যশোর বোর্ড ২০২৬
১.

আন্তর্জাতিক সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিগণ ঢাকায় এসেছেন। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মি. 'X' নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, আমি এমন এক দেশের নাগরিক যে দেশ আপনাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিপক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।

অপরদিকে, মি. 'Y' বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেয়, এমন কি যুদ্ধেও সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

উত্তর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল, বাংলাদেশের ইতিহাসে তা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
উত্তর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী ও সাংবাদিকদের মতো পেশাজীবীদের অবদান ছিল গৌরবদীপ্ত।

পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। তারা মুজিবনগর সরকারের অধীনে পরিকল্পনা সেল গঠন করে বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সরবরাহ, সাহায্যের আবেদন ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উত্তর

উদ্দীপকে মি. 'Y'-এর বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের অসামান্য ভূমিকা ফুটে উঠেছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন জানায়। তারা বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানিদের নারকীয় তাণ্ডব তুলে ধরে বিশ্ববিবেক জাগ্রত করে। এছাড়া লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা দেওয়া এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ভারত প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছিল। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথ কমান্ড গঠন করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়।

উদ্দীপকে মি. 'Y' জানান যে, তার দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। মি. 'Y'-এর এই বক্তব্যটি মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের গৌরবোজ্জ্বল ও প্রত্যক্ষ অবদানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের মি. 'Y'-এর দেশ অর্থাৎ ভারতের প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সাহায্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে ভারত সীমান্ত খুলে দিয়ে প্রায় এক কোটি বাঙালিকে আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদান করে। পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে মুক্তিযুদ্ধের গতিকে বেগবান করে তোলে।

উদ্দীপকের মি. 'Y'-এর বক্তব্যে তার দেশের এই সাহায্য এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা উঠে এসেছে। বাস্তবেও ভারত ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গড়ে তোলে। এই যৌথ বাহিনীর সর্বাত্মক আক্রমণের মুখেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ভারতের এই বহুমুখী সমর্থন ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। বিশেষ করে যৌথ কমান্ড গঠনের ফলে যুদ্ধ অত্যন্ত সুসংগঠিত রূপ নেয় এবং মিত্রবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুত বিজয় নিশ্চিত হয়। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণ ও আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে ভারতের এই ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নির্ধারক নিয়ামক।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যেসব জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিক্রমণ করে, তাদের গ্রহ বলা হয়।
উত্তর

শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের অত্যন্ত ঘন মেঘ থাকার কারণে সেখানে অনবরত অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্লবৃষ্টি হয়ে থাকে।

শুক্র গ্রহের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল থাকলেও তাতে কোনো অক্সিজেন নেই, বরং এর শতকরা ৯৬ ভাগ জুড়েই রয়েছে কার্বন ডাইঅক্সাইড। এই বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড ঘনীভূত হয়ে শুক্রের আকাশে অত্যন্ত ঘন মেঘের স্তর তৈরি করে। মূলত এই বিষাক্ত ও ঘন মেঘের কারণেই গ্রহটিতে অনবরত অ্যাসিড বৃষ্টি সংঘটিত হয়।

উত্তর

চিত্রে 'C' স্তরটি হলো ভূ-অভ্যন্তরের সর্বনিম্ন এবং কেন্দ্রীয় স্তর, যা কেন্দ্রমণ্ডল নামে পরিচিত।

ভূ-অভ্যন্তরে ভূ-কম্পীয় তরঙ্গের গতি ও প্রকৃতির তারতম্য লক্ষ্য করে ভূ-তত্ত্ববিদগণ ভূ-অভ্যন্তরকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন- কেন্দ্রমণ্ডল, গুরুমণ্ডল এবং অশ্মমণ্ডল। এই স্তরগুলোর মধ্যে কেন্দ্রমণ্ডল হচ্ছে পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত গোলাকার অংশ।

গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.। পৃথিবীর যে কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের গোলক রয়েছে, সে গোলকটির নাম কেন্দ্রমণ্ডল। বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। এই স্তরে নিকেল (Nickel) ও লৌহের (Perus) পরিমাণ বেশি থাকায় এই স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nife) নামে পরিচিত। এই অংশটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বোঝা যায় যে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত- বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশ। বাইরের অংশ তরল এবং ভিতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়। কেন্দ্রমণ্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি.। সুতরাং, চিত্রে 'C' দ্বারা চিহ্নিত স্তরটি তার উপাদানগত বৈশিষ্ট্য এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ভিত্তিতে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল হিসেবে পরিচিত।

উত্তর

চিত্রে 'A' স্তরটি হলো ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে উপরের স্তর অশ্মমণ্ডল বা শিলামণ্ডল। এই স্তরকে ঘিরে আবর্তিত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণটি হলো বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে প্রাণিজগতের বাসোপযোগী করেছে- উক্তিটি যথার্থ।

বায়ুমণ্ডল হলো পৃথিবীর চারদিকে বেষ্টিত অদৃশ্য গ্যাসীয় আবরণ। এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে আছে এবং পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে। এই গ্যাসীয় আবরণে বিভিন্ন উপাদান বিদ্যমান, যা পৃথিবীর জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য।

বায়ুমণ্ডল প্রাণিকুলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের প্রাধান্য রয়েছে। কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) গ্যাস উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে। বায়ুমণ্ডল সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রাণিকুলকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডল ওজোন (Ozone) গ্যাসের একটি স্তর আছে। এই স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করায় পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে প্রায় ৪০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়, যা পৃথিবীকে প্রাণিজগতের বাস উপযোগী করেছে। ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোমণ্ডল, যেখানে আর্দ্রতা, কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি লক্ষ করা যায়। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগই এই' স্তরে ঘটে থাকে। সূর্যের আলো ও তাপ ছাড়া পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণী কিছুই জন্মাতো না এবং প্রাণের স্পন্দন সম্ভব হতো না। বায়ুমণ্ডল জীবজন্তুর জন্য সহনীয় মাত্রায় তাপ ও আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

সুতরাং, বায়ুমণ্ডল অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্যাস সরবরাহ করে, ক্ষতিকর রশ্মি থেকে প্রাণীদের রক্ষা করে এবং আবহাওয়া ও তাপমাত্রাকে জীবনধারণের উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে পৃথিবীকে প্রাণিজগতের জন্য আদর্শ গ্রহে পরিণত করেছে।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয়, তাকে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে।
উত্তর

সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ মঙ্গল গ্রহটি এর চরম প্রতিকূল পরিবেশ, তীব্র শীত এবং অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের অভাবের কারণে জীবনধারণের অযোগ্য।

মঙ্গল গ্রহ অত্যন্ত শীতল এবং এর গড় উত্তাপ হিমাঙ্কের অনেক নিচে। এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের চরম অভাব রয়েছে; মূলত নাইট্রোজেন ও আরগন গ্যাস বিদ্যমান। এছাড়া গ্রহটিতে পানির পরিমাণও নগণ্য। প্রয়োজনীয় আলো, বাতাস ও পানির এমন অভাবের কারণেই মঙ্গলে প্রাণের স্পন্দন সম্ভব নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত অবস্থানটি ২২শে ডিসেম্বরের পরিস্থিতি নির্দেশ করছে, যখন পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ অয়নান্ত ঘটে।

বার্ষিক গতির কারণে সূর্যকে প্রদক্ষিণকালে পৃথিবীর মেরুরেখা সবসময় ৬৬.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। ফলে কক্ষপথের বিভিন্ন অবস্থানে সূর্যরশ্মি পৃথিবীর ওপর কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। সূর্যরশ্মির পতন কোণের এই তারতম্যের কারণেই পৃথিবীর বুকে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে।

উদ্দীপকের 'A' অবস্থানে অর্থাৎ ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকে এবং সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে এই দিনটি সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। অন্যদিকে, এ সময়ে উত্তর মেরু সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে বলে সেখানে সূর্যকিরণ অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। তাই উত্তর গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে; অর্থাৎ দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত সবচেয়ে বড় হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে পৃথিবীর 'A' (২২শে ডিসেম্বর) ও 'B' (২১শে জুন) চিহ্নিত অবস্থান দুটিতে সূর্যরশ্মির পতন কোণের ব্যাপক তারতম্য ঘটে, যার ফলে উভয় গোলার্ধে সম্পূর্ণ বিপরীত ঋতুগত ভিন্নতা দেখা যায়।

পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সূর্যকে পরিক্রমণকালে এর মেরুদণ্ড নির্দিষ্ট কোণে সর্বদা হেলে থাকে। এতে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে। লম্বভাবে পড়া রশ্মি ভূপৃষ্ঠকে বেশি উত্তপ্ত করে গ্রীষ্মকাল সৃষ্টি করে; আর তির্যক রশ্মি শীতকাল তৈরি করে।

উদ্দীপকের 'A' অবস্থানে (২২শে ডিসেম্বর) সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের মকরক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে সেখানে উত্তাপ বেশি থাকায় গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে এবং উত্তর গোলার্ধে তির্যক রশ্মির কারণে শীতকাল থাকে। অন্যদিকে, 'B' অবস্থানে (২১শে জুন) সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তিতে লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় সেখানে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।

পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবী আপন কক্ষপথে পরিক্রমণ করার সময় মেরুরেখার হেলানো অবস্থানের কারণেই মূলত 'A' ও 'B' অবস্থানে সূর্যালোক সমানভাবে পৌঁছায় না। তাপমাত্রার এই সুস্পষ্ট পার্থক্যের জন্যই উক্ত নির্দিষ্ট অবস্থান দুটিতে উভয় গোলার্ধে সম্পূর্ণ বিপরীত ও সুস্পষ্ট ঋতুগত ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

৪.

তথ্য-১
তথ্য-২

i. নীতিমালা প্রণয়ন করে
i. অবৈতনিক শিক্ষার প্রচলন

ii. নীতিমালা বাস্তবায়ন করে
ii. স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

iii. আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান করে
iii. বিভিন্ন ধরনের ভাতা প্রদান

উত্তর সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং মানুষের সামাজিক কল্যাণের জন্য গৃহীত সুনির্দিষ্ট নিয়মের সমষ্টিকে আইন বলে।
উত্তর রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান ও অন্যতম মৌলিক কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। এর অর্থ হলো রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা এবং এর নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখতে সর্বদা সজাগ থাকা। প্রয়োজনে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং প্রচলিত আইন ও সংবিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা নাগরিকের এই প্রধান কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর

উদ্দীপকের তথ্য-১ এ উল্লিখিত কাজগুলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'সরকার'কে নির্দেশ করে।

রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় অপরিহার্য উপাদান হলো সরকার, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ইচ্ছা ও ক্ষমতা পরিচালিত হয়। সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে। অধ্যাপক গার্নারের মতে, রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ, তবে সরকার হলো এর মস্তিষ্কস্বরূপ।

উদ্দীপকের তথ্য-১ এ দেখা যায়- নীতিমালা প্রণয়ন (আইন বিভাগ), নীতিমালা বাস্তবায়ন (শাসন বিভাগ) এবং আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান (বিচার বিভাগ) করে। এই তিনটি বিভাগের সমন্বিত রূপই হলো সরকার। সুতরাং, নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার এই প্রক্রিয়াটি 'সরকার' উপাদানেরই প্রতিফলন।

উত্তর

উদ্দীপকের তথ্য-২ এ বর্ণিত কার্যাবলি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্য-২ এ উল্লিখিত অবৈতনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ভাতা প্রদানের মতো কাজগুলো রাষ্ট্রের 'ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক' কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের ভূমিকা কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে রাষ্ট্রকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হয়।

শিক্ষার বিস্তার একটি জনগোষ্ঠীকে দক্ষ সম্পদে পরিণত করে, যা উন্নয়নের প্রধান শর্ত। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গড়ে ওঠে। আবার বেকার বা বিধবা ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নত করে এবং বৈষম্য কমায়। এই কার্যাবলিগুলো নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রাত্মবোধ ও দেশপ্রেম সৃষ্টি করে, যা জাতীয় সংহতি মজবুত করে।

পরিশেষে বলা যায়, একটি রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে যত উন্নত হয়, তার এই কল্যাণমূলক কাজের পরিধি তত বৃদ্ধি পায়। অবৈতনিক শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে 'সুখী ও সমৃদ্ধ' রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাই রাষ্ট্রের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়নে এই কাজ গুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

