বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই একে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' বলা হয়।
১৯৭১ সালের এই যুদ্ধে কেবল সামরিক বাহিনীই লড়াই করেনি, বরং কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী, বুদ্ধিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নেয়। সাধারণ মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাদ্য ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। যেহেতু সমগ্র দেশের আপামর জনসাধারণ এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত ছিল, 'তাই এটি যথার্থই একটি গণযুদ্ধ।
উদ্দীপকের 'M' নির্দেশক রেখাচিত্রটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে নির্দেশ করে, যার বেদনাদায়ক দিকটি হলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যা।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরীহ বাঙালিদের ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক এক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে তারা সারা দেশে ব্যাপক লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং নারী নির্যাতন চালায়। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মিলে প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করে এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। যুদ্ধ শেষে জাতিকে মেধাশূন্য করতে তারা পরিকল্পিত ভাবে এদেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদেরও হত্যা করে। স্বজন হারানোর এই সীমাহীন কষ্ট ও রক্তের বন্যাই হলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে শোকাবহ ও বেদনাদায়ক দিক।
উদ্দীপকের 'M' বৃত্তের পাশে 'নৃশংস গণহত্যা' শব্দটি লেখা রয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকের 'M' নির্দেশক রেখাচিত্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত 'বিজয় অর্জন' এবং 'N' নির্দেশক রেখাচিত্রে বহির্বিশ্বে তথ্য প্রচার কেন্দ্র হিসেবে 'গ্রেট ব্রিটেন' বা যুক্তরাজ্যের অসামান্য ভূমিকার কথা নির্দেশ করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ বাংলাদেশের পক্ষে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ করেছিল। বিশেষ করে লন্ডনের প্রচারমাধ্যম বিবিসি এবং ব্রিটিশ পত্রপত্রিকা পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
উদ্দীপকের 'N' চিত্রে 'তথ্য প্রচার কেন্দ্র' এবং 'জনমত সৃষ্টি' কথাগুলো যুক্ত রয়েছে। পাঠ্যবই থেকে আমরা জানি, মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো শরণার্থী শিবিরের করুণ অবস্থা এবং বাঙালিদের প্রতিরোধ যুদ্ধের সংবাদ প্রচার করে বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করে। এছাড়া ব্রিটিশ নাগরিক ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক জনমত ও তহবিল গঠন করেছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন কেবল রণাঙ্গনের সশস্ত্র যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশ্ববাসীর সমর্থনও এতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। গ্রেট ব্রিটেন তাদের শক্তিশালী প্রচারযন্ত্রের সাহায্যে পাকিস্তানিদের নির্মমতা উন্মোচন করে এবং বাঙালিদের সংগ্রামের ন্যায্যতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার করে তোলে। তাই 'M' নির্দেশিত বিজয় অর্জনের পিছনে 'N' নির্দেশিত গ্রেট ব্রিটেনের এই কূটনৈতিক ও তথ্য প্রচারগত ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
ঘটনা-২:
উদ্দীপকের 'A' ও 'B' স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে গাণিতিক নিয়মে 'B' স্থানের স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবী গোলাকার এবং নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ কারণে পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থান গুলোতে আগে সূর্যোদয় হয় এবং পশ্চিমের স্থান গুলোতে পরে হয়। প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমা পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। কোনো স্থান অন্য স্থানের পশ্চিমে অবস্থিত হলে তার স্থানীয় সময় কম হয়।
