বয় করা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-X এর 'B' চিহ্নিত গ্রহটি হলো পৃথিবী (Venus), যা সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
আমরা জানি, সৌরজগতে সূর্যের দূরত্ব ক্রমে তৃতীয় কক্ষপথে পৃথিবী অবস্থিত। সুতরাং 'B' চিহ্নিত গ্রহটি পৃথিবী। বুধ ও শুক্রের পর সূর্যের তৃতীয় দূরবর্তী গ্রহ পৃথিবী। পৃথিবীর আয়তন ৫১,০১,০০,৪২২ বর্গ কি.মি.। পূর্ব-পশ্চিম দিকে এর ব্যাস ১২,৭৫২ কি. মি. এবং উত্তর-দক্ষিণে ১২,৭০৯ কি. মি.। সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় লাগে। এ গ্রহে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন আছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস। ভূত্বকে প্রয়োজনীয় পানি রয়েছে। সৌরজগতে একমাত্র পৃথিবীই জীবনধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী হতে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কি. মি.। পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমণ্ডল রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্র-Y এ সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর একই সরলরেখায় অবস্থানের ফলে সৃষ্ট জোয়ার-ভাঁটার ঘটনাটি নির্দেশ করা হয়েছে, যার প্রভাব পৃথিবীর ওপর অত্যন্ত ব্যাপক।
জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল থাকে এবং জোয়ারের প্রবল স্রোত নদীখাতকে গভীর করতে সাহায্য করে। মোহনায় পলি সঞ্চিত হতে পারে না বলে নদীর মুখ সচল থাকে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, যা শীতপ্রধান দেশে নদীর পানিকে বরফমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া জোয়ারের জলরাশিকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব ইতিবাচক; বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বন্দরে অনায়াসেই প্রবেশ করতে পারে এবং ভাটায় সমুদ্রে ফিরে যায়। তবে ভরা কটালের সময় সমুদ্রের পানি প্রবল তরঙ্গে নদীর মোহনা দিয়ে প্রবেশ করে 'বানের' সৃষ্টি করে। এই প্রবল জলোচ্ছ্বাস বা বান কখনো কখনো উপকূলীয় এলাকায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এবং ফসলি জমি প্লাবিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের এই মহাজাগতিক ঘটনাটি পৃথিবীর নৌ-যোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তথ্য-১ : ২০২৩-২৪ অর্থবছরে 'ক' দেশের মোট দেশজ উৎপাদন ৩৭,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওই দেশে বিদেশে অবস্থানরত দেশি নাগরিকের মোট আয় ৯,০০০ কোটি টাকা এবং দেশে বসবাসকারী বিদেশিদের মোট আয় ৩,০০০ কোটি টাকা।
তথ্য-২ : ২০২৩-২৪ অর্থবছরে 'খ' দেশের মোট জনসংখ্যা ১৩ কোটি এবং মোট জাতীয় আয় ১৩,৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার। আবার 'গ' দেশের মোট জনসংখ্যা ১১ কোটি এবং মোট জাতীয় আয় ৬৬,৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে, একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলে।
জিডিপি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দেশের সীমানাটিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। একটি দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী দেশি নাগরিক ও বিদেশি নাগরিক- উভয় গোষ্ঠীর উৎপাদন এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে দেশের বাইরে কর্মরত দেশি নাগরিকদের আয় জিডিপিতে হিসাব করা হয় না।
কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)-এর সাথে প্রবাসীদের আয় যোগ করে এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের আয় বিয়োগ করলে মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP পাওয়া যায়।
GNP মূলত একটি দেশের নাগরিকদের মোট অর্থনৈতিক অবদানের পরিমাপক। দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বা ভিতরে যেখানেই হোক না কেন, শুধু দেশের নাগরিকদের উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার মূল্যই এখানে গণ্য করা হয়। বিদেশিদের আয় এখানে বাদ দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের 'তথ্য-১' অনুযায়ী, 'ক' দেশের GDP = ৩৭,০০০ কোটি টাকা, দেশি নাগরিকের বৈদেশিক আয় (X) = ৯,০০০ কোটি টাকা এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের আয় (M) = ৩,০০০ কোটি টাকা। সূত্রানুযায়ী, GNP = GDP + (X - M) = ৩৭,০০০ + (৯,০০০ – ৩,০০০) = ৩৭,০০০ + ৬,০০০ = ৪৩,০০০ কোটি টাকা।