৫. দৃশ্যকল্প-১: 'X' দেশের মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী তার অধীনস্তদের সুন্দরবনসহ দেশের সকল বনাঞ্চলের সঠিক তত্ত্বাবধান ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, এই বৃক্ষ গুলো বেড়ে উঠলে দেশের উপকার হবে।
দৃশ্যকল্প-২ : 'Y' দেশের সরকার বিত্তশালীদের জন্য যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করেছেন। সেখানে নিসাব পরিমাণ সম্পদ শালীদের অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে একটি অংশ বিতরণের নির্দেশ আছে।
উত্তর কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে অর্থনীতিতে উপযোগ বলা হয়।
উত্তর

কোনো বস্তুকে সম্পদ হতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্য, বাহ্যিকতা এবং হস্তান্তরযোগ্যতা থাকতে হয়, যা প্রকৃতির বাতাসের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নেই।

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নিশ্বাস-প্রশ্বাসে বাতাসের চরম উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতিতে বাতাস অফুরন্ত হওয়ায় এর কোনো 'অপ্রাচুর্য' নেই এবং বাতাস ব্যবহারের জন্য মানুষকে কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হয় না। যেহেতু বাতাসে সম্পদের অন্যতম প্রধান শর্ত 'অপ্রাচুর্য' অনুপস্থিত, তাই প্রকৃতির বাতাসকে অর্থনীতিতে সম্পদ বলা যায় না।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ 'X' দেশের সুন্দরবনসহ সকল বনাঞ্চল মূলত রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রদত্ত 'সমষ্টিগত সম্পদ' বা 'জাতীয় সম্পদ'-কে নির্দেশ করছে।

সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে যে সম্পদ ভোগ করে এবং যার ওপর রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকে, তাকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সকল প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন- বনাঞ্চল, নদ-নদী, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি সমষ্টিগত বা জাতীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। এই প্রাকৃতিক সম্পদগুলো কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং সমগ্র জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।

দৃশ্যকল্প-১-এ 'X' দেশের মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সুন্দরবনসহ দেশের সকল বনাঞ্চল সংরক্ষণে কড়াকড়ি নির্দেশ দিয়েছেন। সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক বনাঞ্চলগুলো রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রদত্ত সমষ্টিগত সম্পদ। এগুলোর ওপর সবার অধিকার রয়েছে এবং এগুলো দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়- গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্ত্রী মহোদয়ের এই বৃক্ষগুলো বেড়ে ওঠার মাধ্যমে দেশের উপকারের কথা বলার বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রের এই প্রাকৃতিক জাতীয় সম্পদের সংরক্ষণ ও এর মাধ্যমে জাতীয় কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারণাকেই সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ 'Y' দেশের যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থাটি মূলত 'ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা'কে নির্দেশ করছে, যা সত্যিই একটি কল্যাণমুখী ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক।

ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন ও হাদিস। এ ব্যবস্থায় হালাল পথে সম্পদ উপার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সুদকে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমাজে আয় বৈষম্য দূর করতে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বিত্তশালীদের জন্য যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ দেখা যায়, 'Y' দেশের সরকার বিত্তশালীদের জন্য যাকাত প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদের তাদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সমাজের অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ থাকলে তার নির্ধারিত অংশ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করার এ বিধানটি ইসলামি অর্থব্যবস্থার অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করে।

আমার মতে, এ অর্থব্যবস্থাটি একটি আদর্শ কল্যাণ মূলক রূপরেখা। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেখানে পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের শোষণ করে সম্পদ কুক্ষিগত করে, ইসলামি ব্যবস্থায় সেখানে যাকাত ও সুদমুক্ত নীতির মাধ্যমে সম্পদের একচেটিয়া মালিকানা রোধ করা হয়। এখানে অবদানের ভিত্তিতে ন্যায্য পাওনা পরিশোধের নির্দেশ থাকায় কেউ শোষিত হয় না। ফলে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমে গিয়ে একটি বৈষম্যহীন এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থাটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি কার্যকর।

৬.

