চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
১. 'মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করে অনলাইনে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে যান। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
উত্তর দ্রব্যের পরিবর্তে দ্রব্যের আদান-প্রদানকে বিনিময় প্রথা বলে।
উত্তর যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক ও সহজ করেছে তাকে সেবা শিল্প বলে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদি সেবা সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত। এছাড়াও সড়ক, নৌ ও বিমানপথের যাত্রী, পর্যটন, চলচ্চিত্র এবং পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহও এ ধরনের শিল্পের অন্তর্গত। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরামদায়ক ও সহজ হয়। তাই সেবা শিল্প এতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মিস রুহী পণ্য বিক্রয় করেন।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকে মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করেন। অতঃপর উক্ত পণ্যগুলো অনলাইনে বিক্রয় করেন। উক্ত অনলাইন বিক্রয় কার্যক্রম প্রযুক্তিগত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মিস রুহী পণ্য বিক্রয় করেন।
উত্তর মিস রুহীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন ও ব্যাংক ঋণের উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যে প্রক্রিয়ায় পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাকে বিজ্ঞাপন বলে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। অন্যদিকে গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট জামানতের বিনিময়ে ব্যাংক হতে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে ব্যাংক ঋণ বলে। ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যায়।
উদ্দীপকে মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করেন। অতঃপর উক্ত পণ্যগুলো অনলাইনে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে যান। এছাড়াও ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য তার আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এর মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য ও ব্যবহারবিধি ক্রেতা বা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়। ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ে। আবার অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজনীয় এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা ঋণ করে করে সংগ্রহ করতে হয়। তাই উদ্দীপকের মিস রুহী তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বিজ্ঞাপন ও ব্যাংক ঋণের শরণাপন্ন হন, যা তার ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. জনাব শাকিল 'চৌধুরী কোম্পানি লি.'-এর ব্যবস্থাপক। তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুনের ব্যাপারে খুব সচেতন থাকেন। তিনি কর্মীদের নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, 'খান কোম্পানি লি.'-এর ব্যবস্থাপক জনাব রহমান শ্রমিকদের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন এবং কাজ আদায়ে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় কর্মীরা ইচ্ছামতো কাজ করেন। তার প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা সমপরিমাণ কাজ করলেও পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি বেতন পান। এতে নারী শ্রমিকরা অসন্তুষ্ট।
উত্তর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য আনয়ন করাকে সমন্বয়সাধন বলে।
উত্তর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীবৃন্দকে সুষ্ঠুভাবে কার্য সম্পাদনের জন্য উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে।
প্রেষণা হলো উৎসাহদান প্রক্রিয়া। এটি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মীদের নিকট হতে সর্বাধিক কার্য আদায় করে নেওয়া। মানুষকে দিয়ে জোর করে কাজ করানো যায় না বলে তার মানসিক অবস্থা পরিবর্তন দ্বারা তাকে কাজের প্রতি গতিশীল করা অপরিহার্য। আর তার এই মানসিক অবস্থা পরিবর্তনে কাজ করে প্রেষণা।
উত্তর জনাব শাকিল আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব অনুসরণ করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসারে বা পদমর্যাদা হতে যে নেতৃত্বের সৃষ্টি হয় তাকে আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের আদেশ দিয়ে কাজ আদায় করে নেন। এক্ষেত্রে কর্মীরা নিয়মমাফিক তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকেন। এ নেতৃত্বে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে জনাব শাকিল “চৌধুরী কোম্পানি লি.” এর ব্যবস্থাপক। তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে খুব সচেতন থাকেন। এজন্য কর্মীদের নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেন। জনাব শাকিলের এমন নেতৃত্বটি আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব শাকিল আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব অনুসরণ করেন।
উত্তর জনাব রহমানের মুক্ত নেতৃত্বে জেন্ডার সচেতনতা গুণের অভাবে নারী শ্রমিকরা অসন্তুষ্ট।