সুতরাং, 'ক' দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন ৪৩,০০০ কোটি টাকা।
মাথাপিছু আয়ের গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' দেশের মধ্যে 'গ' দেশটি তুলনামূলকভাবে উন্নত অবস্থা অর্জন করছে।
মাথাপিছু আয় হলো কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত গড় আয়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুস্পষ্ট লক্ষণ।
উদ্দীপকের 'তথ্য-২' বিশ্লেষণ করে পাই, 'খ' দেশের মাথাপিছু আয় (১৩,৬৫০ ÷ ১৩) = ১,০৫০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, 'গ' দেশের মাথাপিছু আয় (৬৬,৫৫০ ÷ ১১) = ৬,০৫০ মার্কিন ডলার। এখানে 'খ' দেশের তুলনায় 'গ' দেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ভিত্তিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ১,০৫০ ডলার মাথাপিছু আয়বিশিষ্ট 'খ' দেশটি মূলত একটি নিম্ন আয়ের দেশ। অপরদিকে, ৬,০৫০ ডলার মাথাপিছু আয়বিশিষ্ট 'গ' দেশটি একটি উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে গণ্য হবে। উচ্চ মাথাপিছু আয়ের কারণে 'গ' দেশে মূলধন গঠন ও সামাজিক অবকাঠামো অনেক বেশি মজবুত। তাই সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিচারে 'গ' দেশটিই উন্নততর অবস্থানে রয়েছে।
উৎপাদন কাজে নিয়োজিত অর্থ বা বিদ্যমান মূলধনসামগ্রীর সাথে নতুন মূলধন যুক্ত হওয়াকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলে।
কোনো উৎপাদনকারী যখন তার কারখানায় নতুন যন্ত্রপাতি, সাজসরঞ্জাম বা কাঁচামাল ক্রয় করে উৎপাদনের প্রসার ঘটায়, তখন তাকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধনতান্ত্রিক বা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই প্রধানত এই বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের 'ক' দেশে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের প্রধান উপাদানসমূহ- ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদ স্বাধীনভাবে ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারে এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে যেকোনো উৎপাদনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে একক বা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। বাজার অর্থনীতিতে এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।
উদ্দীপকের ছকে 'ক' দেশের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে উৎপাদনের উপাদানের মালিক হলো ব্যক্তি এবং নাগরিকরা তাদের সম্পদ স্বাধীনভাবে ভোগ করতে পারে। আমরা জানি, সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোগের অধিকার কেবল ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতেই দেখা যায়। এ ব্যবস্থায় বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম নির্ধারিত হয় এবং উৎপাদক নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেন। সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে 'ক' দেশটিতে ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিরাজমান।
উদ্দীপকের 'খ' দেশটিতে সমাজতান্ত্রিক এবং 'গ' দেশটিতে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় এদের আয়-বণ্টন প্রক্রিয়ায় কোনো সাদৃশ্য নেই, বরং মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র হওয়ায় সরকার নিজেই সকলের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে এবং আয়-বণ্টনে সমতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান থাকে, যেখানে বেসরকারি অংশে সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে শ্রমিক শোষণ করা হয় বলে সম্পদের শতভাগ সুষ্ঠু বণ্টন সম্ভব হয় না এবং আয় বৈষম্য দেখা দেয়।