উদ্দীপকে দেওয়া আছে, 'A' স্থানের দ্রাঘিমা ৩৫° পূর্ব এবং 'B' স্থা নের দ্রাঘিমা ২৫° পশ্চিম। যেহেতু স্থান দুটি মূল মধ্যরেখার দুই বিপরীত পাশে অবস্থিত, তাই এদের মধ্যকার মোট দ্রাঘিমার পার্থক্য হলো $(৩৫^{\circ} + ২৫^{\circ}) = ৬০^{\circ}$। আমরা জানি, $১^{\circ}$ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। সুতরাং, $৬০^{\circ}$ দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে $(৬০ \times ৪) = ২৪০~\mathrm{মিনিট}$ বা ৪ ঘণ্টা। 'B' স্থানটি 'A' স্থানের পশ্চিমে অবস্থিত হওয়ায় 'B' স্থানের সময় 'A' স্থানের চেয়ে ৪ ঘণ্টা কম হবে। 'A' স্থানে সকাল ১১টা বাজলে 'B' স্থানে সময় হবে (১১টা – ৪ ঘণ্টা) = সকাল ৭টা।
উদ্দীপকের চিত্র-P এ সৌরজগতের আংশিক দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে 'B' নির্দেশক গ্রহটি হলো শুক্র এবং 'C' নির্দেশক গ্রহটি হলো পৃথিবী।
শুক্র গ্রহ সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। এর কোনো উপগ্রহ নেই এবং এটি নিজ অক্ষে খুব ধীর গতিতে ঘোরে। অপরদিকে, পৃথিবী সূর্য থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং এর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আদর্শ উপাদান বিদ্যমান।
'B' বা শুক্র গ্রহে পৃথিবীর মতো একটি বায়ুমণ্ডল থাকলেও তাতে কোনো অক্সিজেন নেই। এর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৯৬ ভাগ কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকায় সেখানে প্রচণ্ড তাপ এবং এসিড বৃষ্টি হয়, যা জীবের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অন্যদিকে, 'C' বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০° সেলসিয়াস এবং এর ভূত্বকে প্রচুর পানি রয়েছে, যা জীবজগতকে বাঁচিয়ে রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, 'B' (শুক্র) এবং 'C' (পৃথিবী) সৌরজগতের পাশাপাশি দুটি গ্রহ হলেও এদের পরিবেশগত পার্থক্য বিশাল। শুক্র গ্রহের বিষাক্ত গ্যাসীয় উপাদান এবং চরম প্রতিকূল পরিবেশ একে সম্পূর্ণ প্রাণহীন করে রেখেছে। অথচ, আলো, বাতাস, পানি ও সহনীয় তাপমাত্রার এক অপূর্ব সমন্বয়ের কারণে পৃথিবী হয়ে উঠেছে সমগ্র সৌরজগতের একমাত্র জীববৈচিত্র্যপূর্ণ ও বাসযোগ্য গ্রহ।
ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে গভীর স্তর অর্থাৎ 'কেন্দ্রমণ্ডল' প্রধানত নিকেল ও লৌহ দ্বারা গঠিত হওয়ায় একে সংক্ষেপে 'নাইফ' (Nife) বলা হয়।
পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলকটিই কেন্দ্রমণ্ডল। এই স্তরটি অত্যন্ত ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) আধিক্য সবচেয়ে বেশি। উপাদান গুলোর আদ্যক্ষর মিলিয়েই এই ভারী ও অত্যন্ত ঘন স্তরটিকে 'নাইফ' নামকরণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে 'AB' নির্দেশক রেখাটি হলো পৃথিবীর 'নিরক্ষরেখা' বা 'বিষুবরেখা', যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে কাল্পনিক রেখাটি অঙ্কন করা হয়েছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে। পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কারণে এই রেখাটি একটি পূর্ণ বৃত্ত, তাই একে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়। এর মান ০ ডিগ্রি। এই রেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব বা অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকের গোলকটিকে যদি আমরা পৃথিবী হিসেবে বিবেচনা করি, তবে এর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে টানা 'AB' রেখাটি নিরক্ষরেখার জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যকেই নিখুঁতভাবে তুলে ধরে। কারণ, নিরক্ষরেখাও ঠিক এভাবেই পৃথিবীকে মাঝ বরাবর ছেদ করে ওপরের দিকে উত্তর গোলার্ধ এবং নিচের দিকে দক্ষিণ গোলার্ধ তৈরি করেছে। পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এই 'AB' বা নিরক্ষরেখার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুবর্ণার প্রত্যক্ষ করা ডিসেম্বর ও জুন মাসের দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের এই হ্রাস-বৃদ্ধির মূল কারণ হলো পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং মেরুরেখার হেলানো অবস্থান।
পৃথিবী তার নিজ অক্ষে ঘুরতে ঘুরতে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, যা বার্ষিক গতি। এই পরিক্রমণকালে পৃথিবীর মেরুরেখা সর্বদা ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। ফলে মেরুদ্বয় পর্যায়ক্রমে সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে বা দূরে সরে যায়, যা মূলত দিন-রাতের পার্থক্য সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে সুবর্ণা ডিসেম্বর মাসে দ্রুত সন্ধ্যা হতে এবং জুন মাসে দেরিতে সন্ধ্যা হতে দেখে। এর কারণ হলো, ২২শে ডিসেম্বরের দিকে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে হেলে থাকে। তখন সেখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে বলে দিন ছোট এবং রাত বড় হয়। তাই সুবর্ণার ডিসেম্বর মাসে তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হতে দেখাটা ভৌগোলিক নিয়মেরই অংশ।