যে নেতৃত্বে নেতা কাজ থেকে দূরে থাকেন এবং কর্মীদের অবাধ স্বাধীনতা প্রদান করেন তাকে মুক্ত নেতৃত্ব বলে। এক্ষেত্রে নেতা কর্মবিমুখ থাকে এবং নিজেকে অধস্তনদের কাছ থেকে দূরে রাখে। অন্যদিকে নারী বা পুরুষভেদে পক্ষপাতহীন থাকাই হলো জেন্ডার সচেতনতা।
উদ্দীপকে জনাব রহমান “খান কোম্পানি লি.” এর ব্যবস্থাপক। তিনি শ্রমিকদের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকেন এবং কাজ আদায়ে কোনো নির্দেশনা দেন না। ফলে কর্মীরা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করেন। এছাড়াও তার প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা সমপরিমাণ কাজ করলেও পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি বেতন পান। এতে নারী শ্রমিকরা অসন্তুষ্ট থাকে।
উদ্দীপকে জনাব রহমান তার প্রতিষ্ঠানের মুক্ত নেতৃত্ব প্রদান করেন। এমন নেতৃত্বে কর্মীরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। ফলে প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। অন্যদিকে তার প্রতিষ্ঠানে নারী পুরুষ উভয়ে আলাদা দৃষ্টিতে দেখা হয়, যা আদর্শ নেতার জেন্ডার সচেতনতা গুণের পরিপন্থি। এর ফলে তার প্রতিষ্ঠানের নারীরা মালিকের প্রতি অসন্তুষ্ট।
৩. মি. রহিম তার দুই বন্ধুকে নিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করেন। মান ভালো হওয়ায় দ্রুতই পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তাই তারা ব্যবসায়ের ধরন পরিবর্তন করে ১৯৯৪ সালের আইন অনুযায়ী বড়ো পরিসরে একটি ব্যবসায় গঠন করেন। সেখানে ৬০ জন নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছেন।
উত্তর অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির লিখিত রূপকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
উত্তর মূলধন বিনিয়োগ করলেই সাধারণ অংশীদার হওয়া যায় না।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে তাকে সাধারণ অংশীদার বলে। অন্যদিকে যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে কিন্তু পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না তাকে নিষ্ক্রিয় অংশীদার বলে। এক্ষেত্রে সাধারণ ও নিষ্ক্রিয় উভয় অংশীদারই ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু দু'জনে দুই ধরনের অংশীদার। এ কারণেই মূলধন বিনিয়োগ করলেই, সাধারণ অংশীদার হওয়া যায় না।
উত্তর রহিম ও তার দুই বন্ধুর প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো অংশীদারি ব্যবসায়।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যত ভুল বুঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম।
উদ্দীপকে মি. রহিম তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করেন। মান ভালো হওয়ায় দ্রুতই তাদের পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারছেন না। চুক্তির ভিত্তিতে তাদের ব্যবসায়টি গঠিত হয়, যা অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রহিম ও তার দুই বন্ধুর প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো অংশীদারি ব্যবসায়।
উত্তর দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো যৌথমূলধনি কোম্পানি, যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত সংগঠনকে যৌথমূলধনি কোম্পানি বলে। কোম্পানি সংগঠন আইনের অধীনে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় বিধায় এ ব্যবসায় সহজে ভাঙ্গে না এবং চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী। সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহ ও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সহজ হয়।
উদ্দীপকে মি. রহিম তার দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় শুরু করেন। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তাই তারা ব্যবসায়ের ধরন পরিবর্তন করে ১৯৯৪ সালের আইন অনুযায়ী বড়ো পরিসরে একটি ব্যবসায় গঠন করেন। সেখানে ৬০ জন নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছে।
উদ্দীপকের পরবর্তী প্রতিষ্ঠানটি যৌথমূলধনি কোম্পানি। উক্ত কোম্পানিটি একটি বৃহদায়তন ব্যবসায় সংগঠন। এতে দেশের অনেক বেকার লোকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হয় এবং দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। আর মাথাপিছু আয় বেড়ে যায় বলে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও বৃহদায়তন ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমি মনে করি, যৌথমূলধনি কোম্পানি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৪. রুবাই, মাহিন ও সুজন তিন বন্ধু মিলে একটি পোশাক তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। রুবাই ও মাহিন পরিচালনায় অংশ নিলেও সুজন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। ব্যবসায়টি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হলেও কিছুদিন পর মাহিন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহ দেখা দেয়। এ অবস্থায় রুবাই ব্যবসায়টি বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করেন।
উত্তর একজন ব্যক্তির মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
উত্তর চুক্তি সম্পাদনের অযোগ্য বলে নাবালক অংশীদার হতে পারে না।
অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারা অনুযায়ী যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক অংশীদার বলে। এধরনের অংশীদার ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল অংশীদার সম্মত থাকলে কিছু সময়ের জন্য নাবালক অংশীদারকে ব্যবসায়ের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এরূপ অংশীদারকে সীমাবদ্ধ অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এরা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে ব্যবসায়ের হিসাব চাইতে পারে।
উত্তর রুবাই ও তার বন্ধুদের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায়।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ ভুল বুঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম।
উদ্দীপকে রুবাই, মাহিন ও সুজন তিন বন্ধু মিলে একটি পোশাক তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। রুবাই ও মাহিন পরিচালনায় অংশ নিলেও সুজন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রুবাই ও তার বন্ধুদের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায়।
উত্তর রুবাই সাধারণ অংশীদার এবং তাদের ব্যবসায়টি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন হবে।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন তাকে সাধারণ অংশীদার বলে। অংশীদারি আইন অনুযায়ী সাধারণ অংশীদার অসীম দায় বহন করেন। অন্যদিকে কোনো অংশীদার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে অন্য অংশীদারদের কাছে ব্যবসায়ের বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন বলে।
উদ্দীপকে রুবাই, মাহিন ও সুজন তিন বন্ধু মিলে একটি পোশাক তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। রুবাই ও মাহিন পরিচালনায় অংশ নিলেও সুজন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। তাদের ব্যবসায়টি লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হলেও কিছুদিন পর মাহিন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহ দেখা দেয়। এ অবস্থায় রুবাই ব্যবসায়টি বিলোপসাধনের জন্য আবেদন করেন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার ব্যবসায়ের বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করলে ব্যবসায়টির বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন ঘটে। উদ্দীপকে দেখা যায় তিন বন্ধু একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে এবং রুবাই তাদের সক্রিয় অংশীদার। তাদের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহ দেখা দিলে রুবাই ব্যবসায়টি বিলোপের আবেদন করেন। এরূপ পরিস্থিতিতে তাদের ব্যবসায়টি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিলোপসাধন হবে বলে আমি মনে করি।
৫. জনাব মাসুদ তার এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী হওয়ায় নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। কিন্তু দেশি মালটার দাম ও চাহিদা কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি চিন্তিত।
উত্তর কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্ম পদ্ধতিকে প্রকল্প বলে।
উত্তর ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবিকে পরিকল্পনা বলে।
পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের ভিত্তিস্বরূপ। কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের পূর্ব হতে শুরু করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন পর্যন্ত যাবতীয় কার্যাবলি পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। তাই যেকোনো কাজ শুরুর আগেই ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ ঠিক করতে হয়। পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ পালনীয় কর্মপন্থার একটি মানসিক প্রতিচ্ছবি। কী করতে হবে, কীরূপে করতে হবে, কখন করতে হবে এবং কাকে করতে হবে তা পূর্ব হতে নির্ধারণ করা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর জনাব মাসুদ ম্যাক্রোস্ক্রিনিংয়ের প্রাকৃতিক উপাদানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ম্যাক্রোস্ক্রিনিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যা কতকগুলো প্রভাবক বা উপাদানের ভিত্তিতে ব্যবসায়ের ধারণাগুলো মূল্যায়ন করে একটি প্রকল্প ধারণা নির্বাচন করতে সহায়তা করে। এর প্রভাবকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রভাবক হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ। সঠিক ব্যবসায় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাট ভূমিকা পালন করে। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদের এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী। এজন্য তিনি নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। চাষের জন্য অনুকূল জলবায়ু প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। তাই বলা যায়, জনাব মাসুদ ম্যাক্রোস্ক্রিনিংয়ের প্রাকৃতিক উপাদানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