তথ্যচিত্র-১ : ২০২২-২৩ অর্থবছরে 'ক' রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সেই দেশের নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত মোট দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য ছিল ৭০,০০০ কোটি টাকা। ওই দেশের অভ্যন্তরে বিদেশিদের দ্বারা উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য ছিল ৮,০০০ কোটি টাকা। ওই একই বছরে দেশের বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস কারী ওই দেশের নাগরিকদের উৎপাদনের আর্থিক মূল্য ছিল ১৪,০০০ কোটি টাকা।

তথ্যচিত্র-২ : ২০২২-২৩ অর্থবছরে 'খ' দেশটিতে জনসংখ্যা ছিল ২ লক্ষ। তাদের মোট জাতীয় আয় ছিল ২০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটিতে লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১.৫%। মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২২ কোটি ডলার অর্থাৎ ১০% বৃদ্ধি পায় একই সাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় ৫%।

উত্তর 'GDP'-এর পূর্ণরূপ হলো- Gross Domestic Product বা মোট দেশজ উৎপাদন।
উত্তর

উৎপাদনের উপাদানসমূহের (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) নিজ নিজ আয়ের সমষ্টি নির্ণয়ের মাধ্যমেই মোট আয় বের করা হয়।

অর্থনীতিতে উৎপাদনের চারটি উপাদান রয়েছে। এগুলোর অর্জিত আয় হলো যথাক্রমে ভূমির খাজনা, শ্রমের মজুরি, মূলধনের সুদ এবং সংগঠনের মুনাফা। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে একটি দেশের এই চারটি উপাদানের অর্জিত মোট, খাজনা, মজুরি বা বেতন, সুদ ও মুনাফা একত্রে যোগ করলেই উৎপাদনের উপাদান সমূহের মোট আয় পাওয়া যায়।

উত্তর

কোনো দেশের নাগরিকরা (দেশে বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন) নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে, তার বাজার মূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে। GNP পরিমাপের ক্ষেত্রে দেশের সীমানার ভিতরের ও বাইরের শুধু দেশি নাগরিকদের আয় হিসাব করা হয়। বিদেশিদের আয় এখান থেকে বাদ দেওয়া হয়। গাণিতিকভাবে, GNP = GDP + (X - M); যেখানে X হলো প্রবাসীদের আয় এবং M হলো দেশে থাকা বিদেশিদের-আয়।

উদ্দীপকের তথ্যচিত্র-১ অনুযায়ী, 'ক' দেশের অভ্যন্তরে নাগরিকদের উৎপাদন ৭০,০০০ কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরের বিদেশিদের উৎপাদন M = ৮,০০০ কোটি টাকা এবং দেশি নাগরিকদের বৈদেশিক আয়, X = ১৪,০০০ কোটি টাকা। অতএব, 'ক' দেশটির GNP = ৭৮,০০০ + (১৪,০০০ – ৮,০০০) = ৮৪,০০০ কোটি টাকা।

অতএব উদ্দীপক অনুসারে তথ্যচিত্র-১ এর 'ক' রাষ্ট্রের মোট জাতীয় আয় ৮৪,০০০ কোটি টাকা।

উত্তর

তথ্যচিত্র-২ এ মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি 'প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি' এবং 'অর্থনৈতিক উন্নয়ন'-এর ধারণাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার আলোকে বলা যায় 'খ' দেশটিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে শুধু আর্থিক আয় বৃদ্ধিকে বোঝায় না; বরং দ্রব্যমূল্য স্তরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিকে বোঝায়। যদি কোনো দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হয়, তবে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়।

উদ্দীপকে 'খ' দেশের মোট আয় ১০% বৃদ্ধি পেয়ে ২২ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১.৫%। অর্থাৎ, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে জাতীয় আয় অনেক বেশি হারে বেড়েছে, যার ফলে দেশটির আর্থিক মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বের মাথাপিছু আয় ছিল (২০ কোটি ÷ ২ লক্ষ) = ১,০০০ ডলার। আবার নতুন জনসংখ্যা ১.৫% বৃদ্ধি পেলে নতুন জনসংখ্যা হয় ২০৩০০০ বা ২ লক্ষ ৩ হাজার এবং নতুন মাথাপিছু আয় (২২ কোটি ÷ ২ লক্ষ ৩ হাজার) = ১,০৮৩.৭৪ ডলার (প্রায় ৮.৩৭% বৃদ্ধি)। একই সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫%।

এখানে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে, আর্থিক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার (প্রায় ৮.৩৭%) দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হারের (৫%) চেয়ে বেশি। এর অর্থ হলো, ৫% মূল্যস্ফীতি থাকার পরও জনগণের প্রকৃত আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু জনগণ এখন পূর্বের চেয়ে বেশি দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে পারবে, তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, 'খ' দেশটিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।

৭.