অন্যদিকে, ২১শে জুনের দিকে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। তখন সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় দিন সবচেয়ে বড় হয়। বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় জুন মাসে সুবর্ণা বিকেলে বেশি সময় পায়। সুতরাং, পৃথিবীর হেলানো অক্ষ ও বার্ষিক গতির ফলেই সুবর্ণা দুই ভিন্ন মাসে সন্ধ্যার সময়ের এই তারতম্য প্রত্যক্ষ করেছে।
সামাজিকীকরণের একটি অন্যতম প্রধান উপাদান হলো সামাজিক পরিবেশ।
যে বিশেষ সমাজব্যবস্থার মধ্যে মানুষ বাস করে, তাকেই সামাজিক পরিবেশ বলে। মানুষের অর্থনৈতিক, মানসিক ও নৈতিক জীবন এই পরিবেশের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপাদান মিলিয়েই এই পরিবেশ গঠিত হয়, যা শিশুর আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে তাকে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিহাবের বসবাসরত স্থানটি হলো ঢাকা শহর, যার সমাজ কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একক পরিবার, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি এবং জটিল সমাজজীবন।
বাংলাদেশের শহর সমাজ কাঠামোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ সমাজে বেশিরভাগ পরিবারগুলো মূলত পিতামাতা ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে গঠিত একক পরিবার হয়ে থাকে। এখানে কৃষি নয়, বরং শিল্প ও পেশাভিত্তিক অর্থনীতি প্রাধান্য পায়। শহরের মানুষের জীবনযাত্রা তুলনামূলকভাবে জটিল এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, এই সমাজব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব বেশি থাকে এবং প্রতিবেশীদের সাথে নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সাধারণত দেখা যায় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব তার বাবা-মা এবং ছোটো বোনকে নিয়ে ঢাকা শহরে বসবাস করে, যা একটি আদর্শ একক পরিবারের দৃষ্টান্ত। শহরের যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনব্যবস্থার কারণে তাদের পরিবার ক্ষুদ্র আকারে গড়ে উঠেছে। এখানে বিনোদন ও সামাজিকীকরণের জন্য তারা শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। মূলত, নগরায়ণ ও আধুনিক পেশাগত জীবনধারার কারণেই শিহাবের বসবাসরত শহরের সমাজ কাঠামো এমন এককেন্দ্রিক রূপ লাভ করেছে।
আধুনিক সচেতন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে আমি শিহাবের বসবাসরত 'শহর সমাজব্যবস্থা'-কে গ্রহণ করব। শহর সমাজ কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি, একক পরিবার এবং উন্নত আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা।
আধুনিক যুগের সংস্কৃতি মূলত গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, যা শহরের পরিবেশে সবচেয়ে বেশি সহজলভ্য। এসব উপাদান একজন মানুষের বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ এবং বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে শিহাব ঢাকা শহরের একক পরিবারে বাস করে, যেখানে সে উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রামে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকলেও, শহরের পরিবেশ তাকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে। আধুনিক সচেতনতা বলতে কেবল সাধারণ সামাজিকতা নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে জানাকেও বোঝায়, যা শহরে বেশি বিকশিত হয়।
যদিও গ্রামীণ সমাজে গভীর পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ শেখার সুযোগ বেশি, তবুও আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শহরের আনুষ্ঠানিক মাধ্যমগুলোর বিকল্প নেই। শহরের জটিল সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একজন ব্যক্তিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শেখায়। তাই, গ্রামীণ মানবিক মূল্যবোধকে হৃদয়ে ধারণ করেও আধুনিক ও সচেতন বিশ্বনাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য আমি শহুরে সমাজব্যবস্থাকেই অধিকতর উপযোগী বলে মনে করি।
উদ্দীপকে রুমা মূলত সমষ্টিগত সম্পদ ও অন্যের ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণের কাজ করছে।