উত্তর মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক উপাদান বিবেচনা করলে জনাব মাসুদ মালটা ও লটকন বিক্রয়ে লাভবান হতে পারতেন।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন করা হয় তাকে মাইক্রোস্ক্রিনিং বলে। এর মাধ্যমে বাজার চাহিদা, কারিগরি, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। উৎপাদনমুখী ব্যবসায়ের প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন স্ক্রিনিংয়ের আবশ্যকতা রয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদের এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী। এজন্য তিনি নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। কিন্তু দেশি মালটার দাম ও চাহিদা কম হওয়ায় তার ব্যবসায়ে লোকসান হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি চিন্তিত।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ প্রকল্প গ্রহণে মাইক্রোস্ক্রিনিং পদ্ধতিটি বিবেচনা করেনি। এর ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ তিনি যদি মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে মালটা ও লটকন বিক্রয় করতেন, তবে তিনি এমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না। তাই পণ্য উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
৬. ভ্রমণপ্রেমিক মি. শফিক নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে “শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম” নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তিনি দেশ-বিদেশে ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পাদনের জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। দিন দিন তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে।
উত্তর যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় ও ব্যবসায়ে কর্মকাণ্ডে ব্যাহত হয়। ফলে সম্ভাব্য উদ্যোক্তাগণ নতুন কিছু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উত্তর মি. শফিকের 'ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' প্রতিষ্ঠার কাজকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
নতুন ব্যবসায় গঠন বা নতুন পণ্য, সেবা, পদ্ধতি বা বাজার সামনে রেখে একজন ব্যবসায়ীর উদ্যোগকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
উদ্দীপকে মি. শফিক একজন ভ্রমণপ্রেমিক মানুষ। তিনি নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে 'শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। মি. শফিকের এমন কার্যক্রম ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবামূলক ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. শফিকের 'ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' প্রতিষ্ঠার কাজকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
উত্তর মি. শফিকের মতো ব্যক্তিরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নেই এমন কোনো কাজকে ব্যবসায় বলা যায় না। এছাড়াও ব্যবসায় একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলে।
উদ্দীপকে মি. শফিক একজন ভ্রমণপ্রেমিক মানুষ। তিনি নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে 'শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পাদনের জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। দিন দিন তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায় তথা শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও ব্যাপক সুযোগ ঘটে। এতে ব্যবসায়ী' তার ব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দক্ষ-অদক্ষ, বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমি মনে করি, মি. শফিকের মতো ব্যক্তিরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মাসেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে তিনি দীর্ঘদিনের ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার বিক্রি কমে যায় এবং ক্ষতির সম্মুখীন হন। রেস্টুরেন্টের অবিক্রীত খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে পর্যটকদের মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা দিচ্ছে।
উত্তর মানব আচরণের মানদণ্ডকে 'ইথস' বলে।
উত্তর শব্দ, বায়ু, পানি, মাটি ইত্যাদির দূষণ থেকে পরিবেশ সুরক্ষাকেই পরিবেশ সংরক্ষণ বলে।
পরিবেশ এবং ব্যবসায় পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। সুষ্ঠু পরিবেশ ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভ করা যায় না। নানা কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। শিল্পের বর্জ্য নদ-নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। ফলে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। শিল্প স্থাপনের জন্য গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষিত করা হচ্ছে। তাছাড়া খাল-বিল ভরাট, নদীভাঙন, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, যানবাহন ও যন্ত্রপাতির বিকট আওয়াজ শব্দ দূষণ বাড়াচ্ছে। এরূপ দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বলা যেতে পারে।