দেশের নাম
বৈশিষ্ট্যগত দিক

A
i. মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ।
ii. আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান।
iii. কর্মসংস্থান, স্বাক্ষরতার হার শতভাগ।

B
i. ব্যাপক বেকারত্ব।
ii. অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা।
iii. স্বল্প মাথাপিছু আয়।

উত্তর অর্থনীতিতে সেবা বলতে এমন অবস্তুগত দ্রব্যকে বোঝায়, যার উপযোগ ও বিনিময় মূল্য আছে এবং যা মানুষের অদৃশ্য অভাব পূরণে সক্ষম।
উত্তর

অপরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মূলধনের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ সরকারকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে হয়।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যার আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস বা রাজস্ব আয় থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তাই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা বা উন্নত দেশ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

উত্তর

উন্নয়নের মাত্রার ভিত্তিতে উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' দেশটি মূলত একটি উন্নত দেশ।

যেসব দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অব্যাহত রয়েছে, তাকে উন্নত দেশ বলা হয়। এসব দেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী, মাথাপিছু আয় অনেক বেশি এবং জনগণের জীবন যাত্রার মান উঁচু হয়ে থাকে। এ ছাড়া শতভাগ সাক্ষরতা, বেকারত্বহীন অবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত দেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উদ্দীপকের ছকে 'A' দেশটির বৈশিষ্ট্যগত দিক হিসেবে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগ, আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের উপস্থিতি এবং শতভাগ কর্মসংস্থান ও সাক্ষরতার হারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি দেশে যখন শতভাগ সাক্ষরতা ও কর্মসংস্থান থাকে, তখন সেখানকার জনগণের মাথাপিছু আয় স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি হয়। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও গবেষণার কারণে তারা অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। এই বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পূর্ণ ভাবে একটি উন্নত দেশের মানদণ্ডকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, 'A' একটি উন্নত দেশ।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি উন্নয়নের মাত্রার ভিত্তিতে 'B' চিহ্নিত দেশটি একটি অনুন্নত দেশ এবং এটি নিঃসন্দেহে দারিদ্র্যের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে।

অনুন্নত দেশ বলতে সেসব দেশকে বোঝায়, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় পুঁজি বা মূলধন কম, মাথাপিছু আয় নিম্ন এবং জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। এসব দেশে সাধারণত ব্যাপক বেকারত্ব, নিয়ন্ত্রণহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দুর্বল আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিরাজ করে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করে রাখে।

উদ্দীপকের ছকে 'B' দেশটির বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাপক বেকারত্ব, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা এবং স্বল্প মাথাপিছু আয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যার কারণে দেশে বিদ্যমান সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং মাথাপিছু আয় কমে যায়। আয় কম হওয়ায় জনগণের কোনো সঞ্চয় থাকে না, ফলে মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হারও নিম্নমুখী হয়। বিনিয়োগের অভাবে নতুন শিল্প বা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, যা দেশে ব্যাপক বেকারত্বের জন্ম দেয়। এই চক্রাকার অবস্থাই হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র। 'B' দেশে নিম্ন আয়, সঞ্চয়হীনতা, মূলধনের অভাব এবং বেকারত্বের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা একটি দেশের অনুন্নত অবস্থারই প্রতিফলন। এ চক্রের কারণেই দেশটি অর্থনৈতিকভাবে এগোতে পারছে না। শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া এ চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন। সুতরাং, 'B' দেশটি সত্যিই দারিদ্র্যের চক্রে আবদ্ধ।

৮.