সমাজের সকল মানুষ সম্মিলিত ভাবে যে সম্পদ গুলো ভোগ করে এবং যেগুলোর ওপর সকলের অধিকার ও দায়িত্ব থাকে, তাকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে। বিদ্যালয়, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ইত্যাদি সমষ্টিগত সম্পদের উদাহরণ। এ সম্পদগুলো সকলের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় বিধায় এগুলো নষ্ট না করা এবং ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া প্রতিটি নাগরিকের অবশ্য কর্তব্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্কুল ছুটির পর রুমা শ্রেণিকক্ষে চালু থাকা ফ্যান ও লাইট বন্ধ করে দেয় এবং ফেলে যাওয়া বই অফিসে জমা দেয়। বিদ্যালয় একটি সমষ্টিগত বা জাতীয় প্রতিষ্ঠান। রুমা অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচ রোধ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমাচ্ছে এবং অন্যের ফেলে যাওয়া বইগুলো জমা দিয়ে তা পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে যা অন্যের ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণের অন্তর্গত। রুমার এই সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণটি মূলত পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সমষ্টিগত বা জাতীয় সম্পদ ও অন্যের ব্যক্তিগত সম্পদ সংরক্ষণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
রুমার গৃহীত কার্যক্রম জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও চমৎকার একটি সূচনা হলেও, সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা একাই যথেষ্ট নয়।
একটি দেশের সকল নাগরিকের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদের সমষ্টিই হলো জাতীয় সম্পদ। জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে যেমন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, তেমনি প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণ আবশ্যক। কেউ সম্পদ নষ্ট করছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখা, অপব্যবহার রোধ করা এবং অন্যকে সচেতন করার মাধ্যমেই বিশাল জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।
উদ্দীপকে রুমা স্কুল ছুটির পর ফ্যান ও লাইট বন্ধ করে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করছে এবং হারানো বই জমা দিচ্ছে। তার এই ভালো কাজ দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও তাকে অনুসরণ করছে। রুমার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগটি তার চারপাশের মানুষকে সচেতন করছে, যা সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ। সে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্বটি নিখুঁতভাবে পালন করেছে। তবে, কেবল রুমা বা একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সচেতনতাই সমগ্র দেশের সম্পদ রক্ষায় পূর্ণাঙ্গ নয়। বৃহৎ সমষ্টিগত সম্পদ (যেমন- খনিজ সম্পদ, নদী বা বনাঞ্চল) রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে দেশের সকল স্তরের মানুষকে রুমার মতো সচেতন করতে হবে।
তাই বলা যায়, রুমার কাজটি একটি আদর্শ উদাহরণ হলেও চূড়ান্ত সংরক্ষণের জন্য সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অপরিহার্য।
ঘটনা-২: আনিস ও সেলিনা সহোদর ভাই-বোন। তারা সম্পদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসানে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন। আইনজীবী বিশেষ বিধান দ্বারা তাদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
আসমার গ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করতে হলে যে উপাদানটি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, তা হলো 'সার্বভৌমত্ব'।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি অপরিহার্য উপাদান হলো- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। এর মধ্যে সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতা। এই ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত থাকে এবং স্বাধীনভাবে নিজ ভূখণ্ডে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ আসমার গ্রামে ৫০০০ জনসমষ্টি, ৩০০ বর্গ কিলোমিটার নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং শৃঙ্খলা রক্ষাকারী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে। কিন্তু গ্রামটি রাষ্ট্রের অধীনস্থ একটি ছোট প্রশাসনিক অংশ মাত্র। এটি অন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীন নয় এবং এর নিজস্ব কোনো চূড়ান্ত বা চরম ক্ষমতা নেই। তাই গ্রামটিকে রাষ্ট্র বলতে হলে এর সার্বভৌম ক্ষমতার উপস্থিতি অপরিহার্য।