উত্তর জনাব নূরুলের মধ্যে ব্যবসায় নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই ব্যবসায়ের নৈতিকতা বলে। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্যদ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মাসেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রাহকদের দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার বিক্রয় কমে যায় এবং তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। জনাব নূরুলের এমন কার্যক্রম ব্যবসায় নৈতিকতার পরিপন্থি। তাই বলা যায়, জনাব নূরুলের মধ্যে ব্যবসায় নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
উত্তর উদ্দীপকে পানি দূষণের কথা বলা হয়েছে এবং উদ্দীপকের ব্যবসায়টিকে লাভবান করতে হলে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পানিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পানির স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়াকে পানি দূষণ বলে। অন্যদিকে, ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মা সেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রাহককে দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার বিক্রয় কমে যায় এবং তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। এছাড়াও তিনি রেস্টুরেন্টের খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে পানি দূষণ করছে।
উদ্দীপকে জনাব নূরুল তার রেস্টুরেন্টের খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য নদীতে ফেলে পানি দূষণ করছে। এমন দূষণের কারণে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী পানিতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও তিনি ইলিশ মাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে নিজেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় তার ব্যবসায়টিকে আবার লাভবান করার জন্য ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত।
৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো ধরনের মধ্যস্থ ব্যবসায়ীর সাহায্য ছাড়াই উৎপাদনকারী কর্তৃক সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রয় করাকে সরাসরি বিপণন বলে।
উত্তর পণ্য সামগ্রীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা এবং নষ্ট বা ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে কিছু দ্বারা আবৃত করাকে মোড়কীকরণ বলে।
মোড়কিকরণ পণ্যকে নষ্ট হতে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে পণ্যের আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানের শিল্পজাত পণ্য যেমন- ফ্রিজ, টেলিভিশন, সাবান আবার কৃষিজাত পণ্য যেমন- পাস্তুরিত দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদির বিক্রয় ও ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে মোড়কিকরণের ওপর। তাছাড়া পণ্যের খাদ্যমান সুরক্ষায় ও পণ্যের কালগত উপযোগ সৃষ্টিতেও মোড়কিকরণ ভূমিকা রাখে।
উত্তর উদ্দীপকের বণ্টনপ্রণালির 'গ' চিহ্নিত স্থানটি খুচরা ব্যবসায়ীকে নির্দেশ করছে।
যেসব ব্যবসায়ী পাইকারের কাছ থেকে পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে তাদেরকে খুচরা ব্যবসায়ী বলে। অনেকগুলো বণ্টনপ্রণালির মধ্যে অন্যতম একটি বণ্টনপ্রণালি হলো খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পণ্য বণ্টন। এ পদ্ধতিতে উৎপাদনকারী তার উৎপাদিত পণ্য পাইকারের নিকট বিক্রয় করে এবং খুচরা ব্যবসায়ী সে পণ্য পাইকারের নিকট থেকে ক্রয় করে ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে।
উদ্দীপকের চিত্রে বিপণনের বণ্টনপ্রণালিকে নির্দেশ করে। এমন বণ্টনপ্রণালির ধারাবাহিকতা হচ্ছে: উৎপাদনকারী থেকে প্রতিনিধি, প্রতিনিধি থেকে খুচরা ব্যবসায়ী এবং খুচরা ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা। উক্ত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী উদ্দীপকের 'গ' চিহ্নিত স্থানটিতে খুচরা ব্যবসায়ী বাদ পড়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বণ্টনপ্রণালির 'গ' চিহ্নিত স্থানটি খুচরা ব্যবসায়ীকে নির্দেশ করছে।
উত্তর প্রতিনিধি বা এজেন্ট ব্যবসায়িগণ খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে।
যেসব ব্যবসায়ী পাইকারের কাছ থেকে পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে তাদেরকে খুচরা ব্যবসায়ী বলে। খুচরা ব্যবসায়িগণ পাইকারের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে। তবে এ পদ্ধতিতে পণ্যের বিক্রয়মূল্য বেড়ে যায়।
উদ্দীপকের চিত্রে বিপণনের বণ্টনপ্রণালিকে নির্দেশ করে। বণ্টনপ্রণালির ধারাবাহিকতা হচ্ছে: উৎপাদনকারী থেকে প্রতিনিধি, প্রতিনিধি থেকে খুচরা ব্যবসায়ী এবং খুচরা ব্যবসায়ী থেকে ভোক্তা। উক্ত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী উদ্দীপকের 'গ' চিহ্নিত স্থানটিতে খুচরা ব্যবসায়ী বাদ পড়েছে।
উৎপাদনকারী তার উৎপাদিত পণ্য প্রতিনিধির নিকট বিক্রয় করে এবং খুচরা ব্যবসায়ী সে পণ্য প্রতিনিধির কাছ থেকে ক্রয় করে ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে। অর্থাৎ প্রতিনিধিগণ খুচরা ব্যবসায়ীর সহযোগিতা নিয়েই উৎপাদনকারীর পণ্য ভোক্তার নিকট বিক্রয় করে। আর এভাবেই প্রতিনিধি বা এজেন্ট ব্যবসায়িগণ খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে।
বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত উত্তর

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।