দৃশ্যকল্প-১: 'X' শহরে দীপা তার বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করে। তার বাবা পরিবারের প্রধান ও দীপার বাবার অভিমতের ওপর ভিত্তি করে পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দৃশ্যকল্প-২ : আশফির পরিবারে বাবা ও মা উভয়ই চাকরিজীবী। তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে আশফি সারাদিন একা থাকে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার অভিভাবক আশফির খোঁজখবর রাখে।

উত্তর হিন্দু সমাজে নিচু বর্ণের পাত্রের সাথে উঁচু বর্ণের পাত্রীর বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গঠিত হয়, তাকে প্রতিলোম বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে।
উত্তর

আধুনিক যুগে মানুষের সমাজ ও সংস্কৃতি মূলত গণমাধ্যমকে (Mass Media) কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

গণমাধ্যম বলতে সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ইন্টারনেটকে বোঝায়। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিনোদন ও বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মাধ্যমগুলো বিশাল ভূমিকা রাখে। বর্তমান যুগে মানুষ এই গণমাধ্যমগুলোর প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও তথ্যের দ্বারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়ে নিজেদের জীবনধারা, আচার-আচরণ ও সমাজ-সংস্কৃতিকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে সাজিয়ে তুলছে।

উত্তর

কর্তৃত্বের ভিত্তিতে দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দীপার পরিবারটি একটি 'পিতৃপ্রধান বা পিতৃতান্ত্রিক পরিবার'।

যে পরিবারে সামগ্রিক ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার পরিবারের পুরুষ সদস্য অর্থাৎ পিতা, স্বামী বা বয়স্ক পুরুষের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে পিতৃপ্রধান পরিবার বলা হয়। আমাদের সমাজব্যবস্থায় এ ধরনের পরিবারের বংশপরিচয় প্রধানত পুরুষ সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই কাঠামোর পরিবারে পিতার নির্দেশেই পরিবারের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আমরা দেখতে পাই, 'X' শহরে বসবাসকারী দীপার পরিবারের প্রধান হলেন তার বাবা। পরিবারের যে কোনো কাজে দীপার বাবার মতামতকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং তাঁর অভিমতের ওপর ভিত্তি করেই পরিবারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সমাজবিজ্ঞানের ধারণায়, পরিবারের প্রধান চালিকাশক্তি যখন একজন পুরুষ বা পিতা হন, তখন সেটি পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর রূপ নেয়। যেহেতু ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ কর্তৃত্ব পিতার হাতে ন্যস্ত, তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে দীপার পরিবারটি একটি সার্থক পিতৃপ্রধান পরিবার।

উত্তর

আকারের ভিত্তিতে দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত আশফির পরিবারটি একটি 'একক পরিবার', যা উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সহায়ক নয় বলে আমি মনে করি।

স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে গঠিত পরিবারই একক পরিবার। পরিবার শিশুর সামাজিকীকরণের প্রাথমিক মাধ্যম। একটি আদর্শ পরিবারে সন্তানের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে মা-বাবার নিবিড় সান্নিধ্য, আদর ও স্নেহের মাধ্যমে।

দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, আশফির বাবা ও মা উভয়েই চাকরিজীবী। কর্মব্যস্ততার কারণে তারা সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, ফলে আশফি সারাদিন বাসায় একা থাকে। বাবা-মা কেবল মোবাইল ফোনে তার খোঁজখবর রাখেন। পিতামাতার পর্যাপ্ত সময় ও সরাসরি সান্নিধ্যের অভাবে আশফির কাঙ্ক্ষিত পারিবারিক শিক্ষা ও আচরণগত বিকাশ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিশুর সামাজিকীকরণের জন্য পিতামাতার সরাসরি সঙ্গ ও দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। কেবল ফোনে খোঁজ নেওয়া বাবা-মায়ের স্নেহময় সান্নিধ্যের বিকল্প হতে পারে না। সারাদিন একা থাকার কারণে আশফির মধ্যে একাকীত্ব বা আত্মকেন্দ্রিকতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া যৌথ পরিবারের মতো অন্য আত্মীয়রা না থাকায় সে সামাজিক মেলামেশা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর পরিবারের বর্তমান চিত্র শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সহায়ক নয়।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।