আনিস ও সেলিনার ক্ষেত্রে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসানে আইনের যে কার্যকর দিকটির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে, তা হলো 'পারিবারিক বা উত্তরাধিকার আইনের প্রয়োগ' এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
আইনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা। সম্পত্তি বণ্টন বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলোতে মানুষ সাধারণত নিজ নিজ ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা প্রচলিত আইন মেনে চলে, যা সহজে বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ আনিস ও সেলিনা সহোদর ভাই-বোন হওয়া সত্ত্বেও সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তখন তারা একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেন। আইনজীবী প্রচলিত বিশেষ আইনি বিধান (উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি আইন) সঠিকভাবে অনুসরণ করে তাদের মধ্যে সৃষ্ট এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটান। সুশাসন ও সম্প্রীতি রক্ষায় আইনের এই প্রায়োগিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। আনিস ও সেলিনার ক্ষেত্রে আইন তার ন্যায্য বিধানের মাধ্যমে কেবল তাদের বিরোধই মেটায়নি, বরং সামাজিক শৃঙ্খলাও বজায় রেখেছে। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনের কার্যকর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ঘটনা-১ : নিরক্ষর মজিদ দিনমজুর। তার পরিবারে ৭ জন সন্তান। তিনি বেশিরভাগ দিন কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়িতে ফেরেন। তার সংসারে চলে অশান্তি।
ঘটনা-২ : রহমান মিয়ার কাজ না থাকায় তার সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে। দুই বেলা ভরপেট খাবার জোটে না সেখানে পোশাক যেন বিলাসিতা। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে চলেছে।
অতএব মাথাপিছু আয় = $\frac{\text{মোট জাতীয় আয়}}{\text{মোট জনসংখ্যা}}$
দ্বৈত গণনা বা একই জিনিসের মূল্য একাধিকবার হিসাব করা এড়ানোর জন্য জাতীয় উৎপাদন গণনায় কেবলমাত্র চূড়ান্ত দ্রব্য হিসাব করা হয়।
একটি পণ্য চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার আগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্য হিসেবে কয়েকবার ক্রয়-বিক্রয় হয়। যেমন- তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় এবং সবশেষে শার্ট তৈরি হয়। এখানে শুধু শার্টের দাম ধরলেই বাকি গুলোর দাম এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি ধাপে দাম ধরলে মোট আয় ভুল হবে।
উদ্দীপকের মজিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা- নিরক্ষরতা, বেকারত্ব এবং জনসংখ্যাধিক্য কার্যকর রয়েছে।
আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা বলতে মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবকে বোঝায়। নিরক্ষর ও অদক্ষ মানুষ আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় যথাযথ অবদান রাখতে পারে না। এ ছাড়া অধিক সন্তান জন্মদানের ফলে পরিবারের আয় বণ্টন ঠিকমতো হয় না এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা মূলত বেকারত্ব ও দারিদ্র্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায়, মজিদ একজন নিরক্ষর দিনমজুর, যার সাতজন সন্তান রয়েছে। অশিক্ষার কারণে সে কোনো কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারেনি। এর ফলে সে নিয়মিত কাজ পায় না এবং প্রায়ই বেকার থাকে। অন্যদিকে, সাত সন্তানের বিশাল পরিবারের ভরণপোষণ করা তার ওই অনিয়মিত ও স্বল্প আয়ে কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। মূলত জনসংখ্যাধিক্য, শিক্ষার অভাব এবং ব্যাপক বেকারত্বের কারণেই মজিদ ও তার পরিবার চরম পারিবারিক অশান্তি এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকের রহমান মিয়ার পরিবারে মূলত 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' কার্যকর রয়েছে এবং এই চক্র থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