উদ্দীপকের 'খ' দেশে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী 'প্রত্যেকে কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে', যা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সুষম আয়-বণ্টনের পরিচায়ক। অপরদিকে, 'গ' দেশে শতভাগ সুষ্ঠু বণ্টন না হওয়া এবং কেবল আংশিক কল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি মিশ্র অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। মিশ্র অর্থনীতিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশে পুঁজিবাদের মতো আয়ের বৈষম্য থাকে।
উপর্যুক্ত বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, 'খ' দেশের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার কারণে সম্পদের সুষম বণ্টন হয় এবং শ্রমিক শোষিত হয় না। কিন্তু 'গ' দেশের মিশ্র অর্থনীতিতে আংশিক সুষ্ঠু বণ্টন হলেও বেসরকারি খাতের উপস্থিতির দরুন উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতিদের কাছে চলে যায়, ফলে আয় বৈষম্য থেকে যায়। তাই দেশ দুটির আয়-বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সমবয়সী শিশুদের বিশেষ মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও রীতিনীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বন্ধুদলকে অন্তরঙ্গ বন্ধুদল বা Peer Group বলে।
শৈশব ও কৈশোরে শিশুর সামাজিকীকরণে অন্তরঙ্গ বন্ধুদলের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলের সদস্যদের আচার-আচরণ প্রায় একই প্রকৃতির হয়ে থাকে। সমবয়সী খেলার সাথিদের সাথে মেলামেশা করে শিশু সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করে এবং সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে শেখে।
আকারের ভিত্তিতে শিহাবের পরিবারটি হলো একটি 'যৌথ পরিবার'।
দাদা-দাদি, পিতা-মাতা, চাচা-চাচি এবং তাদের সন্তান-সন্ততি যখন একই সংসারে বসবাস করে, তখন সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে যৌথ পরিবার হিসেবে গণ্য করা হয়। গ্রামবাংলায় এ ধরনের পরিবারের প্রচলন বেশি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব তার দাদা-দাদি, চাচা-চাচি এবং বাবা-মায়ের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করে। এখানে শিহাবের বাবা-মা, চাচা-চাচি, সন্তান-সন্ততিসহ তাদের পিতা বা শিহাবের দাদার কর্তৃত্বাধীনে একত্রে বসবাস করে।
এমন একত্রে বসবাসই যৌথ পরিবারের মূল বৈশিষ্ট্য। তাই সদস্যদের উপস্থিতি ও প্রজন্মের বিস্তৃতির ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, শিহাবের পরিবারটি নিশ্চিতভাবেই একটি যৌথ পরিবার।
উদ্দীপকের পরিস্থিতি অনুযায়ী, শিহাবের সামাজিকীকরণে 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমবয়সী বন্ধুদল'-এর ভূমিকা সবচেয়ে অধিক বলে আমি মনে করি।
শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম পরিবার হলেও, পরিবারের পরিবেশ অনুকূল না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও' বন্ধুরা বিকল্প আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। বিদ্যালয় থেকে শিশু শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা শেখে। অন্যদিকে, সমবয়সী অন্তরঙ্গ বন্ধুদলের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা লাভের সুযোগ তৈরি হয়, যা তার মানসিক বিকাশে সহায়ক।
উদ্দীপকে শিহাবের পারিবারিক পরিবেশ তার বেড়ে ওঠার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। সংসারে নিয়মিত ঝগড়াঝাঁটি হয় এবং বাবা-মায়ের ব্যস্ততায় সে আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত। এমন হতাশার মুহূর্তে তার বন্ধু সোহাগ তাকে বাবা-মাকে কষ্ট না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। আবার তাদের শ্রেণিশিক্ষক আফজাল স্যার শিহাবকে উৎসাহমূলক নির্দেশনা প্রদান করে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে সাহায্য করেন।
শিহাবের পরিবার তাকে সঠিক সামাজিকীকরণের পরিবেশ দিতে ব্যর্থ হলেও, তার শিক্ষক এবং বন্ধুর হস্তক্ষেপে সে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। বন্ধু তাকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছে এবং শিক্ষক আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছেন। পরিবার যখন মানসিক সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধুরাই রক্ষাকবচ হয়। তাই শিহাবের জীবনে এদের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।