বেকারত্বের কারণে মানুষের আয় কমে গেলে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার ক্ষমতা থাকে না। বিনিয়োগ না থাকলে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয় না, ফলে মানুষ আবার বেকারত্ব ও চরম অভাবের মধ্যে পড়ে যায়। আয়ের অভাবে মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পারার এই বৃত্তাকার অবস্থাকেই অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ রহমান মিয়া বেকার। কাজ না থাকার কারণে তার সংসারে চরম অভাব। তারা দু'বেলা ভরপেট খাবার পায় না, এমনকি পোশাক কেনাও তাদের কাছে বিলাসিতা। আয় না থাকায় তাদের আর্থিক অবস্থার ক্রমশ আরও অবনতি ঘটছে। রহমান মিয়ার এই অবস্থাটি দারিদ্র্যের চক্রের নিখুঁত উদাহরণ, যেখানে আয়ের অভাবে তারা ক্রমান্বয়ে আরও দরিদ্র হচ্ছে।
এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে হলে রহমান মিয়াকে প্রথমে কোনো উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে হবে। সরকারের উচিত এ ধরনের বেকারদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা। প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে রহমান মিয়া যদি আয়বৃদ্ধিমূলক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন, তবেই পরিবারের আয় বাড়বে। আয় বাড়লে অভাব দূর হবে এবং সঞ্চয় বাড়বে, যা তাকে দারিদ্র্যের এই অভিশপ্ত চক্র থেকে মুক্তি দেবে।
'Z' দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ৪৫ হাজার (ইউএস ডলার)।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান সূচক হলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রকৃত মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি ও আয়ের সুষম বণ্টন।
শুধু জাতীয় আয় বাড়লেই উন্নয়ন হয় না, এর সাথে জনগণের মাথাপিছু আয়ও বাড়তে হবে। মাথাপিছু আয় বাড়লে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষমতা বাড়ে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটে। তবে এই বর্ধিত আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হলেই একটি দেশে প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলে ধরা হয়।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকেই মাথাপিছু আয় বলে।
মাথাপিছু আয় হলো কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও নাগরিকদের - জীবনযাত্রার মান নির্ধারণের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক নির্দেশক। এর মাধ্যমে একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জনগণের সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। মাথাপিছু আয় বেশি হলে জীবনমান উন্নত হয় এবং কম হলে অনুন্নত থাকে।
উদ্দীপকে দেওয়া তথ্যমতে, 'X' দেশের এক বছরের মোট জাতীয় আয় হলো ৬৮,০০০ কোটি টাকা এবং মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি। মাথাপিছু আয় নির্ণয়ের সূত্রানুসারে, মোট আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে। সুতরাং, 'X' দেশের মাথাপিছু আয় হবে (৬৮০০০ ÷ ১৭) =৪০০০ টাকা। অর্থাৎ গাণিতিক হিসেবে 'X' দেশের জনগণের মাথাপিছু গড় আয় হলো ৪,০০০ টাকা, যা দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তি।
মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' দেশটি মূলত একটি অনুন্নত বা নিম্ন আয়ের দেশ, অন্যদিকে 'Z' দেশটি একটি অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ।-
যেসব দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় অত্যন্ত কম এবং আর্থসামাজিক অবকাঠামো দুর্বল, তাকে অনুন্নত দেশ বলে। অপরদিকে, যেসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে, মাথাপিছু আয় অনেক বেশি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত, তাঁদের উন্নত দেশ বলা হয়।
উদ্দীপকের তথ্যমতে, 'Y' দেশের মাথাপিছু আয় মাত্র ৬৫.২৫ ইউএস ডলার, যা বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ডে নিম্ন আয়ের নির্দেশক। এ দেশে বেকারত্ব, অদক্ষ জনশক্তি, অনুন্নত কৃষি ও দুর্বল অবকাঠামো বিদ্যমান থাকে। অপরদিকে, 'Z' দেশের মাথাপিছু আয় ৪৫,০০০ ইউএস ডলার, যা অত্যন্ত উচ্চ। এর মানে হলো দেশটি শিল্পায়িত এবং সেখানে উন্নত প্রযুক্তি, শতভাগ কর্মসংস্থান ও সুগঠিত মূলধন ব্যবস্থা রয়েছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্টতই দেখা যায়, 'Z' দেশের জনগণ উচ্চ আয়ের কারণে উন্নত জীবনমান ভোগ করছে এবং বিপুল সঞ্চয় ও বিনিয়োগে সক্ষম। বিপরীতে 'Y' দেশের জনগণ নিম্ন আয়ের কারণে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ এবং মৌলিক চাহিদা পূরণেও হিমশিম খায়। সুতরাং, জীবনযাত্রার মান এবং প্রবৃদ্ধির সার্বিক বিচারে 'Y' দেশের তুলনায় 'Z' দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বহুগুণে উন্নত।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।